দুধপুলি পিঠা রেসিপি
হ্যালো বন্ধুরা!
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা অনেক অনেক ভাল রয়েছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় বেশ ভালো আছি। আমি আজকে আপনাদের মাঝে অনেক সুন্দর দুধ পুলে পিঠা তৈরি করে দেখাবো। দুধপুলি পিঠা কিভাবে তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনীয় উপাদান সহ সবকিছু পর্যায়ক্রমে দেখানোর চেষ্টা করব। আমার সহযোগিতায় থাকবেন আমার প্রিয়জন। মনে করি, আমার এই পোস্টটা আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।
প্রয়োজনীয় উপাদানের তালিকা
| প্রয়োজনীয় উপাদান | পরিমাণ |
|---|---|
| ময়দা | এক কেজি |
| চিনি | হাঁফ কেজি |
| আখের গুড় | হাঁফ কেজি |
| গরুর দুধ | ১ কেজি |
| লবণ | প্রয়োজন মত |
| মসলা | প্রয়োজন মত |
| পানি | পরিমাণ মত |
প্রস্তুত প্রণালীর ধাপ:
প্রথম ধাপ:
পিঠা তৈরীর প্রাথমিক পর্যায়ে ময়দা লবণ পানি দিয়ে ভালোভাবে ছেনে নিলাম। এরপর সে ময়দা গুলো রুটি আকারে তৈরি করে নিলাম। এরপর রুটিগুলো একটি স্টেলের গ্লাস দিয়ে ছোট ছোট আকারে কেটে নিলাম। এখানে একটি রুটি থেকে অনেকগুলো ছোট ছোট গোল গোল রুটি হয়ে যায়। এভাবে সকল রুটিগুলো গ্লাস আকারে কেটে একটি কাপড়ের উপরে রাখলাম। উদ্ধৃতি অংশগুলো গামলার মধ্যে রাখলাম পুনরায় রুটি তৈরি করার জন্য। আর এভাবেই সমস্ত ছানা ময়দা গুলো প্রস্তুত করে নিলাম।
দ্বিতীয় ধাপ:
এ পর্যায়ে পাত্রে রাখা গুড় সেই কাটা কাটা ছোট রুটির উপরে রাখতে থাকলাম। নারিকেলের ঝুরা দিয়ে গুড় ক্ষীর করে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উপস্থিত নারিকেল না থাকায় ক্ষীর তৈরি করা হয়নি, তাই শুধু গুড় দিয়েই তৈরি করলাম। আর এভাবে প্রত্যেকটা ছোট ছোট রুটিগুলোর উপরে গুড় রেখে দিলাম। আপনারা চাইলে এ ক্ষেত্রে খেজুর গুড়ের পাটালি ব্যবহার করতে পারেন। খেজুর গুড়ের পাটালি টা কাছে ছিল না তাই আখের গুড় দিয়ে কাজ সেরেছি।
তৃতীয় ধাপ:
এরপর দুজনে মিলে প্রত্যেকটা ছোট ছোট রুটি অর্থাৎ পিঠার সাচ গুলো মুখ বন্ধ করে দিলাম। মাঝখানে গুড় রেখে চারিপাশ থেকে আবদ্ধ করে দিলাম এভাবে। এক কথায় পুলিপিঠার প্রাথমিক পর্যায়ে তৈরি করে নিলাম।
চতুর্থ ধাপ:
এবার চুলা অন করে দিয়ে একটি হাঁড়ির মধ্যে দুধ নিয়ে নিলাম। এবার হাড়ের দুধের মধ্যে মসলা মসলা বাকলা চিনি ইত্যাদি দিয়ে দিলাম। চুলার উপরে দুধের ছোট হাড়িটা বসিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে থাকলাম। আশিক এভাবে কিছুটা সময় দুধ জ্বাল দেওয়া চলল। মাঝেমধ্যে চামচ দিয়ে নেড়ে দিতে থাকলাম যেন মসলাগুলো সিদ্ধ হয়ে যায়। এই সাথে চিনিগুলো যেন ভালোভাবে গুলিয়ে যায় দুধের সাথে। এদিকে দুধ জ্বাল দেওয়া হয়ে গেল।
পঞ্চম ধাপ:
এবার গরম দুধের মধ্যে পিঠাগুলো একটা একটা করে দিতে থাকলাম। এক্ষেত্রে আমার একটা বিষয় ভুল হয়েছিল, হাড়িটা অনেক ছোট ছিল। আপনারা এমন ভুল করবেন না। হাড়িটা একটু বড় নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে বেশি বড় জেনো না হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। আর এভাবে হাড়ের দুধের মধ্যে সমস্ত পিঠাগুলো দিয়ে দিলাম।
শেষ ধাপ:
বেশ কিছুটা সময় ধরে চুলা জ্বলতে থাকলো, আর এদিকে হাড়ির দুধের মধ্যে পিঠাগুলো সিদ্ধ হতে থাকলো। ঠিক এভাবেই অনেকটা সময় ধরে পিটা সিদ্ধ হতে থাকলো। অতঃপর পিঠা সিদ্ধ হয়ে গেলে, চুলা বন্ধ করে দিলাম। এরপর চুলা থেকে পিঠার হাঁড়ি নামিয়ে নিলাম। উপর আলাদা আলাদা প্লেটে উঠিয়ে নিলাম নিজের সুবিধার্থে। আর এভাবেই আমার পিঠা তৈরি কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলাম।
🧆পরিবেশন🧆
পরিবারের সবাইকে খাওয়ানোর জন্য পিঠাগুলো রান্নাঘর থেকে ঘরে নিয়ে আসলাম। এরপর খাবার টেবিলে রাখা হলো। পরিবারের সকল সদস্য যখন উপস্থিত হলেন সবার মাঝে পিঠা দেওয়া হল। ঠিক এভাবেই পিঠা তৈরি ও পরিবেশন সম্পন্ন হয়। সবাই সুন্দর এই পিঠা খেতে পেরে অনেক অনেক প্রশংসা করে। আর এভাবেই আমার রেসিপি কাজ সম্পন্ন হয়।
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
|---|---|
| ব্লগার | @helal-uddin |
| ডিভাইস | Infinix hot 50 pro |
| ঠিকানা | মেহেরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| ধর্ম | ইসলাম |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| ভেরিফাইড ব্লগার | আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি |
পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি মোঃ হেলাল উদ্দিন। আমি একজন বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিক। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুরে। আমার বর্তমান ঠিকানা,ঢাকা সাভার বিশ-মাইল। আমি একজন বিবাহিত ব্যক্তি। কর্মজীবনে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী।
দুধপুলি পিঠা রেসিপি শেয়ার করেছেন। দুধপুলি পিঠা খেতে ভীষণ ভালো লাগে আমার। আপনার রেসিপিটি দেখে তো জিভে জল চলে এলো। অনেক লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখে লোভ সামলাতে পারছি না।
আমারও ভীষণ ভালো লাগে
Twitter-promotion
দুধপুলি পিঠা আমার অনেক পছন্দের একটি পিঠা। আপনার তৈরি করা এই দুধপুলি পিঠা রেসিপিটি দেখতে অনেক লোভনীয় হয়েছে। পিঠা তৈরির প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর করে ধারাবাহিকভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন ভাইয়া আপনি। মজাদার এই পিঠা তৈরির রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
দারুন মন্তব্য করেছেন আপনি
দুধপুলি পিঠা খেতে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। আপনি অনেক মজাদার ভাবে দুধ পুলি পিঠা তৈরি করেছেন। এই দুধ পুলি পিঠা দেখে আমার তো এখনই খেয়ে নিতে ইচ্ছে করছে। অনেকদিন হলো দুধপুলি পিঠা খাওয়া হয় না। দেখেই বুঝতে পারছি আপনার দুধ পুলি পিঠা অনেক মজাদার হয়েছিল।
এত সুন্দর মন্তব্য দেখে খুশি হলাম।
দুধ পুলি পিঠার খুবি সুন্দর একটা রেসিপি তৈরি করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। শীতকালে গ্রাম অঞ্চলে এই ধরনের পিঠা প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়। এই পিঠার সাথে খেজুরের রসের গোড় ব্যবহার করলে খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু হয়ে যায়।
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া
দুধপুলি পিঠা আমার খুব পছন্দের তবে সাথে নারকেল দিলে আরো বেশি ভালো লাগতো খেতে। আপনার পিঠাগুলো দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। শীতের সময় এরকম পিঠা খেতে কার না ভালো লাগবে। তৈরি করার পদ্ধতিটা খুব সুন্দর এবং পারফেক্ট ভাবে তৈরি করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমারও অনেক পছন্দ
এবছর পুলি পিঠা বেশ কয়েকবার খেয়েছিলাম আমি। আমার মা পুলি পিঠা তৈরি করতে বেশ পারদর্শী। আপনি দেখছি আজকে খুবই সুন্দর করে দুধপুলি পিঠা রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার তৈরি করা রেসিপি টি দেখে মনে হচ্ছে বেশ মজাদার হয়েছিল। আসলে দুধ ব্যবহার করে যে কোন ধরনের রেসিপি তৈরি করলে অনেক বেশি মজাদার হয়।
আমিও অনেকবার খেয়েছি ভাইয়া
আমার আজকের টাস্ক
আমার পছন্দের একটি পিঠার রেসিপি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।আর এই পিঠাটি আমাদের গ্রাম বাংলার এক ঐতিহ্য। এই শীতের মধ্যে গ্রামে অনেক মজাদার পিঠাপুলি খাওয়া হয়। আমার কাছে সিদ্ধপুলি আর দুধপুলি দুটোই ভীষণ পছন্দ। আপনার পিঠাগুলো দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক মজা হয়েছিল। প্রচন্ড শীতে পিঠাগুলো খাওয়ায় মজাই আলাদা।
মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ আপু।
অনেক লোভনীয় রেসিপি তৈরি করেছেন আপনি। এ জাতীয় দুধ পুলি পিঠাগুলো আমি খুব পছন্দ করি। তবে আরো বেশি ভালো লাগে তেলে ভাজা গুলো। যাই হোক আপনি অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে রেসিপি তৈরি করে দেখিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। আশা করি অনেক সুস্বাদু ছিল আপনার রেসিপি। এত সুন্দর রেসিপি উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ।
আমিও অনেক অনেক পছন্দ করি
শীত মানেই নানা রকমের পিঠার সমাহার।দুধ পুলি পিঠা এই শীতে এখনও খাওয়া হয়নি আমার।দারুন লোভনীয় লাগছে রেসিপিটি।অসংখ্য ধন্যবাদ দারুন মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপনি