সুপ্রিয় বন্ধুগণ, প্রতিদিন বিভিন্ন ইউজারের লেখা আবেগের কবিতাগুলো পড়ে আমার নিজের মধ্যেই কেমন যেন কবি কবি ভাব চলে এসেছে। এর আগে কবিতা লেখা শুরু করলে, কবিতা লেখার ভাষা খুঁজে পেলাম না, কবিতার ছন্দ খুঁজে পেতাম না। কিন্তু বর্তমানে কবিতা লেখা আমার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এখন একটু চেষ্টা করলেই মোটামুটি ভাবে কবিতা লিখতে পারি। আজ আমি আপনাদের নিকট অনু কবিতা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আশা করি, আমার আজকের লেখা অনু কবিতা গুলো আপনাদের নিকট অনেক অনেক ভালো লাগবে।
⬇️ অনু কবিতা-০১।⬇️
কৃষকের জমিতে লেগেছে আগুন
সবজির দাম কমে গেছে দশ গুন,
সারা বছরের পরিশ্রমের ফল
এক নিমিষেই হয়ে গেল বিফল।
দেনা-পাওনা আর ধারের টাকার চাপে
বাংলার কৃষক আজ মরতে বসেছে
হায়! এমনটা হলো কোন পাপে।।
তেল আর সারের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ
মহাজনের আচরণ যেন পুরোই শকুন,
কৃষকের আয়-ব্যয়ের নেই কোন মিল
বাজারের চাউলে মেশানো হচ্ছে ঝিল।
বাংলার কৃষকের নেই কোথাও ঠাঁই
চাষাবাদ করে তারা বড়ই নিরুপায়,
তবুও তারা স্বপ্ন দেখে নতুন আশায়
মহান সৃষ্টিকর্তা একদিন হবেন সহায়।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের কৃষকেরা বড়ই অসহায়। কারণ অতিরিক্ত দামের সার ব্যবহার করে এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ফসলের মূল্য আজ একেবারেই নগণ্য। তারপরেও আমাদের দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। বরং কৃষকেরা যেখান থেকে ধার-দেনা করেছিল তারা আজ কৃষকদের উপর বিশাল আকারে চড়াও। এতোকিছুর পরেও আমাদের দেশের কৃষকেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখে, নতুন দিনের আশায়।
⬇️ অনু কবিতা-০২।⬇️
সিন্ডিকেটে পুরো দেশটা গিয়েছে ভরে
দেশটা এবার দখল করেছে বড় বড় চোরে,
দেশের কোন প্রতিষ্ঠানে নেই শৃঙ্খলা
দু'চোখ দিয়ে যেদিকে তাকাই দেখি বিশৃঙ্খলা।
বর্তমানে দেশপ্রেমিকের বড়ই অভাব
শোষণ করা একমাত্র দেশের শত্রুর স্বভাব,
কালো অন্ধকার দেখি যেদিকে তাকাই
তবুও সুদিনের জন্য মোরা আছি অপেক্ষায়।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, বর্তমানে আমাদের দেশের এক্কেবারে নিম্নতম পর্যায় থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন সকল পর্যায়ে সিন্ডিকেটে আঁকড়িয়ে ধরেছে। অথচ এই জঘন্যতম অপরাধ দূর করার জন্য নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। বরং দিন দিন আমাদের দেশের সর্বস্তরে বিশৃঙ্খলার মাত্রাটা অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
⬇️ অনু কবিতা-০৩।⬇️
হিংসা-বিদ্বেষ আর স্বার্থের এই দুনিয়ায়
কাছের মানুষগুলোও মুহূর্তে বদলে যায়,
যমদূত কখন কাছে আসবে কারো জানা নাই,
সবাইকে ছেড়ে একদিন নিতে হবে বিদায়।।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আজ আমরা সকলেই নিজ নিজ স্বার্থে খুবই ব্যস্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করি, একদিনের পৃথিবী ছেড়ে আমাদেরকে চলে যেতে হবে। আসলে আমরা এতটাই দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেছি পরকালীন জীবনের কথা চিন্তা করার আমাদের সময় নেই। আজ আমরা ইহো জীবনের সুখের আশায় খুব সহজে আপন মানুষকে পর করে দিচ্ছে, কাছের মানুষের সাথে করছি চরম প্রতারণা।
আমার পরিচয়।

আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।
| ১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ। |




X-promotion link
আজকের কাজ সম্পন্ন।
বর্তমান সময়কে কেন্দ্র করে খুব সুন্দর কবিতা লিখেছেন আপনি। আপনার লেখা কবিতা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে ভাইয়া। এমন সুন্দর কবিতা সত্যি মানুষকে সজাগ ও সচেতন করে তুলবে।
অনেক সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
সত্যি বাংলার কৃষকেরা তাদের কষ্টের মূল্য পায় না। সবজির অনেক দাম কমে গিয়েছে যার ফলে কৃষকেরা তাদের কষ্টের মূল্য পাচ্ছে না।আবার দাম বাড়লেও বিপদ যাদের সবজি কিনে খেতে হয় তারা কিন্তু হিমশিম খেয়ে যায়। বর্তমানে দেশপ্রেমিক খুবই কম। সবাই স্বার্থের জন্য করে দেশের জন্য খুব কম মানুষই করে। যাইহোক ভাইয়া আপনার প্রত্যেকটি কবিতা অসাধারণ। অনু কবিতার মধ্যে বাস্তবিক কিছু চিত্র বর্ণনা করেছেন। আপনার কবিতাগুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া।
অত্যন্ত গঠনমূলক কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দারুন দারুন কতগুলো ছোট কবিতা আজ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। দারুন একটা টপিক নিয়ে আপনি এই কবিতা গুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আসলে সত্যি বাংলার কৃষকেরা এখন অনেক বেশি কষ্টে থাকে। কেননা কিছু কিছু খারাপ মানুষদের জন্য তারা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকে।
গঠনমূলক কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
ভাইয়া আপনি আজ খুব সুন্দর ৩ টি অনু কবিতা শেয়ার করেছেন। আপনার অনু কবিতা পড়ে খুব ভালো লেগেছে। আপনার মনের অনুভূতি খুব সুন্দর ভাবে ছোট ছোট ছন্দ আকারে অনু কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। অনু কবিতা পড়তে যেমন ভালো লাগে তেমনি লিখতেও খুব ভালো লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর সুন্দর অনু কবিতা শেয়ার করার জন্য।
এতো সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনি প্রতিনিয়ত কবিতা লেখার জন্য চেষ্টা করলে পরবর্তীতে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখতে পারবেন। আমার কিন্তু আপনার আজকের লেখা অনু কবিতা গুলো অনেক পছন্দ হয়েছে। খুবই সুন্দর সুন্দর টপিক নিয়ে লিখেছেন প্রতিটা অনু কবিতা। আমার কাছে আপনার তিন নাম্বার অনু কবিতা টা সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে পড়তে।
অনেক সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমাদের এই কমিউনিটির কমবেশি সবাই এখন সুন্দর সুন্দর অনু কবিতা লিখে থাকে। আর তার মধ্যে আপনিও অনেক সুন্দর সুন্দর অনু কবিতা লিখে থাকেন। অনেক সুন্দর ছিল আপনার আজকের অনু কবিতাটা লেখার টপিক। সব গুলো অনু কবিতার প্রত্যেকটা লাইন অনেক সুন্দর করে লিখেছেন। এটা দেখে আমার কাছে অসম্ভব ভালো লাগলো। এত সুন্দর সুন্দর টপিক নিয়ে অনু কবিতা লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার কমেন্টটি পড়ে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। এতো সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আজকে আপনি সুন্দর সুন্দর টপিক নিয়ে সুন্দর অনু কবিতা লিখেছেন। আপনার লেখা তিনটি অনু কবিতায় অসাধারণ হয়েছে। আসলে অনু কবিতার মধ্যে নিজের সুন্দর মনের ছোট ছোট অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। ধন্যবাদ এত সুন্দর করে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি দিয়ে অনু কবিতা লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।