বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলো আমার গ্রাম।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ মঙ্গলবার। ১৬ ই মে, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
গত সপ্তাহ থেকে শুনতেছি ঘূর্ণিঝড় মোখা আঘাত হানবে এবং তারপরে বৃষ্টি শুরু হবে। বৃষ্টির জন্য সেই রমজান মাস থেকে অপেক্ষা করতেছি। কিন্তু শুধুমাত্র শুনেই যাচ্ছি যে, বৃষ্টি হবে, বৃষ্টি আসতেছে কিন্তু বৃষ্টির দেখা পাচ্ছি না। সেই কবে যে বৃষ্টির শীতল হাওয়া শরীরে লেগেছিল সেটা আর তেমন মনেই নেই। যাহোক, বৃষ্টির প্রত্যাশা করে প্রতিটি দিন কাটাতে লাগলাম, বৃষ্টির প্রত্যাশা করে রাত্রে ঘুমোতে যেতাম আবার বৃষ্টির প্রত্যাশা করে সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠতাম।
বৃষ্টির আশায় আশায় কেটে গেলো বেশ কয়েকটা দিন, বেশ কয়েকটা সপ্তাহ, বেশ কয়েকটা মাস। কিন্তু, হৃদয় শীতল করা সেই বৃষ্টির ধারায় ভিজলো না আমার গ্রাম। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার ঘূর্ণিঝড় মোখা মোটামুটি দেখা দিয়ে চলে গেল। তারপরও বৃষ্টি হলো না। আবারো বৃষ্টির আশায় আশায় রবিবার চলে গেল, সোমবার চলে গেল, আজ মঙ্গলবার দিনটি শুরু হলো সোনালী রৌদ্রকর উজ্জ্বল আবহাওয়া দিয়ে। সত্যি বলতে আজকের সকালের আবহাওয়াটা দেখে বৃষ্টির আশা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করে দিয়েছিলাম। গত রবিবার থেকে দিনের তাপমাত্রা টা একটু কম ছিল। কারণ রোদ থাকলেও বাতাসের পরিমাণটা বেশ সন্তোষজনক ছিল। গতকাল বিকেল বেলায় আকাশে কালো মেঘের ঘনঘাটা সৃষ্টি হলেও কোথায় যেন মেঘগুলো উড়ে গেল।
আজ সকাল বেলায় রৌদ্রকর উজ্জ্বল আবহাওয়ার সাথে ঠান্ডা বাতাস থাকলেও দুপুরবেলা থেকে শুরু হয়েছিল ঘুমটে গরম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে ঘুমটে গরমের মাত্রাটা আরো বৃদ্ধি পাই এবং আকাশে মেঘের উপস্থিতি দেখা যায়। আজকের বিকেলের মেঘ অন্যান্য দিনের মতো ছিল না মোটেও । জলভরা ঘন কালো মেঘে পুরো দিগন্তরেখা ঢেকে যেতে লাগলো, চরাচর ছেয়ে গিয়েছে সন্ধ্যার মতো আঁধারে । আমার মন বারবার বলতে লাগলো এবার বৃষ্টি আসবেই । বছরের প্রথম বৃষ্টিতে শরীর শীতল হয়ে উঠবে ভাবতেই এক নিমেষেই মনটা নেচে উঠলো একরাশ খুশিতে । আমি বৃষ্টি ভালোবাসি। খুব বেশিই ভালোবাসি। বৃষ্টি আমার মন ভালো করে দেয়, বৃষ্টি আমাকে আনমনা করে তোলে, বৃষ্টি আমার হৃদয়কে শীতল করে তোলে, বৃষ্টি আমাকে মধুর কল্পনার জগতে নিয়ে যায় । আমার ঘরের জানালা দিয়ে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা পড়া পড়তে দেখতে দেখতে আমার অতীত স্মৃতির ভুবনে ভেসে যাই মনের অজান্তেই।
মনে পড়ে ছোটবেলার বর্ষার স্মৃতি। বৃষ্টির দিনে আমাদের পাড়ার সমবয়সী ছেলেদের সাথে বৃষ্টি ভেজা কাদা মাটিতে কত যে ফুটবল খেলেছি তার কোন হিসেব নেই। শুধু তাই নয়, বর্ষার সময় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সমবয়সী বন্ধুদের একে অপরের গায়ে কত যে কাদা ছোড়াছুড়ি করা হতো তার কোন হিসেব নেই। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে খেলা করার মুহূর্তেই বর্ষার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত।
আজকের বিকেল বেলায় পুরোনো কথা খুব বেশি করে মনে পড়তে লাগলো আমার । এসব কথা ভাবতে ভাবতে একটু আনমনা হয়ে পড়েছিলাম। তারপর বাইরের দিকে তাকাতে দেখতে পেলাম, বাতাসের সাথে টিপ টিপ বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টি ক্রমেই জোরে জোরে পড়তে লাগলো। গত কয়েক মাসের তীব্র রোদে শুকনো মাটির উপরে বৃষ্টির ফোটা পড়তেই মাটি থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা গরম বের হতে লাগলো। বৃষ্টি পড়া সত্ত্বেও তখনো আবহাওয়াটা বেশ গরম ছিল। তারপর আস্তে আস্তে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলো এবং বৃষ্টির সাথে সাথে বাতাসের মাত্রাটাও বাড়তে থাকলো।
একটু পরে আমার ঘরের খোলা জানালা দিয়ে বাইরের দিকে এক পলক তাকাতেই ঠান্ডা হাওয়া এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার মুখে। । আহঃ কি শীতল স্পর্শ! মনটা এক নিমেষেই সজীবতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো। জালানার পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম।ক্রমশঃ বাতাসের বেগ বৃদ্ধি পেতে লাগলো। সেই সাথে আরো আঁধার হচ্ছে চরাচর। সন্ধ্যা না হতেই মনে হচ্ছেছিল চারিদিকে সন্ধ্যা নেমে আসলো। হঠাৎ ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ার মাত্রাটা আরো বৃদ্ধি পেয়ে গেল।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভেজার নেশা উঠে গেল আমার। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম বৃষ্টিতে ভেজা শুরু করব। ঘর থেকে যখন বাহিরে বের হবো তখন আমার স্ত্রী পিছন থেকে বারবার নিষেধ করতে লাগলো। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছি বৃষ্টিতে ভিজবো, তখন বৃষ্টিতে ভিজবোই। আমার স্ত্রীর কথা যখন শুনলাম না, তখন সে একটু বুদ্ধি করে আমার বাবা-মাকে দিয়ে নিষেধ করানো শুরু করলো। মায়ের সাথে সাথে বাবা বারবার বলতে লাগলো, এখন বজ্রপাতের সময়, বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না, ঘরে ওঠো। দেখলাম স্ত্রী কথা নাইবা শুনলাম, কিন্তু বাবা-মায়ের নিষেধ তো আর অমান্য করা যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে ঘরে বসেই বছরের প্রথম বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগলাম।
সময়ের সাথে সাথে বৃষ্টি পড়ার মাত্রাটা আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গেল। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়া থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে লাগলো। বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ছিল খুবই বড় বড়। আর সেই সাথে বইতে লাগলো তুমুল ঝোড়ো হাওয়া। অসম্ভব ঠান্ডা ছিল বৃষ্টির ফোঁটাগুলো। হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ধরতে লাগলাম, বৃষ্টির ফোঁটা গুলো হাতে ধরে মেখে নিতে লাগলাম সারা গায়ে, মুখে, চোখে, ঠোঁটে, সর্বত্র শরীরে। আহা ! সে কি এক অপূর্ব অনুভূতি। আসলে বৃষ্টির মধ্যে যে প্রশান্তি রয়েছে সেটা নিজে অনুভব না করলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমার টিনের ঘরের চালের উপর বৃষ্টির ফোঁটা গুলো যতই জোরে জোরে পড়তে লাগলো, আমার মন ততই নেচে উঠতে লাগলো। এ যেন এক মধুর ধ্বনির প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতে লাগলো। বৃষ্টির মধ্যে যে এতো সুখ, এতো প্রশান্তি, এতো আনন্দ আছে পৃথিবীতে অন্য কোন কিছুতে আর নেই।
আজকের বিকেলের বৃষ্টিতে ভিজলো আমার গ্রাম, ভিজলো আমার বাড়ি , ভিজলো আমার সবুজ গাছপালা, ভিজলো আমার প্রকৃতি,ভিজলো আমার হৃদয়। কী যে এক অপূর্ব প্রশান্তিতে আমার মনটা ছেয়ে গেলো সেটা আমি বলে বোঝাতে পারবো না।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Twitter link
বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি অনেক সুন্দর ভাবে লিখলেন আসলেই বৃষ্টিকে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুবই কম পাওয়া যায়। আমার কাছে বর্ষাকাল অনেক প্রিয় একটি ঋতু। শেষমেষ বৃষ্টিতে আপনার গ্রাম ভিজলো আপনার শরীর শীতল হল আপনার ছোটকালের সে স্মৃতিগুলো মনে পড়লো অনেক ভালো লেগেছে পড়ে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে অনুভূতি গুলো আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য।
গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আমরা সেই কবে থেকে বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে রয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির দেখা আর পাচ্ছি না।অবশেষে সব অপেক্ষা শেষ করে আজ সন্ধ্যায় একটু বৃষ্টি হয়ে সব ঠান্ডা করে দিয়ে গিয়েছে। এই বৃষ্টিতে সত্যি কত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। বৃষ্টি নিয়ে আপনার অনুভূতি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।
খুবই সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।