অপ্রকাশিত ভালোবাসা!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে
এই গানটা হয়তো আপনারা অনেকেই শুনেছেন। বাংলাদেশের চিএনায়ক সালমান শাহ এর অভিনীত এই গানটা বেশ জনপ্রিয় । এখনও এর অনেক শ্রোতা পাওয়া যায়। আমি নিজেও মাঝে মাঝে শুনি। কারণ গানটার অসাধারণ অর্থ। ভালোবাসার একটা গভীর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এখানে। তবে মজার একটা বিষয় এই গানটা রচনার পেছনের গল্প খুব এক সংখ্যক মানুষ জানে। গানের রচয়িতা তার ভালোবাসার মানুষের জন্যই এটা লিখে গিয়েছিল। যাইহোক প্রথম থেকে শুরু করি। আপনারা সবাই বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ এর নাম শুনেছেন। আমার খুব পছন্দের কবি উনি এটা বলব না। তবে উনার বেশ কিছু কবিতা আমার পছন্দের তালিকায় আছে। রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল তখন পরিচয় হয় তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে।
তসলিমা নাসরিনের অনেক গুলো পরিচয় আছে। সবচাইতে বড় কথা উনি বাংলাদেশে খুবই বিতর্কিত একজন মানুষ। এইজন্যই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে অনেক আগেই। সেই তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর। এক পর্যায়ে গিয়ে তারা বিবাহ করে। এখানে বিয়েতে রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লার পরিবারের কেউ রাজি ছিল না। বিশেষ করে তার বাবা। এটা নিয়ে উনার বাবার সাথে উনার সম্পর্ক চলে যায় খারাপের দিকে। যাইহোক বিয়ের পরে ৫ বছরের মধ্যে তাদের সংসার ভেঙে যায়।দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এখানে অনেক কারণ পাওয়া যায়। কোথাও পাওয়া যায় রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ নতুন করে প্রেমে পড়েছিল অন্য কোন নারীর।
আবার অনেক জায়গাই এমন দেখা যায় এটা ঘটেছিল তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে। এইজন্যই এই বিচ্ছেদ। যাইহোক তাদের বিচ্ছেদের বেশ কিছু বছর পরে ১৯৯১ সালে রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মারা যায়। উনি মারা যাওয়ার পরে উনার বাড়ি থেকে উনার অপ্রকাশিত একটা কবিতা/গান পাওয়া যায় সাথে একটা চিঠি। সেই গানটাই ছিল এটা।
ভালো আছি, ভালো থেকো
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ
দিও তোমার মালাখানি
দিও তোমার মালাখানি বাউলের এই মনটারে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে
গানটা প্রকাশিত হয় রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুর পরে। উনি উনার হারানো ভালোবাসা তসলিমা নাসরিন কে উদ্দেশ্য করেই গানটা লিখেছিলেন। পরবর্তীতে একটা মুভির মাধ্যমে গানটা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।
রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ তার মৃত্যুর পরে তসলিমা নাসরিন কে চিঠি লিখতে বলেছেন তার কাছে আকাশের ঠিকানায়। উনার এইরকম একটা রচনা করা গান থেকে বোঝা যায় বিচ্ছেদের পরেও উনি ঠিক কতটা অনূভব করতেন তার প্রাক্তন স্ত্রীকে। সেখান থেকেই এইটা লিখেছিলেন উনি। গানটার এমন ইতিহাস খুবই আশ্চর্যের। যখন আমি এই গানটা শুনি আমার পুরো ঘটনা টা মনে পড়ে যায়। এখন গানটা অনেক জনপ্রিয় তবে এটা আর তসলিমা নাসরিনের জন্য সীমাবদ্ধ নেই। এটা এখন অসংখ্য মানুষের জন্য উন্মুক্ত। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তসলিমা নাসরিন তার একটা লেখা প্রকাশ করে। যেখানে সে নিজেও একটা চিঠি লিখেছে তার সেই রুদ্রের জন্য। সেটা আপনারা অনলাইনে পেয়ে যাবেন।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
https://x.com/Emon423/status/1976197517223264569?t=_QXjKp9jtTe_o5opMWYLjw&s=19
https://x.com/Emon423/status/1976197719439159392?t=pcfSblrJxu2MxG3I9T9I0w&s=19