বিশেষ বিশেষ মুহূর্তের রেনডম ফটোগ্রাফি || প্রিয় লাজুক খ্যাঁকের জন্য ১০%
আজ - শনিবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট।
আজ আমি আপনাদের মাঝে কিছু রেনডম ফটোগ্রাফি নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। আর এ রেনডম ফটোগ্রাফি পাশাপাশি তার বর্ণনা করবো কখন কোন মুহূর্তে কিভাবে কি করছিলাম এবং কোথায় গিয়েছিলাম সমস্ত বিষয়ে এখানে তুলে ধরব ফটোগ্রাফির পাশাপাশি। আশা করি আপনারা আমার এই পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়বেন এবং অনেক কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাই আর বেশি কথা না বাড়িয়ে চলুন এখনই বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
'আমার বাংলা ব্লগ' কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট |
|---|
বিভিন্ন ফটোগ্রাফি
ফুল গাছে চারা কেনা উপলক্ষে গিয়েছিলাম গাংনী বাজারের একটি নিকটস্থ নার্সারিতে। তবে যাওয়ার পথে সামনে পেয়েছিলাম একটি কফি হাউস। তাই কফি হাউজের সামনে এসে হঠাৎ মুস্তাফিজুর আমাকে বলল ভাই চলেন কফি খেয়ে আসি। আসলে কোন এক উদ্দেশ্যে কোথাও বের হলে সেই কাজ সমাধান না করে অন্য কোন কিছু করে বেড়ানো আমার কাছে বিরক্তকর মনে হয়। আর চা কফি আমি একেবারেই পান করতে পারিনা। হয় কিছুটা ঠান্ডা করে নিতে হবে, না হয় যিহোবা পোড়াতে হবে। তারপর নতুন একটি স্থানে এসেই যখন পড়েছি কিছুটা সময় রেস্ট নেওয়া উপলক্ষেই প্রবেশ করলাম কফি হাউসে। তবে কফি খাওয়া শেষে কাঙ্খিত নার্সারিতে গিয়ে হতাশা হয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল। কারণ তখন ভোর দুপুর হওয়ায় নার্সারির মালিক সেখানে ছিল না তাই সেখান থেকে আলাদা আরেকটি নার্সারিতে যেতে হয়েছিল আমাদের।
কদম ফুলের চারার সন্ধানে গিয়েছিলাম একটি বাগানে। যেহেতু আমাদের স্কুল মাঠ এর চারিপাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফুল গাছ লাগানো চলছে, তাই ভেবেছিলাম কদম ফুল গাছ কেন বাদ দিব। শুনেছিলাম একটি কদম ফুল বাগানে অনেক কদম ফুলের চারা রয়েছে,তাই সেখানে গিয়েছিলাম চারা আনার লক্ষ্যে। বাগানটির মধ্যে প্রবেশ করে লক্ষ্য করলাম খুবই নিকটে একটি কদম ফুল সুন্দর করে ফুটে রয়েছে। তাই দেরি না করে ফুলটার ফটোগ্রাফি করছিলাম। আল-আরাফ, প্লে শ্রেণীর বাচ্চা। একদিন আমার পিছু লাগল। বললো, স্যার ও স্যার আমার ছবি তুলবা না। আমি তখন ইয়ার্কি করে বলছিলাম না তোমার কোন ছবি তুলবো না, তোমার সেলফি তুলব। তখন সে আমাকে বলল কি ছবি না তুলে আমার সেলফি তুলবা তাহলে তো কি মজা! আমি হতবাক হয়ে গেলাম, মনে মনে ভাবলাম সেলফি বলতে সে কি বুঝলো? তা তো জানিনা। তাকে বললাম হ্যাঁ সেলফি তুলব। সে দূর থেকে নিকটে ধরে এসে বলল 'নেন তোলেন।' এরপর নিজের কাছেই অবাক লাগলো এতটুকু বাচ্চা সেলফি সম্পর্কে অবগত কিন্তু আমি মাত্র কয়েক বছর আগে সেলফি বলতে কাকে বোঝায় সেটা জেনেছি। আর যাই হোক তাকে খুশি করার লক্ষ্যে অনেকগুলো সেলফি উঠিয়ে ছিলাম। ছেলেটা বেশ হাসিখুশি আর চঞ্চল। কোন কিছু তো ভয় করে না। সেলফি তোলাই খুবই খুশি হল। এক শুক্রবার জুমার নামাজ পরে আমাদের জুগীরগোফা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়েছিল। অবশ্য এমন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন প্রায় হয়ে থাকে। তবে সেই মিলাদ মাহফিলে তাবারক হিসেবে খুরমা দিয়েছিল প্যাকেট প্যাকেট। কেউ পেয়েছে এক প্যাকেট কেউবা আবার দুই প্যাকেট আবার কেউ পেয়েছিল তিন প্যাকেট। অবশ্য এই মিলাদ মাহফিলটা ছিল আমার এক মৃত চাচার জন্য দোয়ায় মাহফিল। আর যাই হোক মিলাদ শেষে আমার বাংলা ব্লগের জুগীরগোফা গ্রামের উত্তরপাড়ার ইউজারেরা তাবারক হাতে বাড়ি ফিরছিল, ঠিক তখন পিছন থেকেই তাদের লক্ষ্য করে ফটো উঠেছিলাম। অবশ্য আমার কাছে তাবারক ছিল এক প্যাকেট তবে তা প্যান্টের পকেটে। কিন্তু সামনের ব্যক্তিরা যে সুন্দরভাবে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তা ফটোগ্রাফি না করলেই নয়। সে ক্ষেত্রে বলা যায় বৃহস্পতিবারের হ্যাংআউটের কুইজ বিজয়ীদের জিলাপি খাওয়ার বিষয়টির সাথে এখানে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে আপনাদের কাছে প্রশ্ন 'কুইজ বিজয়ীরা কি এভাবে বিজয়ের টাকা দিয়ে জিলাপি কিনে বাড়ি ফিরে?' হাসির কথা হলেও সত্য আমার বড় ভাই আপনাদের প্রিয় 'বন্ধু বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান', বরশি হাতে মিনিটের পর মিনিট পুকুরে বসে থাকলেও একটিও মাছ উঠে না তার বরশিতে। তাই বেচারার এমন করুন দৃশ্য দেখে ফটোগ্রাফি না করে থেমে থাকতে পারি নাই। পেছনে মাছের খাবারের বস্তা রেখে দিয়েছে কারণ মাছের খাবার দেওয়া হয়ে গেলে মাছ আর তার বরশির দিকে তাকাবে না। কিন্তু ভাগ্য যখন এমনই হয় খাবার না দিয়েও ভুল করে একটি মাছও বরশিতে উঠল না। কথায় আছে 'মামা ভাগ্নে যেখানে আপদ নাই সেখানে'। আমার ভাগিনা নাম রাকিব, ছোট থেকে একসাথে বড় হচ্ছি আমরা। ঈদের দিন নামাজ শেষে এক সাথে বাড়ি ফিরছিলাম। সে বিবাহ করে ফেলেছে। সে মাঝেমধ্যে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে থাকে। তবে বেশি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করেছি ইমন-ভি কে বলে যে তার বাড়িওয়ালাকে কাজ শিখিয়ে দিতে। অবশ্য আমি আর ইমন আমাদের ভাগ্নের রাকিবকে এটাই বলেছি 'মামা আগে তোমাকে শিখতে হবে, বিষয়টা জানতে হবে তারপর তুমি মামোনিকে শিখিয়ে দিও।'তবে এমন অনেকেই রয়েছেন কাজ করার জন্য আগ্রহী। আশা করি, ভালোভাবে কাজ করবে এমন ব্যক্তিদের আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে রেফার করবো।
|
|---|
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
| ক্যামেরা | camera-50mp |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৫ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্ট, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
বাহ আপনি বেশ কিছু ফটোগ্রাফি অনেক বড় বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আর আপনার সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো আপনার মত আমিও গরম চা কফি খেতে পারি না। একটু ঠান্ডা করে নিতে হয়। কদম ফুলটা কিন্তু খুব দারুণভাবে ফটোগ্রাফি করেছেন। বিদ্যুৎ ভাই ঘন্টার পর ঘন্টা বরশি বেয়েও মাছ তুলতে পারলেন না এটা খুবই হতাশা জনক।
আমি দীর্ঘদিন জিহবা পুড়িয়ে ফেলেছি চা কফি খেতে যেয়ে। আর আমার ভাইয়ের মাছ ধরা দেখলে সবাই হাসাহাসি করে।
খুবই চমৎকার কিছু মুহূর্তের ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন খুবই ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো। বিশেষ করে কদম ফুলের ফটোগ্রাফিটা অসাধারণ ছিল আর আপনার ভাগ্নে আমার বাংলা ব্লক কমিউনিটিতে কাজ করার সম্মতি জানিয়েছে এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো তাকে আমাদের কমিউনিটিতে স্বাগতম।
সাবলিল ভাষায় এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফিই সুন্দর হয়েছে।তবে মাছ ধরার ফটোগ্রাফি আর কদম এর ফটোগ্রাফি টা বেশিই সুন্দর।আর আপনার ছাত্র অনেক কিউট।না ভাই কুইজ তো রাতে হয়।তাই পরের দিন গিয়ে জিলাপি কিনে খেতে হয়।
চেষ্টা করব এভাবে আরো অনেক ফটোগ্রাফি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এখনকার বাচ্চারা কিন্তু অনেক আপডেট ভাই। আমরা আপনারা যেটা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জেনেছি বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস গুলোর ক্ষেএে। কিন্তু এই বাচ্চারা এখনি সব জানে। আপনার ভাইয়ের পুকুরে মাছ ধরা এবং কদম ফুলের ফটোগ্রাফি টা বেশ দারুণ ছিল। সবমিলিয়ে সুন্দর ছিল আপনার পোস্ট টা।।
হ্যাঁ তারা প্রতিনিয়ত হাতে পাচ্ছে এবং দেখছে তাই এডভান্স হয়ে গেছে।
আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি খুব সুন্দর হয়েছে এবং তার সাথে খুব সুন্দর বর্ণনাও দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে কদম ফুল। আমাদের স্কুলের মাঠের পাশেও অনেক বড় একটি কদম ফুলের গাছ ছিল। আপনি আপনার স্কুলের আঙিনায় লাগান বর্ষাকালে ছাত্রছাত্রীরা অনেক মজা পাবে। আমিও গরম চা বা কফি খেতে পারিনা তবে আপনার মতো সবসময় হালকা ঠান্ডা করে তারপর পান করি। আমিও ছোটবেলায় বড়সি নিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম কিন্তু একটাও মাছ পেতাম না। আপনি একটা কথা ঠিক বলেছেন আমার বাংলা ব্লগে আসতে হলে আগে তাকে সব নিয়ম-কানুন জানতে হবে। ধন্যবাদ এত সুন্দর ফটোগ্রাফি সহ সুন্দর বর্ণনা দেওয়ার জন্য।
আমাদেরও প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি কদম ফুল গাছ ছিল। আমরা বন্ধু বান্ধবী মিলে কদম ফুল নিয়ে খেলতাম।
ওয়াও আপনি বেশ কিছু অসাধারণ ফটোগ্রাফি করেছেন। দেখতে অসম্ভব ভালো লাগলো। খুব সুন্দর করে বর্ণনা দিয়ে ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। আমিও গরম চা এবং কফি খেতে পারি না। যতক্ষণ ঠান্ডা না হয়। খুব সুন্দর করে আমাদের সাজিয়ে উপস্থাপনা করেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আমি দীর্ঘদিন চেষ্টা করছি কিন্তু গরম চা কফি খাওয়া আমার পক্ষে মোটেও সম্ভব হয় না।