পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না।।
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
হ্যালো প্রিয় বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে শিক্ষা মূলক একটি ব্লগ শেয়ার করবো। আশা করি আপনারা পড়লে কিছুটা হলেও শিক্ষা অর্জন করতে পারবেন।
আমি ঢাকায় আসি ২০১৫ সালে। আমি যে অফিসে জব করি সেখানে রাস্তার পাশে এক মামা দোকানে ফল বিক্রয় করতো। তার সাথে আমার খুব পরিচয় ছিল। তার দোকানের অনেক ফল কিনে খেয়েছি। ২০২০ তথা করোনার পরে সেই ফল বিক্রেতা মামাকে আর দেখি নাই। গত কাল অফিস থেকে আসার পথে দেখি আমার বাসা থেকে একটু দুরে রাস্তার পাশে একটি ভ্যানগাড়িতে সেই ফল বিক্রেতা মামাকে সবজি বিক্রয় করতেছে। আমি প্রথম দেখায় সেই মামাকে চিনে ফেলি। তারপর আমি রাস্তা পার হয়ে মামার ভ্যানগাড়ির কাছে গেলাম। গিয়ে তার খোজঁখবর নিলাম। জিঙ্গেস করলাম মামা এতদিন কোথায় ছিলেন। আর ফল বিক্রয় ছেড়ে দিয়ে সবজি বিক্রয় করছেন কেন। মামা সাথে আমি দুই ঘন্টার মত কথা বলেছি। সেই কথার সারংশটা আমি তার মুখেই প্রকাশ করছি।
মামা প্রথম কথায় যে কথাটা বললেন,সে কথাটাই আমি আজকের পোষ্টের টাইটেল দিলাম। পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। মামা বললেন আমি এখানে ২০১০ সাল থেকে ফল বিক্রয় করি। আমি প্রথম দিকে সৎ ভাবে ব্যবসা করতাম। যার ফলে আমার ব্যবসায় প্রচুর লাভ হয়। আর ব্যাবসার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা বরকত দেন। যার ফলে আমি ব্যবসা করে এখানেই তিন শতক জায়গা কিনেছিলাম। জায়গাটা কেনার পরে আমার কাছে আরেকটি জায়গা কেনার অফার আসে। তখন আমার ভিতরে লোভ জেগে উঠে। সেই জায়গাটা কিভাবে কেনা যায় সেই চিন্তা করতে লাগলাম। যার ফলে আমি আমার ফল ব্যবসার মধ্যে দুই নাম্বারি শুরু করলাম।
আমি যখন আড়তে ফল কিনতে যায় তখন সেখানে কিছু নষ্ট ফল থাকে। নষ্ট ফল গুলোর দাম খুবই কম। যার ফলে আমি দশ কেজি ভালো ফল কিনলে তার সাথে তিন কেজি নষ্ট ফল কিনি। এভাবে প্রত্যেক প্রকারের ফলের সাথে নষ্ট ফল মিশিয়ে বিক্রয় করতাম। প্রত্যেক ক্রেতাকে একটি বা দুইটি করে নষ্ট ফল দিয়ে দিতাম। যার ফলে আমার লাভ আরো বেড়ে গেলো। কয়েক বছর এভাবে ব্যবসা করে আর গ্রামের বাড়ি বিক্রয় করে দ্বিতীয় জায়গাটি কিনে ফেলি। আর তখনই আমার পাপের ঘরা পূর্ণ হয়ে যায়। একবছর যেতে না যেতেই আমি পথের ফকির হয়ে যায়।
আমি দ্বিতীয় যে জায়গাটি কিনে ছিলাম সেই জায়গাটার জন্য আমাকে আসল দলীলের পরিবর্ততে নকল দলীল দেওয়া হয়েছিল। কারন যে মালিক জায়গাটা বিক্রয় করেছে তার কাছেও আসল দলীল নেই। সে ধীর্ঘ বারো বছর সেই জায়গা দখল করে যাচ্ছিলো। এই জায়গা নিয়ে কোর্টে মামলাও চলছিলো। আমি জায়গা কেনার ছয় মাস পরে মানে করোনার আগে সেই জায়গার রায় হয় হাইকোর্ট থেকে। যার কাছে মূল দলীল ছিল তার পক্ষে রায় পড়ে। যার ফলে আইনি ভাবে আমি সেই জায়গাটা হারিয়ে ফেলি। তারপর করোনার কারনে আমার ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম যেই জায়গাটা কিনেছিলাম সেইখানেই একটি ঘর তুলে থাকতেছিলা। কিন্তুু পাপ এত বেশি পরিমানে করে ফেলেছি যে, যার শাস্তি আমাকে পেতেই হলো।
২০২১ সালে আামার আর আমার বউয়ের এক সাথে করোনা পজিটিভ হয়। অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা করে আমারা ভালো হয়। কিন্তুু এখানেই আমার শাস্তি শেষ হয়নি। ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে আমার বউয়ের ক্যান্সার ধরা পরে। তখনই আমি বুঝে গেছি হারাম টাকা যেভাবে উপার্জন করেছিলাম সেই টাকা এভাবেই যাবে। প্রতি সাপ্তাহে তার পিছনে আমার পনের হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। কিন্তুু ডাক্তার কোন কিছু সিউর দিয়ে বলতেছে না। সে বাচঁবে কি না সেটাও জানি না। বউয়ের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে আমার শেষ সম্বল জায়গাটাও বিক্রয় করতে হয়েছে। তারপরও আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ইনকামের কোন উপায় না পেয়ে এখন ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রয় করি। এই হলো আমার গত তিন বছরের কাহিনী। আমি মামার কথা গুলো শুনে তাকে কি বলবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। বললাম মামা রাত নয়টা বেজে গেছে। এখন বাসায় যায,আগামীকাল কথা হবে।
আমি মামার ভ্যানগাড়ি থেকে কিছুটা দুরে এসে হাটতে হাটতে মনে মনে বললাম,পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। কথাটা আসলেই সত্যি। সময় মত ঠিকই পাপের সাজা বহন করতে হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা,ডিজাইন করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
পাপ যে তার বাপ রে ছাড়ে না এটা সত্যি কথা।খুব সুন্দর একটি গল্প দিয়ে ব্যাপারটা বুঝালেন খুব ভালো লাগলো। ফল মামা বেশি লোভ করে পাপ করে শেষে তার আজ এই অবস্থা। অনেক খারাপ লাগলো পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য।
জী আপু পাপ কখনো মানুষকে ছাড়ে না। আগে আর পরে তাকে ভোগ করতে হয়। ধন্যবাদ।
মানুষ ভুল করে,যখনই ভুলের পথে পা বাড়ায় বিবেক দ্বারা নিজের ভুলকে শুধরানোর জন্য অনেক সময় পাপের পথ থেকে ফিরে আসে। সে বিবেকবান হতে পারে যখন বুঝতে পারে এটা আমার পাপ হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় অনেক মানুষ বিবেক দ্বারা পরিচালিত না হয়ে পাপের পথে নিজেকে পরিচালিত করে। যে পাপ কখনো শুধরাবার নয়। ক্ষমার অযোগ্য হয়ে যায়। অনেক প্রাথমিক পর্যায়ে সৎ ভাবে ফল বিক্রয় করতেন এতে যথেষ্ট লাভবান হতেন। আসলে বর্তমান বাংলাদেশের শতকরা ৯০% ব্যবসায়িক মিথ্যার সাথে জড়িত আর প্রতারণার সাথে জড়িত। এর জন্য অনেককে অনেক সময় ধ্বংস হয়ে যায়। যাইহোক ঘটনাটা বেশ ভালো লাগলো।
জী ভাইয়া বাংলাদেশের ব্যবসায়িরা সময়ের সৎ ব্যবহার দেখিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। ধন্যবাধ।
লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। নিঃশ্বাস নিলে মানুষ বেঁচে থাকে না নিলে মরে যাই। সৎ ব্যবসা করে যখন তিন শতক জমি কিনতে পেরেছিল তখন আরও জমি সে এইভাবে ব্যবসা করেই কিনতে পারতো। কিন্তু বেচারা আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করলো। আর আল্লাহর শাস্তি স্বরূপ তাকে পথে পথে শাক সবজির বিক্রি করতে হচ্ছে। নিজের স্ত্রীর একবার করোনা একবার ক্যান্সার সপ্তাহে ১৫ হাজার টাকা খরচ। এই ব্যক্তির কাছ থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার কিছু বিষয় রয়েছে। আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।
জী ভাইয়া পাপ করলে তার ফল ভোগ করতে হবে। সেটা সময়ের ব্যাপার। ধন্যবাদ।
সত্যি ভাই পাপ বাপকে ও ছাড়ে না। আপনার এই পোস্ট টা দেখে ব্যাপার টা আরও উপলব্দি করতে পারলাম। ঐ ফল দোকানদার নিজের হারামের টাকার হিসাব এখন দিচ্ছে অন্য ভাবে। সে বুঝতে পারছে আসলেই নিজের অজান্তে কতবড় ভুল করেছে সে। বিষয়টি আমার কাছে বেশ খারাপ লাগল। কিন্তু এটাই তার নিয়তি কী আর করার আছে বলুন ভাই।
জী ভাইয়া হারাম টাকা যেভাবেই হোক যাবে। কারন এটা অন্যের হক। ধন্যবাদ।
এটা চিরন্তন সত্যি পাপ কখনো বাপরে ছাড়ে না। তবে বেশি লোভ করলে যা হয় আরকি। যাইহোক লোকটা তাট ভুল বুঝতে পেরেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো। দোয়াকরি এখন আবার সদ ভাবে বেঁচে থাকুক।
জী আপু ভুল বুঝতে পেরেছে তবে সেটা অনেক দেরী হয়ে গেছে। ধন্যবাদ।
পোস্ট টি পড়ে সেই মামার জন্য খারাপ লাগলো। তবে কিছু কিছু জিনিস আমি মন থেকেই মানি। তার মধ্যে এইটা একটা যে আমার ইনকাম যদি সৎ থেকে হয়, সেটার একটা বরিকত থাকে। মানুষকে ঠিক্যে কক্ষনো নিজের ভালো হয় না। হয় নিজের নয়তো পরিবারের উপর দিয়ে তার ভোগান্তি যায়। সবার সঠিক বোধোদয় হোক।
জী আপু হালাল ভাবে ব্যবসা করলে সেখানে বরকত হয়। ধন্যবাদ।