❝ছোটবেলার বন্ধু রাহাতের সাথে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি এবং মনোমুগ্ধকর ফটোগ্রাফি❞
কিছুদিন আগে অর্থাৎ দুই শুক্রবার আগে আমার ছোটবেলার বন্ধুরা রাহাত ময়মনসিংহ থেকে সিরাজগঞ্জে ঘুরতে এসেছিল।সিরাজগঞ্জে এসে রাহাত আমাকে কল করলো যে, তোর বাসায় আসব। রাহাতকে আমি আমার বাসায় আসতে বললাম।সেখানে আমরা দুপুরের খাবার একসাথে খেলাম। দুপুরে খাবার একসাথে খাওয়ার পর রাহাত বলল,চল তাহলে আজকে বিকেলে কোথাও ঘুরতে যায়।আমি রাহাতকে বললাম আমরা তো ছোটবেলা থেকেই যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে যেতাম।সেখানে আমাদেরও অনেক স্মৃতি আছে।তো তাহলে চল আজকের যমুনা নদীর পাড়েই ঘুরে আসি।অনেকদিন পর বন্ধু রাহাতকে নিয়ে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাব ভেবে খুবই ভালো লাগলো,রাহাতও অনেক খুশি হল।
ছোটবেলায় আমরা যখন যমুনা নদীর পাড়ে আসতাম তখন এখানে এত বড় বড় টারবাইন ছিল না।তাই রাহাত প্রথমবার এত বড় বড় টারবাইন গুলো দেখে তার অনেক ভালো লাগলো।সে অনেক খুশি হল এবং এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো সে উপভোগ করতে লাগলো। বিকেল চারটার দিকে যমুনা নদীর পাড়ে এসেছিলাম। তাই প্রচন্ড রোদ ছিল।রোদের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল।কিন্তু অনেকদিন পর ছোটবেলার বন্ধুকে নিয়ে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি দেখে এই কষ্টটা তেমন অনুভূত হলো না।তাই আমি আর রাহাত দুজনে মিলে মজা করতে করতে নদীর পাড়ে দিয়ে হাঁটতে লাগলাম।
আমরা নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেকখানি পথ চললাম।এরই মধ্যে দিয়া আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হতে লাগলো। আকাশ লালচে আকার ধারণ করল।এ সময় প্রকৃতি অন্য একটি রূপে সেজে উঠল।নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির এমন অদ্ভুত সৌন্দর্য দেখে আমাদের আরো অনেক বেশি ভালো লাগলো।কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে সব সময় মুগ্ধ করে তোলে তাই এরকম দৃশ্য আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে তোলে। এত মনোরম একটি পরিবেশে আমি এবং আমার বন্ধুর রাহাত মিলে পুরনো দিনের সব স্মৃতি গুলো মনে।এছাড়াও আমরা একে অপরের সাথে অনেক মজায় এবং ফাজলামি করলাম।বারবার মনে হচ্ছিল আমরা ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছি।
সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে থেকেই অর্থাৎ বিকেল থেকেই দেখি আকাশে বড় চাঁদ উঠেছে।এমন সময় এত বড় চাঁদ দেখে আমরা অনেকটা হতবাক হয়ে গেলাম।আকাশের ঠিক হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম।আর ভাবলাম যে এত আগেই আকাশে এত বড় চাঁদ ওঠার কারণটা কি।ভেবে আমরা এর কোন অ্যানসার পেলাম না।আকাশে বিকেল বেলায় এত বড় চাঁদ দেখে আমার আরো অনেক বেশি ভালো লাগলো।তাই সাথে সাথে আমি অনেকগুলো ফটোগ্রাফি করে নিলাম যে,বিকেল বেলায় চাঁদ উঠেছে এরকম ফটোগ্রাফি করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।টারবাইনের সাথে চাঁদের এই ফটোগ্রাফিটি ব্যক্তিগতভাবে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।আশা করি ফটোগ্রাফিটি আপনাদেরও অনেক ভালো লেগেছে।
এখন শরৎকাল চলছে। বিশেষ করে নদীর পাড় দিয়ে কাশফুলে ভরে উঠেছে। কাজফুল আমরা অনেক পছন্দ করি। তাই কাশফুল দেখতে আমরা সবাই নদীর পারে গিয়ে ভিড় করি।ঠিক যমুনা নদীর পাড়ে এই জায়গাটায় কাশফুলে একদম ভরে গেছে।তাই নদীর পাড়ের এই জায়গাটায় মানুষ দিয়ে ভরা। এখানে পা রাখার জায়গা পেয়েছিলাম না।সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ মুহূর্তে এখানে যাওয়ার একটি সুযোগ পেয়েছিলাম।শুধু যে এখানেই কাশফুল আছে তা নয়।যমুনা নদীর ওপারে তো কাশফুল দিয়ে একদম ছড়াছড়ি।চড় দিয়ে কাশফুল দিয়ে ভরে গেছে। সেখানেও মানুষ নৌকা দিয়ে কাশফুল দেখতে যাচ্ছে।
আমি আর আমার বন্ধু রাহাত যমুনা নদীর পাড় দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সূর্যও অস্ত গেল।যমুনা নদীর পাড়ে বসে বসে আমরা সূর্য অস্ত্র দেখলাম।নদীর পাড়ে বসে সূর্য আস্ত দেখার আনন্দটাই অন্যরকম।সূর্য অস্ত দেখার পর আমি আর আমার বন্ধু রাহাত আর বেশি সেখানে দেরি করলাম না। তাই তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসলাম।আর এভাবেই বন্ধু রাহাতের সাথে খুব সুন্দর একটি দিন অতিবাহিত করলাম।
প্রত্যেকটা ছবি তোলার লোকেশন এবং ডিভাইসের নামঃ
Device:Poco X2
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | রেডমি পোকো x2 |
|---|---|
| ধরণ | ❝ছোটবেলার বন্ধু রাহাতের সাথে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি এবং মনোমুগ্ধকর ফটোগ্রাফি❞ |
| ক্যমেরা মডেল | Poco X2 |
| ক্যাপচার | @mohamad786 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |
👉বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺
টুইটার লিংক
যমুনা নদীর পাশ থেকে ধারণ করা দারুন কিছু ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। এই ধরনের পরিবেশে যদি সময় অতিবাহিত করা যায় তাহলে তা খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় যখন সূর্য অস্ত যায় তখন খুবই ভালো লাগে এই ধরনের দৃশ্যগুলো।
ভাইয়া সবগুলো ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। জায়গাটি অসাধারণ ছবি গুলো অসাধারন হয়েছে। খুব মিস্ করি এই জায়গা টাকে। সিরাজগঞ্জ শহরে থাকতে দুই তিন দিন পর পর যাওয়া হতো। শেষ বার গিয়েছিলাম গত কুরবানী ঈদের পর।