এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি পর্ব -৪১steemCreated with Sketch.

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবারও আমার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


IMG_20230816_134139_edited.jpg


আসলে গিন্নিকে যদি কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেদিন মনে হয় ফটোগ্রাফি আর করা যাবে না। কারণ এদিন ঘুরতে গিয়ে আমার একদম হাড়ে হাড়ে শিক্ষা হয়ে গেল। কারণ আমি প্রথম ওর রাগ ভাঙ্গিয়ে আবার যখন ফটোগ্রাফি করতে শুরু করলাম তখন দেখলাম আবারও পুনরায় রেগে ফায়ার। আসলে চারিদিকে এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ফুলের ছবি যা দেখে আমি নিজেকে কখনো ধরে রাখতে পারছিলাম না। বারবার মন চাইছিল একটু ছবি তুলি। কিন্তু গিন্নির ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আবার ছবি তুলতে শুরু করলাম।



IMG_20230816_134145_edited.jpg


আসলে চারিদিকে এত সুন্দর ফুল ফুটেছে এবং ফুলের উপরে বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছিল তা দেখে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। বারবার মনে হচ্ছিল যে বাড়ি থেকে কেন আমি ক্যামেরাটা নিয়ে আসলাম না। আসলে মোবাইলে ফটো তোলা কিন্তু অতটা সহজ নয়। কারণ আমরা যদি ফোনের জুম করে কোন ছবি তুলি তাহলে সেই ছবির কোয়ালিটি অনেকটা খারাপ হয়ে যায়। তাইতো কোন কিছুর ছবি তুলতে হলে সেই দৃশ্যের কাছে গিয়ে ছবি তুলতে হচ্ছিল।



IMG_20230816_134242.jpg


আসলে এক হাত গিন্নি ধরে রেখেছে আর অন্য এক হাত দিয়ে আমার ছবি তুলতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কি আর করা যাবে সেই তো ছবি তোলার নেশা। যাইহোক অনেক যুদ্ধ এবং কষ্ট করে আমি ছবিগুলো তুলতে লাগলাম। অবশ্য মাঝে মাঝে গিন্নীকে শান্ত করার জন্য ওরও কিছু ভালো ভালো ছবি তুলে দিচ্ছিলাম। যাইহোক ওর একটা ছবি তুললে আমি চারিদিকের প্রাকৃতিক দৃশ্যের দুই থেকে তিনটে ছবি তুলছিলাম ফাঁকে ফাঁকে। যদিও প্রথমে গিন্নি সেই ব্যাপারটি লক্ষ্য করেনি।


IMG_20230816_134250.jpg


এরপর আমরা এই পার্কের আরেকটি ভেতরের দিকে চলে এলাম। আসলে পার্কটি হল ইকো পার্ক। এই ইকোপার্ক একদিনে ঘুরে পুরোটা দেখা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ এর এক এক সাইড দেখতে আপনার প্রায় একদিন সময় লেগে যাবে। আর এছাড়াও এই পার্কটি ইকো পার্কের নতুন একটা দিক। কারণ ইকোপার্ক প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এছাড়াও এই ইকো পার্ক এশিয়ার ভিতর অন্যতম একটি সবথেকে বড় পার্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।


IMG_20230816_134312.jpg


এরপর আমরা কিছুক্ষণ একটু বিশ্রাম নিয়ে নিলাম। কারণ এত বড় পার্ক পুরো হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখা অসম্ভব। আর আমরা কখনো এসব পার্কে ঘুরতে আসলে আমরা বাড়ি থেকে খাবার তৈরি করে নিয়ে আসি। কারণ পার্কের প্রায় প্রতিটা দোকানের খাবার অনেক ব্যয়বহুল এবং কোয়ালিটিতে অনেক খারাপ। তাই এদিকে আমার গিন্নি স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুবই সচেতন। আসলে সে কখনো বাইরের কোন খাবার খেতে চায় না। তাইতো সে সব সময় কোন পার্কে ঘুরতে আসলে বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে আনে।


IMG_20230816_134540.jpg


এরপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা পুনরায় একটু রেস্ট নিয়ে নিলাম। আসলে আজকে আমি তেমন ভালোভাবে কোন ছবি তুলতে পারিনি। কারণ আমি এত ফটোগ্রাফিতে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে গিন্নি আমার ফটোগ্রাফি দেখে রেগে গিয়েছিল। তাই আগেই বললাম আমি যখন এক হাত দিয়ে ওর হাত ধরেছিলাম এবং বাকি হাত দিয়ে কোনমতে বিভিন্ন ফুলের ছবি তুলতে লাগলাম। যদিও ছবির ফ্লেমিং গুলো তেমন একটা ভালো করতে পারেনি।


IMG_20230816_134553.jpg


এরপর আমরা একটু পার্কের ভিতর ঢুকতেই একটা অদ্ভুত ধরনের গাছ দেখতে পেলাম। এই গাছে অনেকগুলো ফল রয়েছে।আসলে যে ফলগুলো কাঁচা রয়েছে সে ফলগুলো কিন্তু সবুজ এবং যে ফলগুলো পেকে গেছে সেই ফলগুলো কিন্তু হলুদ রং ধারণ করেছে। যদিও এই গাছটির নাম আমার জানা ছিল না কিন্তু এই ফলটি দেখে আমার খুব খেতে ইচ্ছে করছিল। আমি যখন একটি ফল ছিঁড়তে যেই হাত বাড়ালাম তখন পাশের একটা গার্ড এসে আমাকে থামিয়ে দিল। কারণ এই পার্কের আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন কিন্তু কোন ফুল অথবা ফলে হাত দিতে পারবেন না।


IMG_20230816_135012.jpg


আসলে গার্ড যখন আমাকে রাগ করলো তখন আমার গিন্নি খুব খুশি হল এবং আমাকে বলল দেখেছ আমি আগেই বলেছি কোন জিনিসে তুমি কখনো হাত দেবে না। আসলে গার্ডের রাগ করা দেখে আমি একটু সাইডে সরে গেলাম এবং পরবর্তীতে যে গার্ড সরে গেল আমি আবার পুনরায় ওই গাছ থেকে একটি ফল ছিঁড়ে সেটি দেখতে লাগলাম। এরপর পাশে আমি আরেকটি ফুলের বাগানে চলে এলাম। আসলে এখানে এক এক প্রজাতির ফুলের বাগান এক এক জায়গায় সাজানো রয়েছে। একদম খিচুড়ি আকারে কোন ফুল গাছ এখানে নেই। আসলে এভাবে সুশৃংখলভাবে ফুলের গাছগুলো লাগানোর ফলে ফুলগুলোকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল।


ক্যামেরা পরিচিতি : HUAWEI
ক্যামেরা মডেল : BKK-AL 10
ক্যামেরা লেংথ : 3 mm



আশাকরি আজকের এই ফটোগ্রাফিক পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।

11-20-04-359_512.gif

ধন্যবাদ সবাইকে।

2XmsB3ZF6jJG7218A8ghgBmbB3W4Hm94fHM8vdisDLD4EuDS1mKCnUwr2WPdiRhWod2Rf2CCtBiK8N3pspzqnCWafFzVigrzmtsxCskMPdzGxv6X2qA4C6XCzVtoT7DrPdhaLQmVXDtTsoDBnDnkqY1H7mbiRmNAo6VRbcH65Ky8sUcB6iD2CGuEkfhUpCrHvemi76oe4F.gif

IMG_20210107_075142 (2).jpg

আমার নাম নিলয় মজুমদার। আমি একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। আমার মাতৃভাষা হলো বাংলা। কিন্তু আমার রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো হিন্দী। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি। আমি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। নতুন নতুন জিনিস তৈরী করতে আমি খুব ভালোবাসি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে।

Sort:  
 3 years ago 

অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি নিয়ে আজকে আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। আপনার এই ফটোগ্রাফি গুলো আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। যেখানে বেশ কিছু ফুলের দৃশ্য আপনি সুন্দরভাবে ক্যামেরাবন্দি করেছেন এবং এই পোষ্টের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আর ফুলের জন্য আপনার আজকের পোস্ট দুর্দান্ত হয়ে উঠেছে।

 3 years ago 

এলোমেলো কিছু চমৎকার ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার করা ফটোগ্রাফি গুলো। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আপনি আপনার গিন্নির ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ছবি তুলেছেন বেশ মজার ছিল ব্যাপারটা🤣।আপনার তোলা প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। ইকো পার্কে ঘুরতে যেয়ে খুব সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি ক্যাপচার করেছেন এবং সেগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

প্রজাপতির ফটোগ্রাফি দেখতে অনেক সুন্দর লাগতেছে। আমিও নতুন ফলের গাছটি দেখলাম খুব ভালো লাগলো। ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো ও দেখতে অনেক সুন্দর লাগতেছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে দাদা চমৎকার একটি পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য।

 3 years ago 

আপনার ফটোগ্রাফি পোস্ট দেখলেই বোঝা যায় আপনি অনেক ভালো ফটোগ্রাফার। আপনার প্রতিটি ছবি অসাধারণ হয়েছে ফুলের ছবিগুলো আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে ।শুভকামনা রইল আপনার জন্য

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

অনেক সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ফটোগ্রাফি গুলো এলোমেলো হলেও দেখতে কিন্তু দারুণ লাগছে। বেশ কিছু ফুলের ছবি আপনি সুন্দর ভাবে ক্যামেরা বন্দি করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন যার কারনে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম ধন্যবাদ দাদা এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।

 3 years ago 

কারণ আমি প্রথম ওর রাগ ভাঙ্গিয়ে আবার যখন ফটোগ্রাফি করতে শুরু করলাম তখন দেখলাম আবারও পুনরায় রেগে ফায়ার

ব‍্যাপারটা তো তাহলে একেবারে যাচ্ছেতাই হয়ে গিয়েছে দাদা হাহা। আপনার গিন্নির রাগ করার কারণও অবশ‍্য আছে। আপনি তাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ছবি তুলবেন আর সে একা একা ঘুরবে এটা কি হয়। আর ছবিগুলো দেখে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে এগুলো যুদ্ধ করেই তুলেছেন হা হা। তবে ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার ছিল। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করে নেওয়ার জন্য আপনাকে দাদা।

Posted using SteemPro Mobile

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 64802.30
ETH 1880.54
USDT 1.00
SBD 0.38