রেসিপি: নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী রঙিন পান্তুয়া পিঠা।
হ্যালো সবাইকে
কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকে আমার পোস্টটি হলো রেসিপি পোস্ট । আমার খুবই প্রিয় একটি রেসিপি । আমি তৈরি করেছি আজকে আমি নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী রঙিন পান্তুয়া পিঠা রেসিপি তৈরি করেছি। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
আজকেও আপনাদের সাথে নতুন একটি রান্নার রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি। প্রতি সপ্তাহে চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে একটা রেসিপি পোস্ট শেয়ার করতে আমার বাংলা ব্লগে অনেকেই অনেক সুন্দর সুন্দর ইউনিক রেসিপি শেয়ার করে যেগুলো দেখতে সত্যি অনেক লোভনীয় আরো অনেক ইউনিক। আজকে আমি নতুন আরেকটি রেসিপি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আমার আজকের রেসিপি পোষ্ট টি হল নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী রঙিন পান্তুয়া পিঠা। আজকে আমি যেই পিঠা রেসিপিটি শেয়ার করছি এটি আমাদের নোয়াখালী ফেনীতে খুবই বিখ্যাত একটি পিঠা। মেহমান আপ্যায়ন এবং জামাই আদর সব জায়গায় এই পিঠা তৈরি করা হয়। আর এই পিঠা খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু হয় পিঠার মাঝখানে থাকে ডিম এবং চারপাশে থাকে ময়দার একটা আস্তরণ যেটা খেতে অনেক বেশি ভালো লাগে। এই পিঠাটি অনেক পুরনো পিঠা যদিও বর্তমানে এই পিঠের মধ্যে অনেক নতুনত্ব এসেছে। আগে শুধু মাঝখানের ডিম আর সাদা রংয়ের আটা আস্তরণ থাকতো। কিন্তু এর মধ্যে নতুনত্ব যোগ করার জন্য বর্তমানে সবাই বিভিন্ন ধরনের রং ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করে থাকে এই পিঠার গায়ে। আমিও আজকে তৈরি করে ফেললাম এই রঙিন পান্তুয়া পিঠা যেটার মধ্যে আমি লাল সবুজ সাদা এই তিনটি রং ব্যবহার করেছি।আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই রেসিপিটি ভালো লাগবে।
উপকরণ
উপকরণ
| উপকরণ | পরিমান |
|---|---|
| আটা | দুই কাপ |
| চিনি | ১/২ কাপ |
| লবন | পরিমাণ মতো |
| ডিম | ২টা |
| পানি | ১/৫ কাপ |
| লাল ফুড কালার | ১ফোটা |
| সবুজ ফুড কালার | ১ফোটা |
| তেল | পরিমাণ মতো |
| গুঁড়া দুধ | ২চামচ |
তৈরি করার পদ্ধতি:-
প্রথমেই আমি একটা বাটিতে আটা নিয়ে নিলাম এবং পরিমাণ মতো লবণ এবং গুঁড়ো দুধ ও চিনি দিয়ে মিশিয়ে নিলাম।
এ পর্যায়ে আমি পরিমাণ মতো পানি দিয়ে আটাটাকে ভালো করে গুলিয়ে নিলাম।
এখন আমি আটা গুলোকে তিনটি বাটিতে আলাদা আলাদা করে নিয়ে নিলাম। প্রথমে সবুজ রঙের ফুড কালার দিয়ে একটা আটা রং করলাম।
এরপর আমি আরও একটা বাটির আটার মধ্যে রং করে নিলাম লাল রঙের ফুড কালার দিয়ে। এভাবে আমি পিঠা তৈরির জন্য আটা গুলোকে রেডি করে নিলাম।
এখন আমি একটা ডিম ভালোভাবে ভেজে নিলাম। এই ডিম পিঠার ভেতরের অংশে থাকবে।
ডিমটা ভাজার পর আমি ভাজ করে নিলাম চুলের উপরেই।
এরপর আমি লাল রংয়ের আটার কিছু অংশ নিয়ে নিলাম এবং ডিমের সাথে দিয়ে সুন্দরভাবে ভেজে নিলাম।
এই পর্যায়ে আমি সাদা রঙের আটা দিয়ে সুন্দর করে পিঠাটাকে ভেজে এবং ভাজ করে নিলাম।
আর একই পদ্ধতিতে আমি ভিন্ন ভিন্ন কালারের আটাগুলো দিয়ে পিঠা তৈরি করে নিলাম। একের পর এক কালার দিয়ে পিঠাটা তৈরি করেছি।
পিঠাটা তৈরি হওয়ার পর আমি ঠান্ডা করে নিলাম। এরপর আমি পিঠাটাকে ছুরি দিয়ে খুবই সুন্দরভাবে কেটে নিলাম।
আর এভাবেই তৈরি করে নিলাম ঐতিহ্যবাহী এই মজাদার রঙিন পান্তুয়া পিঠা। এই পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। ছোট থেকেই দেখতাম আমার মা এই পিঠা তৈরি করত। এখন আমি নিজেও তৈরি করছি খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু হয়। আশা করছি আমার তৈরি করাই পিঠাটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। কেমন লেগেছে সেটা অবশ্যই কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাবেন।
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @fasoniya |
| ডিভাইস | Vivo Y15s |
| লোকেশন | ফেনী |
আমার পরিচয়
আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।
রেসিপি টা তো খুবই আকর্ষণীয় হয়েছে দেখতে। তবে আমার মনে হয় সবুজ ফুড কালারের জায়গায় আপনি যদি পালং শাক বেটে দিয়ে দিতেন এবং লাল ফুড কালারের জায়গায় বিটরুট দিতেন তাহলে সেটা স্বাস্থ্যকরও হতো এবং পুষ্টিবর্ধকও হতো। আর এই সুন্দর রঙিন ব্যপারটাও আসত৷
ওয়াও দারুণ একটি রেসিপি শিখলাম। নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী রঙিন পান্তুয়া পিঠা তৈরী শিখলাম। সকালের নাস্তায় বা ইফতারে দারুণ জমবে। বাসায় একবার বানানোর চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।
বাহ আপু আপনি তো খুব মজার পিঠার রেসিপি বানিয়েছেন। তবে এই পিঠাগুলো সব জায়গাতে খুব জনপ্রিয়। পুরনো পিঠা হলেও এখনো এই পিঠাগুলো মেহমান আসলে দেওয়া হয়। আমাদের বাড়িতে মেহমান আসলে আমরা এই পিঠাগুলো বানাই। ধন্যবাদ রঙিন পান্তুয়া পিঠা রেসিপি বানিয়ে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
পান্তুয়া পিঠা রেসিপি এখন পর্যন্ত কোন দিন খাওয়া হয়নি। আপনি দেখছি আজকে খুবই সুন্দর করে নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী রঙিন পান্তুয়া পিঠা রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার তৈরি করা রেসিপি টি দেখে লোভ লেগে গেল আপু। আপনি খুবই সুন্দর করে রেসিপি টি সম্পন্ন করেছেন।
পান্তুয়া পিঠা আমার অনেক বেশি পছন্দের। আপনি অনেক মজাদার ভাবে রঙিন পান্তুয়া পিঠা তৈরি করেছেন। দেখেই বুঝতে পারছি এই পান্তুয়া পিঠা অনেক বেশি মজাদার হয়েছিল, আর খেতেও খুব ভালো লেগেছে। আমার তো আপনার তৈরি করা এই পিঠা দেখে খুবই খেতে ইচ্ছে করছে।
আপু এই পান্তুয়া পিঠা গুলো আমার খুব প্রিয়। আজকে আপনি সুন্দর করে রঙিন পান্তুয়া পিঠা পিঠা রেসিপি বানিয়েছেন। এবং মাঝেমধ্যে আমাদের বাড়ি তো এই পিঠাগুলো বানানো হয় খাওয়ার জন্য। আর মেহমান আসলে তো খুব জনপ্রিয় পান্তুয়া পিঠা বানিয়ে খাওয়াতে হয়। মজার পান্তুয়া পিঠা রেসিপি সুন্দর করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন।
আমাদের এই পিঠা টার চলন ঐভাবে নেয়। পান্তুয়া পিঠা টা নামের মতোই বেশ সুন্দর। দারুণ তৈরি করেছেন আপু পিঠা টা। দেখে বেশ লোভনীয় লাগছে। পাশাপাশি খুবই সুন্দর উপস্থাপন করেছেন আপনি। ধন্যবাদ আমাদের সাথে পোস্ট টা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।