ফটোগ্রাফি পোস্ট- চন্দ্রিমা উদ্যানে একাকী একটি ভোরের কিছু ফটোগ্রাফি "

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। চলে গেল ঈদ। সেই সাথে চলে গেল পবিত্র রমজান মাস। আবার এক বছর পর আমরা ফিরে পাবো এই রমজান মাস। জানিনা কে কতটুকু নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পেরেছি। যাই হোক প্রতিদিনের মত করে আজও চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য। আসলে চলতে ফিরতে এত এত ফটোগ্রাফি করেছি যে প্রতিটি ফটোগ্রাফি আমার মোবাইলে জমে একেবারে মোবাইল কে হ্যাংঙ করে দিয়েছে। এই ফটোগ্রাফি করে শেষ হবে কে জানে।


image.png

আমার কাছে ফটোগ্রাফি করা একটি আর্ট। আর সেই ফটোগ্রাফি যদি করা যায় মনের মনের মাধুরী মিশিয়ে তাহলে কিন্তু ফটোগ্রাফি হয়ে উঠে বেশ আকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। অবশ্য সবার পক্ষে সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করা হয়ে উঠে না। তবে আমরা যদি ক্যামেরার লেন্স এবং ফোকাস বুঝে একটু সময় নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারি তাহলে কিন্তু আমরাও একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হতে পারবো। আর নিজেদের দক্ষতাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তাই আমাদের উচিত হবে সুন্দর এই শিল্পটিকে সুন্দর করে শিখে নেওয়া।

চন্দ্রিমা উদ্যানে ভোরবেলা: মেঘলা আকাশ, সবুজ প্রকৃতি ও ক্যামেরাবন্দি নিঃশব্দ সৌন্দর্য কখনো কখনো একটি সকালে জেগে ওঠা শুধু আরেকটি দিনের শুরু নয়—তা হয়ে উঠতে পারে এক নতুন অনুভূতির গল্প, এক নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কারের যাত্রা। কয়েকদিন আগে এমনই এক সকালে, আমি অফিসে গিয়ে পৌঁছে যাই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই। ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। হঠাৎই মনে হলো, এই অলস ভোরের কিছু সময় নিজেকে উপহার দেওয়া যাক। মনে পড়ল, আমার অফিসের কাছেই চন্দ্রিমা উদ্যান—সবুজে ঘেরা, নীরবতায় ভরা এক প্রশান্ত জায়গা। আর সেই সময়টাতে আকাশ ছিল পুরোপুরি মেঘে ঢাকা—সেই স্নিগ্ধ ধূসর আলো যেন প্রকৃতিকে আরও এক ধরণের কোমলতায় ঢেকে রেখেছিল।

image.png

এই অনুভূতিকে ধরে রাখতে আমার ক্যামেরা বের করলাম। ছবির ভেতর বন্দি করতে চাইলাম ভোরের আলো, মেঘের রেখা, পাতার নড়াচড়া, আর সেই কোমল বাতাসের স্পর্শ। আমার এই পোস্ট সেই সকালের একান্ত গল্প, যেখানে প্রকৃতি ও ফটোগ্রাফি মিলে তৈরি করেছে এক অনুপম অভিজ্ঞতা। চন্দ্রিমা উদ্যানে পা দিতেই চোখে পড়লো, পুরো আকাশ যেন সাদা-ছাই রঙের তুলো দিয়ে আঁকা। রোদ ছিল না, তবে আলো ছিল—এক রকম নরম আলো, যা কেবল মেঘলা সকালের বৈশিষ্ট্য। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙার মতোই প্রকৃতির সেই আলো যেন আমার চোখ আর মনের ওপর এক কোমল হাত বুলিয়ে দিল।

image.png

ছবি তুলতে শুরু করলাম ঠিক সেখান থেকেই। মেঘলা আকাশের নিচে উদ্যানের গাছগুলোকে যে নরম আলো ঘিরে রেখেছিল, সেটি ক্যামেরায় ধরার জন্য আমাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো। আমি Wide-Angle লেন্স ব্যবহার করে একাধিক শট নিয়েছিলাম, যাতে মেঘের চলমানতা, গাছের উচ্চতা, আর নরম আলো এক ফ্রেমে ধরা পড়ে। প্রতিটি ছবিতে যেন একটা শব্দহীন গল্প, একটা অভিব্যক্তি। চন্দ্রিমা উদ্যানের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এর সবুজের আধিক্য। এখানে আসলে বোঝা যায়, প্রকৃতি কীভাবে সকালে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। ঘাসে জমে থাকা শিশির, পাতায় নেমে আসা আর্দ্রতা আর গাছের নিচে বসে থাকা নির্ভার বাতাস—এসবের মাঝে একটি নিরব প্রাণজাগরণের স্পন্দন।

image.png

আমার ক্যামেরার লেন্স পাতার দিকে ঘুরালাম। পাতায় শিশির বিন্দু ঝুলে আছে, কিছুটা আলো প্রতিফলিত হচ্ছে সেই বিন্দুতে। ছবিগুলো ম্যাক্রো মোডে তুলে ফেললাম—একটি শিশিরবিন্দুর ভেতর যেন পুরো উদ্যানের প্রতিচ্ছবি। একটি গাছের নিচে বসে আমি কিছু ছবি তুলেছিলাম যেখানে দূরের গাছপালা আর সামনের পাতার তফাৎটা ধীরে ধীরে ব্লার হচ্ছিল। সেই ফ্রেমটা যেন বলছিল, "আমরা সবুজে ঘেরা, তবুও আলাদা।" সেদিনের বাতাস ছিল একেবারে মৃদু, কোমল। তাতে ছিল না ঝড়ের হুংকার, বরং ছিল এক অনুনয়—"বসো, একটু সময় দাও, অনুভব করো।" আমি সত্যিই বসে পড়লাম। আমার পাশে ছিল ক্যামেরা, সামনে উদ্যানের প্রান্তর, আর উপরে মেঘলা আকাশ। চারপাশে বাতাসের মধ্যে ছিল একধরনের ঘ্রাণ—ভেজা মাটি, গাছের ছাল, আর দূরের ফুলের মিশ্র সুবাস।

image.png

আমি ক্যামেরায় ভিডিও মোড চালু করে কিছু মুভিং শটও নিয়েছিলাম—যেখানে পাতাগুলো হালকা দুলছে, ঘাসের উপর বাতাস বয়ে যাচ্ছে, আর পেছনে পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। সেই ভিডিওগুলো আজও দেখে মনে হয়—প্রকৃতিও যেন নিঃশব্দে কথা বলছিল। চন্দ্রিমা উদ্যানে তখন লোকজন খুব কম। কিছু মানুষ হাঁটছিল, কিছু দূরে বসে ছিল একা বা জোড়ায়। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, সবাই ছিল যেন নীরবতায় মগ্ন। এই নিঃশব্দতা ছিল না কোনো একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি—বরং এটি ছিল আত্মঅন্বেষণের গান। আমি এমন একটি ফ্রেম পেয়েছিলাম যেখানে একজন বয়স্ক মানুষ এক গাছের নিচে বসে ছিলেন, হাতজোড়া রেখেছেন হাঁটুর ওপর, আর তাকিয়ে আছেন দূরে মেঘলা আকাশের দিকে। ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সেই মুহূর্তটা ধরেছিলাম, যেন তাঁর চোখে আমি প্রকৃতির গভীরতাকে দেখতে পাচ্ছিলাম।

image.png

চন্দ্রিমা উদ্যান একদিকে যেমন প্রকৃতির রাজ্য, তেমনি এর মধ্যে রয়েছে কিছু নির্মাণ কাঠামো—ছায়াঘেরা বেঞ্চ, পাথরের রাস্তা, ফুলের টব, এবং পানির কৃত্রিম ঝর্ণা। এসব কংক্রিট কাঠামোর সঙ্গে সবুজ গাছপালার মিলন দৃশ্য ছিল ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। আমি কিছু ছবি তুলেছিলাম যেখানে একটি পাথরের বেঞ্চের ওপর মেঘলা আলো এসে পড়েছে, আর পাশে ঝরে পড়া পাতাগুলো যেন সাজানো ছিল সজ্ঞানে। এই ছবিগুলোর রঙ ছিল নরম ধূসর, সবুজ আর বাদামির মিশেলে এক প্রাকৃতিক প্যালেট।সেই ভোরে সূর্য উঠলেও তার কিরণ ছিল দমিত। তবে মাঝে মাঝে মেঘের আড়াল থেকে আলো বেরিয়ে এসে পাতায় বা ঘাসে পড়ছিল। সেই আলোর রেখাগুলোর ওপর বিশেষ নজর রেখেছিলাম। একটি ছবিতে আমি একটি গাছের পেছন থেকে আলো বের হচ্ছে এমনভাবে তুলেছিলাম, যেন সে গাছটা কোনো আলোর উৎস হয়ে উঠেছে।

image.png

আবার অন্য একটি ছবিতে ছিল মেঘের ফাঁকে সূর্যের অর্ধেক মুখ, যা একটি পানির দিঘিতে প্রতিফলিত হচ্ছিল। সেই প্রতিচ্ছবি যেন বাস্তবকে অতিক্রম করে এক কল্পনার দৃশ্য তৈরি করেছিল।যখন ঘড়ির কাঁটা অফিস টাইমের দিকে ইঙ্গিত করছিল, আমি ধীরে ধীরে চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে বেরিয়ে এলাম। কিন্তু আমার সাথে করে নিয়ে এলাম অসংখ্য ছবি, কিছু অদৃশ্য অনুভূতি, আর মেঘলা আকাশের ভেজা আলো। সেই সকাল যেন পুরো দিনটা শান্তিতে কাটাতে সাহায্য করেছিল।ছবি গুলো বাড়িতে গিয়ে একে একে এডিট করলাম—তবে কোনো অতিরিক্ত রঙ বা এফেক্ট প্রয়োগ করিনি। আমি চেয়েছিলাম, ছবিগুলো যেন ঠিক সেই ভোরের মতোই নরম, মেঘলা আর প্রশান্ত থাকে।এই ফটোগ্রাফি ব্লগটি কেবল ছবি বা উদ্যানকে ঘিরে নয়, এটি এক আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। জীবনের প্রতিদিনই আমরা দৌড়ের ওপর থাকি—সময়, কাজ, দায়িত্ব, ক্লান্তি। কিন্তু কোনো এক ভোরে যদি একটু থেমে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত কাটানো যায়, তবে তা হয়ে উঠতে পারে আমাদের হৃদয়ের গভীরে গেঁথে থাকা এক অনন্য স্মৃতি। চন্দ্রিমা উদ্যানে সেই সকালের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে—প্রকৃতি কখনো কথা বলে না, কিন্তু সে অনুভব করায়। আর একটি ক্যামেরা সেই অনুভবকে রূপ দেয় স্মৃতিতে, ছবিতে, গল্পে।

image.png

আপনার কাছেও যদি কখনো এমন একটি হঠাৎ পাওয়া সকাল আসে, আপনি যদি সময় পান মেঘের নিচে কিছুক্ষণ হাঁটার, তাহলে হাতের ক্যামেরাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। কে জানে—আপনার সামনেই হয়তো অপেক্ষা করছে আরেকটি নিঃশব্দ গল্প, আরেকটি ধূসর আলোয় মোড়ানো ছবি, যেটা শুধু আপনিই তুলতে পারবেন।

জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীফটোগ্রাফি
ক্যামেরাVivo y18
পোস্ট তৈরি@maksudakawsar
লোকেশনঢাকা , বাংলাদেশ

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


3W72119s5BjVs3Hye1oHX44R9EcpQD5C9xXzj68nJaq3CeF5StuMqDPqgYjRhUxqFbXTvH2r2mDgNbWweA4YGBo825oLh4oqEqeynn5EZL11LdCrppngkM (1).gif

VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

1000206266.png

1000206267.png

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 64171.76
ETH 1736.48
USDT 1.00
SBD 0.44