লাইফস্টাইল: ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিল
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শনিবার, এপ্রিল ২২/২০২৩
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আপনাদের মাঝে আরো একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। প্রথমে আমি সকলকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক। প্রত্যেক বছর আমাদের গ্রামের সদস্যদের কে নিয়ে আমরা আমাদের গ্রামের স্কুল মাঠে একটা ইফতারির আয়োজন করি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এই বছরও আমরা একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এ বছরে দ্রব্যমূল্যের দাম অনেক বেশি হবার কারণে আমাদের টাকা একটু বেশি উত্তোলন করতে হয়েছিল। আমরা ৫৫০ জন সদস্যের জন্য ইফতারির ব্যবস্থা করেছিলাম।
অন্যান্য বছর আমরা যে তরমুজ ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি কিনে থাকি সেই তরমুজ এই বছরে ৬৫ টাকা কিনতে হয়েছে। তাহলে বুঝুন দ্রব্যমূল্যের দাম কিভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের দেশে। এই কারণে আমরা পুরো গ্রাম থেকে ৫৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলাম এই ইফতার মাহফিলের জন্য।
আমরা আমাদের এই ইফতারিতে কি কি দিয়েছিলাম তা আপনাদের মাঝে উপরের ছবিগুলোতে শেয়ার করে দিয়েছি। সর্ব মোট আমরা ১৪ টি উপকরণ দিয়েছিলাম এই ইফতারের। প্রত্যেক প্যাকেটের প্রায় ১০০ টাকার মতো খরচ হয়ে গিয়েছিল। খরচের পরিমাণটা একটু বেশি হলেও আমরা যে এই কাজটি প্রত্যেক বছরের মতো এবারও করতে পেরেছি এর জন্য অনেক খুশি। আমাদের এই কাজে পুরো গ্রামের মানুষ উৎসাহ প্রদান করে যার কারণে আমরা এই কাজটি প্রত্যেক বছর করতে সক্ষম হই।
এত জিনিস একসাথে ব্যবস্থা করতে একটু বেশি সময়ের প্রয়োজন যার কারণে আমরা বিকেল চারটার দিকেই প্যাকেট করার কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। আমাদের প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় লেগেছিল এই ৫৫০ টি প্যাকেট করার জন্য।
আমাদের এই ইফতার মাহফিল টা বলা যেতে পারে একটা ঐতিহ্যের ব্যাপার। অনেক বছর ধরেই এই ঐতিহ্যটা আমাদের গ্রামে চলে আসছে। প্রত্যেক বছরের ২৯ শে রমজান এই তার মাহফিলটির আয়োজন করা হয়ে থাকে। অন্য বছরে ৪০০ জন মানুষের জন্য এই ইফতারের আয়োজন করা হয় কিন্তু এবছর রোজাদারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার কারণে ৫৫০ জনের জন্য আয়োজন করতে হয়েছে। অন্য বছরে থেকে কাজের পরিমাণটাও এবার অনেক বেশি। অন্য বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হলেই এই ইফতার মাহফিল কমপ্লিট হয়ে যায়। সব মিলিয়ে আমাদের এই ইফতার মাহফিলটা যে আমরা ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি এর জন্য নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে।
আমাদের গ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলের বিষয়টি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো নতুন কোন একটা পোষ্টের মধ্যে দিয়ে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
সবাইকে নিয়ে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। আসলে সবাইকে নিয়ে এমন সুন্দর করে ইফতার করার মুহূর্ত অতিবাহিত করাটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। সবাইকে নিয়ে একসাথে ইফতার করার অনুভূতিটা খুবই অন্যরকম হয়ে থাকে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া এমনভাবে সকলের সাথে ইফতার করা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার
আপনার ইফতার পার্টির আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগলো। আসলে ঠিক বলেছেন সবকিছু যেভাবে দাম বেড়েছে। তারপরও আপনারা এলাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা কালেকশন করেছে। ৫৫০ জনের অ্যারেঞ্জমেন্ট করলে অনেক বড় একটি ইফতার পার্টি করলেন। ইফতারের মধ্যে ১৪ আইটেমের ইফতার করেছেন। আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো অনেক বড় ইফতার পার্টি খুব সুন্দর করে করেছেন। আগেরবার থেকে এখন অনেক বেশি দাম দিয়ে জিনিসগুলো কিনেছেন। সবচেয়ে বড় কথা সুন্দর ভাবে ইফতার পার্টির কাজটা শেষ করতে পেরেছেন।
প্রত্যেক বছরে ৪০০ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় এই বছরে একটু মানুষের সংখ্যা বেশি।
গ্রামের স্কুল মাঠে অনেক বড় ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন। তবে ঠিক বলেছেন ভাইয়া এখন বাজারে সবকিছু দাম অনেক বেশি। কিছুদিন আগে আমিও আমাদের বাড়ি থেকে এভাবে একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করলাম। তবে আপনাদের ইফতার পার্টি অনেক বড় ছিল। ৫৫০ জনের ইফতার পার্টি করেছেন আপনারা। তবে আপনারা ইফতার পার্টির মধ্যে ১৪ আইটেমের জিনিস ব্যবস্থা করলেন।যদিও আপনারা এলাকা থেকে কালেকশন করেছেন টাকা। খুব খুশি হলাম খুব সুন্দর করে ইফতার পার্টির কাজ শেষ করতে পেরেছি। এত সুন্দর একটি কাজ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমরা প্রত্যেক বছরেই এই ধরনের আয়োজন করে থাকি।