গ্রামের একটি রেস্তোরাঁর খাবারের রিভিউ (১০% @shy-fox এর জন্য)
তারিখ-০৫.০১.২০২৩
নমস্কার বন্ধুরা
আশা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদে সকলে ভালো আছেন।আমিও ভালোই আছি। হঠাৎ করে একদিন কিছুর মধ্যে কিছু নেই কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করা হলো যে বসিরহাটের ওদিকে ঘুরতে যাব। শুনেছি ওই দিকটা বেশ ভালোই পরিবেশ। সেই ভেবে যাওয়া। ইচ্ছে আসলে একটু গ্রামের পরিবেশ উপভোগ করা। কারণ দীর্ঘদিন হয়ে গেছে গ্রামের দিকে যাওয়াই হয় না।আর শহরের সিমেন্ট কংক্রিটের ভিড়ে মাঝে মাঝে দম আটকে আসছে। সে ভেবেই ওই দিকটা গেলাম বেশ কয়েকজন মিলে। সাথে যদিও আমার বিশেষ একজন বন্ধুও ছিলেন। তিনি বলতে গেলে বিষয়টাকে গাইড করেছেন। সকাল সকালে ট্রেন ধরে এখান থেকে ব্যারাকপুর পৌঁছে ব্যারাকপুর থেকে চলে গেলাম বারাসাত। আর বারাসাত থেকে ট্রেন ধরে তারপরে পৌঁছে গেলাম বসিরহাটে। গ্রাম যদিও বসিরহাটে নয় কারণ বসিরহাট একটা যথেষ্ট বড় শহর। গ্রামের নাম রঘুনাথপুর বসিরহাট থেকে আর একটু ভেতরে যেতে হয় টোটো তে করে। যেহেতু অনেক সকালেই বেরিয়েছিলাম, রাস্তায় কেক,বিস্কুট এই ধরনের খাবারই খাওয়া হয়েছে।ভালোমতো কিছু ব্রেকফাস্ট করা হয়নি।
চারিদিকে ঘুরে ফিরে তারপরে যখন একটু দুপুর-দুপুর হল, সকলেরই ভীষণ খিদে পেয়ে গেলো। জিজ্ঞেস করলাম,"ভালো কোন রেস্টুরেন্ট আছে?"বলল, "একটাই রেস্টুরেন্ট আছে।কিন্তু খারাপ না রান্নাবান্না। বেশ ভালো। একবার গিয়ে দেখতে পারো।" ভাবলাম ঠিক আছে চলো গিয়ে দেখাই যাক। আর সত্যি বলতে কোন উপায় তো ছিল না।তাই রেস্টুরেন্টে প্রথমে গিয়ে একটু থমকে গিয়েছিলাম।কারণ শহরের মতো এরম ঝাঁ চকচকে পরিবেশ মোটেই নয়। কেউ যদি আশা করে যান যে ওই রেস্টুরেন্টটি আলিশান হবে শহরের আর পাঁচটা রেস্টুরেন্টের মত,তাহলে আপনি আশাহত হবেন। একটা ছাপ পোষা গ্রামে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা একটা রেস্টুরেন্ট যেমন হয় তেমনই। রেস্টুরেন্ট বললে হয়তো অনেকটাই বাড়াবাড়ি বলে ফেললাম।কারণ বর্তমান যুগে আমাদের মাথায় রেস্টুরেন্ট বলতে যে বিষয়টা ঘোরে এটা সেরকম মোটেই নয়। এটাকে আপনি বলতে পারেন সেই ছোটবেলায় যখন আমরা প্রথম প্রথম কোথাও গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতাম, ভালো কিছু খেতাম, তখন যে হোটেলগুলো ছিল সেরকম ধরনের হোটেল। এখানে ভাত,মাছ,মাংস,ডিমের যেমন থালি পাওয়া যায়, তেমনি ফ্রাইড রাইস,চিলি চিকেন,বিরিয়ানি এগুলো পাওয়া যায়।বলতে পারেন অল ইন ওয়ান।
যেহেতু অন্য কোন রেস্টুরেন্ট নেই তাই যেটুকু পাওয়ার এখানেই পাওয়া যাবে। ঢোকার আগেই দেখলাম রেস্টুরেন্টে বেশ কাজ চলছে। সামনে অনেক বাঁশ লাগানো। হয়তো আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করছেন। সোজা ঢুকে গেলাম হোটেলের ভিতরে। গিয়ে দেখলাম অনেকেই খাওয়া দাওয়া করছে। শুনলাম ওখানকার খাওয়া-দাওয়ার কোয়ালিটি বেশ ভালো।কি খাব ভাবতে ভাবতে চাইনিজ খেতে ইচ্ছে করলো শীতের মধ্যে। কিন্তু রেস্তোরাঁ তে বসে খাব না এটা ঠিক করেছিলাম।
যে কোন গ্রামের পরিবেশের মধ্যে বসে সবাই মিলে কাগজের থালায় ঢেলে খাব।যাতে একটু পিকনিক পিকনিক ভাব আসে। অবশেষে সব কন্টেনারে খাবার প্যাক করিয়ে নিলাম সবার জন্যই এক প্লেট করে মিক্সড ফ্রাইড রাইস এবং চিলি চিকেন। আমাদের খাবারগুলো নিয়ে আমরা পেমেন্ট করে বেরিয়ে এলাম। বেরিয়ে কাছাকাছির মধ্যে একটা সুন্দর জায়গা খুঁজতে লাগলাম,যে কোথায় বসে এই খাবারটা কে উদরসাত করা যায়। অবশেষে একটা পছন্দ মত জায়গাও পেয়ে গেলাম। কাগজের প্লেট নিয়ে বসে গেলাম যে যার বাটি নিয়ে। খাবারের প্লেটের মধ্যে ঢেলে দেখলাম পরিমাণে অনেকটা। অতগুলো রাইস একার পক্ষে খাওয়া সত্যিই কষ্টের। কিন্তু যারা খেতে পারে তারা ঠিক খেয়ে নেবে মিক্সড ফ্রাইড রাইসে ছিল বিন্স,গাজর,ডিম,চিকেন। এসব পরিমাণেও যে কম ছিল সেটা নয়। বেশ ভরপুর ছিল।খেতেও অতুলনীয় হয়েছিল। সুন্দর একটা গন্ধ আসছিল মশলার। আর এতগুলো ফ্রাইড রাইসের দাম নিয়েছিল মাত্র ১৩৫ টাকা।যেহেতু আমরা কন্টেইনার নিয়েছিলাম। তাই পাঁচ টাকা বেশি।বসে খেলে ১৩০ টাকা ।
এবার আসি চিলি চিকেন এর কথায়। চিলি চিকেন এর গ্রেভিটা ছিল যথেষ্ট ঘন এবং রিচ। না খুব বেশি মিষ্টি না খুব বেশি ঝাল। একদম ব্যালেন্স। আর এক একটা বাটিতে ছয় পিস করে চিলি চিকেন দেওয়া হয়েছিল। চিকেন এর কোট ছিল খুবই পাতলা,আর মাংস ছিল ভরপুর। একবার খেলে অবশ্যই প্রেমে পড়তে হবে খাবারের। আর এক প্লেটের দাম ছিল মাত্র ১৪৫ টাকা। এখানেও ৫ টাকা কন্টেইনারের আর বসে খেলে ১৪০ টাকা। এই ছিল ছোট একটা খাবারের রিভিউ।
কিন্তু এখানে আরেকটা কথা বলার প্রথম কথা হচ্ছে ১৪৫ টাকায় চিলি চিকেন আর ১৩৫ টাকায় মিক্সড ফ্রাইড রাইস লাস্ট কবে খেয়েছিলাম আমার মনে নেই। তার স্বাদও এমন অতুলনীয়! শহরের বেশ কিছু ঝাঁ চকচকে রেস্টুরেন্টে খাবারের মান যেমনই হোক না কেন, বিভিন্ন ট্যাক্স নিতে কিন্তু ভোলে না। এত সুন্দর খাবার আমার মনে হয় আমি খুব কমই খেয়েছি।আমার খাওয়া চিলি চিকেন,ফ্রাইড রাইসের মধ্যে ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট বলা যায়।
অনেক জায়গায় দেখেছি চিলি চিকেন এর নামে মানুষের মাথায় বাড়ি মারা হয়।চিকেনের কোটিং টা এত মোটা রাখা হয় যে ভিতরের চিকেন পর্যন্ত পৌঁছতে পৌঁছতে বয়স বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেখানে এত কম দামে এতটা কোয়ান্টিটির চিকেন ভেতরে! ভাবাই যায় না।আমার মনে হয় বাইরের শুধু এই বড় বড় রেস্টুরেন্ট গুলোকে এক্সপ্লোর না করে, মাঝে মাঝেই ছোট ছোট হোটেলগুলোকে আমাদের এক্সপ্লোর করা উচিত। তাতে অনেক রকম খাবার ডিসকোভার করার সুযোগ পাবো আমরা।
আজ এখানেই শেষ করছি।আবার আসবো নতুন কোন উপস্থাপনা নিয়ে।কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন।
🌸🌸🌸ধন্যবাদ🌸🌸🌸
পরিচিতি
আমি পায়েল।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছাকাছি ডাক্তার বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর কল্যাণীর বাসিন্দা।একসময় যদিও চাকরী করেছি কিন্তু বর্তমানে ফুলটাইম ব্লগার এবং ভ্লগার।যদিও নিজেকে এখনও শিক্ষানবিশ মনে করি। আর তা ই থাকতে চাই ।সফল হয়েছি কিনা বা কতদিনে হব তা জানি না, কিন্তু নিজের প্যাশনকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছি।বাকিটা আপনাদের হাতে।আশাকরি আমার সাথে যুক্ত থাকলে আশাহত হবেন না।
যেহেতু আমি খেতে ভালোবাসি তাই খুব ইচ্ছে ইন্ডিয়াতে গিয়ে অনেক খাবার ট্রাই করবো। আপনি খুবই ভালো সময় কাটিয়েছেন এবং তা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ দিদি।
ধন্যবাদ বৌদি। অবশ্যই আসবেন। খুব মজা হবে।
রেস্টুরেন্ট সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আসলে বাসা থেকে রেস্টুরেন্টে খাবার গুলো স্বাদ এমনিতেই বেশি হয়। তবে যদিও একটু রেট বাড়তি থাকে। এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
রেস্টুরেন্ট এ খাই নি ভাই। পোস্ট টা পড়লে বুঝবেন।
শীতকাল হচ্ছে ঘোরাফেরার জন্য যথেষ্ট একটি সুন্দর সময়।যদি সবাই মিলে ঘুরা যায় তাহলে আনন্দটা অনেক জমে উঠে।কয়েকজন বন্ধু মিলে অনেক সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লেন বেশ মজা করেছেন। তাছাড়া খাবারের মেনু টা খারাপ ছিল না যদিও গ্রামে হোটেল ছিল।কিন্তু খাবারের মান দেখে বোঝা যাচ্ছে তেমন খারাপ না।মিক্সড ফ্রাইড রাইস দেখে বোঝা যাচ্ছে এটা কিন্তু খেতে মজার হয়েছিল।বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন আপনারা সবাই মিলে।
হ্যাঁ দিদি। ভালো অভিজ্ঞতা ছিলো।
আসলে শহরে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থাকতে কেউই তেমন একটা পছন্দ করে না সব সময় নিজেকে জেলখানার মতো মনে হয়। অবশেষে শহর থেকে বেরিয়ে গ্রামের একটি জায়গাতে খুবই চমৎকার একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন রেস্টুরেন্টের মাঝে। আসলে বন্ধুরা যদি পাশে থাকে তাহলে সেই সময়টা অনেক বেশি রঙিন এবং রোমাঞ্চকর মনে হয় আপনার ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। খুবই চমৎকার ভাবে আপনি আমাদের মাঝে রেস্টুরেন্টের রিভিউ তুলে ধরেছেন প্রতিটি খাবার দেখে মনে হয়েছে অনেক বেশি লোভনীয়।
একদমই ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ। 💕