কয়েকটি রেনডম ফটোগ্রাফি।

in আমার বাংলা ব্লগlast year (edited)

হ্যালো..!!

আমার প্রিয় বন্ধুরা,

আমি @purnima14 বাংলাদেশী,

আজ- ১৫ ই এপ্রিল, মঙ্গলবার, ২০২৫খ্রিঃ



কভার ফটো


1000041303.jpg

কয়েকটি ছবি একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।



আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমি নিজেও ভালো আছি। আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজেকে হাসি খুশি রাখার। আমি আপনাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট শেয়ার করে থাকি। আমি "আমার বাংলা ব্লগের" মাধ্যমে আপনাদের সামনে আমার ক্রিয়েটিভিটি তুলে ধরবো। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব পছন্দ করি। আমি বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করে থাকি।কিছুদিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম সে সময় মাঠে গিয়ে বাংলার প্রকৃতির এবং মাঠের বিভিন্ন দৃশ্যের বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম। ইতিমধ্যে কয়েকটি ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আজ আরও কয়েকটি ফটোগ্রাফি নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করছি ফটোগ্রাফি গুলো ভালো লাগবে।চলুন তাহলে দেরি না করে ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আসা যাক।



ফটোগ্রাফি নং-১


1000041304.jpg

ক্যাপশন: কলা গাছ।
ডিভাইস: গুগোল পিক্সেল ৭ প্রো
ক্যামেরা: ৫০মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া

আমার প্রথম ফটোগ্রাফিতে রয়েছে কলাগাছ এবং বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের ফটোগ্রাফি। মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে হেটে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলে ছোট্ট একগুচ্ছ কলা গাছের দেখা পাওয়া যায়। সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি কলা গাছ। সেদিন মার দিয়ে হেঁটে যেতে খুব ভালো লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে কলা গাছ পর্যন্ত যেতেই পড়ন্ত বিকেলের সূর্যটা খুব চোখে লাগছিল। পড়ন্ত বিকেলের সূর্য এমনিতেই অসাধারণ লাগে। মাঝে মাঝে বিকেলের এই পড়ন্ত সূর্য এত দারুণ বর্ণ ধারণ করে যে দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হই। ফটোগ্রাফি করা যেহেতু নেশা সেজন্য বিভিন্ন সাইট থেকে অনেকগুলো ফটোগ্রাফি করেছিলাম। দেখতে বেশ ভালো লাগছিল।

ফটোগ্রাফি নং-২


1000041305.jpg

ক্যাপশন: কচু পাতা।
ডিভাইস: গুগল পিক্সেল ৭প্রো
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া


আমার দ্বিতীয় ফটোগ্রাফি তে রয়েছে কচু পাতার ফটোগ্রাফি। ছোটবেলায় পড়েছি যতই ভেজানো যাক না কেন কচুপাতা কখনোই পানিতে ভেজেনা। এখন তার বাস্তব প্রমাণ দেখতে পায়। প্রতিদিন দুপুরবেলায় প্রচন্ড খরা পড়ে। মাঠ ঘাট সবকিছু শুকিয়ে যায়। মাঠে বিভিন্ন ফসল বাঁচিয়ে রাখার জন্য সেচ দেওয়া হয়। পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাওয়ার পথে দেখতে পাই কচু খেতে পানি দেওয়া হচ্ছে। তখনই কচু গাছের উপরে কয়েক ফোটা জল দেখতে পেয়ে সেটা ফটোগ্রাফি করে নিই। এরকম রেনডম ফটোগ্রাফি করতে আমার খুব ভালো লাগে।

ফটোগ্রাফি নং-৩


1000041306.jpg

ক্যাপশন: লাঙল।
ডিভাইস: গুগল পিক্সেল ৭প্রো
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া

আমার তিন নাম্বার ফটোগ্রাফি তে রয়েছে কৃষিকাজের অনেক প্রয়োজনীয় লাঙল।আমাদের গ্রামে তো এটাকে লাঙল বলেই চিনে থাকে।জমিতে চাষ দেওয়ার জন্য এ ধরনের মেশিন ব্যবহার করা হয়। মাঠের ধারে এই লাঙলটি দেখতে পেয়ে ফটোগ্রাফি ধারণ করেছিলাম। মাঠে গেলে এ ধরনের দৃশ্য প্রায় চোখে পড়তে থাকে।

ফটোগ্রাফি নং-৪


1000041307.jpg

)

ক্যাপশন: মেঠো পথ।
ডিভাইস: গুগল পিক্সেল ৭প্রো।
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া


আমার এই ফটোগ্রাফিতে রয়েছে মেঠো পথের ফটোগ্রাফি। এখন পুরো মাঠ ফাঁকা পাওয়া যায়। আর কিছুদিন পরেই মাঠে পাঠ হয়ে যাবে। তখন আর মাঠ ফাঁকা পাওয়া যাবে না। তাই তখন আর মেঠো পথও বোঝা যায় না। ফাঁকা মাঠে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো মেঠো পথের একটি ফটোগ্রাফি করি। ফসলের ক্ষেতের পাশ দিয়ে এরকম হেঁটে যাওয়ার জন্য ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। যেটাকে আমরা মেঠো পথ বা মাটির পথ বলেই চিনে থাকি।এই পথের উপর বিভিন্ন ধরনের ঘাস জন্মাতে দেখা যায়। তবে দুর্ব্বা ঘাস বেশি জন্মে থাকে।


ফটোগ্রাফি নং-৫


1000041308.jpg

ক্যাপশন: কর্মব্যস্ততা।
ডিভাইস: গুগল পিক্সেল ৭ প্রো
ক্যামেরা: ৫০মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া

আমার এই ফটোগ্রাফিতে দেখিয়েছি একটি কর্মব্যস্ততম দৃশ্য। যদিও খুব ভালো করে বোঝা যাচ্ছেনা। এখন গ্রামে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলার এবং সেগুলো কেটে পরিষ্কার করার ধুম পড়ে যায়। চারিদিকে সকলেই এই কাজে ব্যস্ত থাকে। আমাদের গ্রামেও এরকম। এখানে আমি মাঠে গিয়ে দেখি অনেকেই মাঠের মধ্যে পেঁয়াজ তুলে সেগুলো আবার সেখান থেকেই কেটে পরিষ্কার করে ভ্যান গাড়ি ভর্তি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে তো আবার এখান থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। সবাই কত ব্যস্ত। এই কর্মব্যস্ত মানুষগুলোকে দেখতেও ভালো লাগে। সবাই কত খুশি মনে কাজ করে।


ফটোগ্রাফি নং-৬


1000041309.jpg

ক্যাপশন:কলমি শাক।
ডিভাইস:গুগল পিক্সেল ৭প্রো
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া

এই ফটোগ্রাফি তে রয়েছে কলমি শাকের ফটোগ্রাফি। কলমি শাক আমার অনেক পছন্দ।কলমি শাক যদিও জলে বেশি হয়ে থাকে। তবে স্থলেও কলমি শাকের চাষ করা হয়। আমাদের জমির পাশের জমিতে অনেক কলমি শাক হয়েছে। শাক গুলো বেশ বড় বড় এবং সতেজ দেখতে হয়েছে। দেখে ইচ্ছে করছিল তুলে বাড়ি নিয়ে যাই। তবে অন্যের জিনিস না বলে নেওয়া ঠিক না।সেজন্য শুধু ফটোগ্রাফি করেই চলে আসলাম। বাজার থেকে তো অনেক কিছুই কিনে খাওয়া যায়। তবে ক্ষেত থেকে তুলে টাটকা জিনিস খাওয়ার মধ্যে শান্তি আছে।


ফটোগ্রাফি নং-৭


1000041310.jpg

ক্যাপশন: তালগাছ।
ডিভাইস: গুগল পিক্সেল ৭প্রো
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
লোকেশন:কুষ্টিয়া

আমার সর্বশেষ ফটোগ্রাফি তে রয়েছে তালগাছ এবং আকাশের ফটোগ্রাফি। আগের পোস্টে বলেছিলাম বাড়ি থেকে মাটি পেতে ছোট্ট একটি বাঁশ বাগান পরে।সেই বাঁশ বাগানের মধ্যেই রয়েছে লম্বা লম্বা দুটি তালগাছ। তালগাছ দেখতে খুব ভালো লাগে। তালগাছ দেখতেই মনে পড়ে যাই সেই ছোটবেলায় পড়ে আসা তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে কবিতাটি। সব গাছ ছাড়িয়ে তালগাছ দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা আকাশ দেখতে বেশ দারুন লাগে। তবে নীল আকাশ হলে বেশি সুন্দর লাগে।

আজ এই পর্যন্তই।



প্রিয় বন্ধুরা,আমার আজকের ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে সবসময় পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন।



আমি কে !

Screenshot_20231102_205038_Facebook-01.jpeg

আমি পূর্ণিমা বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @purnima14। আমি আমার মাতা-পিতা এবং নিজের মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে ভালবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে, গান শুনতে, যেকোনো ধরনের রেসিপি তৈরি করতে ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের ফটোগ্রাফি করতে অনেক পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@purnima14



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 last year 

গ্রামীন দৃশ্যগুলি সুন্দর ছিল দিদি।তবে আমরা গরু দিয়ে চাষ করা হতো তাকে লাঙল বলতাম এটি তো ট্রাক্টর।যাইহোক প্রত্যেকটি ছবিই বেশ ভালো ছিল, ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

আপনার ফটোগ্রাফি সবসময় দারুণ হয়। আজকের ফটোগ্রাফি গুলো মুগ্ধ করার মতো ছিল। তিন নাম্বারে যে লাঙলের ফটোগ্রাফি টি করেছেন এটিকে আমাদের দিকে পাওয়ার ট্রিলার বা ট্রাক্টর বলে! তাছাড়া বাকি ফটোগ্রাফি গুলো উপভোগ করলাম।

 last year 

ভীষণ সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন আপনি আজকে। আপনার ছবিগুলো যতই দেখি তত মুগ্ধ হয়ে যায়। আজকের ছবি গুলো ফুলের বাইরে গিয়ে বেশ কিছু প্রাকৃতিক ছবি। তাই যেন মনে হলো স্বাদ বদলের পোস্ট। সব কটা ছবি বেশ ভালো লাগলো।

 last year 

অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। গ্রামীণ ফটোগ্রাফি গুলো আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। মেঠো পথের দৃশ্যটা দারুন লেগেছে। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে বিস্তারিতভাবে শেয়ার করার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 last year 

আপনার রেনডম ফটোগ্রাফি গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দরভাবে আপনি এই ফটো ধারণ করেছেন এবং আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। এমন চমৎকার ফটোগ্রাফি আমি খুব পছন্দ করি।

 last year 

আপু আপনার দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক ভালো লাগলো আপু। অনেক দক্ষতার সাথে আপনি ফটোগ্রাফি গুলো করেছেন। প্রতিটি ফটোগ্রাফি দারুন হয়েছে আপু।

 last year 

খুব সুন্দর সুন্দর কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন আপনি। সবগুলো ফটোগ্রাফি আমার অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে সূর্য অস্তের ফটোগ্রাফি খুবই দারুণ হয়েছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ফটোগ্রাফি সত্যি খুব দারুণ। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।

 last year 

আপনি অনেক সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার রেনডম তোলা এই ফটোগ্রাফির মাঝে আমার পড়ন্ত বিকেলের কলা গাছের ছবিটি বেশি ভালো লেগেছে। আসলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য সবসময়ই আমাদের মন কেড়ে নেয়। তাই প্রকৃতির প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি দেখতে অনেক বেশি সুন্দর লাগে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.102
BTC 62554.16
ETH 1783.65
USDT 1.00
SBD 0.38