Recipe ।। হোটেল স্টাইলে পরোটা তৈরি ।
প্রাণ প্রিয় বন্ধুগণ, আশাকরি মহান আল্লাহতালার অশেষ রহমতে সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন । আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি ।
আমি গতদিনে নিহারি রান্না পোস্ট করেছিলাম । আর এটাও বলেছিলাম যে পরোটার সাথে এটা খেতে খুব ভাল লাগে । তবি এই দুই দিনে পরোটা তৈরি করার সময় হয়নি । তাই আজকে সময় করে তৈরি শুরু করে দিলাম । বেশিদিন অপেক্ষা করলে নিহারির স্বাদ আর আগের মত থাকবে বলে মনে হয়না । তাহলে চলুন বন্ধুরা দেখে আসি আমার আজকের পরোটা রেসিপি ।
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| গমের সাদা আটা | ২ কাপ |
| গমের লাল আটা | ২ কাপ |
| হলুদ গুড়া | ১চা চামচ |
| লবণ | পরিমাণ মত |
| সয়াবিন তেল | পরিমাণ মত |
সাধারণত যে কেউ এক রকমের আটা দিয়ে পরোটা তৈরি করে । তবে আমি দুই রকমেরটা মিশিয়ে নিয়েছি । এর দুইটা কারণ । এক শুধু সাদা আটা একটু বেশিই ইলাস্টিসিটি সম্পন্ন । আর লাল আটায় রংটা ভাল আসে না । তাই দুই রকমের আটা মিশিয়ে নিয়েছি যেন মাঝা মাঝি পর্যায়ে সুন্দর রঙের পরোটা তৈরি করা যায় ।
এখন আমি ১০০ গ্রাম সয়াবিন তেল আটার ভিতরে ঢেলে নিলাম । এই তেল টুকু আমার পরটার স্থিতিস্থাপকতা প্রায় সব টুকুই কমিয়ে দিবে এবং ভাজার পরেও অনেক্ষণ খাওয়ার উপযোগী থেকে যাবে ।
তেল গুলো ভালভাবে আটার সাথে মিশিয়ে ময়ান দিয়ে নেব । যতক্ষণ না সব স্থানে সমান ভাবে মিশে না যায় । মুঠো করে ধরে দেখবো ভালো ভাবে ময়ান দেওয়া হলে মুঠো করে ছেড়ে দিলে সেভাবেই থেকে যাবে চিত্র অনুরুপ । আমি লবণ এবং হলুদ গুড়া ভাল ভাবে মিশিয়ে নেব ।
এরপর আমি পরিমাণ মত পানি দিয়ে পারফেক্ট দো তৈরি করে নেব । প্রথমে অল্প অল্প করে পানি দিয়ে মিশিয়ে নেব । কারণ পানির পরিমান বেশি হয়ে গেলে দো নরম হয়ে যাবে তখন বেলে নিতে ঝামেলা হবে ।
দো পারফেক্ট হওয়ার জন্য একটু সময় নিয়ে হাতের তালু দিয়ে চেপে চেপে ছেনে নিতে হবে তাহলে পরটা তৈরির সময় সুবিধা হবে । আর যখন বাটির থেকে দো সম্পুর্ণ আলাদা হয়ে উঠে আসছিলো একটুও লেগে থাকছিলনা সে সময়ে একটা প্লেট দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ঢেকে রেখে দিলাম ।
এখন আমি দো থেকে ছোট ছোট টুকরা করে নিলাম । চেষ্টা করেছিলাম সব গুলো সমান করে নেওয়ার কিন্তু তা সম্ভব হয়নি । আমার হাতের মাপ খুবই খারাপ স্কেল কম্পাস ছাড়া ঠিক মত আইডিয়া করতে পারিনা ।
এবার একটা পিঁড়ি নিয়ে তার উপরে একটু তেল মেখে নিলাম । এবার একটা চার কোনা শেপে পরটা বানিয়ে নিয়েছি । এর সাইজ পুরোপুরি বর্গাকার না হলেও চলবে কারণ এটাই আমাদের ফাইনাল লুক নয় ।
এবার আমি পরটার উপরিভাগে সয়াবিন তেল মাখিয়ে নিলাম । এরপর চিত্র অনুরুপ ভাবে ভাজ করে নিয়েছি ।
দো এর প্রতিটা টুকরা একই ভাবে প্রসেসিং করে নিইয়েছিলাম । যদিও একটু ছোট বড় বেশিই হয়ে গেছে । তারপরেও মনকে এই বলে শান্তনা দিচ্ছি স্বাদটাই আসল কথা । সাইজে কি আসে যায় ।
এখন আমি আবার ও পিড়িতে একটা একটা করে বেলে নিয়েছি । তবে এইবার সুন্দর করে শেপ চারকোনা শেপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি কারণ কথায় আছে " আগে দর্শনধারী" ।
এবার একটা কড়াই নিলাম । আমি এখানে সমতল কড়াই নিয়েছি । কারণ এই পরোটা গুলো আমি ডুবো তেলে ভাজবো না । অল্প অল্প করে তেল দিয়ে ভেজে নেব। সেই মোতাবেক অল্প পরিমাণ তেল কড়ায়ে দিয়ে দিলাম ।
কড়ায়ের তেল গরম হয়ে এলে এবার আমি একটি পরটা কড়ায়ে দিয়ে নিলাম । দুই দিক সমান করে কয়েকবার উল্টিয়ে ভেজে নিতে হবে ।
পরটার দুই পাশ সমান ভাবে ভাজা হয়ে গেলে আমি সেটি তুলে নিয়ে একটি ছাকনীর উপর রেখে দিলাম । এভাবে একে একে সব গুলো ভেজে নিয়েছি ।
এখন আমি একটি প্লেটে করে পরিবেশন করছি ।
আমার আজকের রেসিপি এখানেই সমাপ্ত করছি । সবাই ভাল থাকবেন এই কামনা করি ।
| ধন্যবাদান্তে | @maruffhh |
|---|---|
| ফটোগ্রাফি ডিভাইসঃ | mobile |
| মোবাইল নেমঃ | redmi 6a |
| ক্যামেরাঃ | 8mp |

হোটেলের স্টাইলে দারুন একটি পরোটা রেসিপি করেছেন। সত্যিই দেখে খেতে ইচ্ছে করছে কারণ এখন নাস্তা করার টাইম। খুবই সুন্দর ছিল আপনার ফোনটা রেসিপি তৈরি।
আমি অবশ্য তৈরি করেছিলাম রাত্রি বেলাতেই পরোটা খেতে খেতে পোস্ট লিখেছি। আবার মধ্যরাতের আহার ও এটা দিয়েই সেরেছিলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য।
পরোটা খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। প্লেটে সাজানো পরোটা দেখে খেতে ইচ্ছা করছে ভাইয়া। গরম গরম পরোটা হলে বেশ মজা করে খাওয়া যায়। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে পরোটা রেসিপি তৈরি করে উপস্থাপন করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া। সেই সাথে আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মতামতের জন্য । গরম গরম পরটা খেতে আমার ও বেশ ভালো লাগে । তবে আজকে স্পেশালি নিহারি দিয়ে খাওয়ার জন্য তৈরি করেছিলাম । এর জন্য স্বাদটা আরো ভালো লেগেছিলো ।
হোটেলের স্টাইলে আপনি অনেক সুন্দরভাবে পরোটা তৈরি করেছেন । যেটা দেখে অনেক লোভনীয় মনে হইতেছে। সুন্দরভাবে তৈরি করা পাশাপাশি ধাপ গুলো অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আপনার জন্য শুভ কামনা রইল
জি ভাইয়া। এভাবে পরোটা তৈরি করে নিলে খুব ভাল স্বাদ পাওয়া যায়। আর ডাউল অথবা নিহারির সাথে খেতেও খুব ভাল লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য।
আপনি হোটেল স্টাইলে পরোটা তৈরি করেছেন। আপনার আজকের রেসিপিটি সত্যি অসাধারণ হয়েছে। আপনার রেসিপি ধাপগুলি ফলো করে আমি এই রেসিপি তৈরি করবো।
এভাবে তৈরি করলে অবশ্য সন্তোষজনক স্বাদ পেয়ে যাবেন। আর প্রসেসটা ও খুব একটা কঠিন নয়। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য।
হোটেল স্টাইলে খুবই সুন্দর পরোটা তৈরি করেছেন আপনি। পরোটা খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে বিশেষ করে সকালে নাস্তা করতে। এত সুন্দর একটি রেসিপি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সকালের নাস্তায় ডাল পরোটা অনেকেরই ভাল লাগে। আমিও মাঝে মাঝে এভাবে খেয়ে থাকি। আর খুব সহজে স্বাদটা ও হয় অসাধারণ। ধন্যবাদ ভাইয়া।
হোটেলের স্টাইলে পরোটা তৈরি করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন পরোটা আমার কাছে বরাবরই অনেক বেশি লোভনীয় এবং সুস্বাদু মনে হয়। বিশেষ করে সকালবেলার ডাল দিয়ে পরোটা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে ।শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
অনেকেই আছে সকাল বেলার ডালপরটা বেশ পছন্দ করে যেমন আমিও। তবে আজকের পরোটা তৈরি করেছিলাম।স্পেশালি নিহারি খাওয়ার নিমিত্তে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য।
বাসায় আমরা এভাবেই পরোটা তৈরি করে থাকি। সকালের নাস্তায় পরোটা খেতে খুবই ভালো লাগে। আমরা বাসায় মাঝেমধ্যেই পরোটা বানিয়ে খাই। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
এভাবে পরোটা তৈরি করেন জেনে ভাল লাগলো আমিও সময় সুযোগ পেলে তৈরি করে থাকি। এর স্বাদটা অসাধারণ লাগে। ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্য প্রদানের জন্য।
ভাইয়া আপনার এই পরোটা নেহারির সাথে খাবেন শুনে জিভে জল চলে আসলো। এভাবে পরোটা খেতে সত্যি খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনার পুরোটা দেখতে একদম হোটেলের মতোই হয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে পরোটা তৈরির ধাপগুলো বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ আপু। হোটেলে পরোটা খেতে গিয়ে কয়েকদিন ভালমত লক্ষ্য করে দেখেছি তো। তাই হয়তো একটু অভিজ্ঞতাও এসে গেছে। আসলে ওদের তৈরির ধাপ গুলো এমনি। আপনার জন্যেও শুভকামনা রইলো।
দারুন হয়েছে, একেবারেই হোটেলের মত আপনার হাতের কাজ বেশ ভালো তা আপনার এই এই পরোটা তৈরিতে বোঝা যাচ্ছে খুব সুন্দর হয়েছে ধন্যবাদ এমন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
কথা হলো একটা সুবিধা পাওয়া যায় রুটির মত পরোটা তো গোল করা লাগে না। চারকোণা শেপ দেওয়াটা অনেকটাই ইজি সেই তুলনায়। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনা জন্যও শুভ কামনা রইলো।
ভিন্ন রকম স্টাইলে পরোটা রেসিপি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। সত্যি দেখে মনে হচ্ছে যে হোটেলের মত হয়েছে। পরোটা খেতে বেশি ভালো লাগে আমার। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমাদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই এমন পরোটা তৈরি করা হয়ে থাকে। খেতেও বেশ ভাল লাগে। তাই রেসিপিটা শিখে নিয়েছি। এখন ইচ্ছে হলেই তৈরি করে ফেলি।