স্বস্তির বৃষ্টি।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটি বন্ধুরা
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজ শুক্রবার , ১৬ মে ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি ও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আবারো আরো নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়ে গেছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব স্বস্তির বৃষ্টি । গত সপ্তাহে এবং এই সপ্তাহের প্রচুর রোদ গরম পড়েছে। আর এই রোদ গরমে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে ছোট বড় সবাই কম বেশি অসুস্থ হচ্ছে। আমার ছেলে এই রোদ গরমের কারণে দুই তিন দিন ধরে জ্বর তার ওপর আবার হালকা ঠান্ডা লেগেছে। এমনকি বড় মানুষও অনেক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তবে এই রোদ গরমের মধ্যে গতকাল বিকেল বেলা থেকে প্রচুর বৃষ্টি আসে যেটা আমাদের জন্য সত্যি অনেক আরামদায়ক। এই বৃষ্টির মধ্যে এতটা শান্তি স্বস্তি পেয়েছি যেটা আপনাদের মাঝে শেয়ার না করে আর পাগলামি না। প্রায় এক মাস হয়ে যাবে আমাদের এলাকাতে তেমন ভালোভাবে বৃষ্টি হয়নি। এই এক মাস পর এত সুন্দর ভাবে এত জোরে বৃষ্টি এলো যেটা সবাই বেশ আনন্দের সাথে উপভোগ করেছে। তবে কিছু কিছু মানুষের একটু ক্ষতি হয়ে গেছে কিন্তু তারপরেও তারা অনেক খুশি। আমরা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছি এবং বসবাস করি। আর গ্রামে তো সব ধরনের চাষাবাদ করা হয়। এই সবুজ সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এত রোদ গরম সত্যি সহ্য করা মুশকিল। এখন বৈশাখ মাসের শেষের দিকে আর এই সময় কৃষকের ঘরে উঠছে নতুন ধান।
তাই ধান খড় এগুলো দিয়ে মানুষ বেশ ব্যস্ত। এখন তো সবাই ধান সিদ্ধ করে চাল তৈরি করার জন্য বেশি ব্যস্ত হয়ে গেছে গ্রাম অঞ্চলের মানুষগুলো। তাই এই ধান সিদ্ধ করা খড় গুছিয়ে এক জায়গায় রাখা সবমিলিয়ে অনেক ঝামেলার কাজ। আর এই কাজগুলো ঠিকভাবে রোদ হলেই সঠিকভাবে করা যায়। কেননা ধান ভিজিয়ে আবার রোদে শুকিয়ে তারপর সেগুলো থেকে চাল তৈরি করা হয়। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর রোদ। আবার ঘর ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে তারপর এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা হয় এজন্যই দরকার প্রচুর রোদ। কিন্তু অন্যদিকে আবার ফসলের মাঠ বিশেষ করে পাট ক্ষেতের জন্য পানি প্রচুর প্রয়োজন। তাছাড়াও মাঠ সব রোদে শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। আর গরমের মধ্যে এত কাজ করতে গিয়ে মানুষও হাঁপিয়ে যাচ্ছে। তাই বৃষ্টি হওয়া সত্যিই খুব জরুরী ছিল। প্রতিদিন প্রায় মেঘ হয় কিন্তু বৃষ্টির দেখা মেলে না। আজকে মেঘ হতে হতে এক পর্যায়ে কালো ঘন মেঘ হয়ে গেল পশ্চিম আকাশে। তবে মেঘ দেখে আমরা একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
কেননা আমাদের সিদ্ধ করা ধান ছিল আমাদের ছাদে। সেগুলো আমরা সবাই মিলে গুছিয়ে বস্তায় তুলে ভালোভাবে একটি মাচার উপর রেখে দিলাম। কেননা প্রচুর মেঘ হয়েছে যদিও পারি হচ্ছিল না তারপরেও যদি হয়। এই ধান গোছাতে গিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল। আপনার সবাই জানেন মেঘ হলে কতটা গরম লাগে। যে পরিমাণ মেঘ হয়েছিল দেখে ভয় পাবার মত অবস্থা। দুপুরবেলা অথচ মেঘের কারণে মনে হচ্ছে রাত চারিদিকে অন্ধকার। তারপর দমকা হাওয়া দিয়ে জোরে বাতাস বইতে শুরু করে দিল। শ, শ শব্দে পানি চলে আসছে আওয়াজটা যেন শুনেই ভীষণ ভালো লাগছে। তারপর যখন বৃষ্টির পানি গুলো মাটিতে পড়ছিল তখন আমি তো গিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিলাম হালকা করে। অতিরিক্ত গরমে আমাদের সবার গায়ে কমবেশি ঘামাচি বের হয়েছে। তবে ঠান্ডা আবহাওয়া হলে এটা ঠিক হয়ে যায় কিন্তু যে পরিমাণ রোদ পরছে ঘামাচি বের না হয়ে আর কি হবে।
তারপর এল সেই স্বস্তির বৃষ্টি। বৃষ্টি আশা দেখে যেন মনের মধ্যে আলাদা এক শান্তি লাগলো মনে হচ্ছিল। বৃষ্টির পানি নাকি অনেক কাজে লাগে তাই আমি ভাবলাম কিছু পানি রেখে দেই। একটা গামলা উঠানে ফেলে দিলাম। তারপর প্রায় অর্ধেকের বেশি হবে গামলা টা পানিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। এরপর পানি ভালোভাবে ছাঁকনা দিয়েছে কে আমি বোতলে রেখে দিলাম। তবে এই বৃষ্টি দেখে আবাব ভীষণ খুশি হয়েছিল। আমি বৃষ্টির মধ্যে কিছু ছবি তুলেছিলাম যখন খুব জোরে বৃষ্টি পড়ছিল। যখন খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল তখনকার ছবিগুলো দেখতে অনেকটা ঝাপসা মনে হচ্ছিল। যাই হোক এই স্বস্তির বৃষ্টি এসে আমাদের সবারই বেশি ভালো হয়েছে। আপনাদের এলাকায় কবে বৃষ্টি হয়েছে সেটা জানাবেন। আর বৃষ্টির পানিতে ভিজতে কেমন লাগে সেটাও জানাতে ভুলবেন না। আজকে আমি এখানে শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আপনার ওখানে তো তাও বৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এখানে বৃষ্টি মোটে হচ্ছেই না। কাল একটু হয়েছিল তাও অল্প সময়ের জন্য, তাও কোনরকমে খুব একটা জোরালো বৃষ্টি নয়।। গরমে এখানকার মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে ধন্যবাদ।
ভাইয়া আমাদের এলাকাতেও গরমের কারণে সবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবে বৃষ্টি হয়ে সবাই অনেক স্বস্তি পেয়েছে। আশা করছি আপনাদের এলাকাতেও খুব তাড়াতাড়ি বৃষ্টি হবে।
এত সুন্দরভাবে গ্রামের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং স্বস্তির বৃষ্টির অনুভূতিকে তুলে ধরেছেন। যেন চোখের সামনে ছবির মতো ভেসে উঠল সবকিছু। ধান সিদ্ধ করা, খড় গুছানো, হঠাৎ বৃষ্টির আগে আগে আকাশের রঙ বদলে যাওয়া । প্রতিটি মুহূর্ত আপনি দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন। আর সেই বৃষ্টির জলে ভিজে মনটা হালকা করে নেওয়ার কথাটা সত্যিই খুব আপন মনে হলো। অসংখ্য ধন্যবাদ এত প্রাণবন্ত একটি লেখার জন্য।
আপু ধান সিদ্ধ খড় গোছানো এগুলো বৃষ্টি হলে মানুষের জন্য সত্যিই অনেক কঠিন হয়ে যায়। কেননা এগুলোর জন্য দরকার রোদ তবে এত পরিমাণ রোদ বলেছে যার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল রোদের উপর। বৃষ্টি হয়ে সবাই অনেক স্বস্তি পেয়েছে।
https://x.com/MstFatema137069/status/1923941275247706246?t=ZGy4q85E1yih3NhPm1f3dQ&s=19
https://x.com/MstFatema137069/status/1923942102066774079?t=Ut8v6MkBJC742JEtC_rthQ&s=19
https://x.com/MstFatema137069/status/1923946961167843806?t=Z6n1tZ2UrfjIk9mtFIrsew&s=19