এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি পর্ব -২১
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবারও আমার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আসলে বর্ষাকাল আমার কাছে খুব প্রিয় একটি ঋতু। আবার কারো কারো কাছে প্রিয় নয়। বিশেষ করে যারা গরিব শ্রেণীর লোক, যারা দিনমজুর তাদের কাছে এই সময়টি বেশ একটা আনন্দের সময় নয়। কারণ এই বর্ষার দিনে তাদের ইনকামের জন্য খুব একটা ভালো সময় না। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের দিকে অনেক বাড়ি আছে যাদের পাকা কোন ঘর নেই। ছোট একটা খড়ের ঘরে তাদের বসবাস। আর এসব ঘরের বেশিরভাগ জায়গা দিয়ে জল ঢোকে। তাই এই সময়টা তাদের যায় অনেকটা নিদ্রাহীন ভাবে।
তো আমি আবারো বেরিয়ে পড়লাম এই বর্ষার সময়ে কিছু ফটোগ্রাফির জন্য। আর বর্ষার সময় ফটোগ্রাফিটা কিন্তু অতটা সহজ নয়। কারণ এই বর্ষার সময় আমাদের ক্যামেরা যেকোনো সময় খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্ষার জল যদি ক্যামেরায় একবার ঢোকে তাহলে সেই ক্যামেরা খারাপ হবে তা নিশ্চিত। তাও কিছু ভালো ফটোগ্রাফির সন্তানের জন্য একটু রিক্স নিয়ে ছবি তুলতে গেলাম।
আসলে ছবি তুলতে আবারও চলে গেলাম সেই গ্রামের দিকে। গ্রামের মাঠ অলিগলি আমার খুব পছন্দ। তো বলতে বলতেই কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আর তারপরেও রাস্তায় ভীষণ কাদা। যাইহোক আমরা কোন একটা ছোট ঘর দেখতে পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়লাম। তো কি করা যায় কি করা যায় ভাবতে না পেরে কিছু পথচারীদের ছবি তুলতে লাগলাম।
দেখলাম একটি কাকা মাথায় ছাতা নিয়ে তুমুল বৃষ্টি এবং হাওয়ার মাঝে গরু আনতে যাচ্ছিলেন। তো আর দেরি না করে কাকাকে দিয়েই ছবি তোলা শুরু করলাম। কাকা মাঝে মাঝে একটু নিচু হয়ে যাচ্ছিলেন কারণ হাওয়ার গতিবেগ বেশি থাকায় ওনার ছাতা উড়ে যাচ্ছিল।
আবার কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলাম একজন বালক সাইকেল নিয়ে তুমুল গতিতে বাড়ির দিকে রওনা হচ্ছিল।
এই কাদার রাস্তায় সে খুব রিক্স নিয়েই সাইকেল চালাচ্ছিল কিন্তু। সামান্য একটু অসাবধানতা আর একেবারে খালে যাবে ছেলেটি। তাও দেখলাম ছেলেটির অনেক দক্ষতার সাথে সাইকেলটি চালাচ্ছিল।
আরেকজন বালক এই বৃষ্টি এবং তুমুল হাওয়ার ভিতর দৌড়ে কোথায় যেন ছিল। আসলে একদিকে তার খুব যেমন খুব মজা হচ্ছিল আর অন্যদিকে তার ছাতা ও প্রায় হাওয়ায় ভেঙে যাচ্ছিল। তো কিছুদূর যেতে যেতেই ছেলেটি আছাড় খেয়ে পরলো। সেই বিশেষ দৃষ্টির ছবি আমি তুলতে পারলাম না।
আরেকটু দূরে মা এবং ছেলে মিলে প্রথমে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছিল। ঝড় আসাতে তারা দুজনে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল এবং তাদের ভিতরে কি কথোপকথন ও যেন চলছিল। আসলে দূর থেকে বুঝতে পারছিলাম মা তার ছেলেটিকে কোন একটা কারণে বকাবকি করছিল। কিছুক্ষণ পর মা ছেলেটিকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
বৃষ্টি যখন ছিল তখন আমরা ছোট একটা খালের পাশে কুঁড়ে ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম এবং খালের ভিতরে বাবা এবং তার দুই ছেলে মিলে মাছ ধরছিল। প্রথমে তারা জাল টিকে এরপর থেকে ওপারে শক্ত খুটির সাথে বেঁধে দিল।
অবশ্য প্রথম দিকটাতেই বাবা সব বন্দোবস্তই করেছিল এবং শেষের দিকে তার এক সন্তান জালের প্যাচ খুলে দিচ্ছিল। দুই বাবা ছেলে মিলে ছাতার নিচে কিছুক্ষণ রইল। এরপর তার ছেলেটি সঠিকভাবে জালটিকে টানাতে না পারায় বাবা তার কাছে চলে এলো।
বৃষ্টি থামতে একদল শ্রমিক আবার পুনরায় তাদের কাজে লেগে পড়লো। আসলে বৃষ্টির ভিতর এই সব ধরনের কাজ খুবই বিপদজনক। কারণ তাদের অনেক উপরে উঠে কাজ করতে হয়। ছেলেটি আসলে বড় একটা পিলারের কাজ করছিল এবং তাদের নিচ থেকে মাল মসলা মাথায় নিয়ে উপরে নিয়ে যেতে হচ্ছিল বারবার। কোনভাবে যদি সে পা পিছলে এতটা উপর থেকে নিচে পড়ে যায় তাহলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী
ক্যামেরা পরিচিতি : NIKON
ক্যামেরা মডেল : Nikon D5200
ক্যামেরা লেংথ : 300 mm
তারিখ : 07/05/2022
আশাকরি আজকের এই ফটোগ্রাফিক পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
আসছে বর্ষা ঋতু আমার তো খুবই ফেভারিট ।আবার কারোর কারোর জন্য কষ্টের ও সময় এটা আপনি ঠিকই বলেছেন।
ফটোগ্রাফি আমার কাছে খুবই ভালো লাগে আপনার ফটোগ্রাফি দেখে পুর্বের নয় আজও আবার আমি মুগ্ধ হয়েছি অপলক নয়নে চেয়েছি বারবার ফটোগ্রাফির দিকে।।
তাছাড়া ফটোগ্রাফি গুলা সম্পর্কে খুবই সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। আসলেও বৃষ্টি আমাদের কাছে ভালো লাগার একটা ঋতু হলেও গরিবদের কাছে কিন্তু বৃষ্টি কখনই ভালোলাগার ঋতু নয়।
আমার পছন্দ না ভাইয়া, এর কারণ হলো গ্রামে মেঘ বৃষ্টিতে বের হলে সব কাদামাটি দিয়ে পরিপূর্ণ থাকে। তখন বেশ বিরক্ত লাগে। কিন্তু বৃষ্টির ঝুম শব্দটা আমার বেশ পছন্দ।
আপু আপু ফটোগ্রাফির হাত অনেক ভালো, যাইহোক এটা বলতেই হয়। অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি দেখলাম।
প্রথম কথা হল আমি কিন্তু আপু নই। আমি হয়তো বা ভাই অথবা দাদা। যাইহোক আমার ফটোগ্রাফি পছন্দের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
বর্ষাকাল আমার কাছেও খুবই ভালো লাগে যদি বাইরে কোন কাজ না থাকে। ঠিকই বলেছেন ভাইয়া বর্ষাকাল খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য খুবই কষ্টকর। বৃষ্টিতে ভিজে তাদেরকে কাজ করতে হয়। যাই হোক আপনার আজকের ফটোগ্রাফি কিন্তু খুব চমৎকার হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ফটোগ্রাফি টা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। অনেক সময় নিয়ে করেছেন মনে হয় ফটোগ্রাফিটা।
আপনি ঠিকই বলেছেন বর্ষাকালে বাইরের কাজ থাকলে অনেক কষ্ট হয়। কারণ বর্ষার সময় ভিজে ভিজে কাজ করতে করতে আমাদের শরীর অসুস্থ হয়ে যায়।
বর্ষাকাল আমার তেমন ভালো লাগে না কারন বৃষ্টি হলে অফিসে যেতে ভীষণ বেগ পেতে হয়। আপনার বর্ষার এলোমেলো ছবিগুলো ভীষণ গোছানো মনে হয়েছে আমার কাছে।
প্রতিটি ছবির যেন আলাদা গল্প রয়েছে।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর ছবিগুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
হ্যাঁ দাদা বর্ষাকালে অফিসে যেতে খুবই কষ্ট হয়। আর বর্ষাকালে ফটোগ্রাফিও কিন্তু অনেক কষ্টের।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাই বর্ষার সময় ফটোগ্রাফি খুব কঠিন। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই আমার আজকের ফটোগ্রাফি পোস্ট তোমার ভালো লাগার জন্য। আসলে ভালো লাগার পিছনে অনেক কষ্ট থাকতে।
ফটোগ্রাফি গুলো দেখে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম দাদা। সত্যি কথা বলতে আপনি সত্যিই দারুন ফটোগ্রাফি করেন। আসলে আপনার মত একজন দক্ষ ফটোগ্রাফারের ফটোগ্রাফি আমরা দেখতে পারি এটা আমাদের সৌভাগ্য। অনেক অনেক শুভকামনা রইল দাদা।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। আপনার পোস্টগুলো সব সময় আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আর আপনার অনুপ্রেরণার কারণে আমি আরো ভালো ভালো ফটোগ্রাফি পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করব।