পদ্মার পাড়ের মনমুগ্ধকর কিছু দৃশ্যের আলোকচিত্র 📸📸
২৫পৌষ , ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
০৯জানুয়ারী , ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৫জমাদিউল সানি, , ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার ❤️
শীতকাল।
আসসালামু আলাইকুম,আমি মোঃআলী, আমার ইউজার নাম @litonali।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনজানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করছি। সবসময়ই আশা পোষণ করি যে আমাদের ফ্যামিলির সবাই ভালো আছে সুস্থ আছে। খুব ঠান্ডা সবাই সাবধানে থাকবেন বর্তমানে বিশ্ববাজারে করোনা ভাইরাসের খবর শুনলে বোঝা যাচ্ছে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে এই ভাইরাসটি। যেহেতু আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নড়বড়ে তাই আমাদেরকে নিজে থেকে অনেক সাবধানে থাকতে হবে। আপনারা সবাই জানেন যে আমি ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসি। আজকে আপনাদেরকে দেখাবো পদ্মার চরের কিছু আলোকচিত্র। যে ফটোগ্রাফি গুলা আমি গত কাল ক্যামেরাবন্দি করেছি। প্রতিনিয়তই অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে এবং নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ছুটে চলি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে। তাহলে চলুন আজকের ফটোগ্রাফি গুলা উপভোগ করি।
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ছায়ায় ঘেরা পাখি ডাকা আমাদের এই বাংলাদেশ। আমার বাস বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে। যেখানে থেকে প্রতিনিয়তই বাংলার রূপবয়চিত্র্যময় দৃশ্যগুলা উপলব্ধি করতে পারি। উপরের ফটোগ্রাফিতে আপনাদেরকে দেখানোর চেষ্টা করেছি শস্য ক্ষেতের দৃশ্য। নদীর পানি কমে যাওয়াতে চড় জেগেছে পদ্মার পাড় দিয়ে। সেখানে ফোলানো হয়েছে হাজার হাজার বিঘা শস্য। যতদূর আপনার চোখ যাবে ততদূর হলুদ বর্ণের দৃশ্যই আপনার চোখে পড়বে। হঠাৎ করে ঘুম ভাঙার পর কেউ যদি এমন জায়গায় জেগে ওঠে তাহলে মনে হবে সে যেন এক স্বপ্নপুরীতে এসেছে ঘুরতে।
লোকেশন:
ছোটবেলায় রবি ঠাকুরের কবিতায় পড়েছিলাম:
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু পার হয় গাড়ি
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পায়।
দেখতেই পাচ্ছেন এখন আমাদের ছোট নদীর কেমন অবস্থা। ভরা নদীতে যেখানে তাকালেই মনে হয় এক সমুদ্রের পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছি। আর এখন চারিদিকে চর জেগে উঠেছে নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। হাঁটু পানিও নেই। মানুষ গরু ছাগল গাড়ি সবকিছুই পার হচ্ছে এখনই অল্প পানির মধ্য দিয়ে। যখন পদ্মা নদীর পাড় বেড়াতে যাচ্ছিলাম তখন এমন দৃশ্য চোখে পড়তে ক্যামেরাবন্দি করি।
লোকেশন:
কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষির উপরেই নির্ভর করে। ফটোগ্রাফি দেখেই হয়তো আপনারা বুঝতে পেরেছেন এখানে একজন ঘোড়ার রাখাল তারা ঘোড়াটাকে যত্ন নিচ্ছে এবং তার কিছু খাবার কেটে গাড়িতে সাজিয়ে রেখেছে। দিন শেষের দিকে তাই তো বাড়িতে যেতে হবে এজন্য সবকিছু গোজগাজ করে নিচ্ছে। চর থেকে বাড়িতে পণ্য আনা নেওয়ার কাজে এই বাহন ব্যবহার করা হয়। কেননা এখানে কোন ইঞ্জিল চালিত গাড়ি চালানোর মত রাস্তা নেই।
লোকেশন:
সবজি হিসেবে পটল আমরা সবাই চিনি। এই ছবিটি ক্যামেরা বন্দি করেছি একদম পদ্মা নদীর পাশ থেকে। যেখানে 95% বালি আর মাত্র ৫% মাটি। আর এই সবজিটি বেলে মাটিতেই জন্মায়। এখানেই শিকড় রোপন করে পরিচর্যা করা হয় তার থেকেই পরবর্তীতে গাছ হয়ে পটল নামক সবজিটি গাছে ধরে থাকে। কৃষককে দেখে আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন তিনি আনমনে কাজ করে চলছে যদিও বেলা শেষ মনে হচ্ছে না সন্ধ্যার আগে সে বাড়ি ফিরবে।
লোকেশন:
নদীর পাড়ে শীতের সময় ঘুরতে যাব আর সন্ধ্যাবেলায় আগুন জ্বালিয়ে একটু মজা করা হবে না সেটা তো হয় না। যখন একটু ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল তখন কিছু খরী গুছিয়ে আগুন ধরিয়ে দেই। আসলে ছোটবেলার কথা স্মরণ করেই এই পাগলামোটা করা। মনে আছে ছোটবেলায় শীতের সময় বিকেলবেলা মাঠের মধ্যে অথবা নদীর পাড়ে খুব করে এরকম আগুন ধরিয়ে দিতাম। যখন বন্ধুরা মিলে সবাই একসাথে থাকতাম তখন কিন্তু একটা অন্য রকমের মজাও হতো। যদিও এখন সবার সাথে আর এরকম সময় অতিবাহিত করা হয় না। তারপরও একটু স্মৃতিচারণ করে দেখলাম কেমন লাগে।
লোকেশন:
একদম গোধূলি সন্ধ্যায় ঠিক নদীর কূল ধরে পানির মধ্যে দিয়ে হাঁটছিলাম। এমন সময় সামনে একটি বাবলা গাছের দিকে তাকাতেই দেখি সূর্য-আস্ত যাচ্ছে। গোধূলির আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে কি আর স্থির থাকা যায় তাই তো সুন্দর একটি ফটোগ্রাফি ক্যামেরা বন্দি করে ফেললাম। আসলে নদীর পারে ভ্রমণ করতে গিয়ে এমন সুন্দর সাদৃশ্য দেখার অপেক্ষাতেই থাকি ঠিক গোধূলির মুহূর্তে। এমন দৃশ্য দেখলে যে কারো নয়ন জুড়িয়ে যাবে। বারবার ইচ্ছে করবে এমন নদীর পারে ভ্রমণ করতে। দেখতেই পাচ্ছেন রক্তিম আভায় পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে গিয়েছে। হয়তো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্য ডুবে যাবে।
লোকেশন:
যত সময় এরকম রক্তিম আভা উপভোগ করতে পেরেছি ঠিক তত সময়ই কিছু না কিছু ফটোগ্রাফি করেছি। এবং এমন সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে এমন সুন্দর সময় উপভোগ করেছি। রক্তম আভা যখন পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে যায় তখনই লক্ষ্য করেছি পাখিগুলো ফিরতে শুরু করেছে তাদের নীড়ে। কৃষকের কাজ বন্ধ সবাই ফিরছে যার যার আপন গন্তব্য স্থানে। যত সময় এরকম সুন্দর মুহূর্ত ছিল তত সময় আমরা ও নদীর পাড়ে বসে ছিলাম। যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে আমরাও তখন বাড়ি ফিরেছি পাখিদের মতই। তবে ওদের মতো ডানা মেলে না হলেও বাইকে করে।এই ছিল আমার আজকের ফটোগ্রাফি এবং ভ্রমণের কিছু কথা আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
লোকেশন:
ডিভাইসঃ Redmi Note 5
VOTE @bangla.witness as witness OR
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদ
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আসলেই অনেক মনোমুগ্ধকর কিছু ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সবগুলো ফটোগ্রাফি আমার কাছে এত ভাল লেগেছে যে কোনটি ছেড়ে কোনটির কথা বলব আসলে আমি বুঝতে পারছি না। তবে বিশেষ করে আমার কাছে শস্য ফুলের ফটোগ্রাফি এবং গোধূলি সন্ধ্যার ফটোগ্রাফি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য
ঠিকই বলেছেন আপনি সরিষা ক্ষেত এবং গোধূলি লগ্নের ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছিলাম ফটোগ্রাফি করার পরে যখন দেখি এত সুন্দর হয়েছে।।
প্রত্যেকটি ছবি অসাধারণ।বিশেষ করে গোধুলী বেলার ছবি দুইটি আমার কাছে ভিষণ ভাল লেগেছে।টপ নচ ফটোগ্রাফি।ফটোগ্রাফ গুলোর জন্য আপনি প্রশংসার দাবিদার।তবে ব্লগে প্রচুর বানান ভুল।আশা করি ঠিক করে নেবেন।ধন্যবাদ সুন্দর ফটোগ্রাফ গুলো শেয়ার করার জন্য।
আমার ফটোগ্রাফির মধ্যে গোধূলি বিকেলের ফটো আপনার কাছে ভালো লেগেছে জানতে পেরে খুবই ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করে সাথে থাকার জন্য
মুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন! দেখে খুব ভালো লাগলো আপনার প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি! শীতের এই সময়টাতে নদীর পানি শুকিয়ে যায়, নদীতে চর জাগে! সরিষার ফুলে মাঠ ভরে যায়! এ দৃশ্যগুলো যে কাউকে মুগ্ধ করবে! এছাড়া শেষে সূর্যাস্তের দৃশ্যগুলো অসাধারণ 🌼🦋
আমার পোষ্টের ফটোগ্রাফি গুলা দেখে আপনি মুগ্ধ হয়েছেন জানতে পেরে খুবই ভালো লাগলো আসলে ঠিকই বলেছেন সরিষা ফুল এবং সূর্যাস্ত যাওয়ার ফটোগ্রাফি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে।।
শেষের ছবি দুইটা জাস্ট অসাধারণ লাগছে দেখতে। মনে হচ্ছে কোন ক্যালেন্ডারের ছবি। আপনি দারুন ছবি তুলতে পারেন। শীতের সময় নদীর পানি শুকিয়ে যায় আবার বর্ষা এলে চারিপাশ পানিতে থৈ থৈ করে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
আসলে গোধূলি বেলার দুটি ছবি তোলার পরে আমিও দেখে অবাক হয়েছি যে এত সুন্দর ভাবে ক্যামেরাবন্দি হল দৃশ্য দুটি সত্যি নদীর পাড়ে বসে এমন দৃশ্য দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে।।
জি ভাই করোনা ভাইরাস আবারো বেড়ে যাচ্ছে তবে মানুষ এখন আর এতোটা ভয় পায়না। কারন মানুষ দারিদ্র্যতা আর ক্ষুধাকে বেশি ভয় পায়।
আপনার ছবিগুলো অসাধারণ ছিল।
সরিষার ফুল, ঘোড়ার ছবিটি আর সূর্যের ছবি দারুন লেগেছে আমার কাছে।
ধন্যবাদ ভাই চমৎকার ছবিগুলো ভাগ করে নেয়ার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ফটোগ্রাফি গুলা দেখে ।আসলে চেষ্টা করি সবসময়ই ভালো কিছু আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
পদ্মার পাড়ের খুব সুন্দর কিছু দৃশ্য শেয়ার করেছেন যা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সরিষা ক্ষেতের সুন্দর ফটোগ্রাফি। আমার ইচ্ছে করছে সরিষা ফুল তুলে নিয়ে আসি।ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আমাদের অঞ্চলে এখন প্রচুর পরিমাণে সরিষার চাষ হয়। সরিষা ফুলের ফটোগ্রাফিটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুবই খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে।।
পদ্মার পাড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যময় মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। সত্যি মুহূর্তগুলো ছিল অসাধারণ, আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পদ্মার পারে যদি কখনো ভ্রমণ করতে জান আপনি সবথেকে বেশি ভালো লাগবে আপনার অবশ্যই গোধূলি বেলাটি ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।।
পদ্মার পাড়ের মনমুগ্ধকর কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি অসাধারণ। তবে আমার কাছে শস্য এর ফটোগ্রাফিটি খুব চমৎকার লাগলো। এভাবে শস্য চাষ আমাদের এদিকে তেমন দেখা যায় না। তবে এখন অনেক ঠান্ডা। আবার চারদিক থেকে শোনা যাচ্ছে করোনা অনেক বাড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধন্যবাদ খুব সুন্দর করে ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
শীত মৌসুম এলে পদ্মা নদীর পানি যখন শুকাতে থাকে তখন চাই ধরে পড়ে যায় বিশাল আবাদি জমির চর তখন ওই মাটিতেই সরিষা রোপন করা হয়।। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য