হঠাৎ অসুস্থ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
মানুষের বিপদ যে বলে কয়ে আসে না তার প্রমাণ সেদিন পেয়েছি। হঠাৎ করে রবিবার রাত্রে বেশ অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। সবার সাথে রবিবারের আড্ডায় বেশ গল্প করছিলাম। একেবারে সুস্থ মানুষ কি থেকে কি হয়ে গেল সেই গল্পই আপনাদের সঙ্গে আজকে শেয়ার করবো। যাক অল্পের মধ্যে থেকে ফিরতে পেরেছি তাই অনেক।
আমার মাইগ্রেনের প্রবলেম আছে। মাঝেমধ্যে ব্যথা হয়। বিশেষ করে অনেক বেশি গরম লাগলে বা রোদে গেলে এই ব্যথাটা বেশি বাড়ে।সেদিন কোনো কারণ ছাড়াই সন্ধ্যা থেকে হালকা মাথা ব্যথা হচ্ছিলো। অল্প মাথা ব্যথার জন্য তেমন একটা গায়ে লাগায়নি। রাত যত বাড়ছিল মাথা ব্যাথা তত তীব্র হচ্ছিলো। রাত বারোটার দিকে মনে হলো যে মাথা ব্যাথা টা আরো বেড়ে মাইগ্রেনের ব্যাথার দিকে চলে যাচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি করে ঔষুধ খেলাম। টাফনিল ওষুধটা মাইগ্রেনের ব্যথা হলে আমি খাই। এই ওষুধটা খাওয়ার পর এক ঘন্টার মধ্যে মাথা ব্যথা সেরে যায়। সেদিন ঔষুধ খাওয়ার পরেও মাথা ব্যথা আরো তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছিলো। মাইগ্রেনের ব্যথা যাদের আছে তারাই এই ব্যথার কষ্টটা বুঝতে পারবেন। মাথাব্যথা যখন সহ্য করতে পারছিলাম না তখন হাসবেন্ডকে ডাকলাম। সে বেশ কিছুক্ষণ মাথা ম্যাসেজ করে দিলো। তাতে কোন কাজ হচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর সামান্য একটু কমতে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। ব্যথার জন্য কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তারপর হঠাৎ করে বমি হয়ে গেল। বেশি মাথা ব্যথা হলে এই বমি হয় আমার। তাই তেমন একটা গায়ে না লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। বমি হওয়ার পর মনে হল যে মাথা ব্যাথা কমেছে।
৩০ মিনিট ঘুমানোর পর হুট করে আবারও ঘুম ভেঙে গেলো প্রচন্ড রকম মাথা ব্যথায়। বাসার সবার ঠান্ডা প্রবলেমের জন্য কেউ এসিতে ঘুমাচ্ছি না। তাই আমার হাসবেন্ড বাচ্চাদের নিয়ে আলাদা রুমে শুয়ে আমাকে এসি চালিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হল যে সারা শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। খুবই দুর্বল লাগছে এবং শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে হাসবেন্ডকে ফোন দিলাম। হাজবেন্ড এসে আমার এরকম অবস্থা দেখে ভেবেছে হয়তো পেশার লো হয়ে গিয়েছে। কারণ আমার মাঝে মধ্যে প্রেসার লো হয়ে যায়। তাই সে তাড়াতাড়ি একটি স্যালাইন গুলিয়ে দিলো খাওয়ার জন্য। সামান্য স্যালাইন খাওয়ার পর প্রেসার মেপে দেখে প্রেসার বেশি হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আমিও কেমন অস্বাভাবিক আচরণ করছি। তাই দেখে সে কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। তাড়াতাড়ি হসপিটালে নেয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলো। বাচ্চা দুটি ঘুমিয়ে আছে। ওদেরকে একা বাসায় রেখে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়াও ঝামেলা। কিন্তু আমার শরীরের যে অবস্থা তাতে আমরা কেউ সাহস করছিলাম না বাসায় থাকার। তাই রাত দুইটার সময় বাচ্চাদেরকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে এভার কেয়ার হসপিটালে ইমার্জেন্সিতে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর তারা দেখে একটা ক্যানুলা করে ইনজেকশন দিলো স্যালাইন এর মাধ্যমে। ওখানে যাওয়ার পর আরো একবার বমি হয়ে গিয়েছিলো। ১০-১৫ মিনিটে ইনজেকশনটি শেষ হওয়ার পর কিছুটা ভালো লাগছিলো। ডাক্তার আরো কিছু টেস্ট করতে চেয়েছিলো। তখন শরীর ভালো হওয়ার জন্য টেস্টগুলো করিনি। কারণ এক/দেড় মাস আগেই আমি আমার ফুল বডি চেকআপ করেছি। তাছাড়া টেস্ট করতে গেলে আরো কয়েক ঘন্টা বসে থাকতে হতো বাচ্চাদেরকে নিয়ে। তাছাড়া বড় ছেলের পরের দিন পরীক্ষা ছিল সে পরীক্ষার টেনশন করছিলো। ঘন্টাখানেক থাকার পর কিছুটা ভালো লাগলে বাসায় চলে এসেছি।
সেদিন রাতে যে পরিমাণ ভয় পেয়েছিলাম তা বলে বোঝাতে পারবো না। মনে হচ্ছিল যে এখনই হয়তো মারা যাব এমন অবস্থা। আল্লাহর রহমতে অল্পের উপর দিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছি। সামান্য মাথাব্যথা থেকে কি হয়ে গেলো তাই চিন্তা করছিলাম। মাথাব্যথা যখন অল্প ছিল তখনই ওষুধটা খেলে হয়তো এত খারাপ পরিস্থিতি হতো না। কোন কিছুকে অবহেলা করা ঠিক না।
যাইহোক সবাই সাবধানে থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সময় নিয়ে পোস্টটি দেখার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।
ধন্যবাদ
@tania
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
আপনার সুস্থতা কামনা করছি আপু। আসলে যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে তারাই এই কষ্টটা বুঝতে পারে। মাঝরাতে আসলেই অনেক বিপদে পড়েছিলেন, আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু পুরোপুরি পোস্ট পড়ার পরে বুঝতে পারলাম আসলে এটা বড় সমস্যা। যাইহোক সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি আপনি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া মাইগ্রেনের ব্যথা যাদের হয় তারাই শুধু এই কষ্টটা বুঝতে পারে। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আপু প্রথমে আপনার সুস্থতা কামনা করছি। বর্তমান সময়ে অধিক পরিমাণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আর এর মধ্যে অন্যতম রয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। যেটা সারা বাংলাদেশের ছড়িয়ে গেছে। আসলে আপু অনেক সময় মানুষের হঠাৎ করে মাথা ঘুরে যায় এবং তার পেশার লো হয়ে যায় এই সমস্ত বিষয়গুলো যেন এখন মানুষের কমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেহের ছোট কিছু সমস্যা থেকে অনেক বড় সমস্যা হতে পারে। যাক আপু আপনার অল্পের মধ্য দিয়ে আপনি সুস্থ হয়েছেন জেনে ভালো লাগলো।
বর্তমানের সিজনটাই খারাপ যাচ্ছে। এজন্য সবাই কম বেশি অসুস্থ হচ্ছে। ধন্যবাদ মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপু প্রথমে আপনার সুস্থতা কামনা করি আপনি যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে মানুষের অসুস্থতার কোন ঠিক নেই মানুষ অনেক ধরনের অসুস্থর দিকে সম্মুখীন হয়েছে। সত্যি বলতে আপু যাদের শরীরে মাইগ্রেনের ব্যথা আছে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার জন্য দোয়া রইল আপনি যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারো আমাদের মাঝে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কাজ করতে পারেন।
ধন্যবাদ ভাইয়া। বর্তমানে বেশ খানিকটা ভালো আছি।
ভাল একটি কাজ করছিলেন আপনি যে হাসপাতালে চলে গেছেন তাই। আসলে এরকম পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা একদম উচিত নয়। ভাগ্যিস আপনি যদি ঘরে থাকতেন তাহলে দুর্ঘটনা ঘটে যেত। কারণ আপনার যেহেতু প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল তাই এমন হয়েছিল। আমারও মাঝে মধ্যে মাথা ব্যাথা শুরু হয়। কিন্তু কিছুতে ঘুম না গেলে সে মাথা ব্যাথা সেরে ওঠেনা। আমি বেশ ভালোভাবে বুঝি আপু এখন মাথা ব্যাথার যন্ত্রণা কত খারাপ। সাবধানে থাকবেন আপু সুস্থতা কামনা করছি অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
শরীরের যে অবস্থা হয়েছিল তাতে বাসায় থাকা ভালো মনে করছিলাম না। সেজন্যই হসপিটালে চলে গিয়েছিলাম। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
প্রথমে আপনার সুস্থতা কামনা করছি দোয়া করি যাতে আপনি পুরোপুরি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যান। আসলে যার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে একমাত্র তারাই বুঝে। মাঝেমধ্যে আমারও এরকম মাথা ব্যথা করে। যাই হোক পরে আপনি হাসপাতালে চলে গিয়ে ভালোই করেছেন। অল্পতেই ফিরে আসতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো।
আপনারও মাইগ্রেনের ব্যাথা হয় তার মানে আপনার মাইগ্রেনের ব্যথা সম্পর্কে ধারণা আছে। প্রচন্ড রকম ব্যথা হয় এ সময়। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আসলেই হঠাৎ বিপদ বলে কয়ে আসে না।আমি শুনেছি মাইগ্রেনের সমস্যা খুব খারাপ একটা জিনিস।যাদের সমস্যা তাদের জন্য বেশ কষ্টকর।আল্লাহর অশেষ রহমত আর ভাইয়া পাশে ছিলো বিদায় মোটামুটি সহজ হয়ে গিয়েছে।আপনি সুস্থ হয়েছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো।দোয়া রইলো আপু।ভালো থাকবেন।ধন্যবাদ
সেদিন রাতে আসলেই ভয় পেয়েছিলাম। এত খারাপ অবস্থা আগে কখনো হয়নি। ধন্যবাদ আপু। দোয়া করবেন।
কখন যে মানুষের কি হয় বলে বুঝানো অসম্ভব। হ্যাংআউটে ভাল ছিলেন,সুস্থ শরীরে ঘুমাতে গেলেন হঠাৎ প্রেসার কমে গেল। আবার স্যালাইন খেয়ে প্রেসার বেড়েও গেল। বাসায় কেউ থাকলে বাচ্ছাদের ঘুমের মধ্যে উঠিয়ে নেওয়া লাগতো না। যায়হোক সুস্থ হয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া মানুষের শরীরের কোন ঠিক নেই। কখন যে অসুস্থ হয়ে যায় বোঝা যায় না। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
তমা আপু, অল্প মাথা ব্যাথায় কক্ষনো টাফনিল খাবেন না। টাফনিল ওষুধ টা মাঝে কিন্তু বেশ অনেকদিন প্রোডাকশন বন্ধ ছিলো বাংলাদেশে। এই ওষুধ টা ব্যান করে দেয়া হয়েছিলো। আমিও আপনার মতোন একজন মাইগ্রেনের রোগী। যখন এমন অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা হবে, একটা টাফনিল খেয়ে না কমলে ১৫-৩০ মিনিট পর আরেকটা টাফনিল খাওয়া যায়.. আপনার সেরাতে ভোগান্তির কথা পরে খুব খারাপ লাগলো। আপনার জন্য শুভকামনা।
আপু অল্প মাথা ব্যথার জন্য কখনো টাফনিল খাওয়া হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথাটা শুরু হতে ধরলেই বুঝতে পারি। এই ব্যথাটা একেবারেই অন্যরকম। ধন্যবাদ আপনার সাজেশন এর জন্য। পরবর্তীতে তাই করার চেষ্টা করব।