ফটোগ্রাফি পোস্ট-প্রকৃতি , শ্রাবন আর আকাশের কিছু ফটোগ্রাফি
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। চলে গেল ঈদ। সেই সাথে চলে গেল পবিত্র রমজান মাস। আবার এক বছর পর আমরা ফিরে পাবো এই রমজান মাস। জানিনা কে কতটুকু নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পেরেছি। যাই হোক প্রতিদিনের মত করে আজও চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য। আসলে চলতে ফিরতে এত এত ফটোগ্রাফি করেছি যে প্রতিটি ফটোগ্রাফি আমার মোবাইলে জমে একেবারে মোবাইল কে হ্যাংঙ করে দিয়েছে। এই ফটোগ্রাফি করে শেষ হবে কে জানে।
আমার কাছে ফটোগ্রাফি করা একটি আর্ট। আর সেই ফটোগ্রাফি যদি করা যায় মনের মনের মাধুরী মিশিয়ে তাহলে কিন্তু ফটোগ্রাফি হয়ে উঠে বেশ আকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। অবশ্য সবার পক্ষে সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করা হয়ে উঠে না। তবে আমরা যদি ক্যামেরার লেন্স এবং ফোকাস বুঝে একটু সময় নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারি তাহলে কিন্তু আমরাও একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হতে পারবো। আর নিজেদের দক্ষতাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তাই আমাদের উচিত হবে সুন্দর এই শিল্পটিকে সুন্দর করে শিখে নেওয়া।
প্রকৃতি হলো মানুষের সত্যিকারের বন্ধু। প্রকৃতির নেই কোন অভিমান, নেই কোন স্বার্থ বা নেই কোন চাওয়া পাওয়া। প্রকৃতি মানুষের মনের কথাগুলোকে শুনে মন দিয়ে। এক সময় প্রকৃতি যখন সবার কথা শুনে শুনে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন হয়তো সে আকাশের মেঘ হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় তার অভিমানগুলো। তবুও সে কখনও মানুষের সাথে কোন রকমের বেঈমানী করে না। এটাই হলো প্রকৃতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট। আর তাই তো আমি প্রকৃতিকে এত এত ভালোবাসি। সময় পেলেই ছুটে যাই দিগন্তহীন কোন প্রকৃতির কাছে। আমার মনের কথাগুলোকে শেয়ার করার জন্য। এই তো কিছু দিন আগের কথা শ্রাবনের এক বিকেলে ছুটে গিয়েছিলাম শীতলক্ষা নদীর পাড়ে। নদীর পাড়ে বসে দেখছিলাম সবুজ প্রকৃতি আকাশের মেঘ আর বয়ে চলা নদীর ঢেউ। দেখতে দেখতে বিকেল শেষ হয়ে যখন সন্ধ্যা নেমে আসলো তখনও কেন জানি প্রকৃতি ছেড়ে আসতে মনে চায়নি। বার বার মনে চাইছিল যে কিছু সময় প্রকৃতির মাঝেই থাকি।
আকাশটাও ছিল সেদিন বেশ সুন্দর। নীল আকাশের গা ঘেষে সাদা মেঘের ভেলা যে কি সুন্দর করে ঘুরে ঘুরে তার অবস্থানটিকে বার বার জানান দিচ্ছিলো সেটা নিজের চোখে না দেখলে বুঝিয়ে বলা মুশকিল। একদিকে নীল আকাশে মেঘের খেলা আর অন্য দিকে সুন্দর বাতাস সবুজ ঘেরা প্রকৃতিকে করে তুলে ছিল আরও বেশী পরিচ্ছন্ন আর প্রানোবন্ত। যা কিনা দেহের মাঝে বেশ পরশ বুলিয়ে তার আগমন আমাদের কে জানান দিয়ে যাচ্ছিলো।
নদীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া বড় বড় বালুর ট্রলার আর জাহাজ গুলো যখন দূর থেকে দেখছিলাম তখন যেন মনটা ভরে উঠছিল বার বার। শহরের কোলাহল, মানুষের স্বার্থপরতা আর বিশ্বাস ঘাতকতা থেকে কিছুটা সময় নিজেকে এমন সুন্দর এক পরিবেশের মাঝে কিছু সময় উপহার দেওয়ার মাঝেও এক অন্য রকমের সুখ পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় আত্মতৃপ্তি। কেন যেন মনে হচ্ছিলো এমন দৃশ্য দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় যুগের পর যুগ। আর তাই তো সুন্দর এই সময়টুকু মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দী করতে আমার এতটুকু ভুল হয়নি।
কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম গাছের ফাক দিয়ে। কারন গাছের ফাক দিয়ে নদী আর প্রকৃতি দেখতে আমার কাছে দারুন লাগছিল। তাই ভাবলাম প্রকৃতির এমন দারুন দৃশ্য যদি আমি মোবাইলে ধারন করে না রাখি তাহলে প্রকৃতি সত্যি সত্যি আমার সাথে বেশ রাগ করবে। রাগ করবে কারন আমি যেমন প্রকৃতিকে ভালোবাসি তেমন করে প্রকৃতিও আমাকে বেশ ভালোবাসে। যাই হোক গাছের ফাক দিয়ে নদী, নদীতে বয়ে যাওয়া নৌকা, সবুজ প্রকৃতি আর সেই সাথে মেঘলা আকাশ দেখতে দেখতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। কিন্তু তাতে কি। আমি যে আবার প্রকৃতি প্রেমি।
সেদিন ফটোগ্রাফি করতে করতে বুঝতে পারলাম, প্রকৃতির ছবি তুলতে গেলে শুধু চোখ নয়, হৃদয়ও খোলা রাখতে হয়। সেদিন এর সেই মেঘ আর আকাশের খেলার সে দারুন প্রকৃতি আমরা উপভোগ করছিলাম, সেটা কিন্তু চারপাশের পরিবেশকেও সেদিন যেন আলাদা সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছিল। সন্ধ্যা ছুইঁ ছুইঁ। বড় একটি জাহাজ নদীর ঘাটে ভেড়ানো। আর সেই জাহাজ দেখতে হাজারও মানুষ ভিড় জমালো। আমারও বেশ দারুন লাগছিল।
শ্রাবণের বিকেল আসলে এক ধরনের অনুভূতির নাম। এটি কেবল একটি সময় নয়, বরং এক টুকরো অনুভূতি, এক টুকরো নরম মায়া। শীতলক্ষা নদীর পাশে বসে নদী আর প্রকৃতির এই খেলা কিন্তু মানুষের মনকে ভরে দেয় না। সেই সাথে মানুষের মন কে করে তুলে সজীব আর প্রানোবন্ত। এনে দেয় হৃদয়ে স্বস্তি। মানুষ এমন পরিবেশে যদি একটু সময় কাটাতে পারে তাহলে কিন্তু মনের রং মিশিয়ে মানুষ তৈরি করতে পারে হাজারও কবিতা।
সেদিনের শ্রাবণের সে দৃশ্য আর সময় আজ যখন মোবইলের ছবিগুলো দেখছিলাম তখন বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তাই ভাবলাম সে সকল ফটোগ্রাফি হতে না হয় কিছু ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করা যাক। যাতে করে প্রিয় বন্ধুরাও আমার মত করে শ্রাবণের আকাশের সেই সুন্দর প্রকৃতি সবার কাছেই ভালো লাগে।
জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | ফটোগ্রাফি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Vivo y18 |
| পোস্ট তৈরি | @maksudakawsar |
| লোকেশন | ঢাকা , বাংলাদেশ |
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy