তিলের তৈরি ভাপা পুলি পিঠা রেসিপি
আমার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী সদস্যগনকে জানাই আমার সালাম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি ভালো খারাপ মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। সবাইকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ।
শীত মানেই ঘরে ঘরে পিঠা পুলির উৎসব শুরু হওয়া। বিশেষ করে গ্ৰামে এই সময় নতুন চালের পিঠা বানানোর ধুম লেগে যায়। সবার ঘরে ঘরে প্রায় প্রতিদিন কিছু না কিছু পিঠা তৈরি করা হয়। অন্য সময়েও পিঠা খাওয়া হয় কিন্তু শীতের সময়ে পিঠার যে স্বাদ তা পাওয়া যায় না। শীতের সময়টা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। গ্ৰামে যেমন শীতের সময়ে ভালো লাগে তেমনি শহরেও কোনো অংশে কম নয়। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় সব জায়গায় পিঠার দোকান বসেছে আর সেসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কিছু কিছু জায়গায় পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয় আর সেখানে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পাওয়া যায়। তাইতো শীতকাল আমার কাছে এত ভালো লাগে। প্রতিবার শীতে মায়ের হাতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা খাওয়া হয়। আমি আবার দু-একটি পিঠা ছাড়া তেমন পিঠা বানাতে পারি না।
তারজন্য মা সবসময় পিঠা বানিয়ে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এবার মা গ্ৰামে রয়েছেন বলে আমি এখনও ঠিক মতো পিঠা খেতে পারছি না। যদিও মা যেতে বলছেন কিন্তু মনে হচ্ছে না এই শীতে গ্ৰামে যাওয়া হবে। তারজন্য মা কে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে তিল দিয়ে ভাপা পুলি পিঠা তৈরি করা হয়। এই পিঠা খেতে আমি খুব পছন্দ করি। বিশেষ করে মায়ের হাতের তৈরি পিঠা। এরপর মা যেভাবে বলেছে সেভাবেই করার চেষ্টা করেছি। আমি যেহেতু প্রথমবার তৈরি করেছি তাই খুবই অল্প কিছু পিঠা বানিয়েছিলাম। মায়ের হাতের স্বাদ হয়তো পায়নি তবে খেতে বেশ মজার ছিল। বিশেষ করে আমার কাছে পিঠার ভিতরে দেওয়ার জন্য যে তিল দিয়ে হালুয়া বানাতে হয় তা খেতে বেশি ভালো লাগে। যাই হোক তাহলে চলুন ধাপগুলো দেখে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| তিল | পরিমাণ মতো |
| নারিকেল কুড়ানো | হাফ কাপ |
| দুধ | আধা কেজি |
| খেজুরের গুড় | এক বাটি |
| চাউলের গুড়া | এক বাটি |
| কাঁচামরিচ | ঝাল অনুযায়ী |
| পেঁয়াজ | ১টি |
| তেল | পরিমাণ মতো |
| লবণ | স্বাদ মতো |
| দারচিনি,এলাচ, তেজপাতা | অল্প পরিমাণ |
১ম ধাপ
প্রথমে একটি পাটের বস্তার উপর তিল রেখে হাত দিয়ে ঢলে তিলের উপরের ময়লা পরিষ্কার করে নিলাম। আপনারা তিল পরিষ্কার করার ফটোগ্রাফি দেখলেই বুঝতে পারবেন কতটা পরিষ্কার হয়েছে।
২য় ধাপ
এরপর একটি পাতিলে নিয়ে হালকা ভেজে নেবো। তারপর শিল পাটায় একটু বেটে নিলাম।
৩য় ধাপ
এবার একটি পাতিলে আধা কেজি দুধ ঢেলে নিলাম। এরপর এতে নারিকেল কুড়ানো, খেজুরের গুড় ও সামান্য লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিয়েছি।
৪র্থ ধাপ
এরপর হাফ কাপ চালের গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে নিলাম
৫ম ধাপ
এখন এটি চুলায় বসিয়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে হালুয়া বানিয়ে নিলাম। আমার কাছে এই হালুয়া খেতে খুবই ভালো লাগে।
৬ষ্ট ধাপ
এবার অন্য একটি পাতিলে অল্প পানি ও লবণ দিয়ে ফুটিয়ে নিলাম। এরপর চালের গুঁড়া দিয়ে কাই করে নিয়েছি।
৭ম ধাপ
এবার হাতের সাহায্যে ঢলে ভালো করে মতে নিলাম। এরপর অল্প একটু ডো নিয়ে ছোট রুটি বানিয়ে নিলাম। তারপর এরমধ্যে তিলের তৈরি হালুয়া দিয়ে দিলাম।
৮ম ধাপ
এখন পুলি পিঠার শেপ করে হাত দিয়ে চেপে দু'মাথা লাগিয়ে নিলাম। এভাবে আমি তিনটি পিঠা বানিয়ে নিয়েছি।
৯ম ধাপ
এবার একটি পাতিলে অল্প পানি ফুটিয়ে নিয়েছি। এর উপরে একটি জালি দিয়ে তাতে পিঠা দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম সিদ্ধ হওয়ার জন্য।
শেষ ধাপ
আমি কিছুক্ষণ পর ঢাকনা তুলে উল্টিয়ে দিলাম। এরপর দু'পাশে ভালো ভাবে সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিলাম।
পরিবেশন
এবার একটি প্লেটে নিয়ে পরিবেশন করতে চলে এসেছি। আমরা সবাই এই পিঠা খেয়ে খুব মজা পেয়েছি। তিলের তৈরি পুলি পিঠা একটু ঠান্ডা হলে সকাল বেলা খেতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। যখন সকালে পিঠা খাচ্ছিলাম তখন শৈশবের স্মৃতি খুব মনে পড়ে গিয়েছিল। আমাদের উঠোনে সকাল হলেই রোদ এসে ঝলমল করতো। আমরা ভাই-বোনের ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই পাটি বিছিয়ে বসে বিভিন্ন ধরনের পিঠা খেতাম। খুবই মধুর ছিল শৈশবের দিনগুলো। যাই হোক অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে।
এতক্ষণ সময় নিয়ে আমার পোস্ট পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। |
|---|
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
তিলের তৈরি ভাপা পুলি পিঠা রেসিপিটা দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে আপু। শীতকালে ভাপা পুলি পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। তাছাড়া ভাজা পুলি পিঠা খেতেও দারুণ লাগে। যাইহোক এতো মজাদার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমরা ভাজা এবং ভাপা দুটো পুলি পিঠাই খেয়ে থাকি আর দুটো পিঠাই খেতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
একদম ভিন্ন ধরনের একটা পিঠার রেসিপি শেয়ার করেছেন আপু। তিলের ভাপা পুলি পিঠা আগে কখনো দেখা হয়নি। সবগুলো ধাপ পুলি পিঠার মতোই জাস্ট আপনি নারকেলের সাথে তিল ব্যবহার করেছেন। একটু ভিন্নভাবে কোন কিছু ট্রাই করলে আসলেই দারুন লাগে। রেসিপি টা দেখে বেশ লোভনীয় লাগছে। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু একদিন তিলের তৈরি এভাবে ভাপা পিঠা খেয়ে দেখবেন আশা করি আপনার কাছে ভালো লাগবে। এ ধরনের পিঠা আমি খুব পছন্দ করি। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
একদম ইউনিক একটি রেসিপি তৈরি করেছেন আপু। আমি নারিকেল আর তিল দিয়ে ভাপা পুলি পিঠা খেয়েছি কিন্তু কখনো শুধু তিলের ভাপা পিঠা খাইনি। আপনার তৈরি করা পিঠাগুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। পিঠা তৈরীর প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপু যেহেতু এভাবে কখনো খাওয়া হয়নি অবশ্যই একদিন তৈরি করে খেয়ে দেখবেন। আশা করি খেয়ে মজা পাবেন। ধন্যবাদ।
জ্বি আপু খুব শীঘ্রই তৈরি করব।
এরকম মজার পিঠা খেতে অসাধারণ সুস্বাদু লাগে। আপনার এই ভাপা পুলি পিঠা তৈরীর প্রক্রিয়াটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে এই পিঠা তৈরিতে দুধের ব্যবহারটা খুবই চমৎকার হয়েছে। দারুন একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই পিঠার মধ্যে দুধ দিলে খেতে বেশি সুস্বাদু হয়। তাই আমি দুধ দিয়ে তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ।
কতদিন হয়ে গেল আপু মায়ের হাতে বানানো পিঠা খাওয়া হয়না। ভাপাপুলি পিঠা খেতে কিন্তু দারুণ লাগে। শীতকাল আসলেই ভাপ পিঠা আর পুলি পিঠার ধুম পরে যায় গ্রামে। আপনার বানানো পিঠা দেখে লোভ লেগে গেল।
ভাইয়া অপেক্ষা করে লাভ নেই তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান আর মায়ের হাতের তৈরি পিঠা জটপট খেয়ে নেন ।ধন্যবাদ।
এমন প্লাস্টিকের জালি দিয়ে যে ভাপ দেয়া যায়, আমার ধারণা ছিলো না আপু। আমি সবসময় ভাবতাম প্লাস্টিক বুঝি গলে হাড়িতে লেগে যাবে। আপ আর থেকে দেখে চিন্তামুক্ত হলাম। আর তিলের ফ্লেভার টাই আমার ভীষণ পছন্দের। তবে এই পিঠা খাওয়া হয় নি। হয় নারকেল পুলি বা ঝাল পুলিই খাওয়া হয়েছে সবসময়। নতুন একটি পিঠার রেসিপি শিখে ভালো লাগলো।
আপু আমি সব সময় এভাবে প্লাস্টিকের জালিতে যেকোন জিনিস তৈরি করি। এতে জালির কিছুই হয় না, আপনিও তৈরি করে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।
আপনি মজাদার একটি রেসিপি তৈরি করে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। বেশ দারুন পুলি পিঠা তৈরি করেছেন। শীতের সময় বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি করতে ভালো লাগে খেতেও ভালো লাগে।
আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
তিলের ভাপা পিঠা এই প্রথমবার দেখলাম। আপনি তিল দিয়ে ভাবাপুলি তৈরি করেছেন। পুলি তৈরির রেসিপিটি বেশ ভালো লাগলো। শীতকাল মানেই পিঠাপুলির সমাহার। এ সময় নতুন নতুন পিঠে দেখতে পাওয়া যায়। আপনার পিঠা দেখে এখন আমার পিঠে খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কিছু করার নেই। মা থাকলে বানিয়ে দিতো।এবার বাসায় গিয়ে মায়ের কাছে পেটে খাবো। এখন আপাতত লোভ সামলে রাখি। সুন্দর পিঠা রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু অবশ্যই বাড়িতে গিয়ে আপনার মা কে বানিয়ে দিতে বলবেন আর আশা করি খেয়েও মজা পাবেন। ধন্যবাদ।
https://x.com/TanjimaAkter16/status/1866103644111990873?t=HaHArgd03gsI-lSGPsMZlg&s=19