মা ও মেয়ে দুই জন এক সাথে অসুস্থ।।
পরম করুনাময় অসীম দয়ালু, মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি-
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ বাসি বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি ও আমার মেয়ের অসুস্থতা নিয়ে একটি ব্লগ শেয়ার করবো।
কয়েকদিন আগের কথা। দিন গুলো আমার কাছে ছিল খুবই বিভীষিকাময়। তখন আমি বাড়িতে ছিলাম। সিলেট থেকে আমাদের বাড়িতে এসে বেশ কয়েকদিন ছিলাম। তখন দেশের পরিস্থিতি খারাপ থাকার কারনে ঢাকায়ও আসতে পারছিলাম না। সব দিক দিয়ে বাস , ট্রেন, লঞ্চ সব কিছু বন্ধ ছিল। বার বার বাস স্টেশন গিয়েও ফেরত আসতে হয়েছিল। এভাবে হঠাৎ করে একদিন আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। দুপুর বেলা খাওয়া দাওয়া করে বাবুকে নিয়ে শুয়ে আছি। এমন সময় লক্ষ করলাম বাবুর শরীরটা কিছুটা গরম। ভাবলাম হয়তো জ্বর আসতে পারে। তাই নিজেই ডাক্তারি করে ঘরে পেরাসিটামলের এইস রিসাপ ছিল, সেটা থেকে এক চামচ খাওয়ে দিয়েছি।
আসরের দিকে শরীর নরমাল হয়ে গেলো। মানে শরীরে কোনরকম জ্বর নেই। যার ফলে আর ডাক্তারের কাছে যায়নি।সাধারনত আমি ও আমার মেয়ে অসুস্থ হলে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে থাকি। বাবুর জ্বর যেহেতো চলে গেছে তাই আর তেমন টেনশন করি নাই। আর ডাক্তারের কাছেও যায়নি। ঐদিন প্রথম রাতের দিকেও তেমন জ্বর লক্ষ করি নাই। তবে রাত দুইটার দিকে বাবুর প্রচন্ড জ্বর চলে আসে। তখন তো আমি চিন্তায় অস্থির। কোন উপায় না পেয়ে আবার নিজে নিজে ডাক্তারি করলাম, দুই চামচ এইস সিরাপ খাওয়ে দিলাম। কিছুক্ষন পরে জ্বর কিছুটা কমলো। তবে দ্বিতীয়বার আবার জ্বুর আসায় কিছুটা টেনশনে পড়ে গেলাম।
ঐরাতে ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে রাত অতিক্রম হলো। সকাল বেলা হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি ডাক্তার সাহেব আসে নাই। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেইন শহরে গিয়েছে। বিকালে যেতে হবে। তখন জ্বর কিছুটা কম থাকার কারনে অন্য ডাক্তার না দেখিয়ে চলে আসলাম। তারপর বিকাল বেলা আসরের নামাজের পরে আবার গেলাম। বিকালের দিকে জ্বর বেশি ছিল। হোমিওপ্যাথি ডাক্তার বাবুর জ্বর মেপে ১০৩ ডিগ্রী পেলো। তখন তিনি বললেন যেহেতো তাপমাত্রা বেশি তাই এলোপ্যাথিক ঔষুধ খাওয়ালে তাপমাত্রা তারাতারি কমে যাবে। সে জন্য হোমিওপ্যাথি ঔষুধ না নিয়ে ফিরে আসলাম। সন্ধার পরে বাবুর বাবা মানে আমার হাসবেন্ডকে বিস্তারিত বললাম। তিনি একটি কাগজে কয়েকটি ঔষুধ লিখে আমার মোবাইলে ছবি পাঠালেন। তিনি আবার ফার্মেসির কোর্স করতেছে। সেই সাথে একটি ফার্মেসিতেও বেশ কয়েক মাস যাবৎ সময় দিচ্ছে।
আমার বড় ভাগিনার মোবাইলে এই ঔষুধের কাগজটি সেন্ড করলাম। আর বললাম এই ঔষুধ গুলো যেন নিয়ে আসে। তখন সে লিষ্ট দেখে ঔষুধের সাথে একটি মাম পট ও একটি মশারিও নিয়ে আসলেন। ঔষুধ গুলোর মধ্যে ছিল পেরাসিটামলের এইচ সিরাপ, ঠান্ডা কাঁশির জন্য ফেক্সো সিরাপ। আর যেহেতো তাপমাত্রা উঠছে নামছে তাই একটি এন্টিবায়োটিক সিরাপ লোরাসেফ ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আফরিন নাকের ড্রপও লেখা ছিল। সব গুলো ঔষুধই আনা হয়েছিল। এই ঔষুধ গুলো খাওয়ানোর পরে মোটামুটি চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তাপমাত্রা কমে যায়, ঠান্ডাকাঁশিও কমে যায়।
বাবু কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে গেলাম আমি। আমার তাপমাত্রাও ১০২+ হয়ে গেছিলো। মাথা ব্যাথও ছিল। হাসেবেন্ডের সাথে যোগাযোগ করার পরে নাপা এক্সট্রা, পেন্টোনিক্স-২০, টাফনিল,কেফুক্লাভ ২৫০ আর কিছু সেলাইন খেতে বললো। এগুলো খাওয়ার পরে মোটামুটি আমি সুস্থ হয়ে গেছিলাম। আমারও এন্টিবায়োটিকের দরকার পড়েছিল। এখনকার তাপমাত্রা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ ছাড়া কমতেই চাই না। যায়হোক এগুলোতেই আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ হয়ে গেছিলাম। তবে আমার মেয়ের জন্য আমার বেশি টেনশন হয়েছিল। বেশ কয়েকদিন ঔষুধ খাওয়ার পরে আমরা দুইজনই সুস্থ হয়। সেই জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানায়।
বন্ধুরা কেমন হলো আমার আজকের ব্লগ। আশা করি কমেন্ট করে জানাবেন। আবার আপনাদের মাঝে নতুন ব্লগ নিয়ে হাজির হবো। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৮ |
| শিরোনাম | মা ও মেয়ে দুই জন এক সাথে অসুস্থ।। |
| স্থান | ভাদুঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,বাংলাদেশ। |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @titash |
আমার পরিচিতি
আমি মোছাঃ মুসলিমা আক্তার নীলা। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @titash নামে পরিচিত। আমার জন্মস্থান চট্রাগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর গ্রামে। আমি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতেছি। আমি বিবাহিত,আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত নারায়নগঞ্জ জেলায় বসবাস করছি। আমি আমার হাসবেন্ডের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। প্লাটফর্মটার বিষয়ে জেনে আমি এখানে কাজ করার আগ্রাহ প্রকাশ করি। তারপর ২০২৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্মে যুক্ত হয়। আমি ভ্রমন করতে,মজার মজার রেসিপি করতে,বই পড়তে, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে ও সৃজনশীল জিনিষ তৈরী করতে ভালোবাসি। আমি বাঙ্গালী জাতি হিসাবে ও আমার বাংলা ব্লগের সদস্য হতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আমি প্রথমে সৃষ্টিকর্তার কাছে মা ও মেয়ের সুস্থতা কামনা করছি। আসলে এটা অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার মা ও মেয়ে একসাথে অসুস্থতা। মনে হয় যদি নিজের কোন সমস্যা হয় সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব কিন্তু বাচ্চাও যদি একসাথে অসুস্থ হয়ে যায় সেটা মেনে নেওয়া যায় না কিন্তু কি আর করা। আল্লাহ আপনাদের দুজনকে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দিক সেই কামনা করি।
আমি এবং আমার মেয়ে এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা সুস্থ আছি। আপনারা দোয়া করবেন। আপনাদের জন্য দোয়া রইল। ধন্যবাদ আপু।
খুব খারাপ সময় কাটিয়েছেন দুজনে। তবে দুজনেই যে এখন সুস্থ হয়েছেন এ সত্যই ঈশ্বরের কৃপা। খুব সাবধানে থাকুন। এই জ্বরের পর শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের তো আরো বেশি। মেয়েকে খুব সাবধানে রাখুন। এন্টিবায়োটিকস খাওয়ার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তো আছেই।
দাদা একদমই ঠিক কথা বলেছেন, এন্টিবায়োটিকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে আমার শরীরে। প্রায়ই হাত পা ব্যথা করে। জ্বর উঠার আগে এমনটা ছিল না। মেয়েও অনেকটা শুকিয়ে গেছে। যাই হোক আল্লাহর রহমতে দুজনই এখন অনেক সুস্থ আছি। ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপু আপনি এবং আপনার মেয়ের অসুস্থতা কথা শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। এই সময় জ্বর সর্দি হলে ভালো হতে সময় লাগে। আপনাদের দুজনের সুস্থতা কামনা করছি আপু।
জি আপু এ সময় জ্বর ঠান্ডা কাশি হলে যেতেই চায়না। অনেক প্যারা দিয়ে তারপর রোগ ভালো হয়। আপনার জন্য দোয়া রইল। ধন্যবাদ আপু।
প্রথমে আপনার সুস্থতা কামনা করছি আপু এবং মেয়ের জন্য দোয়া ও সুস্থতা কামনা রইল। আসলে বর্তমান সময়ের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়তেছে। কেন জানিনা ওয়েদারের কারণে মনে হয়। তবে আমাদের পরিবারেও অনেকে অসুস্থ। ভালোভাবে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন এ কামনা করি।
আপু বর্তমান ওয়েদারের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আপনার পরিবারেরও অসুস্থতার খবর জেনে খারাপ লাগলো। সবার জন্য দোয়া রইল সবাই যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। ধন্যবাদ আপু।
প্রথমে মেয়ে তারপর আপনি অসুস্থ হলেন জেনে খুব খারাপ লাগলো। আসলে বড়রা অসুস্থ হলে যতটা না খারাপ লাগে তারচেয়ে বেশী খারাপ লাগে বাচ্চাদের কিছু হলে।যাক ভাইয়ার পরামর্শ নিয়ে মেডিসিন খেয়ে সুস্থ হয়েছেন এটাই শুকরিয়া।এখন সিজন ভালো নয়।তাই সকলেরই সাবধানতা অবলম্বন করা ভীষণ জরুরী।ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
আসলে ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হলে সব সময় ডাক্তারের কাছে আগে নিয়ে যেতে হয়। নিজেরা কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ খাওয়ানোটা কিন্তু অনেকটাই বোকামি। তাছাড়া আপনার বাচ্চা যেহেতু অসুস্থ ছিল তার থেকে হয়তো আপনার জ্বর এসেছে। যাই হোক, দুইজন যে সুস্থ আছেন , এটা জেনেই খুশি হলাম।