"সহজ পদ্ধতিতে শুঁটকি মাছের ভর্তা"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ-২৭ ই নভেম্বর, রবিবার, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমার পোস্টটি হল সহজ পদ্ধতিতে শুটকি মাছের ভর্তা তৈরির রেসিপি। আমাদের গ্রামাঞ্চলে অবশ্য শুঁটকি মাছ খুব একটা খায় না মানুষজন। কিন্তু বর্তমানে সব শহরগুলোতেই শুঁটকি মাছ ব্যাপক জনপ্রিয়। শুঁটকি মাছের যে কোন রেসিপি আমার কাছে খুবই সুন্দর লাগে। আসলে কেউ কেউ তো শুঁটকি মাছের গন্ধই সহ্য করতে পারেনা। আমি যেদিন এই শুঁটকি মাছের ভর্তা রান্না করি সেদিন আমার বড় ভাই তো আমাদের সাথে ভাতই খাইছিলো না। কারণ ও শুঁটকি মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। কিন্তু আমার কাছে এই শুটকি মাছের আলাদা রকম গন্ধই বেশি ভালো লাগে। তাহলে চলুন দেরি না করে আমার শুটকি মাছের ভর্তা তৈরি আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
রেসিপি তৈরির জন্য উপকরণ:
| ক্রমিক | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | শুঁটকি মাছ | ৫০ গ্রাম |
| ২ | পেঁয়াজ | ১০০ গ্রাম |
| ৩ | রসুন | ১০০ গ্রাম |
| ৪ | হলুদ | এক টেবিল চামচ |
| ৫ | ধনিয়া গুড়া | এক টেবিল চামচ |
| ৬ | মরিচের গুঁড়া | তিন টেবিল চামচ |
| ৭ | সরিষার তেল | পরিমাণ মতো |
| ৮ | লবণ | স্বাদমতো মতো |
| ৯ | জিরার গুড়া | এক টেবিল চামচ |
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে আমি চুলা জ্বালিয়ে পরিমাণ জল গরম করে নেব। জল পরিমাণ মতো গরম হয়ে গেলে আমি চুলা থেকে নামিয়ে ফেলবো। তারপর এই গরম জলে শুঁটকি মাছ গুলো দিয়ে দিব সুন্দরভাবে একটা একটা করে পরিষ্কার করে নেব। এই জলটা বেশি পরিমাণে গরম করা যাবে না, বলতে গেলে একদম টগবগে গরম করা যাবে না। কারন আমি প্রথমবারে টগবগে গরম জলে ভেতর শুঁটকি মাছ দিয়ে, আমার শুটকি মাছগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয় ধাপে আমি ব্যালেন্ডার এ করে শুঁটকি মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচের গুঁড়া, ধুনের গুড়া, জিরার গুড়া সবকিছু একবারে দিয়ে বেলেন্ডার এ খুব সুন্দরভাবে মিক্সড করে নিয়েছি।
এবার আমি চুলা জ্বালিয়ে তাতে কড়াই বসিয়ে দিয়ে একটু গরম হলে সরিষার তেল দিয়ে নিব। আমি সরিষার তেল কে বেশ ভালোভাবেই গরম করে নিয়েছি কারণ সরিষার তেল অল্প গরম হলে ফেনা উঠে ভরে যায়।
তেল সুন্দর মত গরম হয়ে গেলে ব্যালেন্ডারে মিক্স করা মিক্সার দিয়ে দেব।
এবার চুলায় পরিমাণ মতো আগুন দেখে খুন্তি দিয়ে করাইতে থাকা মিক্সার নাড়তে থাকবো। তারপর একটু গরম হয়ে গেলেই স্বাদমতো লবণ দিয়ে নেব।
এভাবে আস্তে আস্তে নাড়তে থাকলে মিক্সারটা আস্তে আস্তে ঘন হয়ে আসবে এবং সুন্দর কালার হয়ে যাবে। এভাবে যত সময় পর্যন্ত রেসিপি এই খাবারের উপযোগী না হয় যত সময় পর্যন্ত নাড়াচাড়া করতে হবে।
এই ধাপে আমার শুঁটকি ভর্তার রেসিপিটা খাবারের উপযুক্ত হয়ে গিয়েছে। এখন আমি চুলা বন্ধ করে দিয়ে রেসিপি নামিয়ে ফেলবো।
আমার শুটকি মাছের ভর্তা পরিবেশনের জন্য একটি বাটির ভেতর রাখা হয়েছে। শুটকি মাছের ভর্তা আমার কাছে খুবই প্রিয় লাগে।
উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরা খুব সহজে শুঁটকি মাছের ভর্তা তৈরি করতে পারি। আমার তৈরি শুঁটকি মাছের ভর্তা খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল।
পোস্টের বিবরন
| পোস্ট ধরন | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার শুঁটকি মাছের ভর্তা তৈরির ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

বাহ্ ভালো আইডিয়া তো, শুঁটকি মাছের ভর্তা আগে কখনো দেখিনি।বিলিন্ডারে মিহি করে শুঁটকি মাছের ভর্তা রেসিপি তৈরি করেছেন।গরম ভাতের সাথে খাওয়ার ইচ্ছা করছে দাদা।
গরম ভাতের সাথে শুঁটকি মাছের ভর্তা খাওয়ার মজাই আলাদা। আপনি চলে আসুন ভাই।
রেসিপি দেখার সাথে সাথে তো জিবে জল চলে এসে গেছে।এমন রেসিপি দেখলে কি কেউ না খেয়ে থাকতে পারে।শুটকি মাছের প্রতি আমার একটু লোভ বেশি।আমি কয়েক দিন পরপর শুটকি মাছ রান্না করে খেয়ে থাকি।আপনি যেভাবে শুটকি মাছের ভর্তা করেছেন নিশ্চয়ই অনেক মজা হবে খেতে।আমি রান্না করে খেয়েছি তবে এভাবে ভর্তা করে খাওয়া হয়নি কোনদিন।আপনার রেসিপি দেখে এভাবে একদিন ভর্তা করে খেতে হবে।
বাহ্ আপনারো শুঁটকি মাছের প্রতি লোভ জেনে ভালোই লাগলো। হ্যাঁ আপু একদিন এভাবে রান্না করে খাবেন দেখবেন খুব সুন্দর লাগবে।
শুটকি মাছের ভর্তা আমি তেমন একটা খাই না কিন্তু আপনার শুটকি মাছের ভর্তাটা দেখে মনে হচ্ছে অনেক সাধ হয়েছে। আপনি কিছুটা রান্নার মত করে শুটকি মাছের ভর্তা করেছেন ।দেখে খেতে ইচ্ছে করছে আমাদের এদিকে এমনভাবে শুটকি মাছের ভর্তা করে না।
হ্যাঁ আপু আমি রান্নার মত করে ভর্তা করেছি শুটকি মাছ। তবে এভাবে ভর্তা করলে অনেক সুস্বাদু হয় খাইতে। সুন্দর মতামত প্রধানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার কাছে মনে হয় যারা শুটকি মাছ খায় না তারা অনেক কিছুই মিস করে। কারন শুটকি মাছ খেতে এত মজার তারা যদি একবার জানতো তাহলে তারাও খাওয়া শিখত।শুটকি মাছের ভর্তা রেসিপি দেখে তো লোভ সামলানো দায়। আপনার রেসিপি দেখে খুব খেতে ইচ্ছা করছে। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।
আমার কাছেও একই রকম মনে হয় আপু। শুটকি মাছ তোমার কাছে খুবই প্রিয় লাগে। সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপু।
আহ জিভে জল চলে আসা রেসিপি। এই ভর্তা গরম ভাতের সাথে খেতে দারুণ লাগে। আমার খুব পছন্দ শুঁটকি ভর্তা। আপনি খুব সুন্দর ভাবে শুঁটকি ভর্তার রেসিপি শেয়ার করেছেন। আপনার এই ভর্তা দেখে খিদা লেগে গিয়েছে। ধন্যবাদ মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু গরম ভাতের সাথে শুটকি মাছ ভর্তা অনেক সুস্বাদু লাগে খাইতে। তাহলে মনে মনে খেয়ে নেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
শুটকি মাছ ভর্তা আমার খুবই ভালো লাগে। কিছুদিন আগেই আম্মু চেপা শুটকি ভর্তা বানিয়েছিলেন। অনেক পরিমানে। ভেবেছিলাম ওটার রেসিপি শেয়ার করবো। কিন্তু আগের থেকে ছবি তুলতে পারিনি তাই আর শেয়ার করা হয়নি। আপনার এই রেসিপিটি দেখে ভালোই লাগলো। শুভেচ্ছা রইলো ভাই।
আপনিও শুটকি মাছের ভর্তা খেতে অনেক ভালোবাসেন জেনে ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।