বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে টুকটাক খাওয়া দাওয়া
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। একটানা অনেকদিন বাসায় থাকলে আর ভালো লাগে না। মনে হয় যে কোথাও থেকে ঘুরে আসি। কিন্তু এখন বাচ্চার স্কুল খুলে গিয়েছে, তাই চাইলেই আর কোথাও যাওয়া যায় না। বাচ্চাদের স্কুলে দিলে এই এক সমস্যা তখন তাদের স্কুলের রুটিন মত চলতে হয়। অনেকদিন হলো কোথাও ঘুরতে যাই না। যদিও প্রতি শুক্র শনিবারে কোথাও না কোথাও যাওয়া হয়। তারপরও বাকি পাঁচটা দিন ঘরে থাকতে থাকতে খুব বোর লাগে। আবার রেডি হয়ে বাইরে যেতেও আলসেমি লাগে। সেদিন হঠাৎ মনে হল যে সন্ধ্যার সময় বাইরে থেকে কিছু খেয়ে আসি। বড় ছেলে ও অনেকদিন ধরে বাইরে খেতে যাবে করে বায়না ধরেছে। তাই ভাবলাম যে যাই ওকে নিয়ে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি। যদিও হাজবেন্ডের বাসায় আসতে আসতে অনেক দেরি হয়ে যায় তাই তাকেই ফোন দিলাম যে আমরাই তার অফিসের ওই দিকে আসছি। প্রথমে রাজি হচ্ছিল না পরে বলল যে ঠিক আছে আসো। তারপর আমরা চলে গেলাম বসুন্ধরার মেইন গেটের ঐদিকে। আমার হাজবেন্ডের অফিসে ওখানেই।
আমরা ওখানের একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। এই রেস্টুরেন্টের ছবি আপনাদের সঙ্গে এর আগেও শেয়ার করেছিলাম। এ রেস্টুরেন্টটি মোটামুটি অনেক পপুলার কিন্তু অনেক হাইফাই রেস্টুরেন্ট না। এজন্য এখানে খাবারের দাম মোটামুটি কম। তাছাড়া সব ধরনের খাবার এখানে পাওয়া যায়। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন রেস্টুরেন্ট খুব সুন্দর করে বেলুন দিয়ে সাজানো ছিল কোন একটি অকেশনের কারণে। খুব ভালো লাগছিল দেখতে। আমার ছোট ছেলে তো গিয়েই বেলুন নেয়ার জন্য চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিলো। তারপর অনেক বলে ওকে বুঝালাম যে এই বেলুন নেয়া যাবে না । কিন্তু কিছুক্ষণ পর উপর থেকে একা একাই কয়েকটি বেলুন খুলে ওর গায়ের উপর পরলো। ও খুবই খুশি বেলুন গুলো পেয়ে। যদিও আসার সময় আর বেলুনগুলো নিয়ে আসে নি রেখে এসেছিল।
বাইরে খেতে গেলেই আমারও যেমন চিকেনের আইটেমগুলো খেতে বেশি ভালো লাগে আমার ছেলেরওদেরও একই অবস্থা। বিশেষ করে এই চিকেন গ্রিল এবং বাটার নান খুব ভালো লাগে আমার কাছে খেতে। এই টাইপের রেস্টুরেন্ট গুলোতে গেলে আমি এই খাবারটিই খাই। কিন্তু আমার হাজবেন্ড মাঝেমধ্যে খুবই রাগ হয়। একই খাবার আর কত খাব। নতুন কোন খাবার খেতে আমার কাছে কেন যেন ভালো লাগে না যদি ভালো না হয়। যে খাবার ভালো লাগে তাই তো খাবো তাই না। অবশেষে আমরা সেই গ্রিল আর নানই অর্ডার দিয়েছিলাম।
গ্রিলের সঙ্গে এই সালাদ আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া যে সসগুলো দেয় সেগুলো বেশ মজাদার থাকে।
এই রেস্টুরেন্ট এর পাশের একটি দোকানে চা পাওয়া যায়। এদের এখানে চা পাওয়া যায় না। তাই হাসবেন্ডকে বললাম যে পাশে থেকে চা নিয়ে আসতে। বাচ্চাদের নিয়ে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া খুব ঝামেলা। তাই চা এখানে নিয়ে এসেই খেলাম। তারপর চা খেয়ে আমরা বাসায় চলে আসলাম।
এই ছিল আমার আজকের আয়োজন আশা। করি আপনাদের সকলের ভাল লেগেছে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ
@tania
| Photographer | @tania |
|---|---|
| Phone | oppo reno5 |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
আসলেই বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করালে তাদের রুটির অনুযায়ী চলতে হয়।যার জন্য কোথাও বেড়ানো যায় না।মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতে ভালোই লাগে কিন্তু সময় সুযোগ হয়ে উঠে না।যাই হোক আমার কাছে ও মুরগীর আইটেম গুলো খেতে বেশ ভালোই লাগে।খাবার গুলো বেশ লোভনীয় লাগছে।ধন্যবাদ আপু
বাচ্চাদের স্কুলের জন্য মন চাইলে কোথাও যাওয়া হয় না। তাই আশেপাশে গিয়েই মন ভালো করতে হয়। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
বাচ্চাদের নিয়ে যখন বাইরে খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরাঘুরি করা যায় তখন বাচ্চারা অনেক কিছু সম্পর্কে অবগত হতে পারে, নতুন কিছু দেখতে পারে এবং তাদের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে। আর সেটা যদি নিজের বাবা-মায়ের সাথে ঘোরাঘুরি হয় তাতে তারা নির্ভয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। আমার খুবই ভালো লাগলো এত সুন্দর বর্ণনামূলক একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য, খুবই সুন্দর হয়েছে উপস্থাপনা।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করলে অনেক কিছু জানতে পারে। এজন্যই মাঝে মধ্যে এদেরকে বাইরে নিয়ে যাই। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।