রেসিপি-"তিত করলা আর বরবটি সবজির মিক্স ভাজি"
হ্যালো,
আসসালামু আলাইকুম!!
সবাই কেমন আছেন? আশা করি সকলেই অনেক অনেক ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। বেশ কয়েক দিন ধরে আমি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করতেছি। তাই আমি কয়েকদিন কমিউনিটিতে একটিভ থাকতে পারি নাই। প্রিয় কমিউনিটি “আমার বাংলা ব্লগের” ভারত-বাংলাদেশি ব্লগার ভাই-বোনেরা আপনারা সবাই নিজ নিজ কর্ম নিয়ে সবাই ব্যস্ততায় আছেন নিশ্চয়ই। আমিও বেশ কয়েকদিন কিছু পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক ব্যস্ত ছিলাম তাই আমি কোন পোস্ট করতে পারি নাই।
আজ একটু ফ্রী বোধ করলাম তাই আপনাদের সাথে একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। আমি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব একটি রেসিপি পোষ্ট। আমার আজকের রেসিপি হচ্ছে তিত করলা আর বরবটি দিয়ে মিক্স ভাজি। আমার তৈরি করা তিত করলা আর বরবটি দিয়ে ভাজি খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করব। তিত করলা দিয়ে বরবটি সবজি মিক্স করে ভাজি অনেক মজাদার হয়েছে। আপনারা আমার রেসিপিটি দেখে বাসায় তৈরি করে খেতে পারেন। চলুন তাহলে আমার রেসিপি টা এক নজরে দেখে আসিঃ-
প্রথমে আমি উপকরণসমূহ নিয়ে দেখাবো
তিত করলা- ২ টি।
বরবটি- ১০০ গ্রাম।
পেঁয়াজ কুচি- ২ টি।
রসুনের কোয়া- ৪টি।
কাঁচা মরিচ ফালি-৪/৫ টি।
ধনিয়ার গুঁড়া- ২ চামচ।
জিরার গুঁড়া- ১ চামচ।
হলুদ গুঁড়া- ১ চামচ।
লবণ স্বাদমতো।
তেল পরিমানমতো।
ধনে পাতা কুচি- পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালীঃ
ধাপ- এক
প্রথমে আমি দুইটা তিত করলা নিয়েছি এবং ১০০ গ্রাম বরবটি নিয়েছি। তিত করলা আর বরবটি গুলোকে আমি ছোট ছোট করে কেটে নিয়েছি। কেটে নেওয়ার পর লবণ দিয়ে ভালো করে মেখে কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিয়েছি। যখন করলা আর বরবটি কুচি গুলো নরম হয়ে আসবে তখন আমি ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে যাওয়ার জন্য রেখে দিয়েছি।
ধাপ- দুই
ধুয়ে রাখা বরবটি আর তিত করলা সবজি গুলো পানি ঝরিয়ে যাওয়ার জন্য রেখে দিয়েছি। ততক্ষণে আমি আমার রেসিপির প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলো সাজিয়ে নিয়েছি। এখন আমি রান্নার জন্য একটি কড়াই নিয়েছি।
আমি কড়াই চুলায় বসাই দিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়ামে রেখেছি। যখন কড়াই টি গরম হয়ে আসবে তখন আমি তাতে পরিমান মত তেল দিয়ে দিয়েছি। তেল গরম হলে তাতে পেঁয়াজ কুচি,কাঁচা মরিচ ফালিএবং রসুন কুচি দিয়ে দিয়েছি। নরম হয়ে আসার জন্য তাতে আমি স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিয়েছি। ভালো করে নেড়ে চেড়ে মসলাগুলো ভেজে নিব।
ধাপ- তিন
যখন পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি, ও কাঁচা মরিচের ফালি গুলা ভাল করে ভাজা হয়ে আসে তখন তাতে ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে দিলাম। ভালো করে মিক্স করে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ভেজে নিব।সব মসলা কষানো হয়ে গেলে তাতে আমি সবজি গুলা ঢেলে দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ- চার
তিত করলা আর বরবটি সবজি গুলোকে ভালো করে সব মসলার সাথে মিক্স করে নিলাম। মিক্স করা হয়ে গেলে ভাজতে থাকবো যতক্ষণ না ভাজি গুলা ব্রাউন কালার হয়ে না আসে। নেড়েচেড়ে ভাজতে থাকলাম। খেয়াল রাখতে হবে যাতে ভাজি গুলো লেগে না যায় এবং পুড়ে না যায়। সেজন্য ঘন ঘন নেড়েচেড়ে দিতে হবে।
ধাপ- পাঁচ
অনেকক্ষণ সময় দিয়ে ভাজতে থাকলাম। যখন ভাজি গুলো প্রায়ই হয়ে আসে এবং ব্রাউন কালার ভাব চলে আসে তখন আমি কুচি করে রাখা ধনেপাতা গুলা ছিটিয়ে দিলাম। আবার কিছুক্ষণের জন্য ভেজে নিলাম। ভাজা হয়ে গেলে আমি চুলা থেকে নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করার জন্য রেখে দিলাম। এখন গরম গরম পরিবেশনের পর্যায়।
শেষ- ধাপ
এখন আমি পরিবেশনের জন্য একটা প্লেটে সাজিয়ে নিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আমার আজকের তৈরি করা তিত করলা আর বরবটি ভাজি দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। গরম গরম ভাতের সাথে খেতে অনেক মজাদার হয়েছে। এইরকম ভাজি গুলো গরম ভাতের সাথে খেতে অনেক স্বাদের হয়। আপনারাও এভাবে বাসায় তৈরি করে খেতে পারেন আশা করি ভালো লাগবে।
প্রিয় বন্ধুরা, আশাকরি আমার আজকের রেসিপিটি আপনাদের ভাল লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করে অনুপ্রাণিত করবেন। আপনাদের কমেন্টের মাধ্যমে সহযোগিতা ও অনুপ্রাণিত হলে কাজের প্রতি আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে যায়।
ক্যামেরার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হলো
| ছবিতে ব্যবহার করা ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
আজ আমার লেখা এখনে শেষ করলাম।
সবারই ব্যস্ততার ভিতরে কিছুটা সময় পার করতে হয় যার কারণে কমিউনিটিতে তেমন একটা সময় দেওয়া হয় না যেমন আমার এখনকার সময়টা যাচ্ছে তারপরও চেষ্টা করছি একটু একটু করে কাজ করার। আপনি আজকে বরবটি দিয়ে করলা ভাজির রেসিপি শেয়ার করেছেন, করলা সব সময় আলু দিয়ে ভাজি করে খাই এভাবে বরবটি দিয়ে কখনো করা হয়নি আপনার থেকে রেসিপিটি শিখে নিলাম।
হ্যাঁ আপু ঠিক বলেছেন,আসলে ব্যস্ততার মধ্যেও একটু একটু করে সময় বের করে এক্টিভ থাকা খুবই দরকার।আপু আমিও তিত করলা আর আলু দিয়ে ভাজি করে থাকি। কিন্তু তিত করলা আর বরবটি দিয়ে আমার আজকে রেসিপিটি অনেক মজাদার ছিল। আপনি আমার রেসিপি দেখে বাসায় তৈরি করে খেয়ে দেখতে পারেন আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মতামত দেওয়ার জন্য।
করলা ভাজি আমার খুবই ফেভারিট আমিও সময় পেলে মাঝে মাঝেই করলা ভাজি আর রুটি প্রস্তুত করে খেয়ে থাকি।। যদিও রেডিমেড রুটি কিনে তারপরে সেটা ভেজে খাওয়া হয়।।
করলার দিতে হলেও খেতে খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টি গুণে ভরপুর আপনার প্রস্তুত করার রেসিপিটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে খুব মজা হবে।।।
ভাইয়া আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আমার রেসিপিটি পড়ে সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় মতামত প্রকাশ করার জন্য।
আসলে যদিও করলা গুলো তিত হয় তারপরও খেতে কিন্তু দারুন লাগে। আর আপনি যে পদ্ধতিতে বরবটি দিয়ে করলা রান্না করেছেন তা দেখে মনে হচ্ছে যে তিত এর পরিমাণটা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ভালো লাগলো আপনার রান্না করার এই পদ্ধতিটি।
আপনি ঠিক বুঝতে পেরেছেন ভাইয়া। আসলেই তিত করলা ভাজিটা একদম তিতা ছিল না। খাওয়ার শেষে মুখ দিয়ে একটা মিষ্টি ভাব বের হয়।ধন্যবাদ আপনাকে মতামত দিয়ে পাশে থাকার জন্য।
করলা আমি খুব বেশি খেতে পারি না। তবে বরবটি আমার খুবই ভালো লাগে। এইরকম রেসিপি এই প্রথম দেখলাম। আলাদা আলাদা ভাজি করে খাওয়া হয়েছে। তবে একসাথে ভাজি করে খাওয়া হয়নি। খেতে নিশ্চয়ই সুস্বাদু হয়েছে।
অপু মিক্স করে ভাজি করলে খেতে অনেক ভাল লাগে। আমিও এই প্রথম বরবটি দিয়ে তিত করলা ভাজি করেছি খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে রেসিপিটা শেয়ার করি। বাসায় তৈরি করে খেয়ে দেখতে পারেন আশা করি ভাল লাগবে।
আপু আমি কখনো বরবটি দিয়ে করলা ভাজা খাইনি। করলা ভাজা আমার খুব একটা ভালো লাগে না। তবে শুক্ত করলে খেতে ভালো লাগে। বরবটি আলু ভাজা খেয়েছি, তবে এটাও একবার চেখে দেখতে হবে।
ভাইয়া তিত করলা ভাজি টা একটু ভাজা ভাজা না করলে খেতে ভাল লাগে না, অনেক তিতা লাগে খেতে।তাই এভাবে যদি একটু ভাজা ভাজা করলে খেতে অনেক ভাল লাগে।
আপনার রেসিপি পোস্ট সবসময় ই ভালো হয়।ছবি ছবিগুলো একসাথে দিতে পারেন এক ধাপের গুলো আর উপকরণ এ টেবিলের মার্কডাউন ইউজ করলেও ভালো দেখাবে।
আপু আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার পোষ্টের প্রশংসা করার জন্য। আপু আপনি যেটা বলছেন, উপকরণের মার্কডাউন ইউজ করার জন্য ঠিক আছে। আমি পরবর্তীতে আপনার পরামর্শের ভিত্তিতে পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সুন্দর পরামর্শ দেওয়ার জন্য আপনাকে আবার ও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা রইল।
কখনো করলা দিয়ে বরবটি ভাজি রেসিপি দেখে নি ই এবং সেটা কখনো খাওয়া হয়নি। তবে আপনার তৈরি করে দেখে মনে হইতেছে রেসিপিটি খেতে অনেক মজা হবে। আপনার তৈরি করা ধাপ গুলো দেখে আমিও বাসায় কোনদিন চেষ্টা করব।
আপনার জন্য শুভকামনা রইল
দুটো সবজি আমি আলাদা আলাদা ভাবে ভাজি করে খেয়েছি। কিন্তু কখনো এভাবে একসাথে মিক্স করে ভাজি করা হয়নি। আমার কাছে এই ভাজি গুলো খেতে খুবই ভালো লাগে। আপনি খুব সুন্দর ভাবে রেসিপির ধাপগুলো বর্ণনা করেছেন। এই ভাজি গরম ভাতের সাথে খেতে অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে।আপনার জন্য শুভকামনা রইল।