অনলাইনে দেখে শাড়ি কিনতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা
নমস্কার বন্ধুরা,
আশা করি সবাই ভালো আছেন।সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সঙ্গে এক অন্য রকমের একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
বর্তমান সময় এখন অনলাইনের যুগ বলাই চলে। যে কোনো জিনিস এখন আগে আমরা অনলাইনে খোঁজার চেষ্টা করি। আবার অনেকে আছে যারা বেশিরভাগ জিনিসই অনলাইনে কেনাকাটা করে। আর এই অনলাইন মার্কেটিং বলা যেতে পারে লকডাউন এর পর থেকে প্রবলভাবে বেড়ে গেছে ।সেই সময় দেখতে পেয়েছিলাম বহু মানুষ একটু পরিবারের সাথে সাধ দেওয়ার জন্য অনলাইনে অনেক কিছু বিক্রি করেছিল।এমন অনেকে আছেন যারা নিজের হাতে জিনিসপত্র বানিয়ে সকল জিনিস অনলাইনে বিক্রি করেছেন। এর জন্য তাদের একদিক অনেক লাভ হয়েছে এবং বর্তমানে তারা এখন সফল ব্যবসায়ী বলা যেতে পারে ।
তেমনভাবেই আমার সাথে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছিল।বহুদিন ধরে অনলাইনে শাড়ি দেখছিলাম। অনেক গৃহবধূ আছেন যারা এই অনলাইনে সুন্দর সুন্দর শাড়ি বিক্রি করেন এবং এই ভিডিওগুলো দেখতেও খুব সুন্দর লাগে আমার ।সেই ভিডিও দেখে অনেকে কেনাকাটিও করে। তার মধ্যে যখনই আমি ফেসবুকে ভিডিও স্ক্রল করি তখনই শাড়ির ভিডিওগুলো আসে এবং সেগুলো সব সময় দেখি।
আসলে কিছু শাড়ি খুব পছন্দ হয়েছিল এবং যিনি শাড়ি অনলাইনে দেখিয়ে ছিলেন,ওনার বাড়ির যে ঠিকানা দিয়েছিলেন আর সেই জায়গাটি আমাদের বাড়ি থেকে খুব একটা দূরে নয় প্রায় আধঘন্টার মধ্যে সেখানে যাওয়া যায়। তাই গতকাল ঠিক করেছিলাম যাবো তার সাথে অনলাইনে যে শাড়িগুলো দেখে রেখেছিলাম এবং সেগুলো স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছিলাম সেগুলো ও কিনবো ।
গতকাল সন্ধ্যায় আমি, মা আর কাকিমনি বেরিয়ে গেলাম ।জায়গাটি ছিল সিঁথিরমোড়ে। মোটামুটি আধ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম। কিন্তু জায়গাটি ছিল একটু ভিতর দিকে তাই প্রথমে খুঁজতে অসুবিধা হলেও পরে পেয়ে গিয়েছিলাম । যেখানে শাড়ি দেখানো হয় প্রথমে ভেবেছিলাম ওটা কোনো দোকান হবে কিন্তু পরে দেখলাম যে বাড়ির ভিতরে উনি শাড়ি বিক্রি করেন। সেখানে বসার সাথে সাথে কয়েকটি শাড়ি দেখাতে বললাম।সত্যি কথা বলতে সেখানে ঠিক করে বসার জায়গার কোনো ব্যাবস্থা ছিল না।কিন্তু আমরা কোনো দোকানে গেলে যেভাবে শাড়ি দেখি মানে একটার পর একটা দেখানো এবং সেই শাড়িটা পুরো খুলে দেখানো।তার সাথে শাড়িটা দেখতে কেমন সবটাই দেখা।এখানে এসে প্রথম যে শাড়িটা দেখেছিলাম বা আরো যে কয়েকটা শাড়ি দেখতে চেয়েছিলাম ওনারা কিছুতেই পুরোটা খুলে দেখাচ্ছে না , একটু খোলার সাথে সাথেই সেটা ভাঁজ করে রেখে দিচ্ছিলেন। যাতে করে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল যে শাড়িটা আসলেই দেখতে কেমন এবং আমরা যখন ফোন খুলে ছবি দেখাই যে এই শাড়িটা আমাদের লাগবে, তখনই বলা হচ্ছিল যে সেই শাড়িটা স্টকে নেই ।সত্যি কথা বলতে এই ব্যাপারটা একেবারে আশা করিনি অনেকটাই আশাহত হয়েছিলাম। কারণ অনেক আশা নিয়ে সেখানে যাওয়া।
তার মধ্যে যেহেতু ওনারা কোনো শাড়ি খুলে দেখাচ্ছিলেন না তাই জন্য বুঝতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল তার মধ্যে যেটা দেখতে চেয়েছিলাম সেটাও দেখতে পাচ্ছিলাম না ।এরমধ্যে ও কোনো শাড়ি যদিও ভালো লাগছিল ওটা যে মিররের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাই করবো সেই ব্যবস্থা ওখানে ছিল না। সব মিলিয়ে খুব খারাপই লাগছিল বিষয়টা। কারণ যেই জিনিস অনলাইনে দেখানো হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে আসলেই পাওয়া যাবে সেই জিনিসই যখন আমরা সামনে গিয়ে দেখতে চাইছি তখনই সেটা বলা হচ্ছে নেই। যাই হোক যেহেতু অনেকগুলো শাড়ি দেখেছিলাম তার মধ্যে একটা শাড়ি আমার খুব ভালো লেগেছে তাই নিয়ে নিয়েছিলাম ।সেই শাড়ির কালারটা ভীষণ সুন্দর।যেই শাড়িটা নিয়েছিলাম সেটা ছিল কাতান সিল্ক রাধা কৃষ্ণ বুটিকের ওপর।
শাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আসার পর একটা জিনিস বুঝলাম আসলে অনলাইনে দেখে শাড়ি কিনতে যাওয়া। আর যে কোনো শাড়ির বড় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আশা করি এরকম অভিজ্ঞতা আর কখনো হবে না ।যাইহোক এই ছিল আমার গতকালের অনুভূতি। তাই আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

বর্তমান যে হল মোবাইল ইন্টারনেটের যুগ। আর এই যুগ এসে মানুষকে সব কিছু করতে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। বর্তমান মানুষ সবকিছুই অনলাইনে পাচ্ছে। তাই তারা ঘরে বসে সব কিছু অর্ডার দিচ্ছে। আসলে আপু অনেক সময় দেখা যায় অনলাইন আপনি যেটা দেখছেন সরাসরি গিয়ে সেটা পাবেন না। আমার মনে হয় ক্রেতাকে আকর্ষণ করাটা হলো তাদের মূল লক্ষ্য। এবং পরবর্তীতে সে যখন কিনতে আসবে তখন সেটা না পেলেও নিশ্চয় কোন না কোন একটা কিনে নিয়ে যাবে। আপনি যেটা অনলাইনে দেখেছেন সেটা কিন্তু সেখানে পান নাই পরবর্তীতে অন্য একটি শাড়ি কিনেছেন। যাক অনলাইনে কেনাকাটার বেশ ভালো রকম আপনার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
এটা ঠিক বলেছেন দিদি অনলাইনে দেখানো জিনিস যাওয়ার পর দেখতে না পেলে খারাপই লাগে।আর জিনিস কেনার জন্য যদি খুলে নাই দেখা যায় তবে তা কি করে নেয়া যায়। এটা খুব খারাপ লাগারই কথা।আপনি একটা শাড়ি পছন্দ করে নিলেন।শাড়িটির কালার চমৎকার হয়েছে।আপনাকে খুব মানাবে।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো দিদি।শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
দিদির কেনা শাড়িটা আমারো ভীষণ পছন্দ হয়েছে। রাধা- কৃষ্ণ মোটিফে করা নীল রঙ এর কাতান শাড়ি। প্রথম দিকের ছবিগুলোতে আসলে বোঝা যাচ্ছিলো না যে এটা দোকান না বাসা। কালেকশন তো অনেক ই মনে হচ্ছে। কিন্তু কাস্টমার নিজে থেকে আগ্রহ নিয়ে আসার পরেও ওরা যে শাড়ি ভালো করে খুলে দেখাতে চাচ্ছিলো না, এটা পুরাই আনপ্রফেশনাল বিহেভিয়ার।
যাক বাবা তবুও তো একটা শাড়ি নিতে পেরেছিলেন। দিদি অনলাইন এমনই হয়। স্টক না থাকলেও বার বার ঐ একই জিনিস প্রদর্শন করে। যাতে করে লোকজন আকৃষ্ট হয়ে নিয়ে নেয়। একটা না নিলে তো আর একটা নিবেই। এই যেমন আপনি। আপনি তো অনলাইন দেখে কিনতে গিয়ে একটি হলেও শাড়ী নিজের জন্য কিনতে পেরেছেন। যাই হোক ঠকে যে আসেননি এটাই অনেক বড় কথা।
আসলেই দিদি এটা একটা ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হলো আপনার জন্য। না আমি এখনো অনলাইনে কোন প্রডাক্ট ক্রয় করি নাই, কারন বিশ্বাসের জায়গাটায় বিশাল ঘাটতি আছে এখনো, আমি খুব একটা ভরসা করতে পারি না। তবে আমি শপিং মলে গিয়ে সবকিছু চেক করে ক্রয় করার উপর বেশী জোর দিই। যেটা নিয়েছেন সেটা দেখতেও কিন্তু বেশ সুন্দর লাগছে। ধন্যবাদ
অনলাইন এ কেনাকাটাতে আমিও খুব একটা ভরসা পাইনা। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ যে ভিডিও দেখছে সেখানে গিয়ে যে এমন ভাবে সম্মুখীন হতে হবে আমিও ভাবিনি। অনেক দেখে শুনেই এই শাড়িটা নিতে হয়েছে(যেহেতু ভালো ভাবে দেখাতে চাইছিল না😑)।
আমাদের দেশে ম্যাক্সিমাম অনলাইন শপ প্রতারণা করে মানুষের সাথে। আর সেজন্যই এখন অনেকেই কিনতে চায় না। তবে এমন কিছু শপ আছে যারা বিশ্বস্ত এবং অনেক সময় তাদের কাস্টমারদের ভালো কিছুই দেয়। ওই হিসেবে কিছু শপ অনেক বেশি পরিচিত। আমি একবার নিয়েছিলাম কিন্তু জামাগুলো ভালো হয়নি তারপর থেকে ভাবলাম কখনও আর অনলাইনে জামা কাপড় কিনবো না। কিন্তু আপনি তো দেখছি অনলাইনে দেখার পর জায়গায় গিয়েও আশানুরূপ কিছু পাননি। আসলে বাড়িতে যেহেতু তাদের দোকান ছিল সেই হিসেবে তারা আন্তরিকতার সাথে কাস্টমার এর সাথে ব্যবহার করতে পারতো। যাইহোক এর ইন্টারনাল কোন বিষয় হয়তো রয়েছে। তবে শাড়িটা সত্যিই খুব সুন্দর দিদি। কালারটা আমারও খুব ভালো লেগেছে।
আসলে অনলাইনে যেভাবে দেখায় ব্যাপারটা খুব একটা তেমন হয়না শুধুমাত্র নামীদামী ব্র্যান্ড গুলো ছাড়া।আর আমার সাথেও প্রায় হয়,যেটা খুঁজতে যাবো ওটা বাদে বাকি সব থাকবে।তবে লাস্টের শাড়ির কাজটা খুব সুন্দর।
খুঁজতে গিয়ে না পেলে খারাপ লাগা স্বাভাবিক।কিন্তু আসতে বলে কিছুই না দেখানো অস্বাভাবিক😜 ।
আসলে দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করার মজাই আলাদা,ওনারা পারলে পুরা দোকানের সব শাড়ি দেখিয়ে ফেলেন।আর অনলাইনে তেমন সুযোগ হয় না অনেকেই বাসা,বাড়ি থেকে ব্যাবসা চালিয়ে যায় এবং অনভিজ্ঞ থাকে শাড়ি ভাজ দেয়ার বিষয়ে তাই তারা পুরা শাড়ি খুলে দেখাতে চায় না কিন্তুু আমাদের তো পুরা শাড়ি খুলে না দেখে নিলে মনে অশান্তি কাজ করে।তবে দিদি আপনার শাড়ির কালার কিন্তুু সত্যি অসাধারণ হয়েছে এবং সাথে রাধা,কৃষ্ণের বুটিকের ডিজাইন টা অপূর্ব।
দিদিভাই, এটাই হচ্ছে অনলাইন আর বাস্তব জগতের মধ্যে পার্থক্য। তবে যাইহোক শেষ পর্যন্ত একটা কিনেছেন এটাই বা কম কিসের। ভালো লাগলো আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে।
দিদি অনলাইনে কোন জিনিষ দেখা আর বাস্তবে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আপনি যেখানে শাড়ি কিনতে গেছেন সেখানে সব কিছু ভাল ভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। এটাই তাদের চালাকি। যায়হোক অবশেষে যে শাড়িটা নিয়েছেন সেটা খুবই সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ।