গ্রামে চাল প্রস্তুতের জন্য ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুগণ। আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। আজ আমি গ্রামের ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করব,ইনশাআল্লাহ্।আশা করি সবার ভাল লাগবে
আমাদের ৫ টি মৌলিক চাহিদার সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান চাহিদাটি হল খাদ্য।কারণ খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই এটিকে সবার উপরের চূড়ায় রাখা হয়েছে।আর বাঙালির প্রধান খাদ্য হল ভাত।কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তাই ভাত তো ঘরে ঘরে থাকতেই হবে। আর এই ভাতের জন্য চাল প্রস্তুত করতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গ্রামের মানুষের চাল করতে হয়। তবে শহরের মানুষেরা এক্ষেত্রে একটা সুবিধা পায় সেটা হল তারা তৈরিকৃত চাল কিনে নেয়,যেগুলো বিভিন্ন রাইস মিলে তৈরি করা হয়। তবে বাড়ির ভাতের মতন স্বাদ আপনি কেনা চালের ভাতে পাবেন না। তো চলুন চাল তৈরির প্রথম ধাপ শুরু করা যাক
গ্রামে চাল করার জন্য মাড়াই করার পর যে ধান পাওয়া যায় সে ধানগুলো ভিজিয়ে দেওয়া হয়।কেউ কেউ আবার কাঁচা ধানই সিদ্ধ করে।তবে এক্ষেত্রে চাল ভাঙ্গার ও ভাত তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তবে ভিজিয়ে রাখাই বেটার কারণ এতে ঝুঁকি নেই।অনেকেই আবার বড় হাউজ তৈরি করেন ধান ভেজানোর জন্য। আবার কেউ ধান বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে রাখেন।কেউবা আবার মাটি খুঁড়ে গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে ধান ভিজিয়ে রাখেন।ধানের প্রজাতীর ভিত্তিতে ধান ভিজিয়ে রাখার বিভিন্নতা রয়েছে। তবে সবগুলো প্রজাতির ধান গড়ে ৩-৪ দিন ভিজিয়ে রাখা হয়।
ধান ভিজিয়ে রাখার পর ভেজানো হয়ে গেলে এগুলো তুলে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে বাঁশের ডালা দিয়ে পানি ছেঁকে নিয়ে তুলতে হবে। তবে বস্তায় পুকুরে ডুবিয়ে রাখলে এ কাজ করতে হবে না।সরাসরি পাতিলে ঢেলে নিলেই হয়ে যাবে।ধান সিদ্ধ করার জন্য আলাদা একগুলো পাতিল থাকে।এগুলো শক্ত ও মোটা।এগুলোতে ধান ভরে নিতে হবে।
ধান ভরে নেওয়ার পর পাতিলে পানি যোগ করতে হয়।পানির পরিমাণ পাতিলে ধানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে দিতে হবে। একটি বড় পাতিলে ১৫-২০ লিটার পানি দিতে হয়।এই পানিতেই ধান সিদ্ধ হয়ে যায় এবং পাতিলের তলদেশ পুড়ে যায় না। এরপর পাতিল চুলায় তুলে দিতে হবে।এরপর চুলা জ্বালিয়ে দিতে হবে।চুলায় জ্বাল সবদিকে সমানভাবে দিতে হবে।এভাবে ৪৫ মিনিট সিদ্ধ করার পর পাতিলের চারিদিকে বাষ্প উঠতে শুরু করলে ধান নামিয়ে নেওয়া হয়।এজন্য মাটির নিচে পলিথিন বা পাটের বস্তা ধানের নিচে বিছিয়ে দেওয়া হয় যাতে এটি পানি শোষণ করতে পারে। এরপর সাবধানে নামিয়ে নিতে হবে কারণ এগুলো খুব গরম ও ভারী থাকে।
গ্রাম অঞ্চলে মূলত এভাবেই ধান সিদ্ধ করা হয়। কেমন লাগলো আমার আজকের ব্লগটি? আশা করি ভালো লাগবে।আমার ব্লগটি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন।
| ডিভাইস | রেডমি ১০ সি |
|---|---|
| ক্যামরা | ৫০ মেগাপিক্সেল |
| ফটোগ্রাফার | @tamannafariah |
| লোকেশন | ভবের বাজার,পার্বতীপুর |
গ্রামের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে ধান সিদ্ধ করা, ধান সিদ্ধ করে সেই ধান রোদ্দে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া আপনি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন আপু। অনেক ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ
ধান সিদ্ধ করা আমাদের গ্রামের অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী কাজ। প্রতি সিজনে ধান কাটা শেষে প্রায় সকল বাড়িতে এই ধান ভাঙার কাজ দেখতে পাওয়া যায়।এভাবে ধান ভাপার কাজটি আমাদের প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি সুন্দর পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য।
ধন্যবাদ
গ্রাম অঞ্চলের মানুষ এখন ও এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ধান সিদ্ধ করে এবং তারপর রোদে শুকিয়ে মিলে নিয়ে গিয়ে চাল তৈরি করে। সুন্দর লিখেছেন আপনি। ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
গ্রামে চাল প্রস্তুতের জন্য ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি নিয়ে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।আমরাও এই পদ্ধতিতে ধান সিদ্ধ করে চাল তৈরি করি।সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে সেয়ার করেছেন।ধন্যবাদ আপু।
ধন্যবাদ
গ্রামাঞ্চলে ধান সিদ্ধ করার দৃশ্য আসলেই মনোমুগ্ধকর। এই ধান সিদ্ধ করতে অনেক কষ্ট করতে। ধান প্রথমে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ধান ডেকচিতে ভর্তি করে নিতে হবে। তারপর চুলায় দিয়ে সিদ্ধ করে নিয়ে। আপনার পোস্ট কোয়ালিটি যথেষ্ট ভাল।
ধন্যবাদ
ধান কেটে ঘরে আনার পর প্রথমে কাঁচা ধান সিদ্ধ করে তারপর সেগুলো শুকিয়ে সেই ধান থেকে চাল প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের চলে আসছে। আপনার শেয়ার করা শেষ ছবিগুলোর মধ্যে বাঁশ দিয়ে উত্তপ্ত সিদ্ধ ধানের পাতিল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিটি সাহস নিয়ে আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম, এবং আমি সেখানে সফল হতে পারিনি। এটি অত্যান্ত কঠিন একটি কাজ। ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্বী আপু। এই কাজটি সবচেয়ে বেশি কঠিন।