রেসিপিঃ উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি।
আমার বাংলা ব্লগের সবাইকে শুভেচ্ছা।
আশাকরি সবাই কুশলে আছেন। আমিও ভাল আছি। চলছে শীতকাল। বাজারে এখন শীতের সব্জিতে ভরপুর। দামও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে। সব্জি শরীরের জন্য খুবই উপকারি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো উত্তরবঙ্গের একটি বিখ্যাত খাবার আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি। এ রান্না আমার শেখা শ্বশুরবাড়িতে। সাধারণত এ রান্না করা হয় শীত কালে। যখন মুলা পাওয়া যায়। বেগুনটি কালচে,চিকন আর লম্বা হয়। এ বিগুনটিও মুলত শীত কালেই বেশি পাওয়া যায়। আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটীটা খেতে বেশ মজার। আমার কাছে নতুন আলু ও চিকন বেগুন না থাকায় বাসায় যে আলু আর বেগুন ছিল তাই দিয়ে রান্না করেছি। খেতে কিন্তু খারাপ হয়নি! আমার বর বলল ওদের মতোই হয়েছে। তাহলে দেখে নেয়া যাক কিভাবে আমি এ রান্নাটি করেছি।
উপকরণ সমুহঃ
| নং | উপকরণ | পরিমাণ | |
|---|---|---|---|
| ১ | বেগুন | ১৫০ গ্রাম | |
| ২ | মুলা | ১৫০ গ্রাম | |
| ৩ | আলু | ৭৫ গ্রাম | |
| ৪ | পিয়াজ কুচি | ৩ টেবিল চামচ | |
| ৫ | রসুন কুচি | ২ টেবিল চামচ | |
| ৬ | কাচা মরিচ | ৫-৬টি | |
| ৭ | আদা বাটা | ১ চা চামচা | |
| ৮ | রসুন বাটা | ১/২ চা চামচ | |
| ৯ | ধনে গুড়া | ১ চা চামচ | |
| ১০ | হ্লুদ গুড়া | ১চা চামচ | |
| ১১ | মরিচ গুড়া | ১/২ চা চামচ | |
| ১২ | লবন | পরিমাণ মতো | |
| ১৩ | ভাজা জিরার গুড়া | ১ চা চামচ | |
| ১৪ | তেল | ৩ টেবিল চামচ | |
| ১৫ | ধনেপাতা | পরিমাণ মতো |
১ম ধাপঃ
প্রথমে মুলা ও আলু গুলোকে ভালভাবে খোসা ছড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর নিচের ছবির মতো করে আলু বেগুন ও মুলা টুকরো করে নিতে হবে।
২য় ধাপঃ
এরপর চুলায় একটি হাড়ি বসিয়ে তা গরম হলে ১ টেবিল চামচ তেল দিতে হবে। তেল গরম হয়ে গেলে তাতে ১ চা চামচ পিয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। পিয়াজ কিছুটা ভাজা ভাজা হয়ে গেলে ,তাতে ধনেপাতে ও ভাজা জিরার গুড়া বাদে সকল মশলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এবং সামান্য পানি দিয়ে দিতে হবে যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
৩য় ধাপঃ
এরপর মশলা ভালভাবে কষানো হয়ে গেলে তাতে মুলা,আলু ও বেগুনের টুকরো গুলো দিয়ে ভালভাবে কষিয়ে নিতে হবে।কষানো হয়ে গেলে তাতে পরিমাণ মতো পানি দিতে হবে সব্জিগুলো সিদ্ধ হওয়ার জন্য। এবং ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে।
৪র্থ ধাপঃ
সব্জিগুলো সিদ্ধ হয়ে এলে একটা ডালঘুটনি দিয়ে ঘুটে দিতে হবে। যেন বেগুন ও আলুগুলো ভালভাবে গলে যায়।
৫ম ধাপঃ
এবার ফোড়ন দেয়ার জন্য চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে দিতে হবে। কড়াই গরম হয়ে গেলে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিতে হবে। তেল গরম হয়ে গেলে তাতে কুচি করা রসুন ও পিয়াজ দিয়ে ভালভাবে ভেজে নিয়ে আগে থেকে রান্না করা রাখা আলু বেগুন ও মুলার ঘাটিতে দিয়ে দিতে হবে।
শেষ ধাপঃ
এ পর্যায়ে ধনেপাতা কুচি ও ভাজা জিরার গুড়া দিয়ে নামিয়ে নিলেই হয়ে যাবে উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত খাবার আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি।
সাধারনত এ ঘাটি যে দিন রান্না করা হয় সেদিন আলু ভর্তাও করে । কেননা আলু ভর্তা ,বেগুনের ঘাটি দিয়ে গরম ভাত খেতে অসাধারন লাগে। এ শীতে সবাই একবার রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। আশাকরি ভাল লাগবে।
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মোবাইল ফটোগ্রাফিঃ স্যামসাং-এ১০
আপু আপনার আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে।আপনি যেহেতু আপনার শ্বশুর বাড়িতে শিখছেন, আপনার স্বামী ভালো বলেছে, তাহলে ভালোই হয়েছে। আসলে এভাবে কখনো তৈরি করে খাওয়া হয়নি। দেখি এভাবে একদিন তৈরি করবো। প্রতিটি ধাপ আপনি অনেক সুন্দর করে দেখিয়েছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু আপনার মন্তব্যের জন্য।
আপু আলু বেগুন আর মুলার ঘাটি দেখতে মনে হচ্ছে অনেক মজা হয়েছে খেতে।আপনিতো এই সবজি রান্না করার সময় ডালের মত ঘেটে রান্না করছেন।ডালের সব উপকরণ যেহেতু দিয়েছেন খেতে অসাধারণ হবে।আপনার আজকের শেয়ার করা উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত আলু বেগুন ও মুলার ঘাটি একদিন করে খেতে হবে।
বেগুন ও আলু ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য ডাল ঘুটনি দিয়ে ঘুটা দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে খেতে ভালই লাগে। কিন্তু আমাদের বাসায় কখনও খাইনি। ধন্যবাদ আপু আপনার কমেন্টের জন্য।
আমি উওর বঙ্গের আলু ঘাটির কথা শুনেছি।তবে এভাবে আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি এর কথা শুনিনি।যাই হোক মনে হচ্ছে টমেটোর টকের মত রান্না। ধনেপাতা দেওয়াতে রেসিপিটি মনে হচ্ছে আরো মজা হয়েছে।প্রতিটি ধাপ আপনি খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ
খেতে আমার কাছেও ভাল লাগে। একদিন ট্রাই করতে পারেন। আশাকরি ভাল লাগবে।
আপু আমার বাসা কিন্তু উত্তরবঙ্গে। তবে এই রেসিপি কখনো খেয়েছি বলে মনে পড়ছে না। আলু,বেগুন ও মুলার ঘাটি রেসিপি আমার খুবই ভালো লেগেছে। শীতের সময় এই খাবারটি খেতে নিশ্চয়ই অনেক ভালো লাগবে। আপনার কাছে নতুন একটি রেসিপি শিখতে পেরে খুবই ভালো লাগলো। একদিন তৈরি করে খেয়ে দেখব আপু। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এই ভিন্ন ধরনের রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অনেক সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন আপু। আলু, বেগুন ও মুলার ঘাটি রেসিপিটি রেসিপি। আপনার রেসিপি কালারটা অনেক লোভনীয় হয়েছে। দেখেই বুঝে যাচ্ছে এটা খেতে অনেক সুস্বাদু। এত সুন্দর ও ইউনিক একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আপনার শ্বশুর বাসায় থেকে মজাদার একটি রেসিপি লিখেছেন আপু। এবং আপনার কাছ থেকে আমিও শিখে নিলাম সম্পূর্ণ নতুন একটি রেসিপি। শীতকালীন সবজি দিয়ে এভাবে কখনো আলু বেগুন মুলার ঘাঁটির তৈরি করা হয়নি। আপনার রেসিপি কালার দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আমিও বাসায় একদিন এভাবে তৈরি করার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আপু
একদিন খেয়ে দেখেন আশাকরি ভাল লাগবে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।