ফটোগ্রাফিঃচলন্ত ট্রেন থেকে তোলা ফটোগ্রাফি।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

সবাইকে শুভেচ্ছা।

প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,এই গরমে সবাই ভাল ও সুস্থ্য আছেন,আশাকরি। আমিও ভাল আছি। আজ ১৩ জৈষ্ঠ্য,১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ২৭ মে,২০২৩ খ্রীস্টাব্দ। আমার শ্বশুর বাড়ি যেহেতু উত্তরবঙ্গে সেহেতু বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুর উপর দিয়ে যেতে হয়। গত ঈদুল ফিতরে ঈদে বাড়িতে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকেই কিছু ফটোগ্রেফি করেছিলাম।বর্তমানে বঙ্গবন্ধু( যমুনা) সেতুর উপর দিয়ে সড়ক পরিবহন ও ট্রেন দুটোই চলে। বঙ্গবন্ধু( যমুনা) সেতুর ৩০০ মিটার উত্তরে পৃথক রেল সেতু নির্মানাধীন।লোভ সামলাতে পারলামনা! চেষ্টা করেছি সেতুর উপর চলন্ত ট্রেন থেকেই ফটোগ্রাফি গুলো করতে।সেই চলন্ত ট্রেন থেকে নির্মানাধীন রেল সেতুর তোলা ছবি গুলোই নিয়েই আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হলাম।। এই ফটোগ্রাফি গুলোর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে যমুনা নদীর ও তৈরিকৃত সেতুর বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন। আশাকরি ভাল লাগবে আপনাদের।

প্রথম ফটোগ্রাফি

z 1.jpg

এই ফটোগ্রাফিটিতে চিরায়ত গ্রাম বাংলার রুপ ফুটে উঠেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র।মানুষ পারাপার ও অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নৌকা। দেখতে বেশ ভালো লাগছিল,তাইতো ফটোগ্রাফি করে নিলাম। আশকরি আপনাদেরও ভালো লাগবে।

দ্বিতীয় ফটোগ্রাফি

z2.jpg

যমুনা নদীর উপর রেল সেতু নির্মানের কাজ চলছে।যমুনার বুকে চর। অথচ বর্ষাকালে কি ভয়ংকর হয়ে উঠে এই যমুনা।ছবিতে দেখা যাচ্ছে পিলার বা স্তম্ভ নির্মাণের পাইলিং এর কাজ চলছে।

তৃতীয় ফটোগ্রাফি

z4.jpg

z3.jpg

এই ফটোগ্রাফিতে দেখা যাচ্ছে পিলার তৈরির কাজ শেষ। দুইটা পিলারের ছবি দেখা যাচ্ছে । এরপর এই পিলারেই বসবে স্প্যান ।সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে কোথাও পাইলিং হচ্ছে, কোথাও পিলার তৈরি শেষ আবার কোথাও স্প্যান বসানোর কাজ চলছে বা শেষ হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি সব মোবাইলে ধারণ করতে।

চতুর্থ ফটোগ্রাফি

z5.jpg

z6.jpg

তৈরিকৃত পিলারে স্প্যান বসানোর কাজ চলছে। ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে তা হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেল সেতু।

পঞ্চম ফটোগ্রাফি

z8.jpg

যমুনা নদীর মাঝ বরাবর চর জেগে কি অবস্থা! দেখে মনেই হয়না বর্ষাকালের সেই ভয়াল যমুনা। নদী শাসন, নদীতে ময়লা -আবর্জনা ফেলা,কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা,চর দখল করা ও সময়মত ড্রেজিং না করার ফসল যমুনার এই করুণ অবস্থা। দেখে বড্ড মায়া হয়। নির্মাণাধীন রেল সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ ও রেল লাইন বসানোর কাজ শেষ হলেই ট্রেন চলা চলের উপযোগি হয়ে উঠবে। আমরা সে অপেক্ষায় দিন গুনছি।

যমুনার উপর পৃথক রেল সেতু চালু হলে বাংলাদেশের রেল সেবার নতুন দিগন্তের উম্মোচন হবে। এখন বঙ্গবন্ধু সেতুর একমাত্র লাইনের উপর দিয়ে ট্রেন চলার কারণে আপ-ডাইন ট্রেনের ট্রাফিকিং এর সমস্যা হয়।এবং ট্রেন যাত্রায় অনেক সময় অপচয় হয় মানুষের। এখনও অধিক সংখ্যক মানুষের পছন্দের বাহন ট্রেন। আমার নিজেরও পছন্দের ট্রেন যাত্রা। মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে যমুনা রেল সেতুতে ট্রেনে যাতায়াতের। যে গতিতে কাজ চলছে আশাকরছি সে আশা শীঘ্রই পূরণ হবে। বন্ধুরা, আশাকরি আমার আজকের ফটোগ্রাফি পোস্ট ভালো লেগেছে আপনাদের। সবার মঙ্গল হোক।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীফটোগ্রাফি পোস্ট
ক্যামেরSamsungA10
পোস্ট তৈরি@selina75
তারিখ২৭মে ২০২৩
ফটোগ্রাফি লোকেশনবঙ্গবন্ধু সেতু

পাশে থাকার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Sort:  
 3 years ago 

বাহ আপু দারুন ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনার ফটোগ্রাফি দেখে একদমই বুঝা যায় না চলন্ত ট্রেন থেকে তুলেছেন। প্রতিটা ফটোগ্রাফি একদম ক্লিয়ার হয়েছে। যমুনা সেতু দেখা হয়নি তবে পদ্মা সেতু দেখেছি আর আমার কাছে দুই সেতু একই রকম লেগেছে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

বঙ্গবন্ধু( যমুনা) সেতুর পাশে পৃথক রেল সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন আপনি। আপনার ফটোগ্রাফি গুলির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু( যমুনা) সেতুর নির্মাণাধীন কাজ দেখতে পেলাম। যমুনা নদীর ঠিকভাবে পরিচর্যা না করায় করুণ অবস্থা হয়ে আছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নজর দেয়া খুব জরুরী। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর দৃশ্য আমাদের মাঝে প্রদর্শন করার জন্য।

 3 years ago 

জি আপু আমরা কেবল সেতু তৈরি করি । কিন্তু নদীর অবস্থা উন্নতি করার পদক্ষেপ গ্রহন করি না। অনেক ধন্যবাদ আপু।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 65117.10
ETH 1964.04
USDT 1.00
SBD 0.37