রেসিপিঃআমের ডেজার্ট।
সবাইকে শুভেচ্ছা।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা, কেমন আছেন? আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।আজ ২ ভাদ্র, শরৎকাল,১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ১৭ আগস্ট,২০২৩ খ্রীস্টাব্দ। আমার বাংলা ব্লগে নিয়মিত ব্লগিং এ আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি রেসিপি নিয়ে। আর তা হচ্ছে আম এর ডেজার্ট। আমের সিজন শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমের কোন রেসিপি পোস্ট দেইনি! তাই আম নিয়ে আজকের আয়োজন। আম শুধু মজাদার নয় আমে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম। এগুলো শরীরের কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর দুধ সম্পর্কে সবাই জানি , দুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,হার্ট সুস্থ রাখে, হাড় এবং পেশী শক্তিশালী করে এছাও,চুলের জন্যও বেশ উপকারী। মজাদার এই রেসিপিটি অতিথি আপ্যায়নে যে কেউ বানাতে পারেন। ডেজার্ডটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও বেশ মজা। এই ডেজার্ট টি তৈরিতে উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি আম,দুধ সহ আরো কিছু উপকরণ। তাহলে চলুন দেকে নেয়া যাক কিভাবে তৈরি করলাম মজাদার রেসিপিটি।
রান্নার উপকরণ
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| লিকুইড দুধ | ৫০০গ্রাম |
| চিনি | স্বাদ মতো |
| গুড়া দুধ | ১ কাপ |
| সাগু | ৩ টেঃ চামচ |
| আম | ২টি |
| পেস্তা বাদাম | পরিমাণ মতো |
| কাঠ বাদাম | পরিমাণ মতো |
রান্নার উপকরণ
ধাপ-১
প্রথমে আম টুকরো করে নিয়েছি। এবং ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিয়েছি। এবং ছেঁকে আমের পাল্প নিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-২
দুধ জ্বাল দিয়ে নিয়েছি। একটি পাত্রে সামান্য গরম দুধ নিয়ে নিয়েছি। তাতে গুড়া দুধ মিশিয়ে নিয়েছি। দুধ ফুটে উঠলে তাতে গুলানো গুড়া দুধ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৩
পরিমাণ মতো চিনি দিয়ে দিয়েছি। এরপর ৫০০গ্রাম দুধ জ্বাল দিয়ে ২০০ গ্রাম করে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এবার চুলায় পরিমাণ মতো পানি দিয়ে একটি হাড়ি বসিয়ে দিয়েছি। পানি ফুটে উঠলে তাতে সাগু দিয়ে দিয়েছি। সাগু যখন সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন একটি ছাকনিতে ঢেলে পানি ঝরিয়ে নিয়েছি। এবং পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৫
পেস্তা ও কাঠ বাদাম কুচি করে নিয়েছি।
ধাপ-৬
এরপর আমের ডেজার্টটি পরিবেষণের জন্য একটি কাঁচের বাটি নিয়ে নিয়েছি। কাঁচের বাটিতে প্রথমে আমের পাল্প দিয়ে দিয়েছি। এরপর কয়েক চামচ দুধ দিয়ে এর উপরে এক চামচ সাগু দিয়ে দিয়েছি। এভাবে দুটো লেয়ার দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ-৭
সর্বশেষে বাদাম কুচি ও আমের কিউব দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছি।
পরিবেষণ
আশাকরি আজকের আমের ডেজার্ট রেসিপিটি আপনাদের ভাল লেগেছে।আমার পছন্দের ডেজার্ট এর মধ্যে এটি একটি।খেতে কিন্তু বেশ মজা। আমের সিজন শেষ হওয়ার আগেই ট্রাই করতে পারেন। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ আমার রেসিপির ব্লগ এখানেই শেষ করছি। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। আবার দেখা হবে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | SamsungA10 |
| পোস্ট তৈরি | @selina75 |
| তারিখ | ১৭ আগস্ট, ২০২৩ |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। বর্তমানে গৃহিনী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি।স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পাড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা।এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
https://twitter.com/selina_akh/status/1692222923317415991
খুব চমৎকার রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু। আমের ডেজার্ট খেতে বেশ দারুন। আপনার আমের ডেজার্ট তৈরি প্রক্রিয়া বেশ দুর্দান্ত হয়েছে । আমাদের মাঝে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করেছেন। পেস্তা বাদাম এবং সাগু দেওয়াতে আমের ডেজার্ট খেতে বেশ ভালো লাগবে। এত চমৎকার রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
জি ভাইয়া খেতে বেশ মজা ডেজার্ট টি।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
আমি সিজন শেষ হয়ে গিয়েছে এখনো বাজারে আম পাওয়া যায়। সেই আমকে আশ্বিনে আম বলে। আপনি দারুন একটি রেসিপি তৈরি করেছেন আম দিয়ে ডেজার্ট যেটা অনেক মজাদায়ক খাবার। আমার খুবই প্রিয় ভালো লাগলো আপনার রেসিপি তৈরি।
আম দিয়ে বানানো যে কোন রেসিপি খেতে দারুন হয়।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
আমের ডেজার্ট রেসিপিটি আপনি আমাদের মাঝে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থিত করেছেন আপু। এমনিতে আম আমার খুবই পছন্দের একটি ফল। আমের তৈরি সব রকম জিনিসই আমার খেতে খুবই ভালো লাগে। তেমনি আমের রেজাল্ট থেকেও বেশ ভালো লাগে। অনেক ধন্যবাদ আপু।
আম দিয়ে বানানো যে কোন ডেজার্ট খেতে বেশ ভাল লাগে আমারও। অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
আপু বাড়িতে আম দুধ দিয়ে মিশে অনেক খেয়েছি। কিন্তু এভাবে কখনো আমের ডেজার্ট তৈরি করে খাওয়া হয়নি। তবে আপনি যত সুন্দর করে এটি তৈরি করেছেন এটা দেখতে তো ভীষণ লোভনীয় লাগছে। আর আপনি আমের ডেজার্ট তৈরি করার প্রত্যেকটা ধাপ খুব চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। খুব সহজে এটি আমরা এখন তৈরি করতে পারবো। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্য করার জন্য।
যদিও এখন আমের সিজন প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে আর এই আমের সিজন শেষ হওয়ার পরও আপনি আমের নতুন একটি রেসিপি নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। আপনার মত করে এরকম ভাবে কখনোই আমের ডেজার্ট তৈরি করে খাওয়া হয়নি। রেসিপিটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক বেশি সুস্বাদু এবং লোভনীয় ছিল। শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জি ভাইয়া খেতে বেশ মজা হয়েছিল। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।
আম প্রায় শেষের পথে। আজকে আপনি বিভিন্ন উপকরন দিয়ে সুস্বাদু আমের ডেজার্ট তৈরী করেছেন। যে উপরন গুলো দিয়েছেন সব গুলোই স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারি। ধন্যবাদ।
একটি স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট এটি। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্য করার জন্য।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আমের ডেজার্ট এর রেসিপি তৈরি। আসলে এই রেসিপি আমিও বাড়িতে তৈরি করে খেয়েছিলাম বেশ ভালই লাগে।পেস্তা বাদাম
কাঠ বাদাম ও দুধ সবগুলো দিয়ে যদি একসাথে ভালোমতো তৈরি করা যায় তাহলে বেশ মজাদার লাগে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর ভাবে তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আমে অনেক গুণগত মান রয়েছে এটা আসলে জানা রয়েছে। তবে কি কি গুণগত মান রয়েছে সেটি আজকে আপনার পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম। যাইহোক আপনার এই আমের ডেজার্টটি দেখে আসলে খুবই লোভ হচ্ছে খাওয়ার জন্য। একদিন বাসায় ট্রাই করে দেখতে হবে ধন্যবাদ আপনাকে।
ট্রাই করবেন একদিন।আশাকরি ভালো লাগবে।