ফটোগ্রাফি পোস্ট- কিছু মুখরোচক খাবারের ফটোগ্রাফি "
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। চলে গেল ঈদ। সেই সাথে চলে গেল পবিত্র রমজান মাস। আবার এক বছর পর আমরা ফিরে পাবো এই রমজান মাস। জানিনা কে কতটুকু নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পেরেছি। যাই হোক প্রতিদিনের মত করে আজও চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য। আসলে চলতে ফিরতে এত এত ফটোগ্রাফি করেছি যে প্রতিটি ফটোগ্রাফি আমার মোবাইলে জমে একেবারে মোবাইল কে হ্যাংঙ করে দিয়েছে। এই ফটোগ্রাফি করে শেষ হবে কে জানে।
খাবার কেবল আমাদের ক্ষুধা মেটায় না, বরং একেকটি খাবার হয়ে ওঠে আমাদের জীবনের ছোট ছোট গল্পের অংশ। কোনো খাবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোনো বিশেষ মানুষকে, কোনো বিশেষ ভ্রমণকে, কোনো নির্দিষ্ট দিনের সকাল বা সন্ধ্যাকে। আর যখন সেই খাবারের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে রাখা যায়, তখন তা হয়ে ওঠে শুধুই খাবার নয়—একটি স্মৃতি, একটি আবেগ। আমার জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সুস্বাদু কিছু খেয়েছি এবং সেই মুহূর্তগুলোকে ধরে রেখেছি ক্যামেরার লেন্সে। বেগুন ভাজা, চাইনিজ খাবার, পোলাও, পানি পুরি, কিংবা পড়িং—প্রতিটি খাবারের সাথে জড়িয়ে আছে একেকটি স্বাদ, পরিবেশ, আলো আর মুহূর্তের অনুভূতি। এই ব্লগে আমি সে গল্পগুলোই তুলে ধরতে চাই, যেখানে ছবি আর স্বাদ মিলে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ফুড ফটোগ্রাফি জার্নাল।
আমাদের মাটির ঘ্রাণ যেমন পরিচিত, তেমনি বেগুন ভাজার গন্ধও যেন শেকড়ের টান নিয়ে আসে। একদিন গ্রামের বাড়িতে দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হয়েছিল গরম ভাত, ডাল, আর পাশে ভাজা বেগুনের পাতলা টুকরো। সেই সাদামাটা খাবারকে ক্যামেরায় তুলে নেবার লোভ সামলাতে পারিনি। ছবিতে ছিল কাঠের টেবিলের ওপর একটি সাদা প্লেটে রাখা ধোঁয়া ওঠা ভাজা বেগুন। পাশেই লাল রঙের টক ঝাল আচার। প্রাকৃতিক আলোয় তোলা সেই ছবিতে বেগুনের তেলে ভেজা রঙ, এর হালকা করে কাটা লালচে ধারে, আর খাসা খাসা আবরণ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। এই ছবির সাথে সাথে মনে পড়ে যায় ছোটবেলার দুপুর—গরমে ঘামতে ঘামতে খাওয়া ভাত, আর মায়ের হাতে বানানো বেগুন ভাজা। এই সাধারণ খাবারের মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলো।
ঢাকার কোনো এক রেস্টুরেন্টে এক সন্ধ্যায় খাওয়া হয়েছিল স্পেশাল চাইনিজ সেট—ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, থাই স্যুপ ও প্রন বলস। ঝলমলে আলো, নরম সঙ্গীত, আর সাজানো টেবিলের পরিবেশে খাবারগুলো ছিল একদম পারফেক্ট। ছবিগুলো তুলেছিলাম খাবার আসার সঙ্গে সঙ্গেই। চিলি চিকেনের লালচে রঙ, সসের উপর মাখানো ধনেপাতা, আর পাশে সাজানো গোল গোল প্রন বলস যেন পুরো ফ্রেমটাকেই ভরিয়ে দিয়েছিল। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নিচু করে নিয়ে কিছু shallow depth ব্যবহার করেছিলাম, যাতে পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড একটু ব্লার হয়ে গিয়ে মূল খাবারটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধরনের খাবার শুধু পেট ভরায় না, চোখকেও তৃপ্ত করে। আর ছবি হয়ে থাকে সেই স্বাদের দৃষ্টিস্মৃতি।
পোলাও মানেই উৎসব, মানেই আনন্দ। একবার বন্ধুদের সাথে এক বাড়ির দাওয়াতে গিয়েছিলাম। পরিবেশন করা হয়েছিল সুগন্ধি পোলাও, মোরগের রোস্ট, আর সাথে ছিল ডিম, সালাদ ও মিষ্টি। খাবারগুলো সাজানো ছিল একটি রাউন্ড টেবিলে সাদা টেবিল ক্লথের উপর। পোলাওয়ের উপর কাজু-কিশমিশ ছড়ানো, রোস্টের ঘন লাল গ্রেভি, ডিমের সাদা আর হলুদ—এই সব রঙ যেন একসাথে মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক শিল্পকর্ম। ছবি তুলতে গিয়ে আমি উপর থেকে টপ শট নিয়েছিলাম, যেখানে পুরো প্লেটটা ফ্রেমে আসে, এবং পাশে রাখা চামচ-কাঁটাচামচের ছায়াও ধরা পড়ে। এই ছবি শুধু খাবার নয়, সেই দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ, হাসির আওয়াজ, গল্প, আর বন্ধুত্বের স্মৃতিকেও ধরে রেখেছে।
পানি পুরি বা ফুচকা—শুনলেই যেন মুখে জল চলে আসে। কোনো এক ছুটির দিন বিকেলে, শহরের একটি ফুড কর্নারে গিয়ে খেয়েছিলাম গরম পানি পুরি। হাতে কাচের বাটি, সামনের স্টলে দাদা গর্ত করে পুরি ভরছেন আলু, চাটনি, ঝাল পানি দিয়ে। এই অভিজ্ঞতা শুধুই খাওয়ার নয়, বরং সেখানে ছিল গন্ধ, শব্দ, এবং আশেপাশের হাসির শব্দ। আমি কিছু ছবি তুলেছিলাম close-up মোডে—একটি পানি পুরি হাতে ধরে রাখা, আলু বের হয়ে আসছে হালকা করে, আর ভিতরে লাল ঝাল চাটনি ঝিকিমিকি করছে। পানি পুরির ছবি তুলতে গেলে টাইমিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক খাওয়ার আগের মুহূর্তটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। আর সেই ছবির পেছনে থাকে হাজারো রাস্তার গল্প।
প্রতিটি খাবারের অভিজ্ঞতার শেষে যদি একটি ঠান্ডা, নরম, মিষ্টি পরিণতি পাওয়া যায়—তাহলে সেটা হতে পারে এক টুকরো পড়িং। একবার একটি হোম-বেইকড কিচেন থেকে পড়িং অর্ডার করেছিলাম। যখন সেটা হাতে পেলাম, সাথে সাথে ছবির প্ল্যান মাথায় এলো। ছবির জন্য ব্যবহার করেছিলাম সাদা মার্বেল টপ, পাশে রেখেছিলাম একগুচ্ছ শুকনো গোলাপের পাঁপড়ি, আর পড়িংয়ের উপরে হালকা করে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল দারুচিনি গুঁড়ো। আলোর প্রতিফলন যেন পড়িংয়ের উপর একটি স্বর্গীয় উজ্জ্বলতা এনে দিয়েছিল। আমি একাধিক এঙ্গেল থেকে ছবি তুলেছিলাম। এই ছবি শুধু ডেজার্টের নয়, এটি একটি শান্ত সমাপ্তির প্রতীক—একটি দিনের শেষে, খাবারের শেষে, একরাশ প্রশান্তির প্রকাশ। এই ব্লগটি শুধুমাত্র খাওয়ার গল্প নয়, এটি হলো একটি যাত্রার গল্প—যেখানে ফ্রেমে বন্দি হয়েছে স্মৃতি, পরিবেশ, আলোর খেলা, আর মানুষের সঙ্গে ভাগ করা মুহূর্ত। ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমি প্রতিটি খাবারকে শুধু চেখে দেখিনি, বরং অনুভব করেছি, সংরক্ষণ করেছি।
আমাদের চারপাশে প্রতিদিনই অসংখ্য খাবার আসে-যায়। কিন্তু কোনো কোনোটি হৃদয়ে গেঁথে থাকে, কারণ তার সঙ্গে যুক্ত থাকে কিছু বিশেষ অনুভূতি। আর সেই অনুভূতিগুলোকে ধরে রাখতে পারলেই এক একটি ছবি হয়ে ওঠে কালজয়ী। আপনিও যদি ফুড ফটোগ্রাফি করতে চান, তবে মন দিয়ে খেয়াল করুন—আলো কোথা থেকে আসছে, খাবারের রঙ কেমন, পরিবেশ কেমন, এবং মুহূর্তটা কতটা সত্যি। সেই আন্তরিকতা দিয়ে তোলা প্রতিটি ছবিই হয়ে উঠবে একটি গল্প। খাবার শুধু মুখে নয়, ক্যামেরাতেও স্বাদ দেয়। তাই যতবার আপনি সুস্বাদু কিছু খাবেন, চেষ্টা করুন সেই মুহূর্তটাকে ধরে রাখার। কে জানে—ভবিষ্যতের কোনো এক দিন সেই ছবিই আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই স্বাদের দিনটিতে, সেই নির্ভেজাল আনন্দে।
জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | ফটোগ্রাফি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Vivo y18 |
| পোস্ট তৈরি | @maksudakawsar |
| লোকেশন | ঢাকা , বাংলাদেশ |
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy
এতসব খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো একসাথে দেখলে আসলে লোভ লেগে যায়। আপনার খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ফুচকা এবং বেগুন ভাজা দুটোই আমার বেশ পছন্দের। দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। মজাদার ও লোভনীয় খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
একেবারে অসাধারণ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি৷ আপনার কাছ থেকে এই সুন্দর পোস্ট দেখে বেশ ভালই লাগলো৷ যেভাবে আপনি এখানে একের পর এক খুব সুন্দর ভাবে অনেকগুলো খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন তা দেখে মুখের মধ্যে পানি চলে আসলো৷ একই সাথে এটি শেয়ার করার মধ্য দিয়ে আপনার কাছ থেকে চমৎকার কিছু রেসিপির ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম৷ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুস্বাদু কিছু খাবারের ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
বেগুন ভাজা গুলো দেখতে সত্যি অনেক লোভনীয় লাগছে। আর প্রত্যেকটা খাবারের ছবি অনেক সুন্দর হয়েছে আপু। দেখে খুবই ভালো লাগলো।