কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি।
আজ অনেক দিন পর আপনাদের সাথে রেসিপি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। ছেলে যত বড় হচ্ছে আমার ব্যস্ততা তত বেড়ে যাচ্ছে। ওর পিছনে ঘুরতে ঘুরতে আমার সময় চলে যায়। আগে ভাবতাম বড় হলে একটু আরামে থাকতে পারবো কিন্তু এখন দেখছি তার উল্টো। যখন ছোট ছিল দোলনায় শুয়ে রেখে সব কাজ শেষ করেছি কান্নাকাটি ছিল না। এখন আসতে একটু দেরি হলেই কান্না শুরু হয়ে যায়। এত পাকনা পাকনা কথা বলে আপনারা শুনলে হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
বলতে পারেন ছেলের জন্যই রেসিপি পোস্ট শেয়ার করা হয়না। তাড়াতাড়ি সবজি কেটে চেষ্টা করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রান্না শেষ করতে। একটা রেসিপির ছবি তুলতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় আর আমি সেই সময় পাই না। তবে আমার সাথে কেউ ছেলে কে রাখার মতো থাকলে তাহলে অবশ্যই তা সম্ভব হতো। একলা থাকি বলে সব দিক সামলিয়ে ওঠা সম্ভব হয়না। আমাদের গ্রামের বাড়িতে আমার চাচিরা আমার এভাবে সংসার করা দেখে আশ্চর্য হয়ে যায়। তারা ভাবতে পারেনি সংসার সন্তান এভাবে কখনো সামলাতে পারবো। তার অবশ্য কারণ আছে আমি এমন ছিলাম গ্লাসে পানি ঢেলে পর্যন্ত পানি খাইনি। সেই আমি এখন এত কিছু সামলাচ্ছি।
মাঝে মাঝে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই আমি এত কাজ করতে পারি। তবে আমার বাংলা ব্লগে জয়েন হওয়ার পর আরও অনেক অজানা কাজ আপনাদের কাছ থেকে শিখা হয়ে গিয়েছে। যাই হোক কাজের কথায় আসি। আজ আপনাদের সাথে কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি নিয়ে চলে আসলাম। আমার কাছে কাঁঠালের বিচি খেতে অনেক ভালো লাগে। কাঁঠালের বিচি দিয়ে যেকোনো রেসিপি খেতে অনেক ভালো লাগে। এভাবে চিংড়ি মাছ দিয়ে ভুনা করলে খেতে আরও বেশি ভালো লাগে। তাহলে চলুন ধাপগুলো দেখে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| চিংড়ি মাছ | সাত পিস |
| কাঁঠালের বিচি | এক বাটি |
| পেঁয়াজ | ২ টি |
| তেল | পরিমাণ মতো |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চামচ |
| মরিচ গুঁড়া | দেড় চামচ |
| ধনিয়া গুঁড়া | হাফ চামচ |
রেসিপি তৈরির ধাপসমূহ
😋১ম ধাপ😋
প্রথমে আমি কাঁঠালের বিচির উপরের খোসা ফেলে দিয়ে মাঝখান থেকে কেটে নিলাম। এবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিলাম।
😋২য় ধাপ😋
এবার চুলায় কড়াই বসিয়ে দিলাম। এরপর কড়াই গরম হয়ে গেলে এতে পরিমান মতো তেল দিয়ে দেব। এরপর এতে চিংড়ি মাছ দিয়ে দেব।
😋৩য় ধাপ😋
এখন চিংড়ি মাছ ভাজার জন্য হালকা হলুদ গুঁড়া দিয়ে লাল করে ভেজে নেব। এবার ভাজা হলে একটি বাটিতে উঠিয়ে নেব।
😋৪র্থ ধাপ😋
এখন একই তেলে পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে দেব। এরপর একটু নেড়েচেড়ে এতে গুঁড়া মশলা দিয়ে দেব। এরপর অল্প পানি দিয়ে মশলা একটু কষিয়ে নেব।
😋৫ম ধাপ😋
এবার এতে ভাজা চিংড়ি মাছ দিয়ে দেব। এরপর মশলার সাথে একটু মিশিয়ে নেব।
😋৬ষ্ঠ ধাপ😋
এবার এতে কাঁঠালের বিচি দিয়ে দেব এবং সবগুলো সুন্দর ভাবে মিশিয়ে নেব।
😋৭ম ধাপ😋
এরপর পরিমাণ মতো পানি দিয়ে দেব। এরপর সিদ্ধ হওয়ার জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেব।
😋শেষ ধাপ😋
এরপর পানি শুকিয়ে গেলে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নেব। তাহলেই হয়ে যাবে আমার আজকের কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি। এবার পরিবেশনের জন্য চলে যাব।
😋পরিবেশন😋
এখন আমি আপনাদের সাথে আমার রেসিপি সুন্দর ভাবে পরিবেশন করার জন্য নিয়ে আসছি। আপনাদের কাছে যদি আমার এই রেসিপি ভালো লাগে তাহলে একবার বাসায় তৈরি করে দেখবেন। আশা করি আমার মতো আপনাদের কাছেও অনেক ভালো লাগবে। আজ এ পর্যন্ত আবার দেখা হবে নতুন কোনো রেসিপির মাধ্যমে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
দারুণ রেসিপি তৈরি করেছেন আপু। এমন ভাবে কখনো খাওয়া হয়নি। শিং মাছ বা অন্য মাছ দিয়ে কাঁঠালের বিচি খাওয়া হয়েছে,সাথে কোনো শাক দিয়ে। কিন্তু এভাবে শুধুমাত্র কাঁঠালের বিচি আর বাগদা চিংড়ি দিয়ে ভুনা করে কখনো খাওয়া হয়নি। দেখতে তো দারুণ মনে হচ্ছে আশা করি খেতে ভালো লেগেছে। আর এটা একদম ঠিক কথা বাচ্চাকাচ্চা যত বড় হবে তত বেশি ঝামেলা পাকাবে,হাহা।
আপু সত্যি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। যদি বাসায় কাঁঠালের বিচি থাকে তাহলে আজই এই রেসিপি তৈরি করে নেবেন। আশা করি খেয়ে মজা পাবেন। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি। আসলে এভাবে যদি চিংড়ি মাছ রান্না করা যায় তাহলে খেতে বেশি সাথে লাগে। আমি আগে বেশ কয়েকবার খেয়েছি এভাবে রান্না করে। আপনার তৈরি রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে বেশি সাদা হবে আপু। এত সুন্দর ভাবে রেসিপি তৈরি করে ধাপে ধাপে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। একবার বাসায় তৈরি করে খেয়ে নেবেন। খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।
কাঁঠালের বিচি দিয়ে এভাবে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। আপনি খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন।রেসিপি পরিবেশন অসাধারণ হয়েছে। এতো সুস্বাদু ও মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
খুব সুন্দর বক্তব্য করেছেন। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
মায়েদের সব সময় মনে হয় যে বাচ্চারা আরেকটু বড় হলে একটু শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু সেই শান্তি আর আসে না যত বড় হয় বাচ্চা তত বেশি দুষ্টু হয় যাইহোক কাঁঠালের বিচি দিয়ে কখনো চিংড়ি মাছ খাওয়া হয়নি । আপনার কাঁঠালের বিচি দিয়ে চিংড়ি মাছ রান্না দেখে মনে হচ্ছে যে খেতে খুবই মজাদার হয়েছিল।
আপু এত পরিমান দুষ্টামি করে বলার বাহিরে। আপু একবার খেয়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে। সত্যিই আমার এই রেসিপি পেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ।
কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা রেসিপি দেখে আমার তো জিভে জল চলে এসেছে। আপনি খুবই লোভনীয় একটা রেসিপি তৈরি করেছেন যা দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদ এবং ইয়াম্মি হয়েছে। আপনি রেসিপির কালার দেখে আমার খুবই লোভ লেগে গিয়েছে। এরকম মজাদার রেসিপি গুলো দেখলে ভীষণ ভালো লাগে। পরিবেশনটাও খুবই সুন্দরভাবে করেছেন। আসলে চিংড়ি মাছ আমার খুবই পছন্দের তাই একটু বেশি ভালো লাগলো রেসিপিটা।
ভাইয়া আপনার দাওয়াত রইলো একদিন এসে এই রেসিপি খেয়ে যাবেন। খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।
কাঠালের বিচি আমারও বেশ পছন্দ। তবে চিংড়ি দিয়ে কখনও খাওয়া হয়নি। এ সিজনে একদিন করে দেখবো।ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু একবার খেয়ে দেখবেন। সিজনের সব জিনিসই খেতে হয় আর খেতেও খুবই সুস্বাদু লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপু, যাদের বাসায় ছোট ছোট সোনা মনিরা আছে শুধুমাত্র তারাই বুঝতে পারবে, এই ছোট ছোট সোনামণি সাথে থাকলে কাজের কতটা অসুবিধা হয়। কেননা আমিও আমার ছেলের জন্য দিনের বেলায় কোন ডাই প্রজেক্ট তৈরি করতে পারিনা। কাছে এসে সব কিছুই এলোমেলো করে দেয়। যাইহোক আপু, কাঁঠালের বিচি দিয়ে বাগদা চিংড়ি ভুনা করে কখনো খাওয়া হয়নি। চিংড়ি মাছ এমনিতে ভুনা করে খাওয়া হয়েছে, তবে কখনো কাঁঠালের বিচি যোগ করা হয়নি। তাই আপনার এই রেসিপিটি আমার কাছে একদম নতুন রেসিপি। পরবর্তী সময় চেষ্টা করব আপনার তৈরি রেসিপি অনুসরণ করে তৈরি করে খাবার। খুব মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া আমিও কাগজ কলম নিয়ে বসতে পারিনা সব নিয়ে যায় আর না দিলে কান্না শুরু করে। কাঁঠালের বিচি দিয়ে এভাবে একবার খেয়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।
যদিও এখনো পর্যন্ত কাঁঠালের বিচি আমার খাওয়া হয়নি কিন্তু আপনার রেসিপি পোষ্টের মাধ্যমে দেখে আমি তো লোভ সামলাতে পারছি না। আসলে আমি ছোটবেলা থেকেই কাঁঠালের বিচি ভীষণ পছন্দ করি খেতে। যদিও ঘরের মধ্যে কাঁঠালের বিচি রয়েছে কিন্তু রান্না করা হয়নি এখনো। আপনি খুবই মজাদার ভাবে বাগদা চিংড়ি দিয়ে কাঁঠালের বিচি রান্না করেছেন। আপনার উপস্থাপনা দেখে রেসিপিটা শিখে নিলাম। ভাবছি এই পদ্ধতিতে কাঁঠালের বিচি রান্না করবো। দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল এবং বেশ মজা করে খাওয়া হয়েছিল। দেখে ভালো লাগলো।
আপু আজই কাঁঠালের বিচি দিয়ে রেসিপি তৈরি করে নেন আশা করি খেতে খুবই সুস্বাদু হবে। আপনার সেই রেসিপির অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
ছোট বাচ্চা সামলিয়ে আসলে কাজ করা অনেক কষ্টের ব্যাপার। কাঁঠালের বিচি দিয়ে গলদা চিংড়ি রেসিপি দেখে লোভ সামলানো মুশকিল। কাঁঠালের বিচি এবং চিংড়ি মাছ দুটোই আমার খুবই পছন্দের। আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। সুস্বাদু ও মজাদার একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল।সময় হলে একবার তৈরি করে দেখবেন। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।