বিষাদময় সংসার
বিষাদময় সংসার
গ্রামের একটি সহজ সরল মেয়ে। এইতো কিছুদিন হলো নবম শ্রেণী পার হয়ে দশম শ্রেণীতে পদর্পন করেছে। এরই মধ্যে বাবা মেয়েকে স্বামীর বাড়ি পাঠানোর তড়িগড়ি শুরু করে দিলো। এলাকার সকল ঘটকদের কাছে বলতে লাগলো মেয়ের জন্য ভালো একটি পাত্রের সন্ধান করতে। মেয়েটি গ্রামের হলেও বেশ রোমনিও ও সুন্দর্যময় ছিল। বেশ মায়া মায়া একটা ভাব ছিল তার চেহেরার মধ্যে। দুই বোনের মধ্যে সে ছোট হওয়াতে বাবার বেশ আদরের মেয়ে ছিল সে। গ্রামের মধ্যে সুন্দরী মেয়ে বলে কথা ছেলের সন্ধান পেতেও ঘটকদের তেমন বেশি সময় লাগেনি। তবে এত কিছুর কথা মেয়েটি কিছু জানতো না। হটাৎ করেই ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েকে দেখতে আসলে মেয়েটি ভয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায় অন্য কারো ঘরে কারণ তার কোনো ইচ্ছাই নেয় এখন বিয়ে করার।
সে অনেক স্বপ্ন-আশা নিয়ে লেখাপড়া করছিলো। সে কখনোই ভাবেনি বাবা তাকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করে এভাবে এতকিছু করে বসবে। ছেলেটি ছিল বেশ ধনি পরিবারের। এলাকায় বেশ ডাক নাম রয়েছে। নিজেদের ব্যবসা আছে আর এত কিছুর কথা শুনে মেয়ের বাবা বেশ আনন্দিত হয় ও মেয়েকে এখানেই বিয়ে দিবে বলে ওদের সাথে প্রতিজ্ঞা করে। বাবার কথা হচ্ছে আমার মেয়ে এখানে গেলেই বেশি সুখে থাকবে। মেয়েটি তার পরিবারের সাথে যুদ্ধ করে আর পেরে উঠছিলোনা। একটা সময় বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয় তার। আর বিয়ে করা মানে একটা মেয়ের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া আর স্বামীর সংসার ঠিক মতো করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।
বাবা তার মেয়েকে অনেক আনন্দের সাথে বাড়ি থেকে বিদায় দেন। বিয়ের পর কয়েস মাস খুব ভালো যায় তারপরেই শুরু হয়ে যায় নির্যাতনের পালা। ছোটোখাটো বিষয় থেকেই শুরু হয়ে যায় গায়ে হাত তোলা ও গালাগালি। আর স্বামীর প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে স্ত্রীর অধিকার চাইতে গেলেও স্বামীর কাছে অপমানিত হতে থাকতো মেয়েটি। প্রথম দিকে সবকিছু সহ্য করলেও একটা সময় আর পেরে উঠছেনা মেয়েটা। দিন দিন যেন নির্যাতনের পালা বেড়েই চলেছে। বাধ্য হয়ে একদিন বাবাকে মেয়ের কষ্টের কথা বললে পাগলের মতো ছুটে যায় বাবা। কিন্তু বুড়ো এই বাবাকেও অপমান করতে বাধলোনা মেয়ের স্বামীর। বাবা মেয়ের এই অবস্থা দেখে আরো বেশি চিন্তিত হয়ে পরল ও অসুস্থ হয়ে পরল ।
মেয়েটি সবকিছু ঠিক রেখে স্বামীর সাথে ভালো আচরণ করে স্বামীকে বুঝিয়ে সংসার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে দিন রাত। তবুও যেন কোনোকিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সে দিন দিন যেন মানুষ থেকে অমানুষ রূপে রূপান্তরিত হতে লাগলো। আর এই সকল কিছুর পিছনে রয়েছে নেশা। ছেলেটি অধিক টাকা পয়সার মালিক বলে প্রতিদিন নেশা করে বাসায় ফিরত আর সে সকলের কাছে একজন ভালো ব্যাবসায়ী হিসেবে পরিচিত থাকলেও সে ছিল একজন ড্রাগ ব্যাবসায়ী। মেয়েটি শুরুর দিকে কিছু জানতে না পারলেও পরে আস্তে আস্তে সবকিছু জানতে পারে। আগে কয়েকবার সে জেলে থেকেছে। অনেক টাকার বিনিময়ে সে সেই জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বের হয় ও পূনরায় আবারো একই ব্যাবসার কাজে লিপ্ত হয়।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
একদম বাস্তব ভিত্তিক কিছু কথা তুলে ধরেছেন আপু আপনার গল্পের মাধ্যমে। আর আমাদের সমাজে এরকম ঘটনা অহরহ দেখা যায়। টাকা-পয়সার লোভে অনেকেই অনেক কিছু বলি দিতে পারে। আর অনেক সময় দেখা যায় এরকম পরিস্থিতিতে পড়ে একটা মেয়ে তার জীবন শেষ করে দিতে পারে। ভালো লাগলো খুব আপু। পরবর্তী অংশ পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
আমি বলবো মেয়ের পরিবারের দোষ বেশি! কিছু না বুঝে, না জেনে একটা ব্যবসায়ী ছেলের কাছে বিয়ে দিয়ে দিছে! ফলশ্রুতিতে এখন মেয়েটা প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে! সামনে হয়তো আরও খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে!
টাকা-পয়সা আছে দেখে বিয়ে দিয়ে দেয়া এটা ঠিক নয়।ভালমত খবর নিলে ঠিকই কিছু জানা যেত।এ অবস্থার জন্য আমার মনে হয় মেয়ের পরিবার দায়ী। দেখি সামনে মেয়েটির কপালে কি হয়?? ধন্যবাদ আপু।
নেশাগ্রস্ত মানুষ আমাদের সমাজের আবর্জনা আর আমাদের সমাজের জন্য বিষাক্ত। মেয়েটির স্বামী নেশাগ্রস্ত বলেই তার উপরে এত নির্যাতন করে। আর সব মেয়ের বাবাদের উচিত শুধু ছেলের সম্পদ বা চাকরি দেখে বিয়ে না দিয়ে একজন সৎ আদর্শবান ছেলের হাতে তার মেয়েকে তুলে দেওয়া।
গল্পটা পড়ে মেয়েটির জন্য খারাপ লাগছে,আসলে এমন ঘটনা আমাদের সমাজেই ঘটে থাকে।বাবারা ভালো করে কোন খবর না নিয়ে ছেলে বড়লোক, মেয়ে সুখে থাকবে এটা ভেবে বিয়ে দিয়ে দেয় মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত না করে অথচ দিন শেষে মেয়ে সহ্য করতে করতে একটা সময় পৃথিবী ত্যাগ করতে হয়।তাও ভালো দুনিয়ার নরপশুদের সাথে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়। ধন্যবাদ
আপু অনেক বাস্তব একটি গল্প আপনি তুলে ধরেছেন। আজকাল সমাজে সব বাবারাই ভাল ছেলে আর খোঁজে না। তারা খোঁজে টাকা ওয়ালা স্বামী। আর বাড়ি ওয়ালা স্বামী। ছেলের ব্যবসা করতে হবে, বাড়ি থাকতে হবে, আরও কত কি। আর আপনার গল্পেও তো দেখছি তাই। যদি ব্যবসায়ী ছেলের হাতে না দিয়ে একজন ভাল মনের মানুষের হাতে মেয়েকে তুলে দিতো তাহলে মেয়েটির জীবনে এত সমস্যার সৃষ্টি হতো না।