রেসিপিঃ কদবেলের লোভনীয় আচার তৈরি
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পুনরায় আরও একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আচার খেতে ভালো লাগে না এমন মানুষ হয়তো বা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আর আসার এমনই একটা জিনিস যা দেখলে প্রায় প্রত্যেকটি মানুষেরই জিভে জল চলে আসে। সত্য কথা বলতে এটা এমনই লোভনীয় একটা জিনিস যা দেখে প্রত্যেকটি মানুষেরই লোভ লেগে যায়। যেহেতু আমি প্রত্যেক সপ্তাহে চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে অন্তত একটি করে রেসিপি পোস্ট শেয়ার করার জন্য , ঠিক সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যই মূলত আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি আচারের রেসিপি নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে কদবেলের আচার তৈরি করার একটা পদ্ধতি শেয়ার করতে চলেছি। তো চলুন আমার তৈরি করা কদবেলের এই আচার তৈরীর পদ্ধতি দেখে নেওয়া যাক ....
কদবেলের আচার তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ |
|---|
| ক্রমিক নম্বর | উপকরণের নাম |
|---|---|
| ১ | কদবেল |
| ২ | পাঁচফোড়ন |
| ৩ | সয়াবিন তেল |
| ৪ | বিট লবণ |
| ৫ | পেঁয়াজ |
| ৬ | দারচিনি |
| ৭ | রসুন বাটা |
| ৮ | মরিচের গুঁড়া |
| ৯ | হলুদের গুঁড়া |
ধাপ - ০১
কদবেল এর এই রেসিপি তৈরি করার জন্য আমি দুইটা কাঁচা কদবেল নিয়ে নিয়েছি। যদিও পাকা কদবেল দিয়ে এই রেসিপি তৈরি করা যায় তারপরও সেটা খেতে এতটা সুস্বাদু হয় না। মূলত এই কারণেই আমি পাকা কদবেলের পরিবর্তে কাঁচা কদবেল ব্যবহার করেছি।
ধাপ - ০২
প্রথমেই আমি কাঁচা কদবেল গুলোকে খুবই ভালোভাবে তুলে নিয়েছি। যেহেতু কদবেল এর বাইরের আবরণ অনেকটা শক্ত হয় তাই আমি একটা চামচ দিয়ে এটাকে তুলে নিয়েছি।
ধাপ - ০৩
কাঁচা কদবেল শক্ত হবার কারণে এটাকে আমি শীল পাটাতে খুবই ভালোভাবে বেটে নিয়েছি। কদবেলগুলো এইভাবে বেটে নেওয়ার কারণে কদবেলের তৈরি আচার খেতে আরও বেশি সুস্বাদু হয়ে যাবে।
ধাপ - ০৪
কদবেল এর আচার তৈরি করার জন্য যে পাঁচফোড়ন ব্যবহার করতে হয় সেগুলোকে আমি খুবই ভালোভাবে ভেবে নিয়েছি।
ধাপ - ০৫
ভালোভাবে ভেজে নেওয়ার কাজ শেষ হয়ে যাবার পরে আমি সেগুলোকে পাটাতে খুবই সুন্দরভাবে বেটে নিয়েছি। এগুলো বেটে নেবার ফলে গুড়ো গুড়ো হয়ে গিয়েছে যেটা আমার প্রয়োজন ছিল।
ধাপ - ০৬
এরপরে আমি একটা শুকনো কড়াই নিয়েছি। তারপরে সেখানে পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল দিয়েছি। সয়াবিন তেল গরম হয়ে যাবার পরে সেখানে আমি পেঁয়াজ এবং পূর্বে বেটে নেওয়া রসুন দিয়ে দিয়েছি। সেখানে আমি সামান্য পরিমাণে মরিচ এর গুঁড়া এবং হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করেছি। উপরের ছবিটা লক্ষ্য করলেই আপনি প্রত্যেকটি ধাপ ভালোভাবে দেখতে পাবেন।
ধাপ - ০৭
সবগুলো জিনিস ভেজে নেওয়া হয়ে যাবার পরে আমি সেখানে কদবেল গুলো দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ০৮
কদবেল দেবার পরে পূর্বে আমি যে পাঁচফোড়ন গুলো বুড়ো করে নিয়েছিলাম সেগুলো সেখানে দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ০৯
সবগুলো উপকরণ দেওয়ার কাজ শেষ হয়ে যাবার পরে আমি কড়াইয়ের উপর আরো ১০ মিনিটের মত নাড়তে থেকে ছিলাম।
ধাপ - ১০
আর যখনই কদবেল এর আচার তৈরি হয়ে গেল তখন সেটাকে আমি আলাদা একটা পাত্রে নামিয়ে রেখেছি।
আমার তৈরি করা কদবেল এর এই লোভনীয় আচার তৈরীর পদ্ধতি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো নতুন কোন একটা পোস্ট এর মধ্য দিয়ে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবাসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Posted using SteemPro Mobile
কদবেল এর কথা আমি অনেক দিন আগে শুনেছিলাম ভাইয়া। তবে কখনো সামনে এই ফল দেখিনি। জানিনা এই ফল খেতে কি রকম লাগে। কদবেলের সুস্বাদু আচারের রেসিপি দেখে আসলেই জিভে জল চলে এলো। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
কি বলেন আপু এই ফল আজও দেখেননি আপনি এটা খেতে অনেক সুস্বাদু হয়।
যদিও আমি কদবেল খেতে পছন্দ করি না।তবুও আপনার তৈরি কদবেলার আচার দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে।কদবেলের আচার তৈরির এত সুন্দর একটি পদ্ধতি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কদবেল এর এই আচার একবার খেয়ে দেখবেন আশা করি খুবই ভালো লাগবে আপনার কাছে।
কদবেল আমার খুবই পছন্দের একটি ফল। কদবেল দিয়ে খুব সুন্দর আচার তৈরি করেছেন। আচার দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। আমিও একবার কদবেল দিয়ে আচার তৈরি করেছিলাম খেতে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। তৈরি করার ধাপ গুলো খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। সুস্বাদুও মজাদার একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
অনেক সময় ব্যয় করে এই রেসিপিটা তৈরি করেছিলাম আপু।
পাকা কদবেল খেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে ।তবে কাঁচা কদবেল দিয়ে যে এত সুন্দর আচার তৈরি করা যায় এটা আগে আমার জানা ছিল না ।এবার কাঁচা কদবেল পেলে অবশ্যই চেষ্টা করবো রেসিপিটি তৈরি করার জন্য ধন্যবাদ।
কাঁচা কদবেলের আচার সব থেকে বেশি ভালো লাগে।
ভাইয়া এভাবে কদবেল কখনো খায়নি। অফিসে আসা যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে বিক্রয় করতে দেখি। তবে খাওয়ার নিয়ম জানিনা বলে কিনে নেয় না। আজকে আপনার থেকে কদবেল খাওয়ার নিয়ম জানলাম। ধন্যবাদ।
ওই আচারগুলো খাবার থেকে নিজের বাড়িতে তৈরি করে খাওয়াই ভালো।
আরে ভাই অনেকদিন হলো কদবেল খাওয়া হয়নি। কাঁচা কদবেল অনেক খেয়েছি, কিন্তু কদবেল এত সুন্দর করে আচার তৈরি করা যায় এটা আমার জানা ছিল না। কদবেলে আচার তৈরি প্রতিটা ধাপ খুব চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
আমি দুইটা কাঁচা কদবেল কিনে এনেছিলাম সেগুলো দিয়েই এই আচার তৈরি করেছি।
আপনি দারুণ একটা রেসিপি শেয়ার করেছেন। আপনার কদবেল দেখে আমার জিভে জল চলে আসতেছে।আমি এখনো কদবেলের আচার খাইনি।তবে কদবেলের শরবত খেয়েছি। আচারটি দেখে মনে হচ্ছে সুস্বাদু হয়েছে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটা পোস্ট করার জন্য।
কি বলেন ভাই আজ পর্যন্ত কদবেল এর আচার খাননি।
আঃ ভাই দেখেই জিভে জল এসে গেলো কদবেল এর লোভনীয় আচার খুব সুন্দর হয়েছে দেখতে।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য।
আসলে এটা জিভে জল চলে আসার মতই একটা রেসিপি।
আচার পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুব কমই আছে আর সেই আচার রেসিপিটি যদি কদবেলের হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। সত্যি বলতে কদবেলের আচার রেসিপি এর আগে কখনোই খাইনি তবে কদবেল ভর্তা করে অনেকবার খেয়েছি। রেসিপিটি আমার কাছে একদম নতুন এবং ইউনিক লেগেছে। মজাদার এই আচার রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
কদবেল ভর্তা খেতেও অনেক ভালো লাগে।
কদবেল মাখিয়ে অনেক খেয়েছি কিন্তু কদবেল দিয়ে কখনো আচার তৈরি করে খাওয়া হয়নি। কদবেল আচারের প্রত্যেকটি ধাপ আপনি খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। লোভনীয় এই কদবেল আচারের রেসিপিটি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
এইভাবে একদিন কদবেল এর আচার তৈরি করে খেয়ে দেখবেন আপু খেতে অনেক ভালো লাগবে।