বাঙালির ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ-টমটম গাড়ি
আসসালামু আলাইকুম,
আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। আজ আমি ঐতিহ্যবাহী টমটম গাড়ি নিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। আশা করি সবার ভাল লাগবে।
আমরা বাঙালি জাতি।আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের উৎসব অনুষ্ঠান পালন করা হয়। যেমন: ঈদ,পূজা, বড়দিন,বৌদ্ধ পূর্ণিমা, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব,নবান্ন উৎসব, হালখাতা ইত্যাদি।এর মধ্যে ঈদ,পূজাপার্বণ, বড়দিন,বৌদ্ধ পূর্ণিমা এগুলো হল আমাদের ধর্মীয় উৎসব। আর বসন্ত উৎসব, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব এগুলো হল আমাদের সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠান।অর্থাৎ এ উৎসবগুলো আমাদের সংস্কৃতির সাথে অতপ্রোতভাবে মিশে আছে।পহেলা বৈশাখ হল বাংলা বছরের প্রথম দিন।এ দিনটিকে বাঙালিরা নানাভাবে বরণ করেন।যেমন এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই দিন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেন।আবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাঙালিরা পান্তা-ইলিশ খান।আবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলায় বাঙালির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তার মধ্যে একটি হল পোড়ামাটির চাকার টমটম গাড়ি।
বৈশাখী মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হল টমটম গাড়ি। এই গাড়ি থেকে টমটম বা টংটং শব্দ শুনতে পাওয়া যায় বলে এর নাম টমটম গাড়ি। এটি বাচ্চাদের অনেক পছন্দের একটি গাড়ি।এই গাড়িতে দুটি কাঠির সাহায্যে শব্দমালার সৃষ্টি হয়। বাঙালি লোকশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হল টমটম গাড়ি। এই গাড়ির দুটি প্রধান উপকরণ হল বাঁশ ও মাটি।এই গাড়ি তৈরীর জন্য প্রথমে এঁটেল মাটি দিয়ে দুটো চাকা ও একটি গোলাকৃতির বাটি তৈরী করা হয়। এরপর এগুলো শুকিয়ে পুড়িয়ে নিতে হবে। তাহলেই এগুলো পুরোপুরিভাবে তৈরী করা শেষ হবে।এরপর বাটিটিতে একটি নকশা ওয়ালা মোটা কাগজ আঠা দিয়ে বেশ টানটান করে বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাঁশের কয়েকটি কঞ্চি চিকন করে কেটে নিতে হবে। এরমধ্যে দুটো কঞ্চি প্রথমে একটু চ্যাপ্টা ও পরে ধীরে ধীরে চিকন করে কেটে নিতে হবে।এরপর এই দুটো কঞ্চি দিয়ে একটি ত্রিকোণাকার ফ্রেম তৈরী করা হয়। এরপর একটি কঞ্চির মাঝখানে হালকা কেটে দেওয়া হয়।এরপর সেখানে বাঁশের দুটি পাতলা ও চ্যাপ্টা পাতি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ত্রিকোণাকার ফ্রেমটি লাগিয়ে দেওয়া হয় ও পরে মাটির চাকাদুটো লাগিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ওই ফ্রেমে কাগজ বসানো মাটির ঢোলের মতো বাটিটি বসিয়ে দেওয়া হয় এবং ভালোভাবে বেঁধে নেওয়া হয়। এরপর সর্বশেষ কাজ, সুতার সাথে দুটো ছোট কাঠি লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুরো গাড়িটি শক্তপোক্তভাবে বেঁধে নেওয়া হয় যাতে এর কোনো অংশ খুলে না যায়।তবে এই গাড়িতে মাটির পাত্রটির উপর যে কাগজটি বসানো থাকে সেটি কিন্তু তাড়াতাড়ি ফেটে যায় অথবা পানি পড়লে এটি গলে যায়।এজন্য এটি চালানোর সময় একটু যত্নশীল হতে হবে।
এই গাড়িটি যখন চালানো হয় তখন এর চাকাগুলোর ঘূর্ণনের সাথে সাথে চ্যাপ্টা পাতলা পাতাদুটোও ঘুরতে থাকে।আর এগুলো ঘুরলে সোজা কাঠির উপর চাপ পড়ে। আর কাঠিগুলোতে চাপ পড়লে এগুলো উপরে ওঠে যায় এবং যখন চাপ পায় না তখন মাটির কাগজ বসানো বাটিটিতে আঘাত পড়ে ও শব্দ উৎপন্ন হয়।এভাবে বারংবার ঘূর্ণনের ফলে টমটম বা টংটং শব্দ বের হয়। এই গাড়িটি মূলত এভাবে চলে।টমটম গাড়ী শৈশবের স্মৃতিতে গাঁথা।
এই গাড়িটি আমার খুবই ভাল লাগে। তবে এটি এখন বৈশাখী মেলা ছাড়াও বিভিন্ন হকারদের কাছেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এর দাম মাত্র ২০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ২০ টাকা দিয়েই আমরা এই কিউট খেলনাটি পেতে পারি।এই খেলনাটি দিয়ে বাচ্চাদের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।এই খেলনাটির আমার সবথেকে পছন্দের জিনিসটি হল মাটির বাটিটি।কাগজের উপর যেই নকশাগুলো থাকে সেগুলো আমার খুবই ভাল লাগে। আমি ছোটবেলায় প্রথম যেদিন মেলায় গিয়েছিলাম তখন আমার আব্বু টমটম গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন।তখন মন্মথপুর চাকলা বাজারে বৈশাখী মেলা হত।আমি ও আমার মামাতো ভাই গিয়েছিলাম মেলায়।আমাদের দুজনকে দুটো টমটম গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন আমার আব্বু।জীবনের অনেক স্মৃতিই আমার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে। তবে এই স্মৃতিটি আমার এখনও মনে পড়ে।
| ডিভাইস | রেডমি ১০ সি |
|---|---|
| ক্যামরা | ৫০ মেগাপিক্সেল |
| ফটোগ্রাফার | @tamannafariah |
| লোকেশন | ভবের বাজার,পার্বতীপুর |
জ্বি আপু আপনি ঠিক বলেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথবা বড় কোন মেলায় এগুলোর দোকান পাট বেশি দেখা যায়। এবং ছোটদের সবচেয়ে প্রিয় খেলনার মধ্যে এটি একটি। আমিও ছোট থাকতে এগুলো নিতাম এবং এগুলো নিয়ে অনেক খেলা করতাম আসলে ছোটবেলার স্মৃতি কখনো ভোলা নয়। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সকলের মাঝে শেয়ার করার জন্য
ধন্যবাদ ভাইয়া।
https://twitter.com/Tamanna21464/status/1697916820836245705?t=pNTztevGPJHxxQzVY51CTg&s=19
টমটম গাড়ি আমরা ছোটবেলায় অনেক খেলেছি। আমাদের দেশের বিভিন্ন রকমের অনুষ্ঠান কিংবা মেলায় এই টমটম গাড়ি দেখা যায়। এই টমটম গাড়ির বর্তমান মূল্য হচ্ছে ২০ টাকা কিন্তু আগেকার সময়ে এই টমটম গাড়ির মূল্য ছিলো মাত্র ১০ টাকা। টমটম গাড়ি নিয়ে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করেছেন।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপিনার পোস্টটি দেখে ছোটবেলার কথা মনে পরে গেলো। আমাদের এলাকায় এই গাড়িটি টুনটুনি গাড়ি নামে পরিচিত। ছোটবেলায় যখন আমাদের এলাকায় মাহফিল হতো তখন মাহফিলে আসা দোকান থেকে আমি এই টুনটুনি গাড়ি কিনতাম এবং পরের দিন সকালে উঠেই গাড়ি নিয়ে বের হয়ে শো ডাউন দিতাম। আগে এগুলোর দাম ছিলো ৫ টাকা আর এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা। টুনটুনি গাড়ি নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
ছোট বেলায় এই টমটম গাড়িতে আমি অনেক খেলেছি। মেলায় এবং চড়ক হাটিতে গেলে টমটম গাড়ি কিনতেই এটা বাধ্যতামূলক। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন এই টমটম গাড়ি এখন অনেক হকারের দোকান গুলোতে পাওয়া যায়। আমার জানামতে প্রতিটি মানুষেরই এই টমটম গাড়ির সঙ্গে কিছু না কিছু স্মৃতি অবশ্যই রয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ।
আমাদের এই দিকে এই গাড়িটিকে সবাই টুনটুনি গাড়ি বলে। গ্রামের যেখানে সভা বা মেলা হয় সেখানে এই ধরনের গাড়িগুলো অনেক বেশি দেখা যায়। আর ছোট ছোট বাচ্চারা এ ধরনের গাড়িগুলোকে অনেক বেশি পছন্দ করে। আর এসব গাড়ি কেনার জন্য তারা অনেক কান্নাকাটি করে মায়েদের কাছে। অনেক সুন্দর একটা পোস্ট করেছেন আপনি ধন্যবাদ আপনাকে
ধন্যবাদ।
We expected you to be friendly and active in the Steem For Tradition Community. We appreciate your effort. Thank you for sharing your beautiful content with us ❤️.
ধন্যবাদ ভাইয়া।
চমৎকার একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন আপু। আমাদের কমবেশি সবার শৈশবের সাথে টমটম গাড়ি জড়িত। বিভিন্ন ধরনের গ্রাম্য মেলায় এই খেলনাগুলো দেখা পাওয়া যায়। তবে বৈশাখী মেলাতেই সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। আপনি আপনার পোস্টটিতে এই টমটম গাড়ির গঠন, শব্দ, বিভিন্ন অংশ গুলো খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে বিস্তারিত ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। চমৎকারভাবে আজকের পোস্টটি আপনি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন আপু ।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
কাগজের টমটম গাড়ি নিয়ে দারুণ উপস্থাপন করছেন আপু । শৈশবের স্মৃতি জড়ানো এই গাড়ি।বিভিন্ন গ্রামীণ মেলাতে এসব খেলনা কিনতে পাওয়া যায়। ছোট বাচ্চাদের অনেক পছন্দের খেলনা। এই খেলনা চলার সময় টম টম শব্দ হয়। আপনি অনেক সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করছেন, ফটোগ্রাফি দারুণ হয়েছে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এতো সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
ছোটবেলায় অনেক খেলেছি এই টমটম গাড়ি নিয়ে। মেলায় গেলেই আব্বু বা ভাইয়ার কাছে বায়না ধরতাম টমটম গাড়ি কেনার জন্য। তখন গাড়িগুলো নিয়ে খেলতে অনেক ভালই লাগতো। এই টমটম গাড়ি এখনো তেমন একটা দেখা যায় না। এইসব খেলনা এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। টমটম গাড়ি নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট মাঝে মাঝে শেয়ার করেছেন আপু আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে।