বছরের প্রথম বৃষ্টি দেখা ও বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকল কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্টঃ
বছরের প্রথম বৃষ্টি দেখা ও বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি
বরাবরের মতো আজ ও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আসলে এবার বৃষ্টি নেই বলেই চলে। এখন চলছে বৈশাখ মাস। আসলে বৈশাখ মাস ঝড় বৃষ্টি হবে স্বাভাবিক। প্রতি দিন আকাশে মেঘ হয় কিন্তু বৃষ্টির দেখা মেলে না। একটু বৃষ্টির জন্য সবাই অস্হির হয়ে ছিল। এদিকে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে, গাছপালা কোন রকম বেঁচে আছে,জনজীবনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সবাই মিলে শুধু বৃষ্টির অপেক্ষা করেছে, কখন হবে বৃষ্টি। প্রতিবার রোজার ভিতর বৃষ্টি হয় কিন্তু এবার রোজার ভিতরে ও বৃষ্টির দেখা মেলেনি।বৃষ্টি তো ছিলই না তারপর প্রচন্ড গরম ছিল। যাইহোক একটু বৃষ্টি সবারই জন্য অনেক দরকার ছিল। অবশেষে এলো সেই বৃষ্টি। তো চলুন শুরু করি আমার আজকের পোস্ট।
তিনটার দিক থেকে আকাশ মেঘলা। আকাশ মেঘলা দেখে বাইরের সব কাজ কর্ম শেষ করলাম। আসলে আমরা তো গ্রামে থাকি তাই মেঘ হলে তারাতাড়ি বুঝতে পারি। গ্রাম হলেও আমরা ঘর থেকে খুব কম বাইরে বের হয়, যাইহোক আমি মেঘ দেখে তারাতাড়ি পোস্ট করে নিলাম। আসলে আমার ফোনে এমবি দিয়ে ঘরের ভিতরে কাজ করা যায় না,তার জন্য আগে পোস্ট করলাম। তারপর আমি সব কিছু সেরে ঘরের জানলা দরজা বন্ধ করে দিলাম। দরজা বন্ধ করার সাথে সাথে শুরু হলো ঝড়। অনেক দিন পর বৃষ্টি তাই প্রথমে ঝড়ের সাথে শুধু ধুলা উড়ছে। মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে দেখি বৃষ্টি এলো কিনা না। কারণ ঝড় দেখলে ভয় লাগে আর বৃষ্টি দেখলে অনেক ভালো লাগে।ছোট বেলা এমন বৃষ্টি এলে কতো ভিজতাম। তারপর কিছু ক্ষণের মধ্যে শুরু হলো বৃষ্টি। প্রথমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও সাথে ঝড় হাওয়া বইছে।
এভাবে কিছু সময় ধরে বৃষ্টি দেখতে থাকলাম ঘরের ভিতর থেকে। আস্তে আস্তে বৃষ্টি আরো বেড়ে গেল।মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, দেখতে অনেক ভালো লেগেছে। যেহেতু বিকেল সাড়ে চারটা বাজে,তাই বাইরে অনেক লোকজন ছিল। অনেক দিন পরে এমন ঝড় এসেছে, তাই গাছ থেকে শুকনো ডালপালা ভেঙে পড়ছে। অনেকেই সেই বৃষ্টির মধ্যে গাছের ডাল ও আম টুকাচ্ছে।এদিকে আমি আবার আম খায়না তবে আমার বাচ্চারা অনেক পছন্দ করে।আম যায় হোক আমার বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে। তাই বাচ্চাদের বললাম তোমরা ঘরের ভিতরে থাকবে আমি বাইরে থেকে আম নিয়ে আসবো।আমি বাইরে গেলে দরজা বন্ধ করে দেবে,বাচ্চারা তাই করলো।আসলে অনেক দিন পরে এভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে বেশ ভালো লাগছে। তবে ভয় লাগছিল বেশি ভিজলে যদি জ্বর আসে। বিশেষ করে অনেক দিন পরে এভাবে বৃষ্টিতে ভিজলাম। আসলে বৃষ্টির ভিতরে তো আর ফোন নেওয়া যায় না, তাহলে কিছু ছবি তোলা যেত। আমি কিছু সময় ধরে ভেজার পর আমার মেয়ে দুটি নেমে গেল বৃষ্টির মধ্যে।আমি আবার বছর ধরে বৃষ্টির পানি ধরে রাখি, তাই প্রথমের কিছু পানি ফেলে দিয়ে, তারপর কিছু পানি ধরে রাখলাম। আসলে আমরা বৃষ্টির পানি দিয়ে,বিশেষ করে আমি ডাল ও চিতই পিঠা বানাই। বৃষ্টির পানি দিয়ে রান্না করলে অনেক ভালো লাগে, আর ডালের কালারটা সুন্দর আসে। । আমাদের উঠানে অনেক আম গাছ রয়েছে। আম গাছে অনেক আম ধরেছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় আম গুলো ঝড়ে পড়ছিল। আম টুকানো অজুহাত মাত্র, আমি হলো বৃষ্টিতে ভিজবো।সত্যি এমন বৃষ্টিতে ভেজা এক অন্য রকম অনুভূতি। এই অনুভূতি কাউকে বলে বুঝানো মুষকিল।
আসলে আম না খেলে কি হবে, তবে আম টুকাতে অনেক ভালো লাগে। আমার বাচ্চারা যেহেতু আমার সাথে আম টুকাতে লাগলো। আমি না করিনি, সত্যি আমি ও ছোটবেলা এভাবে অনেক বৃষ্টিতে ভিজেছি তাই ওদের না করিনি। সত্যি শুধু ভয় করে যাতে ঠান্ডা, জ্বর লেগে না যায়।যাইহোক অবশেষে আমি ও দুই মেয়ে মিলে অনেক আম টুকাই এনেছি।কিছু আমের আচার ও বানিয়েছি।বেশ ভালো লেগেছে। এরকম বৃষ্টিতে ভেজে আম টুকানো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।আশাকরি আপনাদের কাছে ও ভালো লাগবে।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | LGK30 |
| লোকেসন | ফরিদপুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
আপু আপনার বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি পড়ে খুব ভাল লাগলো। সত্যি কথা বলতে বৃষ্টিতে ভিজতে এখন ভয় লাগে। বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে অনেক মানুষ সেদিন মারা গেছে।আপনার বৃষ্টিতে ভিজে আম কুড়ানো অনুভূতি পড়ে আমার খুব ভাল লেগেছে।বৃষ্টি দেখলে আসলে ই ভিজতে ইচ্ছে করে।ধন্যবাদ আপু শেয়ার করার জন্য।
আসলে আপু বজ্রপাত হয় জানি উঠানের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আম টুকাতে অনেক ভালো লেগেছিল, তাই ভিজেছিলাম। ধন্যবাদ আপু।
গত একমাস যাবত যেভাবে গরম পড়তেছে জনজীবন খুবই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অবশেষে বৃষ্টির দেখা মিলেছে আসলে বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি ভেজার খুব অন্যরকম। ঝড় তুফানে আম পড়েছে তা কুড়িয়ে নিয়েছেন খুবই অন্যরকম আনন্দ। ধন্যবাদ আপনাকে বৃষ্টিতে ভেজার এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
জি ভাইয়া গরমে জনজীবন অতিষ্ঠিত ছিল,, এখন বৃষ্টির দেখা মিলল,ধন্যবাদ ভাইয়া।
যদিও অনেক বছর বৃষ্টিতে ভিজা হয় না। তবে আপনার অনুভূতি জেনে সত্যি ভালো লাগলো। কাঁচা আমগুলো দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে আপু। আর এত সুন্দর ভাবে আচার বানিয়ে রেখেছেন মন চাচ্ছে আপনার বাসায় গিয়ে খেয়ে আসি। দারুন একটি পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।
আপু সময় করে চলে আসুন, আরো অনেক ধরনের আচার বানিয়ে দেব।ধন্যবাদ আপনাকে।
ওয়াও অসাধারন একটি পোস্ট আপনার আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন বছরের প্রথম বৃষ্টি দেখা ও বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি। শৈশবে বৃষ্টিতে অনেক ভিজেছি এখনো বৃষ্টি হলে ভিজতে ইচ্ছে হয় এবং ভিজে থাকি। এবং বন্ধুদের সাথে ফিল্ডে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা করতে যায়। আপনার আমের আচার গুলো দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য।
আপনাকে ও অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
কিছুদিন আগে আমাদের এখানে হালকা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু আমার বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি। আমি ছোটবেলা থেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বেশি ভালোবাসি। আজকে আপনাদের এই সুন্দর অনুভূতি দেখে আমার খুব লোভ লাগলো। তবে চেষ্টা করব কিছুদিন পরে সুযোগ পেলে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য।
আসলে ভাইয়া বৃষ্টি ভিজতে বেশ ভালো লাগে তবে জ্বরের জন্য খারাপ লাগে, ধন্যবাদ আপনাকে।