জেনারেল রাইটিং: স্কুল জীবন থেকেই ভাইবা অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার, এপ্রিল ২৮/২০২৩
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পুনরায় আরও একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আপনারা যারা আমার পোস্ট নিয়মিত পড়েন তারা হয়তো বা সকলে জানেন যে আমি পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক। অন্যান্য স্কুলের তুলনায় আমাদের স্কুলের নিয়ম গুলো একটু ভিন্ন ধরনের। এইতো ঈদের কয়েকদিন আগেই আমাদের স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। যার কারণে আমরা ছাত্রছাত্রীদেরকে ঈদের ছুটি খুব একটা বেশি দিতে পারেনি। আমরা মাত্র চার দিন ঈদের ছুটি দিয়েছিলাম। আর ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকেই আমাদের স্কুলে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।
গতকাল অর্থাৎ ২৭ তারিখে আমাদের স্কুলের পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছে। ঈদের ছুটি না পেলেও আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দের সাথেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখেছি যে আমাদের স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার দিকে যেন একটু বেশি অগ্রসর। তাদেরকে আমরা যতই চাপ দিয়ে লেখাপড়া করাতে চাই না কেন তারা সেটাকেই খুব সহজভাবে গ্রহণ করে নাই।
শেষ পরীক্ষার দিনে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমাদের স্কুলের প্লে শ্রেণীর একটা ছাত্রী মন খারাপ করে বসে আছে। কারণ জানতে চাইলে জানতে পারলাম যে অনেক আগেই তার পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছে তার আর ভালো লাগছে না পরীক্ষার রুমে বসে থাকতে। তখন আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে তার কয়েকটা ছবি তুলতে শুরু করলাম। ছবি তুলতে তুলতে এক পর্যায়ে এসে হাসতে শুরু করে দিল।
এবার আমি আপনাদের মাঝে যে বিষয়টার কথা বলবো সেটা হয়তো বা আপনারা কোনদিনই স্কুল লাইফে দেখেননি। আপনারা হয়তোবা সকলেই ভাইবার অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার সাথে পরিচিত। সাধারণত ইউনিভার্সিটি লেভেলগুলোতে এবং বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে এই ধরনের মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকে। এর ফলে দেখা যায় অনেকের জীবনে এই বিষয়টি প্রথম হবার কারণে তারা ভয় পেয়ে যায়। এজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যেন ভাইবার এই বিষয়টা ছাত্রছাত্রীদের মনের মধ্যে ভয় কাজ না করে সে লক্ষ্যে। এখন থেকে আমাদের স্কুলে যতগুলো পরীক্ষা হবে প্রত্যেক পরীক্ষার শেষে ২০ নম্বরের ভাইবা হবে। এই ভাইবার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের মনের মধ্যে থেকে ভাইবার ভয় দূর করা।
এটা তাদের জীবনের একটা প্রথম নতুন অভিজ্ঞতা বলে আমার কাছে মনে হয়। যখন আমি ভাইবা নিয়েছিলাম তখন তাদের কাছ থেকে জানতে চাইলাম তাদের মনের অনুভূতি। দেখতে পেলাম তারা অনেকেই বিষয়টাতে ভয় পাচ্ছে। আসলে এটাই স্বাভাবিক একটা বিষয়। আমরা সকলেই যখন ভাইবা দিতে যাই আর সেখানে যখন আমাদেরকে প্রশ্ন করা হয় আমাদের মনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভয় কাজ করে। আশা করি পরবর্তী পর্যায়ে যখন এদেরকে প্রতিনিয়ত এই কাজের সাথে অভ্যস্ত করে ফেলা হবে তখন তারা আর এই বিষয়টাতে এত ভয় পাবে না। পরবর্তীতে তারা এই বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা করে নিবে।
আমাদের স্কুলের গ্রহণ করা এই ভিন্ন ধরনের উদ্যোগটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব নতুন কোন একটা পোষ্টের মধ্য দিয়ে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR