নদীর দ্বিতীয় রূপ // পর্ব - ১ // ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য।
হ্যালো আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।
হ্যা আমি তিস্তা নদীর কথাই বলছি আজ আমি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কাশিমবাজার এলাকায় আছি। এখানে গত বছর বন্যার সময় খরস্রোতা নদীর তাণ্ডবে বাজারে ঢুকবার রাস্তাসহ আশেপাশের অনেক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সেইসাথে প্রচুর ফসলি জমির ফসল নদী ভাঙ্গনের ফলে বিনষ্ট হয়ে যায় সেখানে এখন ধূ ধূ বালুর চর। এখন আমি এখানে নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলির জীবন চিত্রের কিছু ফটোগ্রাফি তুলে ধরব।
নদীভাঙনের ফলে এখানকার মানুষের থাকা খাওয়ার জন্য যেমন প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় ঠিক তেমনি গবাদি পশুর খাদ্য জোগাড় করতে তাদের কিছু কম ভোগান্তি হয় না। এই নদীর মাঝখানে জেগে উঠা চরে অনেক আগাছা ও ঘাস জন্ম নেয়। তারা প্রতিদিন চর থেকে এভাবে গবাদি পশুর জন্য খাদ্য কেটে নিয়ে এসে নদীর পানিতে ধুয়ে খাবার প্রস্তুত করে।
চর এলাকায় লোকজন কখনো জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া শেখেনি। তারা ছোটবেলা থেকেই এরকম প্রতিকূল পরিবেশে থেকেই বড় হয়েছে। তাই তারা জীবনের শুরু থেকেই কিভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে হয় শিখে নিয়েছে। আমি দূরে থেকে কিছু একটা হচ্ছে ভেবে সেদিকে এগুতে থাকলাম। সামনে এগিয়ে দেখতে পারলাম নৌকা বানানোর কর্মযজ্ঞ চলছে। আর কিছুদিন পরেই আবার বন্যা অবশ্যম্ভাবী সেজন্য নতুন করে নৌকা বানানোর প্রস্তুতি চলছে। নদীতে নৌকা বানানোর উপকারিতা হচ্ছে এখানেই নৌকা বানানোর ফলে বন্যার সময় এখান থেকেই পানিতে ভাসানো যাবে।
আমি নদীর তীর থেকে নেমে চরের মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটতে থাকলাম। হাঁটতে হাঁটতে অনেক ভালো ভালো দৃশ্য চোখে পড়লো। এমন অনেক কিছু দেখেছি যা আমি পূর্বে কখনো দেখি নাই। সেইসব অনুভূতি গুলো আমি পরবর্তীতে শেয়ার করার চেষ্টা করবো। চরের মধ্যে অনেক ফসল ফলিয়ে এখানকার কৃষকেরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই ফসলগুলো সাধারণত ডাঙার ভালো জমিতে ফলে না। কিন্তু চরের জমি গুলোতে ফসল ফলানো একটু কষ্টকর কারণ এখানে চারিদিকে শুধু বালু আর বালু। মেশিন বসিয়ে পানি উঠানো যায় কিন্তু পানি সবোরাহের জন্য ড্রেন করা সম্ভব নয় বালুর কারণে। তাই বিকল্প পথ হিসাবে এইভাবে প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
আমি এখানে নদী ভাঙ্গনের ফলে মানুষের ঘরবাড়ি সহ ফসলি
জমি নষ্ট হয়ে যাবার কারনে সৃষ্ট কিছু প্রতিবন্ধকতার ফটোগ্রাফি ও কিছু বর্ণনা শেয়ার করলাম। পরবর্তী পর্বে আমি নদী ভাঙ্গনের ফলে জেগে উঠা চরে এখানকার কৃষকেরা কিভাবে সোনালী ফসল ফলিয়ে জিবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য লড়াই করে সেই দৃশ্য গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি A ১০ |
|---|---|
| শ্রেণী | ফটোগ্রাফি |
| ফটোগ্রাফার | মাইদুল ইসলাম |
| লোকেশন | w3w location |
আপনি অসাধারণ একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। আপনি অনেক সুন্দর কিছু কথা বলেছেন। আসলে নদীভাঙনের ফলে এলাকার মানুষকে থাকা খাওয়ার জন্য যুদ্ধ করতে হয়। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আমার পোস্টে আসার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
নদীর পাশে মানুষগুলোর জীবন বৈচিত্র নিয়ে আপনি বেশ সুন্দর একটি আর্টিকেল আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন, আপনার আর্টিকেলটি পড়ে খুবই খারাপ লাগলো নদী তীরবর্তী মানুষগুলোর জন্য। তারা প্রতি বছরই বন্যার সাথে তাদের জীবন যুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছে আসলে বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। সরকারের উচিত এখানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাতে তাদের এভাবে প্রতিনিয়ত কষ্টের সম্মুখীন হতে না হয়। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে নদী ভাঙ্গন রোধে করণীয় কি সেটা নিয়ে খুব দ্রুত ভাবা উচিত। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
কথাটি ভাই আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমি নদীমাতৃক এলাকায় তেমন একটা যায়নি তবে নদীমাতৃক এলাকার মানুষ কিভাবে জীবন যাপন করে সেই বিষয় নিয়ে মোটামুটি আমার একটু ধারনা রয়েছে। নদী ভাঙ্গন শুরু হলে তাদের কষ্ট শেষ থাকে না। পোস্টটি পড়ে অনেক অজানা জিনিস জানতে পারলাম ধন্যবাদ আপনাকে ।
আমার পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কর্মসূত্রে আমি গাইবান্ধা জেলায় প্রায় এক বছর ছিলাম। তখন সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। আমার কাজই ছিল বন্যা প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা। ওই এলাকার মানুষ গুলো আসলেই প্রতিবছর বন্যাকবলিত হয় কিন্তু তাদের জন্য তেমন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। আপনারা আর্টিকেলটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য
ধন্যবাদ ভাই আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আমার পোস্টে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।