আমার বাংলা ব্লগ-রেসিপি: খেজুর গুড়ের চিতই পিঠা-তাং:২৪/১১/২০২১ইং
আসসালামু আলাইকুম।
💖আমার নতুন একটি পোস্টে আপনাদের সবাইকে সুস্বাগতম জানাচ্ছি💖
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমার বাংলা ব্লগ এমন একটি কমিউনিটি যে কমিউনিটি আমাদের সৃজনশীল কাজের উপস্থাপনের জন্য দ্বার উন্মোচন করে রেখেছে। তাই আমি সর্বদা আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে অত্যন্ত ভালবাসি।
Camera:iTel Vision one.
চলছে হেমন্ত ঋতুর অগ্রহায়ণ মাস। আর অগ্রহায়ণ মাস মানে মাঠের সোনালী পাকা ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে আনার সময়। আর সাধারনত অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হয় বাংলার গ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব। হেমন্তের নতুন ধানের আগমন উপলক্ষে নবান্ন উৎসব শুরু হয়। গ্রাম বাংলা সহ বাংলার শহর অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এবং হাট বাজারে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পুলি তৈরি করতে দেখা যায়। নবান্ন উৎসবের তৈরিকৃত গ্রাম অঞ্চলের প্রতিটি পিঠা অত্যন্ত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত। আমি বিগত দুই সপ্তাহে পাটিসাপটা পিঠা এবং বকুল পিঠা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আজ আমি গ্রাম বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের চিতই পিঠা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আমাদের গ্রাম অঞ্চলের সব বয়সের মানুষের নিকট চিতই পিঠা অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয়। এই শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে চিতই পিঠা খাওয়ার আনন্দই অন্যরকম।
খেজুর গুড়ের চিতই পিঠা তৈরীর রেসিপি।
প্রয়োজনীয় উপকরন সমুহ
| খেজুরের গুড় | আধা কেজি |
|---|---|
| আতপ চালের গুঁড়া | পরিমাণমতো |
| গরুর খাঁটি দুধ | আধা লিটার |
| নারিকেল | একটি |
| এলাচ | ৩-৫ টা |
| দারচিনি | পরিমাণমতো |
| লবণ | পরিমাণমতো |
💖 এবার চিতই পিঠা তৈরীর প্রতিটি ধাপের বিবরণ এবং ফটোগ্রাফি নিচে দেওয়া হল💖
⬇️ ধাপ-০১:⬇️
Camera:iTel Vision one.
প্রথমে খেজুরের গুড় দিয়ে নারিকেলের শিরা বা রস তৈরি করার জন্য পরিমাণমতো খেজুরের গুড় এবং নারিকেলের ঝুরি এবং দুধ সংগ্রহ করে নিলাম।
⬇️ ধাপ-০২:↙️
খেজুরের গুড়ের মধ্যে পরিমাণমতো দুধ ঢেলে দিলাম।
Camera:iTel Vision one.
#<div class="phishy"><center>⬇️ ধাপ-৩:⬇️</center></div>
Camera:iTel Vision one.
খেজুর গুড়ের ভিতরে সামান্য পরিমাণে গুঁড়ো দুধ দিয়ে দিলাম।
♣️ ধাপ-০৪:♣️
পরিমাণমতো নারিকেলের ঝুরি ঢেলে দিলাম।সাথে পরিমাণ মত লবণ এবং এলাচ ও দারচিনি দিয়ে দিলাম।।
চামচ দিয়ে নেড়ে দিলাম।চুলার আগুন মাঝামাঝি পর্যায়ে রেখে আগুনের জ্বালা দেওয়া শুরু করলাম।
Camera:iTel Vision one.
একটুপরেই খেজুরের গুড় দিয়ে দুধের শিরা বা রস তৈরি হয়ে গেল।
👇 ধাপ-০৫:👇
পরিমাণমতো আতপ চাউলের গুড়া পানি দিয়ে ছেনে নিতে শুরুকরলাম।
পানি দিয়ে পাতলা করে নিলাম।
পরিমান মত লবন ও নারকেলের ঝুরি দিয়ে দিলাম।
Camera:iTel Vision one.
Location
(https://maps.app.goo.gl/RM6wYdqQ91PBGqa67)
চিতই পিঠা তৈরি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।
↘️ ধাপ-০৬:↙️
চুলার উপর বসানো মাটির তৈরি তাওয়ার ভিতরে এক চামচ করে আতপ চালের গুড়া দিয়ে দিলাম।
মাটির তৈরি সারা বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম।চুলার আগুন মাঝামাঝি পর্যায় রাখলাম।এখানে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেয়ার কারণ হলো পিঠাটি ভালোভাবে সিদ্ধ করা।
ঢাকনা সরিয়ে দিলাম।তৈরি হয়ে গেল চিতই পিঠা।খুন্তি দিয়ে পিঠাটি তুলে নিলাম।
Camera:iTel Vision one.
পিঠাটি খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি নারিকেলের শিরা বা রসের ভিতরে ঢেলে দিলাম।
⬇️ ছবি-৭:⬇️
Camera:iTel Vision one.
এভাবে তৈরি হয়ে গেল চিতই পিঠা।
⬇️ ছবি-৮:↙️
Camera:iTel Vision one.
Location
(https://maps.app.goo.gl/RM6wYdqQ91PBGqa67)
আপনার তৈরি খেজুর গুড়ের সিতাই পিঠা খুব সুন্দর ভাবে তৈরি করেছেন তাই দেখে খুবই ভালো লাগলো আর এইরকম ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করাই আপনাকে আমার পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্টটিকে আপনার সুন্দর মতামত দিয়েছেন।
খেজুরের গুড়ের শীতের পিঠা, দেখে তো আমার লোভ লেগে গেলো 😋
এখন যেহেতু শীতের সময় এটি হলো পারফেট শীতের পিঠা। শীতের সময়ে আমাদের দেশে পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম ওঠে সেই সাথে তৈরি করাও। আপনি অসাধারণ একটি জিনিস তৈরি করে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। এটি আসলে অনেক সুস্বাদু একটি পিঠা আমি গত বছর খেয়েছিলাম। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য, আপনার প্রত্যেকটি ধাপ মানসম্মত ছিল।
অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার পোস্টটি পড়ে খুব সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
চিতই পিঠা খেতে দারুন লাগে। আপনি খেজুর গুড়ের রস দিয়ে চিতই পিঠা তৈরি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ আপনি সঠিকভাবে দিয়েছেন। প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন। দেখে খুবই ভালো লাগলো। শীতকালে সময় পিঠা আমাদের খুবই কাছের একটি জিনিস এবং এটি খেতে অনেক ভালো লাগে এবং আসলেই আপনার উপস্থাপনা দারুন ছিলঅবশ্যই ভাইয়া চিতই পিঠা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া এই সময়টি পিঠা খাওয়ার জন্য একদম পারফেক্ট সময় । এই সময় কেন যেন অনেক ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এবং খেতে অনেক মজা হয়। আপনার আজকের খেজুরের রস দিয়ে চিতই পিঠা খুবই চমৎকার হয়েছে। দেখেই মনে হচ্ছে যে অনেক সুস্বাদু হয়েছে পিঠাটি।
অপু হেমন্ত ঋতু চলতেছে, আর নবান্ন উৎসব শুরু হয়ে গেছে আপনি নবান্ন উৎসব উদযাপন করতে পারেন। গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
খেজুরের গুড় দিয়ে চিতাই পিঠা এখনো খাওয়া হয়নি। আপনার তৈরি রসালো পিঠা দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে।খুব সুন্দর করে তৈরি করেছেন ভালো লাগলো।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্ট টি পড়ে খুবই সুন্দর মন্তব্য করেছেন।
একটি সুন্দর ও লোভনীয় পিঠা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাই। এই পিঠা দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও যেমন সুস্বাদু। তার সাথে আপনি গুড় ও যোগ দিয়েছেন। আপনার ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু ও মজাদার হয়েছে দেখে জিভে জল চলে আসলো।
ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে এত সুন্দর একটি পিঠার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া চিতই পিঠা খেতে অনেক সুস্বাদু লাগে বলেই আমাদের দেশের সকল মানুষের নিকট এত জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার পোস্টটি পড়ে আপনি গঠনমূলক এবং সুন্দর মন্তব্য করেছেন।
খেজুর গুড়ের চিতই পিঠা খেতে অনেক সুস্বাদু ।আমার অনেক ভালো লাগে সেটা তো ভালই লাগে কিন্তু খেজুর গুড় সে তো অসাধারণ করে তোলে পিঠাকে। আপনি অসম্ভব সুন্দর করে পিঠাটি বানানোর প্রক্রিয়া আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন এ জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু খুবই সুন্দর মন্তব্য করেছেন আপনি। বাড়িতে অবশ্যই চিতই পিঠা তৈরি করবেন খেজুরের গুড় দিয়ে।
শীত মানে পিঠাপুলি উৎসব। বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ এবং এ দেশের প্রতি শীতকালে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন রকমের পিঠা।
এবং যেহেতু এখন শীতকাল চলছে এসেছে শীতের আগমনে আপনি আগেই সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত গুলো মনে করে দিচ্ছেন।
বিশেষ করে শীতের সকালে শীতের পিঠা ছাড়া যেন চলে। চিতই পিঠা ছাড়া যেন শীতের সকাল চলে।
খেজুরের গুড় নারিকেল এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে চমৎকার ভাবে তৈরি করেছেন শীতের পিঠা
অনেক অনেক ধন্যবাদ
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনি আমার পোস্টটি পড়ে খুবই সুন্দর মতামত দিয়েছে। সত্যি ভাইয়া খেজুরের গুড় এবং নারিকেলের ঝুরি দিয়ে রস তৈরি করে চিতই পিঠা খেতে অসাধারণ সুন্দর লাগে।
শীতের মৌসুমে এই খেজুরের গুড়ের চিতই পিঠা প্রত্যেকেই খেয়ে থাকে। আমার এই পিঠা খুব একটা পছন্দ না। তারপরে বাড়িতে গেলে আম্মা এই পিঠা বানাবে এবং আমাকে খাওয়াবেই আপনার এই পিঠাটি খুবই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
চিতাই পিঠা আপনার অপছন্দ হওয়ার কারণ কেউ জানিনা তবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের এবং পশ্চিমবঙ্গের সব স্থানে একটি জনপ্রিয় পিঠা। সুন্দর মতামত দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এখন প্রায় শীতকাল আরে শীতকালে চিতই পিঠা খুবই সুস্বাদু লাগে সারারাত চিতই পিঠা দুধ এবং গুড় ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এই পিঠা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে আপনি অনেক সুন্দরভাবে চিতই পিঠার রেসিপি টা আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন আপনার পিঠা দেখে এখন আমার চিতই পিঠা খেতে খুব মন চাচ্ছে আপনি অনেক দারুন ভাবে ধাপে ধাপে অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন চিতই পিঠার এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সবার মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি আমার পোস্টটি পড়ে খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ভাইয়া আপনি নিজেও বাড়িতে চিতই পিঠা তৈরি করতে পারেন।