গ্রামীণ পরিবেশের কিছু চিত্র।
"হ্যালো"
বন্ধুরা সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি,সুস্থ আছি।
গ্রাম প্রতিটি দেশের সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। আমাদের দেশেও অনেক মানুষ গ্রামে বাস করে এবং গ্রামের প্রকৃতিকে উপভোগ করে।আমার জন্মও হয়েছে গ্রামে ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত সবগুলো সময় কেটেছে গ্রামেই।বিয়ের পর থেকে শহরে বসবাস।এখন অনেকটাই শহরের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি কিন্তু তারপরও গ্রামের পরিবেশ মানুষজন সবকিছুই অনেক মিস করি।তাই সুযোগ পেলেই ছুটে যাই চিরচেনা সবুজে শ্যামলের ভরা গ্রামীণ পরিবেশে।গ্রাম অঞ্চলের চারিদিকে সবসময় সবুজে ভরা থাকে চারিদিকে গাছপালা পাখির খিচিরমিচির শব্দ। গ্রামের সবুজ প্রকৃতি যে কোনো মানুষের হৃদয়কে প্রশান্তিতে ভরে দেয়।
কয়েকদিন আগেই বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। বেশ কয়েকদিন বাড়িতে থাকা হয়ছিলো।বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই এতো পরিমাণে গরম পড়েছিলো তা বলার মতো নয়।আর বিদ্যুৎ এর কথা নাই বা বললাম।গরমের কারনে রুমের ভিতরে থাকাটা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছিলো,তাই দিনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে
পুকুর পাড়ের গাছ তলায়।জীবনে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গাছের মধ্যে প্রকৃতির বাইরে যাওয়া এবং সময় কাটানোর মতো কিছুই নেই।আর তাই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পুকুর পাড়ে গাছের নিচে বসে সময় কাটানোর মুহুর্ত গুলো ছিলো অসাধারণ।
শুধুমাত্র পেটের দ্বায়ে রোদ গরম মাথায় নিয়ে সারাদিন কাজ করে চলছে বিমল দা।ও আমাদের বাড়িতে সবসময়ই কাজ করে ধানের কাজ হোক বা বাড়ির যেকোনো কাজেই বিমল দা থাকবেই।ধান কাটাকাটি শুরু হয়েছে তাই বিমল দা ধান উড়িয়ে পরিস্কার করে ঘরে তোলার কাছে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে।
অন্য দিকে চলছে খড় নিয়ে রাস্তায় শুকানোর প্রস্তুতি এবং সেগুলো তদারকি করছেন আমাদের ফুলমিয়া কাকা।উনি খড়ের দেখভাল করার দায়িত্বে আছেন।খড় গুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে শুকিয়ে গাদা করে রাখা হবে সারাবছর গরুর খাবারের জন্য।
ভুট্টা ক্ষেত থেকে ভুট্টা তুলে খোসা ছাড়িয়ে রাখা হয়েছে এখন মেশিনের সাহায্যে ভুট্টার দানা গুলো ছাড়িয়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করা হবে।
আমাদের বাড়িতে অনেক আম কাঁঠালের গাছ আছে।আমাদের কাঁঠাল গাছের কাঁঠাল গুলো খেতে খুবই সুস্বাদু হয়।যা আমি খুবই মিস করি এমন সময় বাড়িতে যাই তখন আম কাঁঠাল ছোট থাকে আর না হলে শেষ হয়ে যায় তারপর বাড়িতে যাই।পুকুর পাড়ে কাঁঠাল গাছে অনেক গুলো কাঁঠাল ঝুলে আছে যা দেখতে খুবই ভালো লাগছে।
বাড়ির ভিতরে ছোট্ট একটা গাছে অনেক গুলো আম ধরেছে।এগুলো হাঁড়িভাঙ্গা আম খেতে খুবই সুস্বাদু।
বেদানা গাছে বেদানা ধরেছে।দেখতে বেশ বড়সড়ই হয়েছে আর কিছুদিন গেলেই খাওয়ার মতো উপযুক্ত হবে।কিন্তু তাতে আমার কি আমি তো আর সহজে বাড়ি যাচ্ছি না তাই আমার আর খাওয়া হবে না।বেল পাকলে কাকের কি?সেরকম অবস্থা হয়েছে আমার।😁
বেলগাছ অনেক উপকারী একটি গাছ।আমাদের নিত্য পুজোয় বেলপাতা লাগে সেজন্য বেলের গাছ থাকা খুবই জরুরি।আর বেলের উপকারিতার কথা আমরা সকলেই কমবেশি জানি।বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই এই বেল গাছটি দেখে আসছি।এই গাছের বয়স কত তা আমি ঠিকঠাক বলতে পারবো না কিন্তু জন্মের পর থেকেই দেখছি গ্রামের সবার পুজোর বেলপাতা এই গাছ থেকেই নিয়ে যায় সবাই।সারাদিন গাছটির উপর দিয়ে কত ধকল যায় তার ঠিক নেই।ভোরবেলা থেকেই শুরু হয় লাঠি দিয়ে জোরে জোরে আঘাত করে বেলপাতা পাড়ার যুদ্ধ।তারপরও গাছটি আগের মতোই আছে দাঁড়িয়ে।
এই ছিলো আমার আজকের ব্লগ।আশাকরি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এই প্রার্থনা করি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
OR
আপু সত্যিই শহরে থাকলেও গ্রাম কিন্তু আমাদের কে টানে।এ যেন এক অদৃশ্য বাঁধন।গ্রামের প্রকৃতি আমার খুবই ভালো লাগে।আপনি বেশকিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে।আপনাদের কাঁঠাল গাছের কাঁঠাল খুব মজা খেতে।কিন্তু কপাল খারাপ মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য আর যাওয়াও হয় না। তাই আর খাওয়াও হয়না।ছোট আম গাছে ভালোই হাড়ি ভাঙা আম হয়েছে।শেয়ার করলেন তাই দেখা হলো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য।
হ্যাঁ আপু সত্যি বলেছেন আমরা যতই শহরে থাকি না কেনো তারপরও গ্রাম আমাদেরকে টানে।সত্যিই এ এক অন্য রকমের বাঁধন।মেয়েদের লেখাপড়ার কারনে বাড়ির অনেক কিছু মিস করে যাই। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন গ্রামীণ পরিবেশের কিছু চিত্র। আমি এই দেশগুলোর সঙ্গে বেশ পরিচিত। যেহেতু আগে গ্রামে থাকতাম এই দৃশ্যগুলো সব সময় দেখা হতো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের ফল এবং ফসল দেখা যেত গ্রাম অঞ্চলে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
গ্রামে যারা থাকে বা ছিলো শুধু তারাই বুঝতে পারবে এই চিত্র গুলোর কতটা গুরুত্ব রয়েছে।অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
এই দৃশ্য গুলোর সাথে আমি ছোট থেকেই অনেক পরিচিত। কারণ ছোট থেকে গ্রামেই বসবাস।গ্রামীণ পরিবেশের কিছু চিত্র গুলো অনেক ভালো লাগে যারা ইট পাথরের শহর থেকে গ্রামে ঘুরতে আসে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের দৃশ্য আমাদের সামনে উঠে আসতো যেমন আপনি কিছু দৃশ্য তুলে ধরেছেন ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য।
ছোটবেলা থেকে যারা গ্রামে বড় হয়েছে তাদের সবার সাথেই এই চিত্র গুলোর খুব পরিচিতি রয়েছে।আমার জন্ম বেড়ে উঠা সব গ্রামেই তাই এই পরিবেশ আমার অনেক ভালো লাগে।অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই ভাইয়া।
গ্রামের সব সৌন্দর্যগুলো যেন পর্যায়ক্রমে ফটোগ্রাফি করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। সত্যি বলতে দিদি ভুট্টা গুলো দেখে মন চাইছে একটা নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া শুরু করে দেই হি হি হি
এবার বাড়িতে গিয়ে ভুট্টা আগুনে পুড়িয়ে খেয়েছিলাম,খেতে খুবই ভালো লেগেছে মাটির চুলায় পোড়ানো তো তাই টেস্ট অন্য রকমের ছিলো।আমার বাসায় আছে পাঠিয়ে দিবোনি।😁ধন্যবাদ ভাইয়া।
গ্রাম্য পরিবেশে ঘোরাফেরা করতে এবং গ্রাম্য পরিবেশে প্রস্তুতকৃত খাবারগুলা খেতে সব সময় আমার অনেক ভালো লাগে।।
আপনি গ্রাম্য পরিবেশের ভ্রমণ করে অনেক সুন্দর ফটোগ্রাফি এবং আপনার অনুভূতি শেয়ার করেছেন জানতে পেরে খুবই ভালো লাগলো।।
হ্যাঁ গ্রামের পরিবেশে ঘুরতে যাওয়ার অন্য রকমের একটা মজা আছে আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে তো চোখ জুড়িয়ে যায়।অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
কয়েকদিন আগে গ্রামে কিংবা শহর দুই জায়গাতেই বিদ্যুতের সমস্যা অনেক বেশি ছিল। যদিও এখন সেই সমস্যা নেই। তবে মনে হচ্ছে সামনে আবারো সেরকম পরিস্থিতি হতে পারে। যাইহোক আপু গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ছিলেন জেনে ভালো লাগল। সেই সাথে কিন্তু দারুণ ফটোগ্রাফি করেছেন। গ্রামীন দৃশ্যগুলো দেখতে অনেক ভালো লাগে।
গ্রামীণ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলাম। সত্যিই অসাধারণ চিত্র আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। দেখে খুবই ভালো লাগলো। গ্রামের সেই কথা মনে পড়ে গেল।
গ্রামের সৌন্দর্যের এই ধরনের দৃশ্যগুলো দেখলে মন ভরে যায়। আর এখন বিভিন্ন ফলের সময় তাই গ্রামের যেদিকেই তাকানো যায় না কেন কোন না কোন ফল চোখেই পড়ে যায়।
বাড়ির সামনে যদি এত সুন্দর একটা পুকুর থাকে, তারপর আবার এত এত ফলের গাছ , তাহলে এমন জায়গাকে মিস না করে কোন উপায় আছে কি বড়দি!! শহরের এই জঞ্জালময় জীবন আমার এখন কেন যেন আর ভালো লাগেনা। মুক্ত এই পরিবেশে খুব যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ওই যে প্রকৃতির কাছে দায়বদ্ধ হয়ে গেছি। তাই এই জেল খানাতেই পচে মরতে হবে। ভীষণ ভালো লাগছিল বড়দি লেখাগুলো পড়তে।