আজ - বৃহস্পতিবার
২৫ পৌষ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
১১ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

| আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম |
হাই! বন্ধুরা
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি রেসিপি পোস্ট। অনেকদিন পর আমি আবার আপনাদের মাঝে উপস্থিত হলাম তেতুলের আচার তৈরি করা নিয়ে। আমরা সকলেই জানি পাকা তেতুলের আচার তৈরি করা হয় কিন্তু কাছে তেতুলের আচার খুব কমই দেখেছি। তবে এটাকে গ্রাম-বাংলায় বলা হয় তেতুলের খাটা। যাইহোক সুন্দর এই রেসিপি আপনাদের মাঝে তৈরি করে দেখাবো চলুন এখনই শুরু করি।
| রেসিপি বানানোর উপাদান সমূহ: |
| ক্রমিক নম্বর | উপাদান | পরিমান |
| ১. | তেঁতুল | ১কেজি |
| ২. | তেজপাতা | ২ পিস |
| ৩. | গরম মসলা | ৮ পিস |
| ৪. | পাকা মরিচ | পাঁচ পিস |
| ৫. | সয়াবিন তেল | ৫০ গ্রাম মত |
| ৬. | লবণ | পরিমাণ মতো |
| ৭. | বারো মিশ্রণ মসলা | নির্দিষ্ট পরিমাণ |
| ৮. | চিনি | এক কেজি |
| ৯. | গুড়া মসলা | এক চা চামচ |
| ১০. | পানি | পরিমাণ মতো |
আমাদের একটি তেতুলের গাছ রয়েছে। সেই গাছ থেকে একাধিক তেঁতুল পেড়ে আনলাম। এরপর তেতুলের গায়ে লেগে থাকা বোটা, আস, পাতা ভালো করে ছাপ করে ফেললাম।


এবার চুলার উপর একটি কড়াই রাখলাম। তার মধ্যে দুই থেকে তিন লিটার পর্যন্ত পানি দিলাম। এরপর কড়াইয়ের মধ্যে তেঁতুলগুলো সব তুলে দিলাম। পাশাপাশি চুলা অন করে গরম করতে থাকলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত না তেতুলগুলো সিদ্ধ হলো ততক্ষণ জ্বাল দিলাম। একদিকে যখন তেতুলগুলো সিদ্ধ হয়ে গেল তখন চুলার জ্বাল দেওয়া বন্ধ করলাম।



সিদ্ধ তেঁতুল গুলো কড়াই থেকে নামিয়ে একটি পাত্রের মধ্যে রাখলাম। যতক্ষণ না তেতুলগুলো ঠান্ডা হলো ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম।


এবার সিদ্ধ তেতুলের গায়ের চামড়া আঁশ তুলে ফেললাম এবং একটি পাথরের মধ্যে রেখে হালকা করে ছেনে নিলাম।


এবার আবারো চুলাতে করা বসিয়ে বিভিন্ন প্রকার মসলাগুলো ভালো করে বিনা তেলে ভেজে নিলাম।


এবার পুনরায় কড়াইটি চুলার উপর বসলাম। কড়াই এর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল ঢেলে দিলাম। চুলা অন করে তেল গরম হতে থাকলো।


এবার কড়াইয়ের গরম তেলের মধ্যে যাবতীয় মসলাগুলো দিয়ে দিলাম এবং খুন্তি দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকলাম।


মসলাগুলো ভাজা হয়ে গেলে তার মধ্যে পানি ঢেলে দিলাম এক কাপ পরিমাণ।


এবার কড়াইয়ের মধ্যে চিনি গুলো দিয়ে দিলাম। এবার খুন্তি দিয়ে নাড়তে থাকলাম তাই পানির মধ্যে চিনি গুলো গলে গেল। আবারো কিছুটা পানি দিয়ে নিলাম।


এবার চুলাতে কড়াইয়ের মসলা চিনি মিশ্রণের উপর সিদ্ধ তেতুল ছেনা দিয়ে দিলাম। খুন্তি দিয়ে বারবার নাড়তে থাকলাম।


একটি পর্যায়ে সমস্ত উপাদান একসাথে হয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ হতে থাকলো কড়াইয়ের মধ্যে। কিছুটা সময়ের জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম কড়াইটি।


কড়াই থেকে ঢাকনা উঠিয়ে দেখি যথেষ্ট সিদ্ধ হয়ে গেছে। এদিকে পানি যথেষ্ট সুখিয়ে এসেছে। খুন্তি দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকলাম কিছুটা সময়ের জন্য, যেন আরেকটু রস শুকিয়ে যায়।


এভাবেই জ্বাল দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে রহস্য রাখা অবস্থায় নামিয়ে ফেললাম কড়াই থেকে। আর এভাবেই সম্পূর্ণ হলো তেতুলের খাটা অথবা আচার তৈরি।

দুপুরে খাওয়ার পর পরিবারের সবাই মিলে রুটির সাথে মজা করে খেলাম তেতুলের আচার। পরিবারের সকলের মাঝে পরিবেশন করার মধ্য দিয়ে আমার কাজ সম্পন্ন হলো এবং বেশ প্রশংসা পেলাম। আর এভাবেই আমার তেতুলের আচার তৈরির কাজ শেষ হল।


| আশা করি,আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনি অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে বুঝতে ও শিখতে পেরেছেন। পোস্টটি উপস্থাপনা কেমন ছিল এবং এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কেমন আমাকে জানাতে ভুলবেন না। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইলো। |
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোষ্টে,ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

|
|---|
আমার কিন্তুু সত্যি জিভে জল চলে এসেছে। এতো লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করেছেন। কাঁচা তেতুলের আচার দারুণ লোভনীয়। ধাপে ধাপে খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন রেসিপিটি। ধন্যবাদ সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
এত চমৎকার খাবার দেখলে খাওয়ার লোভ কন্ট্রোল করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ে ভাই। কাঁচা তেঁতুলের আচার তৈরি করেছেন খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। তেঁতুলের আচার তৈরি করার প্রক্রিয়া বেশ চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। কাঁচা তেঁতুলের আচার দেখে খেতে খুব ইচ্ছে করতেছে। নিশ্চয় অনেক সুস্বাদু হয়েছে। এতো সুন্দর রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
হ্যাঁ ভাই আপনারা চাইলে এভাবে তৈরি করে খেতে পারেন।
কাঁচা তেঁতুল দেখেই জিভে জল চলে এসেছে ভাইয়া। তবে কাঁচা তেঁতুল দিয়ে আচার তৈরি করে খাওয়া হয়নি কখনো। সাধারণত কাঁচা তেঁতুল দিয়েই আচার তৈরি করা হয়। আজকে আপনার কাছে নতুন একটি রেসিপি শিখতে পেরে ভালো লাগলো ভাইয়া। দেখতে খুবই লোভনীয় লাগছে।
চেষ্টা করবেন আপু বাজার থেকে কিনে তৈরি করে খেতে।
বেশ লোভনীয় একটি রেসিপি পোস্ট আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। তেতুলের আচার আমার কাছে খুবই ভালো লাগে ছোটকাল থেকেই আমি তেতুলের আচার খেতে খুবই পছন্দ করি। কিন্তু কাঁচা তেতুলের আচার কখনো খাওয়া হয় নাই। আপনার পোস্ট থেকে শিখলাম কিভাবে কাঁচা তেতুলের আচার তৈরি করতে হয়।
হ্যাঁ ছোটবেলায় আমরা খুব পছন্দ করতাম
এখনো আমি পছন্দ করি ভাই।