বাবা। কবিতা নং :- ২১
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আপনারা সবাই সুস্থ আছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা এবং আপনাদের আশীর্বাদে আমিও সুস্থ আছি। আজ আমি আমার লেখা একটা কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
সোর্স
বটবৃক্ষ আমাদের যেভাবে তার শীতল ছায়া দিয়ে আগলে রাখে তেমনি আমাদের জীবনে বাবাও আমাদের বিভিন্ন সমস্যা থেকে আগলে রাখে। আসলে বাবা নামের দুটো অক্ষর হলেও তার বিশালতা অপরিসীম। একজন বাবা তার সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবকিছু করতে এক পায়ে রাজি আছেন। আসলে বাবার গুরুত্ব আমাদের জীবনে অপরিসীম।
আমাদের জন্মের আগে থেকেই এই বাবাই আমাদের পৃথিবীতে আসার এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখেন। একজন বাবাই পারেন যে পৃথিবীতে আসেনি এখনো তার জন্য সবকিছুই করতে। এই বাবাই আমাদের দু মুঠো অন্নের জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন। শত আঘাত পেয়েও বাবা কখনো আমাদের কষ্টে রাখেন না।
আসলে যতদিন আমরা নিজেরা বাবা না হবো ততদিন হয়তোবা বাবা কি জিনিস আমরা তা ঠিক ঠাক উপলব্ধি করতে পারবোনা। একটা বাবা তার সংসার কে সুষ্ঠুভাবে চালনা করার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করেন। এ পৃথিবীতে বাবাই আমাদের সমস্ত সংগ্রামের সাথে টিকে থাকতে শেখায়।
আসলে ছোটবেলা থেকেই বাবা আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের থেকে আগলে রাখে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে তার যতই কষ্ট হোক না কেন সে একবারও পিছু পা হয় না। তার যতই কষ্ট হোক না কেন সে আমাদের চাওয়া কখনোই অপূরণ রাখে না। যতই ঝড় যতই খারাপ হোক না কেন সে তার সংসারের মানুষদের একটু ভালো রাখার জন্য কখনোই কাছ থেকে পিছপা হন না।
আসলে এই পৃথিবীতে যাদের বাবা নেই তারাই বোঝে এই পৃথিবীতে টিকে থাকা কতটা কঠিন। তাদের চরম প্রতিকূলতার মাঝে বেড়ে উঠতে হয়। শত ঘাত প্রতিঘাতের মাঝে তাদের অনেক কঠিন সময় পাড় করতে হয়। আর তারাই বোঝে বাবা না থাকার কষ্ট কতটা।
এই পৃথিবীতে সন্তানের কাছে একজন শ্রেষ্ঠ পুরুষ হলো তার বাবা। এই বাবাই আমাদের শেখায় কিভাবে পরিশ্রম করে বড় হতে হয়। সব সময় সঠিক ও সত্য কথার বলার সাহসী বাবা আমাদের শেখান। আসলে বাবা ছাড়া জীবন হল লবণ ছাড়া তরকারির মত।
আসলে এই বাবা আমাদের ছোট থেকে বড় অবধি লালন-পালন করেন এবং আমাদের সব চাহিদা পূরণ করেন। তার সত্বেও এই বাবাকে আমরা বয়সকালে তাচ্ছিল্য অবহেলা করি। আসলে ছোটবেলায় আমরা যখন হাঁটতে না পারি তখন বাবা আমাদের প্রথম হাঁটা শেখায়। কিন্তু বয়স হলে যখন বাবা হাঁটতে পারেন না তখন আমরা বাবার হাতে একটা লাঠি ধরিয়ে দিয়ে হাঁটার জন্য। কি আশ্চর্য পৃথিবী তাই না।
আসলে বর্তমান প্রজন্ম আগের প্রজন্ম থেকেই অনেকটা পিছিয়ে। বর্তমান প্রজন্ম তাদের বাবাকে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে না। তারা আধুনিকতাই মিশে যায়। তাদের ভিতর না থাকে কোন দায়িত্ব না থাকে কোন কর্তব্য।
তাই জীবনে কখনোই বাবাকে কষ্ট দিও না। কারণ এই কষ্টই বাবা-মার জীবনের সবথেকে বেশি কষ্টের হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রত্যেক সন্তানের উচিত বয়স কালে বাবা-মার পাশে থাকা। তাদের যত্ন নেওয়া। কারণ বয়সকালে বাবাকে সব সময় ভালোবাসার ভিতর রাখা উচিত। আর যে সন্তান বাবাকে কষ্ট দেয় সে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর সে প্রতিষ্ঠিত হলেও সে একজন সুষ্ঠু সন্তান হিসেবে নিজেকে কখনোই পরিচয় দিতে পারেন না।
✠বাবা ✠
বাবার মত এই পৃথিবীতে
নাইকো কেহ আপন।
বট বৃক্ষের ছায়ার মত,
আমাদের পাশে থাকে সর্বক্ষণ।
আমাদের সব আবদার,
বাবাই করে পূরণ।
বাবার কাছে সন্তান হল,
মহামূল্যবান রতন।
বাবা আমাদের বাহুর শক্তি,
বাবা আমাদের আত্মবিশ্বাস।
বাবা ছাড়া এই পৃথিবীতে,
ছাড়তে হবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
ছোটবেলায় বাবার কাছে,
প্রথম হাঁটতে শেখা।
বাবার সাথে ঘুরতে গিয়ে,
প্রথম মেলা দেখা।
কষ্টের সময় বাবা আমাদের,
বাড়ায় মনের মনোবল।
পুনরায় অনুপ্রাণিত করে,
তোলে আমাদের সবল।
সঠিক কাজ করতে তুমি,
শেখাও আমাদের সর্বক্ষণ।
অন্যায় কাজ দেখলে তুমি,
রুখে দাঁড়ানোর দাও মনোবল।
সাধ্য না থাকার শর্তেও তুমি,
অপূরণ রাখোনি কিছু।
প্রয়োজন সব মিটিয়ে দিয়েছো,
চাওয়ার থেকে বেশি কিছু।
তোমার মত এমন পুরুষ,
নেইকো পৃথিবীতে কেহ।
আমার কাছে বাবা তুমি,
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।
আশাকরি কবিতাটি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
তো দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
আসলে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বাবা এমন একজন মানুষ, যে তার সন্তানের পাশে ভট
বৃক্ষের মতো থাকে। আসলে কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের বাবাকে ঠিকমতো মর্যাদা দেয় না। আসলে বাবার মত প্রিয় মানুষ কেউই নেই। আপনি সেই বাবাকে নিয়ে খুবই সুন্দর একটা কবিতা লিখেছেন, যা পড়ে সত্যি অনেক বেশি ভালো লেগেছে। মনটা ভরে গেল আপনার লেখা কবিতাটা পড়ে।
জন্মদাতা পিতাকে কেন্দ্র করে আজ আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি কবিতা লেখে উপস্থাপন করেছেন। আপনার কবিতাটি পড়ে আমার অনেক ভাল লেগেছে। কবিতার মধ্যে অনেক সুন্দর ছন্দ মিল খুঁজে পেয়েছি। পেয়েছি সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি এবং পিতার প্রতি আরো মায়া মমতা।