ভ্রমন পোষ্ট-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমনের দ্বিতীয় পর্ব।।
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই,আশা করছি সবাই অনেক ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের আমি আমার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমনের দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করবো। আজকে সব মিলিয়ে বারোটি ফটোগ্রাফির সাথে বর্ণনা তুলে ধরবো।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটি ছিল আমার দ্বিতীয় বার ভ্রমন। আমি অনেক ছোট থাকতে এক বার গিয়েছিলাম তখন এখানে কোন গ্লাস টাওয়ার বা লেক ছিল না। পরে উদ্যানের সুন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এই প্রকল্প গুলো হাতে নেওয়া হয়েছে। আমি যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখন ঠিক দুপুর ছিল। যার ফলে প্রচন্ড রোদ আর গরম ছিল। সূর্যের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। উদ্যানের মধ্যে যে লেকটি তৈরী করা হয়েছে সেটার নিচে পাথর বসানো আছে। প্রচন্ড গরমের কারনে আশে পাশের কিছু ছেলে পেলে সই লেকে লাফালাফি করছিলো। মাঠের ভিতরে কোথাও কোন দোকান ছিল না।
সম্পূর্ণ উদ্যানটা এত বড় ছিল যে কোন দিকে দিয়ে প্রবেশ করে কোন দিক দিয়ে বের হবো সেটা বুঝতেছিলাম না। যার ফলে ঘুরেও শেষ করতে পারছিলাম না। পার্কের ভিতরে অনেক বড় বড় পুরাতন গাছপালা রয়েছে। এই উদ্যানকে ঢাকা শহরের ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। পরিবেশটা সত্যিই খুব সুন্দর। বিকালের দিকে প্রচুর মানুষের সমগম হয়ে থাকে। চলুন এবার ফটোগ্রাফি গুলো দেখা যাক।
উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাশে রয়েছে অনেক গুলো লেচু গাছ। যদিও গাছ গুলোতে কোন প্রকার লিচু বা ফুলও ছিল না। প্রচন্ড রোদ আর গরমের কারনে সেই লিচু গাছের নিচে মানুষ বসে আছে। সাধারন মানুষ সহ অনেক কাপল সেখানে ছিল। আমরা অন্যদিকে লক্ষ করি নাই। রোদের কারনে লিচু গাছের ছায়ায় কিছুক্ষন দাড়িয়ে আবার চলে আসলাম।
উদ্যানের চারপাশে অনেক সুন্দর সুন্দর রাস্তা রয়েছে। এসব রাস্তায় হাটতে খুবই ভালো লাগে। একটি বিষয় লক্ষ করলাম প্রত্যেকটা রাস্তার পাশেই গাছ রয়েছে। রাস্তার উপরে গাছের ছায়া পড়ে। বিশাল বড় মাঠ এদিক দিয়ে তাকালে অন্যদিকের মাথা দেখা যায় না। গাছ গুলো থাকার কারনে রোদ থেকে মুক্তি পেলাম।
মাঠের মাঝখানেই বিশাল বড় একটি লেক রয়েছে। লেকের পানির নিচে পাথর দেওয়া। কাঁদা মাটির কোন অস্তিত্ব দেখতে পেলাম না। পানি খুবই সচ্চ এবং পরিষ্কার। লেকের পাশেই বিশাল বড় একটি কাঁচের টাওয়ার রয়েছে। লেকের পাশে ঘোরাঘুরি করার জন্য অনেক সুন্দর রাস্তাও রয়েছে। লেকের পাশে মোটা মোটা কিছু পাম গাছ দেখলাম। যদিও বাংলাদেশের মাটিতে তেমন ভাবে পাম জন্ম নেয় না। যার ফলে সারা বছর আমাদের তেল আমদানি করেই চলতে হয়।
বিশাল বড় মাঠের বিভিন্ন জাগায় স্টুডেন্টদেরকে ক্রিকেট ফুটবল খেলতে দেখলাম। যেহেতো শুক্রবার ছিল সেহেতো সব প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট ছুটিতে আছে। তাই একই মাঠের তিন কোণায় খেলার আয়োজন দেখলাম। বিভিন্ন জাগায় গাছের নিচের বসার মত ব্যবস্থাও রয়েছে। আমরা কোথাও বসলাম না। কারন আমাদের বসার মত সময় ছিল না। তাছাড়া বসলেই গরম বেশি লাগতো।
কিছুক্ষন হাটার পরে একটি প্লেকার্ড দেখতে পেলাম। সেটাই লেখা আছে উদ্যানের সুন্দর্য বৃদ্ধিতে গাছ লাগানোর প্রকল্প চলমান আছে। প্রচুর গাছ আছে, তারপরও আরো গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ভাল কাজ। কারন আমাদের শহরে মানুষের তুলনায় গাছপালার পরিমান খুবই কম। যার ফলে প্রতিবারই আমাদের শহর বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম দিকে থাকে। পার্কের ভিতরের কিছু মানুষ এখানে সেখানে বসে,ঘুমিয়ে পার্কের সুন্দর্য নষ্ট করছে। এই বিষয়টা উদ্যান কর্তৃপক্ষের দেখা উচিৎ। তাদের কারনে পরিবেশটা খুবই বাজে লাগে।
প্রিয় বন্ধুরা আমি ব্লগটি আজকে আর বাড়াবো না। এখানেই সমাপ্ত ঘোষনা করবো। আবার আপনাদের সাথে দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততক্ষন পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন,সুস্থ থাকবেন।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ-
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-১০ |
| স্থান | সোহরাওয়ার্দী উদ্যান,রমনা,ঢাকা |
| ফটোগ্রাফার | @joniprins |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| তারিখ | ২১.০৭.২০২৩ |
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
আপনার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভ্রমণের প্রথম পর্ব দেখেছিলাম। আজকে দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করলেন। এই পর্বে আপনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের খুব সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন।এই উদ্যানটি আমার অনেক পরিচিত একটি জায়গা।একটু সময় পেলেই আমি এখানে সময় কাটাতে যাই। এখানে গিয়ে খুব সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করা যায়। আপনিও ঠিক এখানে গিয়ে অনেক সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করেছেন এবং আমাদের মাঝে ধারাবাহিকভাবে সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করছেন।
জী ভাইয়া বিশাল বড় মাঠ। সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ।