সিরাজগঞ্জের রাসেল পার্কে ভ্রমণের সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
আজকে আমি আপনাদের সামনে ফটোগ্রাফি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।কালকে আমার ছোট মামাতো বোন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। ও আর আমার ছোট বোন দুইজনে সমবয়সী। তো আমাকে বারবার করে আবদার করছিল আপু আমাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাও। আমি কখনো পার্কে ঘুড়ি নি। আর সাথে তো আমার ছোট বোন আছেই। সারাদিন অনেক বিরক্ত করছিল যে আপু প্লিজ আমাদের নিয়ে যাও একটু খেলা করব। তাই ভাবলাম নিয়ে একটু ঘুরে আসি। এখনকার বাচ্চারা তো ঠিকভাবে খেলাধুলার সুযোগ পায় না। আমাদের মত শৈশব তাদের নেই। সবাই যেহেতু এখন বেশিরভাগই ফোনে আসক্ত। তাই ওদের নিয়ে আমাদের সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর পাড়ে একটা ছোট পার্ক আছে ওখানে ঘুড়তে নিয়ে গেলাম।
পার্কে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে সামনে দুটো ডলফিন এর স্তম্ভ সেখান দিয়ে পরছে অনবরত। কি সুন্দর লাগছে। আমার বোন দেখেই দৌড়ে চলে গেল তার কাছে। দেখে কি খুশি দুইজন। তারপর আমরা আরও সামনের দিকে হাটা দিলাম। এর মাঝে অনেক সুন্দর সুন্দর বানর, হরিণ, হাতি আরো পশুপাখির স্তম্ভ ছিল। ওদেরকে আর পাওয়া যায়। দৌড়ে গিয়ে দোলনায় ওঠে। তারপর স্লিপার খেলে। আরো নানান রাইড্স ছিল। সবগুলোতেই উঠে ওরা। সে কি আনন্দ, সে কি খুশি।
তারপর বললাম ওদের আরেকটু সামনে চলো দেখি আরো কি কি আছে। সামনেই দেখতে পেলাম একটা ট্রেন। দুজন তো আমার হাত দুই দিক থেকে টেনে ধরল। আপু আমাদের এই ট্রেনে ওঠাও। পরে তুলে দিলাম ওদেরকে। ওদের খুশি দেখে আমার অনেক ভালো লাগছিল। দেখলাম ওরা ঘুরে আসুক আমি আশেপাশের পরিবেশ দেখি।
পার্কে দুই পাশে কি সুন্দর রাস্তা। রাস্তা দিয়ে আমার শুধু হাঁটতে মন চাচ্ছিল। রাস্তার ধারে আবার কি সুন্দর সুন্দর গাছ।আসলে প্রকৃতির চেয়ে সুন্দর এই পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এইজন্যেই আমি প্রকৃতিপ্রেমী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমার এত ভালো লাগে।
সামনে কিছুটা আগাতেই চোখ পরল জবা ফুলের উপর। কি অপরূপ, সাদা রঙের জবা ফুল।আমি তো বরাবরই লাল রক্ত চাপা রঙের জবা ফুল দেখে এসেছি। এরকম সাদা জবা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি । আজকে সেটা পূরণ হলো। সাদা হচ্ছে শুভ্রতার প্রতীক। সাদা সব কিছুই সুন্দর। তাই জবা ফুলটি দেখে ছবি না তুলে পারলাম না।
জবা ফুলটির পাশেই দেয়ালে ছিল বাগান বিলাস। খুব একটা ফুল ফোটে নি।কিন্তু তাও কি সুন্দর লাগছিল।বাগান বিলাস কার না ভালো লাগে। এখন মানুষ শখ করে সাধারণত বাড়ি তৈরি করলে বাড়ির গেটে সামনে বাগান বিলাস লাগিয়ে থাকে।আমার ব্যক্তিগতভাবে বাগান বিলাস অনেক পছন্দের। আমি এসব সৌন্দর্য দেখে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার মনেই ছিল না আমি আমার ছোট বোনদের নিয়ে এসেছি এখানে। তারপর দেখি ওরা ট্রেন থেকে নেমে দৌড়ে আমার কাছে আসলো।ওদের নিয়ে সামনের দিকে আগালাম।
সামনেই দেখলাম মটু পাতলু কার্টুনের প্রতিকৃতি স্তম্ভ তৈরি করে রেখেছে। বাচ্চাদের এটা খুব পছন্দের একটা চরিত্র। শুধু বাচ্চাদের কেন আমারও অনেক পছন্দের আমি এখনো মটু পাতলু দেখে ভাত খাই।
এরপর দেখলাম ঝরনার মত কিছু তৈরি করা। দেখতে ভালো লাগছিল। পরে ওরা বলল আমরা এখানে দাঁড়ায় আপু একটা ছবি তোলো।ওদের ছবি তুলে দিলাম।
সামনে দেখি কি সুন্দর একটা ফুলের বাগান। বাগানের মধ্যে আমার এই ভালো লাগলো। কিন্তু এগুলোর নাম আমি জানিনা। কি সুন্দর লাল রঙ। ফুল সব সময় সুন্দর। কারণ ফুল হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রতীক। আমার মনে হয় খুব কম মানুষই আছে যারা ফুল পছন্দ করে না।
তার পাশেই ছিল আরেকটি ফুলের গাছ। এই ফুলের সৌন্দর্য তো আরো বেশি। দেখে আমি পুরোই মুগ্ধ হয়ে গেছি। এই ফুলেরও নাম জানা নেই।
তারপর ওদের ঘোড়ার গাড়িতে উঠালাম। পার্ক থেকে ওরা বেরোতে চাচ্ছিল না। অনেক বুঝিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো নদীর পাড় ঘুড়িয়ে, আইসক্রিম কিনে দিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম।ওদের জিজ্ঞাসা করলাম আজকের দিনটা কেমন ছিল? উত্তরে ওরা খুশি হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, আপু এত সুন্দর দিনটি আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | রেডমি নোট ৯ |
|---|---|
| ধরণ | ফটোগ্রাফি ✨ |
| ক্যাপচার | @jannat0499 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
আমার পরিচয়
আমি মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌস। বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার সদরে বসবাস করি। আমি একজন সৃজনশীল মানুষ ।ছবি আঁকতে, নতুন কিছু বানাতে আর সময় পেলে ঘোরাফেরা করতে আমি খুবই ভালোবাসি।সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হই।ভ্রমণ করার পাশাপাশি আমি বাগান করতে খুব ভালোবাসি।অবসর সময়ে আমি রঙ তুলি নিয়ে বসে যাই নতুন উদ্ভাবনায়।বই পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে বিশেষ করে উপন্যাস।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাইআমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।🌼💖🌼
👉সবার প্রতি শুভেচ্ছা এবং পোস্টটি সমর্থনকারী সকল বন্ধুদের বিশেষ ধন্যবাদ।
https://x.com/JannatulF57996/status/1840392023553015845?t=1PjtiEPS7J8VM5DvNYArcA&s=19
রাসেল পার্কে দারুন কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছেন আপু। ফটোগ্রাফি গুলো খুবই ভালো লাগলো দেখে। পার্কের পরিবেশ ভীষণ সুন্দর। পার্কের বিভিন্ন দৃশ্য দেখে ভালো লাগলো। বিভিন্ন রঙের রঙ্গন ফুল গুলোর ফটোগ্রাফি দেখে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু পার্কের খুব সুন্দর দৃশ্যগুলোর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জি আপু আপনাকেও ধন্যবাদ।
পার্কের ফটোগ্রাফি গুলো ভীষণ সুন্দর হয়েছে। আপনার ফটোগ্রাফি গুলোর মাধ্যমে মনে হচ্ছে পার্কটি ভীষণ সুন্দর। ফুল,ডলফিন,ট্রেন,মটু পাতলু কার্টুন সব মিলিয়ে দারুন ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জি অনেক সুন্দর পার্ক।
পার্কে ভ্রমণের মুহূর্তগুলো অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে। এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে ফুলের ফটোগ্রাফি বেশি ভালো লেগেছে।
রাসেল পার্কে দারুন কিছু মুহূর্ত আপনি উপভোগ করেছেন। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি দেখে অনেক ভালো লাগলো। অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি বিশেষ করে ফুলের ফটোগ্রাফি আমার কাছে দারুন লেগেছে।
বাহ্ আপু সিরাজগঞ্জে রাসেল পার্কের অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।। জবা ফুলের সৌন্দর্য আমার কাছেও অনেক ভালো লাগে। অনেক সুন্দর একটি পোষ্ট বিস্তারিতভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপু।
দারুন একটা পার্কে গিয়ে আপনি আপনাদের পরিবারের সঙ্গে হয়তোবা সুন্দর একটা সময় কাটিয়েছেন। আসলে পার্কের ছবি দেখে মনে হচ্ছে যে সেখানে লোকজন খুব কম ছিল। যদিও প্রতিটা ছবি আপনি খুব সুন্দর ভাবে তুলেছেন এবং আমাদের মাঝে প্রতিটা ছবির বর্ণনা খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
বাহ্ আপনি তো বেশ সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন। আপনার তোলা সব গুলো ফটোগ্রাফি দারুণ হয়েছে আপু। বিশেষ করে জবা ফুল ও মটু পাতলুর ছবি টি। ফটোগ্রাফির সাথে বেশ সুন্দর বর্ণনা উপস্থাপন করছেন। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আপনি রাসেল পার্কে পরিবারের সাথে অনেক দারুন সময় উপভোগ করেছেন। পার্ক থেকে ধারণ করা ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। বিশেষ করে আট ও দশ নম্বর ফটোগ্রাফি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আপনি অনেক দক্ষতার সাথে সবগুলা ফটোগ্রাফি করেছেন আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।