"শ্রাবণী দিদির আইবুড়ো ভাত"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ৬ ই মে, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন যে, কয়েকদিন আগেই আমার শ্রাবণী দিদির বিয়ের জন্য আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছি। আর কয়েকদিন পরেই শ্রাবণী দিদির বিয়ে। আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য আইবুড়ো ভাত একটি আচার বা অনুষ্ঠান। আইবুড়ো বলতে অনূঢ়া বা অবিবাহিত বোঝায়। ছেলে বা মেয়ের বিবাহের পূর্বে সর্বশেষ যে খাবারের অনুষ্ঠান আচার পালন করা হয়ে থাকে তাকে আইবুড়ো ভাত বলা হয়। বিয়ের আগে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোকে গ্রামাঞ্চলে এখনো থুবড়ো বা থুবড়ি খাওয়ানো বলে। আমাদের বাঙ্গালীদের প্রধান খাবার ভাত তাই এই অনুষ্ঠানের নাম আইবুড়ো ভাত বলা হয়।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আইবুড়ো ভাত সাধারণত মেয়ে অথবা ছেলের নিজের বাড়িতে খাওয়ানো হয়। কিন্তু আমার শ্রাবণী দিদির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ভিন্ন। নিজের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত হওয়ার আগেই আমাদের বাড়িতে অর্থাৎ আমার দিদির মামা বাড়িতে আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করেছিল আমাদের বাড়ির সবাই।
আইবুড়ো ভাতে শুধু যে ভাত খাওয়ানো হয় তাই নয়, ভাতের সাথেও বিভিন্ন ধরনের খাবারের আইটেম করা হয়। আমার শ্রাবণী দিদির আইবুড়ো তে অবশ্য খুব একটা বেশি আইটেম করেছিল না। তারপরেও যতটা করা যায় করেছিল।
আইবুড়ো ভাতে মঙ্গল প্রদীপ রাখা হয়। জীবনের সব অন্ধকার দুঃখ কষ্ট বেদনা এই মঙ্গল প্রদীপের মাধ্যমেই দূর হয়ে যায় এটা সবার বিশ্বাস। মঙ্গল প্রদীপের আলোর ন্যায় সবার জীবনের সকল অন্ধকার দূর হয়ে যায়।
আমার শ্রাবণী দিদি শাড়ি পরে নতুন একটি জীবন শুরুর আগে সবার আশীর্বাদ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমার শ্রাবণী দিদিকে শাড়ি পড়ে অনেক সুন্দর লাগছিল দেখতে।
আইবুড়ো ভাতে শ্রাবণী দিদিকে নতুন শাড়ি পরিয়ে একটি আসনে বসিয়ে বাড়ির বয়োজেষ্ঠরা সবাই মিলে ধান, দুর্বা, তুলসী পাতা দিয়ে দিদিকে আশীর্বাদ করে। আমার শ্রাবণী দিদিও সবাইকে সম্মান জানিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করে। জীবনে চলার পথে গুরুজনদের আশীর্বাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমার শ্রাবণী দিদির কোলে আমার ভাই সার্থক ও দিদির পাশে আমার ভাই দীপ্ত বসে আছে।
আমার ভাই দীপ্ত প্রথমে শ্রাবণী দিদিকে আইবুড়ো ভাত খাইয়ে দেয়। তারপর আস্তে আস্তে সবাই শ্রাবনী দিদিকে আইবুড়ো ভাত খাইয়ে দেয়। তারপরে আমাদের বাড়ির সবাই একসাথে বসে আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানের যে খাবার রান্না করা হয়েছিল একসাথে আনন্দ করে খাওয়া দাওয়া করি। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে খাওয়ার ভিতরে আলাদা আনন্দ নিহিত থাকে। আমাদের বড় একটি পরিবারের ছোট একটি অনুষ্ঠান সবাইকে আরো ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আমার শ্রাবণী দিদির আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানটা খুবই সুন্দরভাবে পালন করেছিলাম। সবাই আমার দিদির জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ৫ ই মে |
| লোকেশন | কুষ্টিয়া |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

প্রথমত বলবো যে শ্রাবণী দিদির জন্য অনেক শুভকামনা ৷ তার জীবন সুখের হোক মধুর হোক ৷ আমাদের হিন্দু ধর্মে বেশ নিয়ম আছে ৷ যা পালন করতে হয় ৷ ভালো লাগলো শ্রাবণী দিদির আই বুড়ো ভাত খাওয়ার আনন্দ মূহুর্ত টা ৷
হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী আইবুড়ো একটি সামাজিক আচার। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
আমার অবশ্য পুরো আয়োজনটা কখনোই দেখা হয় নি। আজকেই প্রথম দেখলাম। দারুণ একটা মুহূর্ত এক কথায়। একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল আমিও যেন আপনাদের পরিবারের একজন। অনেক শুভ কামনা রইলো দিদির জন্য। আগামী টা যেন দিদির মুখে সব সময় হাসি ফুটিয়ে দেয়। ❤️❤️
সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
আপনাদের হিন্দু ধর্মে দেখছি অনেক নিয়ম কানুন রয়েছে যেগুলো আপনারা পূরণ করে থাকেন। বিয়ের আগে শেষবার খাবারের আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করেন আপনারা। আপনার শ্রাবণী দিদির আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানের গল্পটা পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে আমার কাছে। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফিও বেশ ভালো ছিল দেখছি। আপনার মুহূর্তটা খুবই ভালো কেটেছে দেখে বোঝা যাচ্ছে।
আমার শ্রাবণী দিদির আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানের গল্পটা পড়ে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।