অনু-কবিতা :- ২৪
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আপনারা সবাই সুস্থ আছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা এবং আপনাদের আশীর্বাদে আমিও সুস্থ আছি। আজ আমি আমার লেখা আর একটি অনু-কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আসলে একদিকে যেমন বৃষ্টি আমাদের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসে। অন্যদিকে বেশি বৃষ্টি আবার একটু কষ্ট নিয়ে আসে। কটা দিন বৃষ্টির জ্বালায় বাইরে ঠিকঠাক কাজও করতে যেতে পারছিনা। যখনই রেডি হয়ে বাইরে বেরোনোর উদ্দেশ্যে বাইকটা বের করি ঠিক তখনই বৃষ্টি সাহেব এসে আমায় দেখা দেয়। আসলে বড় মুশকিল। আর এদিকে তো রেইনকোট পড়ে বেশিক্ষণ থাকাও যায় না। কারণ বৃষ্টি ছাড়া রেইনকোট পড়লে বৃষ্টির জলে আর জামা ভেজার কোন প্রয়োজন হয় না। অটোমেটিক ঘামের জলে জামা কাপড় ভিজে যায়।
কিন্তু এই বৃষ্টি সবার কাছে একটা প্রিয় কাল। কারো কারো কাছে বৃষ্টি আশীর্বাদ নিয়ে আসে না। রাস্তার পাশে যেসব লোক ঘুমায় তাদের জন্য এই বর্ষাকাল খুবই কষ্টের। আসলে তীব্র গরমের পর আমরা সবাই অপেক্ষা করি বৃষ্টির জন্য। কখন একটু বৃষ্টি এসে আবহাওয়াটা ঠান্ডা করে দিয়ে যাবে এই অপেক্ষায় আমরা প্রহর গুনতে থাকি।
বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে থেকে বাইরের দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। রিমঝিম করে বৃষ্টির আওয়াজ সত্যিই মন কেড়ে নেয়। আসলে বৃষ্টির দিনে প্রিয়জনের কথা একটু বেশিই মনে পড়ে। হয়তো এই বৃষ্টির দিনে প্রিয়জনের হাতে এক কাপ চা খেতে খেতে তার সাথে গল্প করার ভিতরে আলাদা এক অনুভূতি রয়েছে।
যদিও সবার প্রিয়জন রয়েছে। কিন্তু প্রিয়জন কাছে হয়তো বা সবাই নেই। বৃষ্টির জলে ভিজতে কার না ভালো লাগে। বৃষ্টির জলে ভিজে ভিজে হাঁটতে সবারই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে প্রিয়জনটির হাতটি ধরে হাঁটার অনুভূতি আলাদাই। দুজনে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে গল্প করার ভিতরেও আলাদা একটা অনুভূতি রয়েছে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে বৃষ্টি তেমন একটা নেই। কোথাও কোথাও সামান্য একটু বৃষ্টি হলেও বেশিরভাগ জায়গায় বৃষ্টির দেখা নেই। আর বৃষ্টির সময় ভ্যাপসা একটা গরম সবার খুব খারাপ লাগে। বৃষ্টির দিনে বিকেল বেলায় আকাশ এক নতুন রূপ ধারণ করে। আকাশের এই রূপ সত্যিই দেখার মত।
এছাড়াও বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে সবার খুব ইচ্ছে করে। যদিও বৃষ্টির দিনে এক এক জনের এক এক ধরনের খাবার পছন্দ হয়। কিন্তু আমার মনে হয় বেশিরভাগ লোকের এই খিচুড়ি খেতে অনেক বেশি ইচ্ছে করে। বৃষ্টির দিনে প্রকৃতি এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়। চারিদিকে সবুজের সমারহ দেখা যায়। তাইতো এই বৃষ্টির দিনে প্রিয়জনকে একটু বেশি মনে পড়ে।
✠ ০১ ✠
মেঘলা দিনে একলা,
ধরে ঘরের জানালা।
বাইরের প্রকৃতি দেখতে দেখতে,
কেটে যায় আমার সারাবেলা।
এই বর্ষার মাঝে,
তোমায় কাছে পেতে চাই।
আসবে কি আমার কাছে,
সাজাবো ঘর এই পৃথিবীর মাঝে।
টাপুর টুপুর বৃষ্টিতে,
ভিজবো আমরা দুজনে।
হাতে হাত রেখে,
মিশে যাব আজ প্রকৃতির মাঝে।
✠ ০২ ✠
বৃষ্টি শেষে ওই আকাশে,
দেখা যায় সোনালী রোদ।
রোদের আলোয় সারা পৃথিবী,
সাজে নতুন এক সাজ।
এমন সোনালী পরিবেশে,
রাখবো তোমায় বক্ষ মাঝে।
তোমাকে আমি দেখাতে চাই,
পৃথিবীর এই নতুন সাজে।
টাপুর টুপুর বৃষ্টির শব্দ,
কেড়ে নেয় আমার মন।
হীরের মতো বৃষ্টির ফোঁটা,
চমকাচ্ছে সারাক্ষণ।
আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে আজকের পোস্টটি । ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না।
আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
বৃষ্টি নিয়ে খুব সুন্দর দুটি অনুকবিতা শেয়ার করলেন দাদা। খুব ভালো লেগেছে। আপনি ভালো ই কবিতা লিখেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর সুন্দর কবিতা আমাদের উপহার দেয়ার জন্য। অনেক অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।
কবিতা আমার অনেক পছন্দের একটি বিষয়। আমি মাঝে মাঝে কবিতা লিখি আবার মাঝে মাঝে কবিতা পড়ি।আপনার আজকের অনু কবিতাগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সবগুলো লাইন খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ধন্যবাদ।
অণু কবিতাগুলো পড়তে ভীষণ ভালো লাগে।আপনার লেখা কবিতা গুলো বেশ ভালো হয়।আজকের উপস্থাপনাও চমৎকার ছিল।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া দুইটি কবিতায় মনের মধ্যে আচঁড় দিয়েছে। এত সুন্দর শব্দ চয়ন আর মিল খুবই কমই পাওয়া যায়। প্রথম কবিতায় মূল ভালবাসাটা ফুটে উঠেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
অসাধারণ কবিতা লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইজান। যেখানে বৃষ্টি থেমে গেলে আবার সূর্যমামা এসে আমাদের চারিপাশ আলোয় আলোকিত করে তোলে ঠিক এমনই একটি মুহূর্তে আপনজনকে বুকের মাঝে রাখতেও স্বাদ জাগে। অসাধারণ শব্দ ব্যবহার করে আমাদের মাঝে কবিতা লিখে শেয়ার করেছেন। প্রত্যেকটা কবিতা লাইন গুলো ছিল অসাধারণ।