স্বরচিত কবিতাঃ মধ্যবিত্ত
24-09-2022
৯ আশ্বিন ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয় অনেক ভালো আছেন 🌼। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। বলতে পারেন ভালো থাকি বা থাকতে হয়। এ সমাজে মধ্যবিত্তরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। দুমড়ে মুচড়ে নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে স্বপ্নগুলো। মধ্যবিত্তরা বুঝি স্বপ্ন নিয়েই বেচেঁ থাকে। হয়তো স্বপ্নপূরণ হবে কোনো একদিন সেই দিনের অপেক্ষা পর্যন্ত স্বপ্ন দেখেই যায়।
যে কথা বলতেছিলাম, আজকে তারই ধারাবহিকতায় একটি কবিতা লিখলাম। সহজ ভাষায় চেষ্টা করি কবিতাগুলো ছন্দে ফুটিয়ে তুলতে। যদিও আমি এতো দক্ষ নয় কবিতা লেখায়। তবে আমি বিশ্বাস করি, মনের ভাবগুলো ছন্দে ফুটিয়ে তুলতে পারলে কবিতা লেখা সম্ভব। সেজন্য চেষ্টা করি মনে ভাবগুলো কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার জন্য।
আমি যে কথাটা সবসময় বলি দাদার কবিতা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সহজ সরল ভাষায় মনের ভাবগুলো কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেন। আর ব্ল্যাক্স দাদার কবিতা নিয়ে কমেন্ট করার সাহস আমার নেই। এতো গভীর থেকে কবিতা লিখেন। মাঝে মাঝে কবিতার অর্থ খুঁজতে আমি ব্যর্থ হই । ভালো লাগার মতো কবিতা আমাদের উপহার দিয়ে থাকেন। তাদের কাছ থেকেই আমি কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা পায়। আর হাফিজ ভাইয়ের কবিতাও অসাধারন হয়। খুব সহজেই ছন্দে কবিতার লাইনগুলো মিলিয়ে ফেলেন। এটা আমার কাছে ভালো লাগে। এটাই তো কবির স্বার্থকতা। মনের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে পারলেই কবিতা লেখা যায়। আমি তবে ঝড় তুলতে পারিনা এখনও। এখনও শিখছি প্রতিনিয়ত। যায়হোক, আজকে আপনাদের জন্য মধ্যবিত্ত কবিতাটি নিয়ে হাজির হলাম।
আসলে একজন মধবিত্ত ছেলের কিছু মনের কথা কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি মাত্র। পরিবার যেখানে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে সেখানে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে চাকরির জন্য। একের পর এক জব ইন্টার্ভিউ দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু চাকরি আর হচ্ছে না। মামা-খালু নেই যে তার। এটাই বুঝি তার ব্যর্থতা। যোগ্যদের যে চেয়ারটাই বসার কথা ছিল সেখানে আজ অযোগ্যরা বসছে, হয়তো টাকার জোরে নয়তো মামা-খালুর ক্ষমতার জোরে । মধ্যবিত্ত একজন ছেলে তাই হতাশ তার জীবন নিয়ে। প্রেমিকা যেখানে দুই টাকার বাদাম পেলেই খুশি সেখানে সেই ইচ্ছাটাও পূরণ করতে ব্যর্থ মধ্যবিত্ত প্রেমিক। একজন মধ্যবিত্তের ব্যর্থতার কথাগুলো কবিতার ছন্দে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের। ভুলহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণ আমি এখনও শিখছি
কবিতার নামঃ মধ্যবিত্ত
আমি এক মধ্যবিত্ত বলছি,
পকেটে দশ টাকা, একরাশ স্বপ্ন!
চেয়ে আছে একটি পরিবার
জব-ইন্টার্ভিউ দিতে দিতে আমি ক্লান্ত,
মামা-খালু নেই তো আমার,
চাকরি হবে কেমন করে!
সমাজের ব্যবস্থার কাছে আজ আমার স্বপ্নগুলো তুচ্ছ
এদিকে পরিবার আমার দিকে তাকিয়ে
কি ভুল ছিল আমার?
মধবিত্ত ঘরে জন্ম নেয়া,
নাকি মামা-খালু জোগাড় করতে না পারা!
প্রেমিকার চাওয়া যেখানে দুই টাকার বাদাম
সেটাও পূরণ করা,
আমার কাছে বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়
তাহলে প্রেমিক হতে পারলাম কই?
হয়েছি সদ্য ফোটাঁ গোলাপের পাপড়ি
ফুল না হওয়া পর্যন্ত কেউ মূল্য দেয় না,
দূর থেকে সবাই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়।
জীবনের মানেটা তখনই বুঝতে পারি
যখন টাকার কাছে সবকিছু তুচ্ছ!
টাকার মূল্য কতটুকু
একজন মধ্যবিত্ত ঠিকই বুঝতে পারে
হয়তো মুখ খুলে বলতে পারেনা,
সমাজের ভয়ে নয়তো আত্মসম্মানের ভয়ে।
মধ্যবিত্তরা হেসে যায়,
হাসির অন্তরালে কতটা দুঃখ লুকিয়ে থাকে,
সেটা কেউই জানেনা, জানবেও না কোনদিন।
আশা করি কবিতাটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ 🌼।
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
আসলে ঠিক বলেছেন মধ্যবিত্তদের জীবনটাই যেন এরকম। আসলে ঠিক বলেছেন টাকা না থাকলে কিংবা মামা খালু না থাকলে চাকরিও হয় না। প্রত্যেকটা লাইন যেন একেবারে মধ্যবিত্ত নিয়ে সাজিয়েছেন। আর সত্যিই ঠিক বলেছেন আমাদের দাদা, এবং ব্ল্যাকস দাদা আর হাফেজ ভাইয়ের কবিতাগুলো সত্যিই অসাধারণ।
একদম বাস্তব সত্য আপু। এ সমাজে ভালোর কদর কেউ করতে চায়না আসলে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
Link
সত্যি ভাইয়া আপনার কবিতায় প্রতিটি লাইনে মধ্যবিত্তদের জীবন চিত্র একেবারে ফুটে উঠে ছে।আপনি ঠিক বলেছেন মামা খালু না থাকলে চাকরি পাওয়া সত্যি কঠিন। জীবনের মানেটা তখনই বুঝতে পারি
যখন টাকার কাছে সবকিছু তুচ্ছ!একদম পারফেক্ট কথা ভাইয়া এভাবেই এগিয়ে যান, আপনার কাছ থেকে এমন আরো কবিতা দেখতে চাই। ধন্যবাদ
আপু আপনার কমেন্ট আমাকে কবিতা লেখায় উৎসাহ বাড়িয়ে দিলো। বাস্তবতার চিত্র কবিতার ছন্দে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলাম আপু। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 🤎
আপনার মধ্যবিত্ত কবিতা টি অনেক সুন্দর হয়েছে। বাস্তবটা কে ফুটিয়ে তোলা চেষ্টা করছেন। এভাবে এগিয়ে যান ভাইয়া। আপনার জন্য রইল অবিরাম শুভকামনা।
জি আপু আপনাদের মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 🙏
ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার কবিতার প্রতিটি লাইন আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আপনি আপনার কবিতার মাধ্যমে বাস্তবতার ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন যা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে আপনি এভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
ধন্যবাদ আপু চমৎকার একটি মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য।
আপনার কবিতাটি তে বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন ।কবিতাটি পড়ে আমি মনে করি আপনি সফল হয়েছেন।ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি কবিতা শেয়ার করার জন্য
চেষ্টা করেছি ভাই। আপনাদের উৎসাহ আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে 🙏
মধ্যবিত্তদের নিয়ে দারুন একটা কবিতা লিখেছেন ভাইয়া। আসলে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের অবস্থা এখন এমনই হয়ে গিয়েছে তারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাদের যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পাচ্ছে না কেননা অযোগ্যরা ভরে গিয়েছে। আসলে এখন আমাদের দেশের অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছে মামা খালু যদি না থাকে তাহলে তার কোন চাকরি নাই।
আপনি আমার সাথে একমত পোষণ করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
আপনার কবিতার প্রতিটি শব্দ এবং লাইন গুলো সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে একেবারে হুবহু মিলে গেছে। এত সুন্দর বাস্তব ভিত্তিক একটি কবিতা আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আপু চেষ্টা করেছিলাম সমাজের চিত্রগুলো একজন মধবিতের চোখের সামনে যে চিত্রগুলো ভেসে উঠে সেটি ফুটিয়ে তোলার জন্য ৃ
কি ভুল ছিল আমার?
মধবিত্ত ঘরে জন্ম নেয়া,
নাকি মামা-খালু জোগাড় করতে না পারা!
ওয়াও খুবই অসাধারণ কবিতাটি। আপনার কবিতাটিতে মধ্যবিত্ত পরিবার নিয়ে খুব সুন্দর করে লিখেছেন। আপনার কবিতাটিতে বাস্তবতার অনেক মিল। খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন। আপনার জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভকামনা রইল।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু চমৎকার একটি মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য।
একদম সঠিক কথা লিখেছেন। উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্তের মাঝে পিষে যাই আমরা মধ্যবিত্তরা।একটু ভালো খাওয়া, একটু ভালো পরা সব কিছু করতে চাইলেই ভাবতে হয় আজ ভালোটা খেলে পরের দিন খারাপ টা খেয়ে সাম্যতা বজায় রাখতে হবে। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে প্রেমকরা, মলে ঘোরা এগুলো সবটাই বিলাসিতা মনে হয়। আবার সৎ পথে এখন চাকরী নেই বললেই চলে আর আমাদের রাজনৈতিক হাত এতটাও লম্বা না যে পার্টির দাদা ধরে চাকরী পাব।
জি দিদি আপনি একদম ঠিক ধরেছেন। সৎ পথে চাকরি নেই বললেই চলে। যার মামা খালু আছে তারাই আগে চাকরি পেয়ে থাকে।