আমার বাংলা ব্লগ। আমার বাড়ি আমার শৈশব। ১০% পে- আউট লাজুক খ্যাক এর জন্য।
চলুন যাওয়া যাক আলোচনার মূল পর্বে।
আমার বাড়ি আমার শৈশব।
ফটোগ্রাফি - ১
এটা হচ্ছে আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটা। আমার শৈশবের বেড়ে ওঠা এখান থেকেই। আমার ফটোগ্রাফির পিছনে যে চিরো সবুজ গাছপালা গুলো দেখতে পাচ্ছেন সেটাই হচ্ছে আমার বাড়ি।
কিছু কথা।
আমার বাংলা ব্লগের প্রিয় বন্ধুরা আপনারা সবাই জানেন আমি ১৬ ই ডিসেম্বরের বাড়িতে গিয়েছিলাম এক দিনের ছুটিতে। বাড়িতে যাওয়ার পরে চিন্তা করলাম সারাদিন ঘুরবো আর ফটোগ্রাফি করব। যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি, সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমারে ফটোগ্রাফি গুলো করা।
এত অল্প সময়ে আমি আমার গ্রামের রূপের বর্ণনা দিয়ে শেষ করতে পারবো না। তবে আজকে আপনাদের সাথে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করছি এ কারণে আমার শৈশব কৈশোর আমার দুরন্তপনার আমার বেড়ে ওঠা এখান থেকে। বাড়ি থেকে বের হলেই রাস্তা আর এখানেই খেলাধুলা করতাম। এখন বাড়িতে গেলে আমার কাছে মনে হয় যেন আমি স্বপ্নের কোন রাজ্যে এসেছি।
নিজের এলাকাটা চিনতে খুব কষ্ট হয়। মনে হয় যে আমি কোথাও বেড়াতে এসেছি। সময়ের এবং কালের বিবর্তনে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। এবং আমার গ্রামেও তাই হয়েছে মোটামুটি এখন মেঠো পথ নেই বললেই চলে। আমার ঘর থেকে আমাদের মেইন পিচঢালা রাস্তা সর্বোচ্চ ১০০ পিট। মাটির রাস্তা মোটামুটি গ্রামের ভিতরে নেই বললেই চলে, সবগুলো রাস্তায় পাকা হয়ে গেছে এখন আর আগের মতো ঝোপঝাড় জঙ্গল এগুলো নেই। আর এখন হয়েছে পরিকল্পিত রূপকারের একটি গ্রাম।
ফটোগ্রাফি - ২
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কচুরিপানা ভর্তি একটা বিল। আসলে এটি কোন বিল নয় এটি হচ্ছে আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি আমার সামনের রাস্তার পাশে একটা পুকুর। এবং আমরা সব সময়ে কুকুরের গোসল করতাম। এই পুকুরে অনেক বড় বড় মাছ হয়। আর এ পুকুরে কচুরিপানার ছিল না বললেই চলে। এবার বাড়িতে গিয়ে পুকুরের কচুরিপানা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছে যেন একটা ফাঁকা জমি কিন্তু এখনো প্রায় 20 ফুট পানি আছে। আর এত বড় পুকুরে মাছের সাইজ এবং কি পরিমাণ মাছ থাকতে পারে তা অবশ্যই আপনাদের জানা আছে।
গ্রাফিক - ৩
আমি আমার কাকাদের বাড়ির সামনে বসে আছি। কিন্তু একসময় এখানে কোন গ্রেট ছিলনা। এই জায়গাটা পুরোটাই ফাঁকা ছিল। আমি যেখানে বসে আছি আমার মাথার উপরে একটা কাঠবাদাম গাছ ক্যামেরায় দেখে খুবই ভালো লাগলো তাই সেলফি সহকারে কাঠবাদাম গাছ টাকে উদ্দেশ্য করে আমার সেলফিটা তোলা।
ফটোগ্রাফি - ৪
গেটের সামনে বসে পুকুরটাকে উদ্দেশ্য করে সেলফিটা তোলা। একসময় এখানে ছিল বাঁশের ঝাড় আর কি বড় বড় কাঠের গাছ। এখানে সামান্য কিছু বাঁশ আছে, কিন্তু বড় বড় গাছ গুলো আর নেই।
ফটোগ্রাফি - ৫
এই ফটোগ্রাফি টা তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার যখন শৈশব ছিল তখন এখানে নারিকেল গাছ গুলো ছিল। আমরা হাত দিয়ে হাত দিয়ে নারিকেল পেড়ে খেতাম। আর এখন গাছ গুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। এবং গাছের ফাঁকে ফাঁকে সারি সারি ব্যন্স দেওয়া হয়েছে। আর ছেলেগুলোর খুনসুটির পিছনে ছিল আমাদের খেলার মাঠ। এখানে অনেক বড় একটা মাঠ আছে। কিন্তু আমি একা ছিলাম এবং কি ছেলে গুলোকে ছিনি না বিধায় আমি আর সামনের দিকে যায়নি। এখন মাঠ আর নেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।
ফটোগ্রাফি - ৬
গেটের সামনে ছবি নিলাম কারণ এখানে আমাদের শৈশবকাল কেটেছে। সকাল বেলায় ঘুম ভাঙলে এখানে ছুটে আসতাম। সকাল আর বিকাল ছিল না ঘুম ভাঙলে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই কেটে যেত সারাদিন।
ফটোগ্রাফি - ৭
আমি পুকুরটার বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ফটোগ্রাফি নিলাম। খুবই সুন্দর লাগছে সবুজ আর সবুজ। আর সেইসাথে সোনালী রোদের মধ্যে খুবই আকর্ষণীয় লাগছিল।
ফটোগ্রাফি - ৮
আমার এই ফটোগ্রাফিতে আমি পুরো কুকুরটা ক্যাপচার করার চেষ্টা করেছিলাম যতটুকু পেরেছি।
ফটোগ্রাফি - ৯
এটা হচ্ছে আমার ঘরে ঢুকার মেঠোপথের রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে সোনালী ফসল কিছু কেটে বাড়িতে উঠিয়েছে আর কিছু এখনো জমিনে রয়ে গেছে। দৃশ্যটা আমার ক্যামেরায় খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল তাই ফটোগ্রাফি টা নিলাম।
ফটোগ্রাফি - ১০
আমার সোনার বাংলার সোনালী ফসল আর এই ধানগুলো এখনো কাটা হয়নি। এই ছবিটা আমাদের একবারে বাড়ির সামনেই।
বন্ধুরা আমি আমার বাড়ির সামনের আমার শৈশব আমার কৈশর আমার বেড়ে ওঠা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। এবং সেখানেও জড়িয়ে আছে আমার হাজারো স্মৃতি সময় করে অবশ্যই আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আজ এ পর্যন্তই আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। এবং সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকবেন। ভালো-মন্দ কমেন্টে জানাবেন। আজকের মত বিদায় নিচ্ছি, সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
আল্লাহ হাফেজ।
আপনার পোস্টটি পড়ে মনে হচ্ছে আপনার শৈশব সময়টি খুবই রোমাঞ্চকর ছিল। আর আপনার পোষ্টের ফটোগ্রাফি গুলো অসাধারণ সুন্দর হয়েছে। পোষ্টের বর্ণনাগুলো অতি চমৎকার হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাই ঠিকই বলেছেন আমার শৈশব ছিল দুরন্তপনার মাঝে খুবই দুষ্টামি করতাম। এবং কি এলাকাতে দেখতেই পাচ্ছেন খুবই সুন্দর স্বচ্ছ। আগের এর চেয়েও বেশি সৌন্দর্য মনে হতো কারণ সেটা আমার অতীত। আপনি অনেক সুন্দর করে কমেন্টই করেছেন। আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
আপনার শৈশবটা অনেক সুন্দর রোমাঞ্চকর কেটেছে। সত্যিই আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আর আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগলো হাত দিয়ে নারকেল পারা গাছগুলো অনেক ছোট ছিল 🥰
হ্যাঁ ভাইয়া এই স্মৃতি কখনো ভুলার নয়, এখানে জড়িয়ে আছে আমার শৈশবের হাজারো স্মৃতি। আপনার ভালো লেগেছে জানতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এবং আপনার প্রতি রহিলো ভালোবাসা সীমাহীন।
খুবই সুন্দর ভাই আপনার শৈশব এর গ্রামের বাড়ির দৃশ্য গুলি ।খুবই সুন্দর শৈশবের সেই দিনগুলি কাটিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে । আপনি খুব ভালোভাবে কাটিয়েছেন ফটোগুলি দেখেই বোঝা যাচ্ছে ।সবার জীবনে এরকম শৈশবকালে কিছু কিছু স্মৃতি থাকে।ধন্যবাদ ভাই ।
আপনি অসাধারণ কমেন্ট করেছেন। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ ভাই।
আপনার সবগুলো ফটো গ্রাফি অনেক সুন্দর হয়েছে ভাইয়া। আসলে কোন কিছুই আগের মত থাকে না সবকিছুই সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। আর এই পরিবর্তনটি হচ্ছে উন্নয়ন। হঠাৎ করে পুকুরের উপর কচুরিপানা জমার কারণ হচ্ছে সেগুলো পরিষ্কার না করা। আপনার সকাল-সন্ধ্যা যেখানে ছিলেন শৈশবকালে সেই জায়গাটি আমার অনেক ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটি পোষ্ট সাজিয়েছেন আপনি।
ভাইয়া আপনার কাছে ভালো লেগেছে জানতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এবং আপনার মুখে প্রশংসা শুনে নিজেকে কাছে খুবই ভালো লাগছে। এবং আপনার প্রতি রইলো আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল আমার, আর এই স্মৃতিগুলো এখনো মনের মাঝে নাড়া দিয়ে যায়। আর যাই হোক সব মিলিয়ে আপনার পোস্টটি অনেক সুন্দর হয়েছে। আর তাই আপনাকে আমার পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
আপনাকে আপনার অতিতের স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পেরেছি এটাই আমার সফলতা। আপনি অনেক সুন্দর করে কমেন্ট করেছেন। আপনার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আপনার ভালো লেগেছে জানতে পেরে আমার খুবই আনন্দ লাগছে। আসলে আমি অজো গায়ের ছেলে। অযোগায় আমার বেড়ে ওঠা এই ধুলোবালি কাদায় আমার শৈশব। আপনি অনেক সুন্দর করে কমেন্ট করেছেন। আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
শৈশব প্রতিটি মানুষের হৃদয় জুড়ে ছুয়ে থাকে।সেই স্মৃতি কখনো মানুষ ভোলে না।হাজার চেষ্টার পর সেই স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে গাধা থাকে।গ্রামে শৈশব কাটলে ও কথাই নাই।গ্রামের পরিবেশের প্রতিটি কাজ স্মৃতি হয়ে থাকে।আপনার শৈশবগুলো হাজার বছর বেঁচে থাকুক।শুভ কামনা রইলো।
ভাই আপনি এত সুন্দর কমেন্ট করেছেন। আপনার কমেন্টের উত্তর দেওয়ার মত ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন প্রতিটি মানুষেরই শৈশবের কিছু না কিছু স্মৃতি থাকে। এবং সেগুলো আঁকড়ে ধরে মানুষ বেড়ে ওঠে। এবং স্মৃতির পাতায় সব সময় এগুলো নাড়া দেয়। আপনার প্রতি আবারও হৃদয়ের একগুচ্ছ ভালোবাসা রইলো।
ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
জেনে খুব ভালো লাগলো আপনি একদিনের ছুটি পেয়েও নিজের গ্রামে চলে গেছেন, একেই বলে মাটির টান। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে আপনার সোনালী দিনের স্মৃতি গুলো তুলে ধরার জন্য এবং গ্রাম বাংলার দৃশ্য গুলো উপহার দেয়ার জন্য।
হ্যাঁ ভাই ঠিকই বলেছেন এটাই হচ্ছে নাড়ির টান। একদিন ছুটি পেলে মন ছুটে যায় বাড়িতে। আপনি অনেক সুন্দর করে কমেন্ট করেছেন খুবই ভাল লেগেছে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
শৈশব এর স্মৃতি কখনো ভুলার নয় ভাইয়া।খুবই শান্তিময় জায়গা মনে হলো দেখে। আমি খুব প্রকৃতি ভালবাসি, যদিও লাইফে কখনও গ্রামে যাওয়া হয়নি। আপনার পোস্ট টি আমার খুব ভালো লাগলো। শুভ কামনা অবিরাম।
হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন প্রতিটি মানুষের জীবনেই শৈশব জড়িয়ে আছে। তবে দুঃখ পেলাম যে আপনি কখনো গ্রামে যান নি এটা শুনে। আমার শৈশব কৈশোর গ্রামে কেটেছিল। আর আমার পোস্ট আপনার ভাল লেগেছে এ কথা জানতে পেরে আমি খুবই আনন্দ অনুভব করছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রইলো।
বিজয় দিবসের ছুটিতে আপনি আপনার গ্রামের বাড়িতে অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন।আপনার বেড়ে ওঠার স্থান সম্পর্কে খুব সুন্দর লিখেছেন ভাই।আপনাদের গ্রামটিও অনেক সুন্দর।গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কাউকেই মুগ্ধ করে।শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপনার এত সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।