হঠাৎ বৃষ্টি যখন টেনশনে ফেলে দেয়।।
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই
আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। আজকে আমি একটি টেনশন মূলক পোষ্ট শেয়ার করবো। টাইটেল দেখে এতক্ষনে বুঝে গেছেন কোন বিষয়টি আমাকে টেনশনে ফেলে দিয়েছিলো। ঠিক ধরেছেন বৃষ্টিকে নিয়েই কিছু কথা লিখবো আকাশ থেকে যে বৃষ্টি পড়ে সে বৃষ্টির কথা বলতেছি। আপনারা আবার অন্য কিছু ভাববেন না যেন,হে হে হে।
কয়েক দিন যাবৎ প্রচন্ড গরমে জনজীবন অস্তির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের যে বিভাগেই ফোনে কথা বলি সেখানেই গরম। কোথাও বৃষ্টি নেই। মাঝে মাঝে যে বৃুষ্টির ফোটা পড়ে তাতে গাছের পাতাও ভিজে না, মাটি তো দুরের কথা। নিউজ পেপারে দেখলাম বাংলাদেশের পশ্চিম বঙ্গের দিকে পানির অভাবে সোনালি আশঁ পাটগাছ ভিজাতে পারছে না। সেলো মেশিনের সাহার্যে নিচ থেকে পানি তুলে তারপর কোনরকম পাট গাছ ভিজাচ্ছে।
আমাদের সম্মানিত এডমিন সুমন ভাই এই বৃষ্টি নিয়ে দারুন একটি ব্লগ শেয়ার করেছেন। তিনি বৃষ্টি নিয়ে ছোট সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনির ব্লগটা পড়ে আমার কাছে ভীষন ভাল লেগেছে। আগে দেখতাম টানা সাত দিন আটদিন বৃষ্টি হতো। আর এখন টানা সাত থেকে আট মিনিটও বৃষ্টি হয় না। আগে বৃষ্টির কারনে ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। বিরক্ত হয়ে যেতাম। আর এখন বৃষ্টির অভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। সারা বাংলাদেশের মানুষ বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে। বৃষ্টির অভাবে ফসল ফলাতে পারছে না। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য বৃষ্টি খুবই জরুরী।
গত কাল সকাল আটটার সময় ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশে প্রচন্ড রোদ। বৃষ্টি আসার কোন সম্ভাবনাই নেই। তাই বাসায় ছোট একটি তোষক ছিল সেটা ছাদে রোদে দিয়ে অফিসে গেলাম। গ্রাম থেকে ছোট ভাই এসেছে। সে এখানে কয়েকটা কাজ শিখবে। তারপর যে কাজে ভিসা আসবে সে কাজে বিদেশ যাবে। ছোট ভাই সকাল বেলা নাস্তা করে দোকানে চলে গেছে। আমিও তোষক ছাদের মধ্যে রোদে দিয়ে অফিসে চলে গেলাম।
এগারোটার দিকে আকাশ টা কেমন যেন কালো হয়ে এলো। হঠাৎ করে রোদ যেন ডিউটি ফেলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে গেল বউয়ের সাথে দেখা করার জন্য। আমার ডেস্ক থেকে আবার বাহিরের কোন দৃ্শ্য দেখা যায় না। চার দিকে পর্দা দেওয়া। সারা দিনরাত অফিসে লাইট জ্বলে। বাহিরে কাল বৈশাখী জড় আসলেও নিজে খবর পায় না। জানালার পাশে একজন কলিগ বসে। সে আবার সব আপডেট দেয়। কখন বৃষ্টি এলো কখন গেল সে সব কিছু দেখতে পায়। সে হঠাৎ বললো আজকে মনে হয় বৃষ্টি আসবেই আসবে। একথা শুনে আমি তারাতারি জানালার পাশে গেলাম। গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি বৃষ্টি হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। শুধু সৃষ্টিকর্তার অনুমতির অপেক্ষার আছে।
তারতারি করে পাশের রুমের মামুন ভাইকে কল দিলাম। আমি আবার যাওয়ার সময় তাকে বলে এসেছিলাম যে ভাইয়া ছাদের উপরে একটি তোষক আছে,বৃষ্টি আসলে একটু সেইফ করে আপনার ডাইনিং রুমের এক পাশে রেখে দিয়েন। সে বললো আচ্ছা ঠিক আছে। তিনি আবার অসুস্থতার কারনে দুই দিন যাবৎ ছুটিতে বাসায় রেস্ট নিচ্ছেন। তিনির মোবাইলে কল দিলে রিসিপ করলো তিনির চার বছরের বাচ্ছা ছেলে। জিঙ্গেস করলাম তোমার আব্বু কোথায়। সে বলে দোকানে গেছে। এখন কেমন লাগবে। এদিকে বৃষ্টি প্রায় ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে। পাচঁ মিনিট পরে আবার কল দিলাম। তখনও দোকাল থেকে আসে নাই। চিন্তা করলাম তিনির আশায় বসে থাকলে তিশ কেজি তোষকের ওজন বেড়ে ৩০০ কেজি হয়ে যাবে। বাদ্য হয়ে ছোট ভাইকে ফোন দিলাম। সে বলে আমি তো দোকানে। বললাম তারাতারি বাসায় যা ভাই। ছাদের উপরে তোর তোষক রোদে দিছিলাম।
ছোট ভাই কাজ ফেলে বাসার দিকে দৌড় দিলো। আর ঐদিকে পাশের রুমের মামুন ভাই আকাশের অবস্থা দেখে সেও দোকান থেকে বাসার দিকে দৌড় দিলো। ছোট ভাই আর মামুন ভাই দুইজনের মুখোমুখি হয় বাসার গেইটে। ছোট ভাই ছেলে মানুষ সে দৌড়ে ছাদে গেলো। তখন বৃষ্টি ওয়েলকাম বলে ফেলছে। প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছ। ছোট ভাই ছাদে গিয়ে তোষক খুজে পায় না। ধীরে ধীরে ভাইয়া ছাদে গেলো। কিন্তু ছাদে তো তোষক নেই। চার পাশ খুজতে লাগলো। কোথাও তোষক খুজে পাচ্ছে না। তারপর আমাকে আবার কল দিলো। আমি বললাম যেহেতো ছাদে তোষক নেয় সেহেতো কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি তোষকটাকে বৃষ্টি থেকে বাচিঁয়ে কোথাও রেখেছে। চিন্তা করিস না। আমি এসে খুঁজে বের করবো।
ছোট ভাই আর মামুন ভাই যার যার রুমে চলে গেল। ছোট ভাই বৃষ্টি না কমলে দোকানে যেতে পারবে না। মামুন ভাই বাসায় প্রবেশ করে দেখে ডাইনিং রুমে একটি তোষক। সে তার বউকে জিঙ্গেস করে এই তোষক এখানে আসলো কিভাবে,এটা তো আমরা ছাদে খুজতেছি। ভাবি বললো আমি আকাশের অবস্থা দেখে ছাদে গেছিলাম কাপড় আনতে। আমাদের ছেলে বললো এই তোষকটা না কি তার পাশের রুমের আঙ্কেলের। তাই ছাদে থাকলে তো বৃষ্টিতে ভিজে যাবে তাই রুমের ভিতরে এনে রাখলাম। মামুন ভাই আমাকে আবার ফোন দিয়ে চিন্তা মুক্ত করলো যে তোষক রুমেই আছে। বৃষ্টিতে ভিজে নাই। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বৃষ্টির ফটোগ্রাফি করতে লাগলাম।
বন্ধুরা এই হলো আমার টেনশনের মূল কাহিনী। আশা করি গল্পটা আপনাদের কাছে অনেক ভাল লাগবে। বৃষ্টিতো এসেছে কিন্তুু অনেক টেনশন দিয়ে এসেছে। যায়হোক বাচ্ছাটার কারনে তোষকটা গোসল থেকে বেচেঁ গেল। চিন্তা করতেছি বাচ্ছাটে আইসক্রিম খাওয়ানো দরকার। আপনারা কি বলেন। কি খাওয়ানো যায় কমেন্ট করে জানাবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৭ |
| শিরোনাম | হঠাৎ বৃষ্টি যখন টেনশনে ফেলে দেয়।। |
| স্থান | নারায়নগঞ্জ, ঢাকা। |
| তারিখ | ০৩-০৮-২০২৩ |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @joniprins |
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
আমাদের এলাকাতেও ঠিক একই অবস্থা, পুকুরে পানি দিয়ে সেখানে পাট রাখা হচ্ছে। যাইহোক মজার ঘটনা হচ্ছে ভাবি তোষক তুলে রাখছিল তাহলে তাকে তো মিষ্টি খাওয়ানো দরকার হা হা হা।
জী ভাইয়া ভাবিকে মিষ্টিই খাওয়ানো দরকার। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে বৃষ্টি আসলেও সমস্যা আবার বৃষ্টি না হলেও সমস্যা। কিন্তু তোষক বৃষ্টিতে ভেজে নি এটা জেনে খুবই ভালো লেগেছে। আর আপনার ছোট ভাই আর মামুন ভাই এত কষ্ট করে দোকান থেকে দৌঁড়ে এসে তো কোন লাভই হলো না। যাইহোক আপনি তাহলে টেনশন মুক্ত হয়েছিলেন মামুন ভাইয়ের বউয়ের জন্য। বৃষ্টির কয়েকটি ফটোগ্রাফি করেছিলেন এটা দেখে ভালো লেগেছে। আশা করছি বৃষ্টিটা বেশ ভালোই উপভোগ করেছিলেন।
জী ভাইয়া আগে যদি জানতাম তাহলে তো তাদেরকে এত কষ্ট দিতাম না। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে যতই রোদ হোক না কেন বৃষ্টি হওয়ার সময় বৃষ্টি তো অবশ্যই হবে। যখন বৃষ্টি হয় তখন তো অনেক বেশি ভালো লাগে এমনিতে। তবে আপনি তোষক এর জন্য অনেক বেশি টেনশনে পড়ে গিয়েছিলেন অফিসে যাওয়ার পর। দুজনেই অনেক কষ্ট করে দোকান থেকে দৌড়ে এসেছিল, কিন্তু ছাদের উপরে গিয়ে দেখে তোষক নেই। যদি ওই ভাবিটা তোষক না নিয়ে যেত তাহলে তো ওনারা আসতে আসতে তোষক ভিজে যেত। চিন্তামুক্ত হতে পেরেছিলেন তিনি নিয়ে যাওয়ার কারণে।
জী আপু ভাবি না থাকলে তোষকের ওজন ৩০০+ কেজি হয়ে যেত। ধন্যবাদ আপু।