স্টিম ফর ট্রেডিশন কমিউনিটির সকলেই কেমন আছেন? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের বুটের হালুয়া তৈরী রেসেপি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
| দিন | মাস | বছর | ধরন |
| ২২ | মার্চ | ২০২৩ | ইংরেজি |
| ০৭ | চৈত্র | ১৪২৯ | বঙ্গাব্দ |
| ২ ৯ | শাবান | ১৪৪৪ | হিজরি |
| কভার ফটো (Created on canva) |
আমরা যারা এই পোস্টটি পড়ছি তার অবশ্যই বুঝতে পারছেন আজ বাংদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার বুটের হালুয়া রেসেপি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে হারিজ হলাম আপনাদের সামনে। আজকের পোস্টে বুটের হালুয়া রেসেপি এর বিষয়ে দুকথা লিখতে চলে এলাম আপনাদের মাঝে। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
| বুট | ৫০০ গ্রাম (বেশি নিতে পারেন) |
| দুধ | ৫০০ গ্রাম |
| চিনি | ২৫০ গ্রাম |
| নারিকেল কোরা | ১ কাপ |
| ছোট এলাচ | ৩ টি |
| কাজু+কাঠ+পেস্তা বাদাম | ২ চামুচ |
| ঘি | ৫০ গ্রাম |
আমরা শুরুতে পরিমাণ মত বুট পরিষ্কার পাত্রে ৩০মি. পানিতে ভিজিয়ে রাখবো। যাতে শক্ত বুট ভালো ভাবে সেদ্ধ হতে বেশী বেগ পেতে না হয়। কারন বুট বেশী শক্ত হয়ে থাকলে সেদ্ধ করতে সময় লাগবে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বুট তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
পানিতে বুট ৩০মি. রাখার পর এখন আমাদের বুট পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। বুটের সাথে থাকা পানি চলে যাবে পাত্র বা কাপড়ে ভিজিয়ে রাখা বুট তুলে রাখতে হবে। সব পানি চলে গেলে বা পানি সুখিয়ে গেলে এবার ৩য় ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
এখন বুটের পানি শুকিয়ে গেলে সিদ্ধ করার জন্য চুলার মধ্যে বসিয়ে দিতে হবে। খানিক সময় জাল করতে হবে যেন বুট কিছুতেই শক্ত হয়ে না থাকে। জাল করার সময় যত বুট নরম হবে তত পিষতে সুবিধা হবে এবং পেষাটা যতটা পেস্তা হবে ততটাই ভালো মানের বুটের হালুয়া হবে।
এবার সেদ্ধ বুট বাটনায় সুন্দর করে বাটতে হবে। বাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সুন্দর ভাবে বাটা হয় যত বাটা ভালো হবে তত হালুয়ার মান ভালো হবে।
বুট সুন্দর ভাবে পেষা শেষ হলে পেষা বুট এখন কড়াই অন্য পাত্রে ঘি দিয়ে ভাজতে হবে একটু। ঘি দিয়ে ভাজলে হালুয়াটির স্বাদে ফ্লেভার আসবে যা অতুলনীয় হয়। খাওয়ার সময় ভালো লাগে। যারা ঘি পছন্দ করেন না তারা ঘি ছাড়া এই হালুয়া তৈরী করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনাদের শুধু ৫ম ধাপটি বাদ দিতে হবে।
এখন দুধ গমর করতে হবে। দুধের সাথে উপরে উল্লেখিত কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম গুড়া, চিনি, এগুলো দিয়ে দুধ ভালো ভাবে গরম করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন দুধ কিছুতেই পোড়া না লাগে। কারণ দুধ পড়া লাগলেই দুধের মধ্যে একটি ঝাঁজালো সাধ চলে আসবে যা হালুয়া স্বাধ ভিন্নরকম করে দেবে।
দুধগুলো গরম হয়ে গেলে দুধের মধ্যে এখন পেষা বুট দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে হবে। দুধ একটু ঘন হলেই বুঝতে হবে দুধ হয়ে গেছে তারপরে বুট দিয়ে ভালো হবে নাড়তে হবে। আচ কমিয়ে দিয়ে নাড়তে হবে কারণ নিচে দাগ লাগানো যাবে না। নাড়তে থাকলে আস্তে আস্তে ঘন হয়ে আসবে। আরো বেশি ঘন হয়ে আসলে চুলার আচ আরো কমায় দিতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে হালকা থেকে গারো এবং গারো থেকে হালুয়ায় পরিণত হবে।
 |
এইরকম ঘন পরিণত হলে আর আচ দেয়ার দরকার নেই। তখন নামিয়ে নিতে হবে। আগে থেকে একটি পরিষ্কার পাত্র ব্যবস্থা করে রাখবো কারণ রান্না শেষ হলেই গরম থাকা অবস্থায় একটি সুন্দর পাত্রে এটি বিছিয়ে দিতে হবে যাতে এর সুন্দর একটি শেপ দেয়া যায়। ঠান্ডা হয়ে গেলে তা সম্ভব হবে না। <\sub>
 |
একটি পরিষ্কার পাত্রে আমরা এভাবে বিছিয়ে দিব যাতে হালুয়াকে ভালো সেপ দেয়া যায় ঠান্ডা হলে কি করা সম্ভব হবে না। তখন শক্ত হয়ে যাবে খেয়াল রাখতে হবে যত নরম থাকবে তত আমরা ভালো সেপ দিতে পারব।
<\sub>
 |
বিছানা হয়ে গেলেই আমরা একটা ছুরি বা অন্য কিছুর সাহায্যে আমরা এভাবে সেভ করে নিতে পারব আপনারা চাইলেও কোণা ছাড়া গোল সেপও দিতে পারেন। তবে ভালোর জন্য কোনা সেপটাই ভালো।
<\sub>
কাটা শেপ গুলোর উপরে একটি করে কিসমিস বসে দিলেই ব্যাস হয়ে গেলও সুন্দর হালুয়া রেসিপি। আপনাদের কোথাও বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই বলবেন আমি আবারো আপনাদেরকে কমেন্টে রিপ্লাই এর মাধ্যমে জানিয়ে দেব। চমৎকার একটি রেসিপি আপনারা চাইলে বাসায় এটি খুব সুন্দরভাবে অল্প সময়ে তৈরি করতে পারেন।
লোকেশনঃ
- পার্বতীপুর উপজেলা আবাসিক কোয়ার্টার।
| এই বুটের হালুয়া আপনাদের কেমন লাগে অবশ্যই জানাবেন। সামনে রোজা ইফতারের পরে একপিস মুখে দিলেই ক্লান্তিটা একটু হলেও দূর হবে ইনশাল্লাহ। |
আমি বিভিন্ন আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গেলে বুটের হালুয়া পেলে খাওয়ার চেষ্টা করি। কারন বুটের হালুয়া আমার খুবই পছন্দের খাবার। আর বাসায় অনেক সময় অনুষ্ঠান হলেও বুটের হালুয়া তৈরী করা হয়।
সকলের সুসাস্থ কামনা করে আমি বুটের হালুয়া রেসেপি তুলে ধরেছি আজ এখানেই শেষ করছি। সকলেই ভাল থাকবেন এবং পরবর্তী পোস্টে আবার দেখা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে।

আসসালামুআলাইকুম, আমার নাম মোঃ মাসুদ রানা। আমার স্টিমিট ইউজার নেম @masud-rana। আমি দিনাজপুর জেলার, পার্বতীপুর উপজেলার একজন বাসিন্দা। আমি পড়াশোনা করছি এখন ই-কমার্স ব্যবসার পাশাপাশি স্টিমিট প্লাটফর্মে কাজ করতেছি। আমি ফটোগ্রাফি অনেক ভালবাসি।মাঝে মাঝে সময় পেলে যে কোন ধরনের ফটোগ্রাফি করি। আমি খেলা-ধুলা করতে ভালবাসি এবং তাছাড়া আমি ও নিজেই ভাল ভাল রান্না রেসিপি করি। সকলেই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ ও নিরাপদে থাকবেন।


আপনি বেশ চমৎকার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।প্রতিটি ধাপে ধাপে হালুয়া তৈরি কিভাবে করতে সেটি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। আশা করি হালুয়া খেতে বেশ মজাদার হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত চমৎকার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
সুন্দর মন্তব্য আমাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ।
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
Thank you.....!
বুটের হালুয়া আমার খাওয়া হয়নি ভাইয়া। তবে আপনার পোস্ট করার মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম বুট দিয়েও হালুয়া বানানো যায়। আপনি অনেক সুন্দর ভানে রেসিপি তুলে ধরেছেন। যে কেউ চাইলে আপনার লেখা ফলো করে রান্না করতে পারবে।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বুটের হালুয়া খেতে খুবই সুস্বাদু। তবে কোন উৎসব ছাড়া হালুয়া খাওয়ার সুযোগ হয় না তেমন। খুবই সুন্দর রেসিপি শেয়ার করেছেন। মার্কডাউনের ব্যবহার সুন্দর ছিল।
আপনার সুন্দর আঙ্গুল দিয়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।
অসাধারণ একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। শবে বরাতের দিন আমাদের বাসায় এটি তৈরি করা হয়।রেসিপি তৈরির প্রত্যেকটি ধাপ খুব ভালোভাবে তুলে ধরেছেন। আপনার পোস্ট কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো, তবে মার্কডাউন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটু সচেতন হতে হবে। এডিট করে ঠিক করে নিন। ভালো লিখেছেন শুভকামনা রইল ভাই।
আপনার সুন্দর মন্তব্য আমাকে অনুপ্রেরণা যোগায়। আপনার সুন্দর আঙ্গুল দিয়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।
বাহ্ সুন্দর একটা রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন ভাই, অসাধারণ হয়েছে আপনার রেসিপি টা।বুটের হালুয়া আমি কখনো খাই নাই ভাই, আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারলাম, আমার বাসায় কখনো এই ধরনের খাবার তৈরি করে নাই। তবে।আজকে আপনার এই রেসিপি পোস্ট দেখে খুব ভালো লাগলো আবার আপনার রেসিপি দেখে আমার জল চলে আসতেছে ভাই। কারন রেসিপি টা অনেক সুন্দর হয়েছে মনে হয,আপনি অনেক সুন্দর ভাবে ধাপ গুলো সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। আপনার প্রতিটা ধাপ দেখে ও পরে মনে হচ্ছে আমিও এই ধরনের রেসিপি করতে পারবো।ছবি গুলোও বেশ অনেক সুন্দর ভাবে তুলছেন আবার ধাপ গুলোও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। আপনার রেসিপি দেখে আমার এখনেই বাসায় রান্না করতে মন চাচ্ছে, তবে আপনার রেসিপি দেখে আমার অনেক উপকার হলো কারন আমি এই ধরনের রেসিপি কখনো খাই নাই তাই, আমি চিন্তা করছি এখন থেকে আমার বাসায়ও এই ভাবে রান্না করতে বলবো,বুটের হালুয়া খেতে মনে হয় অনেক সুস্বাদু, আপনার পরিবেশেন।দেখে মনে হচ্ছে বুটের হালুয়া অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই সুন্দর একটা রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনার সুন্দর আঙ্গুল দিয়ে সুন্দর মন্তব্য করেছেন আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ।
বাহ্ চমৎকার রেসিপি, বুটের হালুয়া। কখনো খাওয়া হয় নাই, তবে আপনার রেসিপি আমার কাছে দারুণ লাগছে, খেতে মনে হয় অনেক সুস্বাদু হয়েছে। একদিন আপনার রেসিপি ফলো করে চেষ্টা করবো এরকম করে বানাতে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই এতো সুন্দর রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
সুন্দর আঙ্গুল দিয়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।
TEAM 5 CURATORS
This post has been upvoted through steemcurator08. We support quality posts anywhere and with any tags.
Curated by: @sohanurrahman
দুধের তৈরি আপনার এই বুটের হালুয়া দেখে আসলে খুব ভালো লাগতেছে। এটি খাওয়ার অবশ্য সৌভাগ্য কোনদিন হয়নি তবে ইচ্ছা আছে খাওয়ার।আপনার পোষ্টের মান অনেক ভালো ভাই। পোস্ট ভালই উপস্থাপন করেছেন আপনি। বুটের হালুয়া নিয়ে খুব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন আমাদের মাঝে।ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য শুভকামনা রইল ভাই।