জেনারেল রাইটিং: কোরবানির ঈদের আগে শেষ সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পুনরায় আরও একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আপনারা যারা আমার পোস্টগুলো নিয়মিত পড়েন তারা হয়তো বা অনেকেই জানেন যে আমাদের স্কুলের বিষয়গুলো আমি আপনাদের মাঝে মাঝে শেয়ার করি। আমার সেই পোস্টগুলো পড়ে আপনারা অনেকেই হয়তো বা আমাদের স্কুলের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হয়ে গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। আমরা সবসময় চেষ্টা করি ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্য। আর এই মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্যই আমরা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করি যেগুলোর ফলে তারা মানসিকভাবে বিকশিত হতে পারবে। যদি শুধুমাত্র লেখাপড়ার মধ্যেই রেখে দেওয়া যায় তাহলে তারা জীবনে কোনদিনই উন্নতি করতে পারবে না। হয়তোবা তারা প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করতে পারবে কিন্তু সমাজের বুকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের সাথে যুক্ত থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। এইজন্য এই মূলত আমরা যে সকল উদ্যোগগুলো গ্রহণ করি তার মধ্যে একটি হচ্ছে সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আপনারা হয়তোবা জানেন যে এটার নাম সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও আমরা বর্তমানে আর এটা প্রত্যেক সপ্তাহে করি না। এই সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রত্যেক সপ্তাহের না করার সবথেকে বড় কারণ হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকে। যেহেতু সপ্তাহে দুই দিন ছুটি তাই লেখাপড়ার জন্য সময় এমনিতেই অনেক কমে গিয়েছে। এজন্যই আমরা মূলত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি যেন প্রত্যেক এক সপ্তাহ পরপর এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করতে পারি। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি অতীতে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাম শুনলেই কান্নাকাটি শুরু করে দিব আজকে তারাই আগে আগে এই অনুষ্ঠানের নাম দেয়। এবার এমন একটা ছাত্রীর কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি শুনেছি যাকে আমরা জোর করেও অনুষ্ঠানের নাম দেওয়াতে পারতাম না। এমনকি যখন তার মা মাইক হাতে তাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করত তখনও সে কিছুই বলত না। আর আজকে এসে নিজেই এসে অনুষ্ঠানে সুন্দরভাবে কবিতা আবৃত্তি করলো। তার এই কবিতা আবৃত্তি শোনার পরে আমার যেন নিজের কাছেই নিজেকে সার্থক বলে মনে হচ্ছিল।
প্রত্যেক সপ্তাহের মত এবারও কোরআন তেলাওয়াত, প্রধান শিক্ষকের স্বাগত বক্তব্য এবং তারপরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল আমাদের এই সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি।
এরপরে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য পর্বগুলো চলতে থাকে। সেই ধারাবাহিক পর্বগুলোর মধ্যে প্রথমে ছিল কোরআন তেলাওয়াত। এবারের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী কোরআন তেলাওয়াতের নাম দিয়েছিল।
আমি লক্ষ্য করে দেখেছি আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সবথেকে বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাম দেয়াই কবিতা আবৃত্তিতে। এটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। যদিও হয়তোবা এখন তারা ঠিকভাবে কবিতা আবৃতি করতে পারে না কিন্তু আজকের এই অভ্যাস ভবিষ্যতে তাকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাবার জন্য কাজে আসবে। প্রতিনিয়ত যদি তারা এভাবে কবিতা আবৃতি করতে পারে তাহলে একদিন দেখা যাবে তারাও অনেক সুন্দরভাবে কবিতা আবৃত্তি করতে সক্ষম হচ্ছে।
এরপরের অন্যান্য পর্বগুলোতে ছিল ইসলামিক সংগীত, উপস্থিত বক্তৃতা, দেশের গান এবং নৃত্য। আমাদের স্কুলে অতীতে বেশি ছাত্রছাত্রীর নৃত্য অংশ গ্রহণ করত না কিন্তু এখন আমি লক্ষ্য করে দেখলাম অনেক ছাত্রছাত্রী আছে এই বিষয়টাতে অংশগ্রহণ করছে।
সব মিলিয়ে এবারের এই সপ্তাহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শেষ করার পরে নিজের কাছেই নিজেকে সার্থক বলে মনে হচ্ছিল। কারণ এ সপ্তাহে আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীর এমন কিছু পারফরম্যান্স দেখতে পেরেছি যা আমরা কোন সময় কল্পনাও করতে পেরেছিলাম না। যদি আমরা আমাদের এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে খুবই ভালো একটা অবস্থানে প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।
আমাদের ইস্কুল থেকে গ্রহণ করা এই উদ্যোগটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এই পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হওয়া নতুন কোন একটা পোস্টের মধ্য দিয়ে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আপনারা খুবই চমৎকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে অনেক আগে জানতে পেরেছিলাম যে আপনারা এরকম স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকেন। যদিও এখন সপ্তাহে দুদিন ছুটি থাকার কারণে এক সপ্তাহ পর করে এই উদ্যোগ নিয়েছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। আমি বরাবরই এরকম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই কারণ এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র লেখাপড়াই নয় তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। আপনাদের এই সুন্দর উদ্যোগকে আমি বরাবরই সাপোর্ট করি। শুভকামনা রইল আপনাদের জন্য।
আমি লক্ষ্য করে দেখেছি এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার আগ্রহ ও বৃদ্ধি পেয়ে যায়